প্রাণিজগতের পর্ব ও শ্রেণি
Chordata: মৌলিক বৈশিষ্ট্য ও কর্ডাটা বনাম ননকর্ডাটা
Chordata পর্বের প্রাণীদের জীবনের কোনো না কোনো দশায় চারটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য থাকে: (১) পৃষ্ঠীয় নলাকার স্নায়ুরজ্জু, (২) নটোকর্ড (আঁকড়া দণ্ড), (৩) গলবিলীয় ফুলকারন্ধ্র এবং (৪) পায়ুপশ্চাৎ লেজ। ননকর্ডাটায় এসব থাকে না — এদের স্নায়ুরজ্জু নিরেট ও অঙ্কীয়, নটোকর্ড অনুপস্থিত। Chordata-কে তিন উপপর্বে ভাগ করা হয়: Urochordata, Cephalochordata ও Vertebrata (মেরুদণ্ডী)। উল্লেখ্য, সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীই কর্ডেট, কিন্তু সকল কর্ডেট মেরুদণ্ডী নয়।
চার কর্ডেট বৈশিষ্ট্য: পৃষ্ঠীয় নলাকার স্নায়ুরজ্জু, নটোকর্ড, ফুলকারন্ধ্র, পায়ুপশ্চাৎ লেজ
ননকর্ডাটায় নটোকর্ড নেই; স্নায়ুরজ্জু নিরেট ও অঙ্কীয়
উপপর্ব: Urochordata, Cephalochordata, Vertebrata
সব মেরুদণ্ডী কর্ডেট, কিন্তু সব কর্ডেট মেরুদণ্ডী নয়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
'সব মেরুদণ্ডী কর্ডেট, সব কর্ডেট মেরুদণ্ডী নয়' — এই একমুখী সম্পর্ক প্রিয় প্রশ্ন। কর্ডেটে স্নায়ুরজ্জু পৃষ্ঠীয় ও ফাঁপা।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·কর্ডেটের স্নায়ুরজ্জুকে অঙ্কীয়/নিরেট ভাবা — পৃষ্ঠীয়/ফাঁপা
- ·সব কর্ডেটকে মেরুদণ্ডী ভাবা — Urochordata/Cephalochordata মেরুদণ্ডহীন
- ·নটোকর্ডকে ননকর্ডাটায় থাকে ভাবা — শুধু কর্ডাটায়
শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি
প্রাণী শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি
প্রাণিজগৎকে বৈজ্ঞানিকভাবে শ্রেণিবদ্ধ করতে দেহগঠনের কতিপয় মৌলিক বৈশিষ্ট্যকে ভিত্তি ধরা হয়: দেহের সংগঠন মাত্রা (কোষীয়, কলা, অঙ্গ, অঙ্গতন্ত্র), জীবাণুস্তরের সংখ্যা (দ্বিস্তরী/ত্রিস্তরী), প্রতিসাম্য (অপ্রতিসম, অরীয়, দ্বিপার্শ্বীয়), দেহগহ্বর বা সিলোমের উপস্থিতি, খণ্ডায়ন (সেগমেন্টেশন), নটোকর্ডের উপস্থিতি এবং পৌষ্টিকনালির ধরন। এসব বৈশিষ্ট্যের মিল-অমিল বিশ্লেষণ করে প্রাণীদের বিভিন্ন পর্ব ও শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। এই ভিত্তিগুলোই আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসের কাঠামো নির্ধারণ করে।
ভিত্তি: সংগঠন মাত্রা, জীবাণুস্তর, প্রতিসাম্য, সিলোম, খণ্ডায়ন, নটোকর্ড
সংগঠন মাত্রা: কোষীয় → কলা → অঙ্গ → অঙ্গতন্ত্র
সিলোম = ত্রিস্তরী প্রাণীর প্রকৃত দেহগহ্বর
নটোকর্ডই কর্ডাটা ও ননকর্ডাটার প্রধান বিভাজক
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিগুলো একসাথে মনে রাখা জরুরি — প্রতিটি পর্বের বৈশিষ্ট্য এগুলো দিয়েই বর্ণিত হয়।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·শ্রেণিবিন্যাসকে শুধু আকার-ভিত্তিক ভাবা — বহু বৈশিষ্ট্যভিত্তিক
- ·কোষীয় মাত্রাকে সর্বোচ্চ ভাবা — অঙ্গতন্ত্র সর্বোচ্চ
- ·নটোকর্ডকে গৌণ ভাবা — প্রধান বিভাজক বৈশিষ্ট্য
শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি
শ্রেণিবিন্যাসের নীতি ও প্রয়োজনীয়তা
শ্রেণিবিন্যাসে প্রাণীদের ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করা হয় একটি ক্রমানুক্রমিক কাঠামোয়: জগৎ → পর্ব → শ্রেণি → বর্গ → গোত্র → গণ → প্রজাতি (প্রজাতি সবচেয়ে ছোট একক)। প্রতিটি প্রাণীর নামকরণে দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি (লিনিয়াস) ব্যবহৃত হয় — প্রথম শব্দ গণ (বড় হাতের অক্ষরে), দ্বিতীয় শব্দ প্রজাতি (ছোট হাতের), এবং নামটি ইটালিক/আন্ডারলাইন করা হয় (যেমন Homo sapiens)। শ্রেণিবিন্যাস জীববৈচিত্র্য বোঝা, শনাক্তকরণ, বিবর্তনীয় সম্পর্ক নির্ণয় ও গবেষণায় সুবিধা দেয়।
ক্রম: জগৎ→পর্ব→শ্রেণি→বর্গ→গোত্র→গণ→প্রজাতি
প্রজাতি = ক্ষুদ্রতম শ্রেণিবিন্যাস একক
দ্বিপদ নামকরণ: গণ (বড় অক্ষর) + প্রজাতি (ছোট অক্ষর), ইটালিক
প্রয়োজন: শনাক্তকরণ, বিবর্তন সম্পর্ক, গবেষণা
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
দ্বিপদ নামে গণ বড় অক্ষরে, প্রজাতি ছোট অক্ষরে — লেখার নিয়ম প্রায়ই জিজ্ঞাসিত। প্রজাতি ক্ষুদ্রতম একক।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·প্রজাতিকে বৃহত্তম একক ভাবা — ক্ষুদ্রতম
- ·দ্বিপদ নামে প্রজাতি বড় অক্ষরে ভাবা — ছোট অক্ষরে
- ·গোত্রকে গণের নিচে ভাবা — গণ গোত্রের নিচে
শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি
সিলোম ও এর প্রকারভেদ
মেসোডার্ম-বেষ্টিত প্রকৃত দেহগহ্বরকে সিলোম বলে, যা অঙ্গগুলোকে স্থান ও চলাচলের স্বাধীনতা দেয়। সিলোমের ভিত্তিতে ত্রিস্তরী প্রাণী তিন প্রকার: অ্যাসিলোমেট (দেহগহ্বর নেই, মেসোডার্ম নিরেট — যেমন Platyhelminthes), সিউডোসিলোমেট (মিথ্যা গহ্বর, আংশিক মেসোডার্মে বেষ্টিত — যেমন Nematoda) এবং ইউসিলোমেট বা প্রকৃত সিলোমযুক্ত (সম্পূর্ণ মেসোডার্মে বেষ্টিত — যেমন Annelida থেকে Chordata)। প্রকৃত সিলোমের উপস্থিতি অঙ্গতন্ত্রের উন্নত বিকাশের সুযোগ দেয়।
সিলোম = মেসোডার্ম-বেষ্টিত প্রকৃত দেহগহ্বর
অ্যাসিলোমেট: গহ্বর নেই (Platyhelminthes)
সিউডোসিলোমেট: মিথ্যা গহ্বর (Nematoda)
ইউসিলোমেট: প্রকৃত সিলোম (Annelida→Chordata)
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
Nematoda সিউডোসিলোমেট (মিথ্যা গহ্বর), Platyhelminthes অ্যাসিলোমেট — এই দুটি গুলিয়ে ফেলা সাধারণ।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·Nematoda-কে ইউসিলোমেট ভাবা — সিউডোসিলোমেট
- ·Platyhelminthes-কে সিলোমযুক্ত ভাবা — অ্যাসিলোমেট
- ·সিলোমকে যেকোনো গহ্বর ভাবা — মেসোডার্ম-বেষ্টিত হতে হবে
Fish anatomy — scales, circulation and swim bladder
মাছের অঙ্গসংস্থান: আঁইশ, সংবহন ও পটকা
মাছের আঁইশ কয়েক ধরনের হয় এবং সেটি শ্রেণিবিন্যাসের একটি কাজে লাগার চিহ্ন। অস্থিময় মাছের আঁইশ সাইক্লয়েড বা টিনয়েড — রুই মাছের সাইক্লয়েড, প্রান্ত মসৃণ ও গোলাকার। হাঙরের মতো তরুণাস্থিময় মাছের আঁইশ প্ল্যাকয়েড, যা আসলে ক্ষুদ্র দাঁতের মতো গঠন। আঁইশের গায়ে বৃদ্ধির বলয় তৈরি হয় এবং খাদ্য-প্রাচুর্যের মরসুমে সেই বলয় দ্রুত বাড়ে, তাই বয়স নির্ণয়ে কাজে লাগে। সংবহনে মাছের হৃৎপিণ্ড দুই প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট এবং তাতে কেবল অক্সিজেনবিহীন রক্ত চলে — একে বলে একচক্রী সংবহন; ডাক্টাস ভেইনোসাস শিরাতন্ত্রের একটি অংশ, ধমনিতন্ত্রের নয়।
রুই মাছের আঁইশ সাইক্লয়েড — প্রান্ত মসৃণ
টিনয়েড আঁইশের প্রান্ত দাঁতানো; প্ল্যাকয়েড আঁইশ তরুণাস্থিময় মাছে (হাঙর)
আঁইশের বৃদ্ধিবলয় খাদ্য-প্রাচুর্যের মরসুমে দ্রুত বাড়ে; বয়স নির্ণয়ে ব্যবহৃত
মাছের হৃৎপিণ্ড দুই প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট — একটি অলিন্দ, একটি নিলয়
একচক্রী সংবহন: রক্ত এক চক্রে একবার হৃৎপিণ্ড অতিক্রম করে
ডাক্টাস ভেইনোসাস শিরাতন্ত্রের অংশ
পটকা প্লবতা নিয়ন্ত্রণ করে; কিছু মাছে শ্বসনেও সহায়তা করে
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
রুই মাছের আঁইশ সাইক্লয়েড — প্ল্যাকয়েড কেবল তরুণাস্থিময় মাছে।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·রুই মাছের আঁইশকে প্ল্যাকয়েড ধরা
- ·ডাক্টাস ভেইনোসাসকে ধমনিতন্ত্রের অংশ ধরা — এটি শিরাতন্ত্রের
- ·মাছের সংবহনকে দ্বিচক্রী ধরা — মাছে একচক্রী, উভচর থেকে দ্বিচক্রী শুরু
শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি
জীবাণুস্তর: দ্বিস্তরী ও ত্রিস্তরী প্রাণী
ভ্রূণ বিকাশের সময় সৃষ্ট কোষস্তরকে জীবাণুস্তর (germ layer) বলে। যেসব প্রাণীর দেহ কেবল দুটি স্তর — বহিঃত্বক (এক্টোডার্ম) ও অন্তঃত্বক (এন্ডোডার্ম) — নিয়ে গঠিত তারা দ্বিস্তরী (যেমন Cnidaria)। যেসব প্রাণীতে এই দুই স্তরের মাঝে তৃতীয় একটি মধ্যত্বক (মেসোডার্ম) থাকে তারা ত্রিস্তরী (Platyhelminthes থেকে Chordata পর্যন্ত সব উন্নত প্রাণী)। মেসোডার্ম থেকে পেশি, কঙ্কাল, সংবহন ও রেচনতন্ত্রের মতো জটিল অঙ্গ গঠিত হয়, তাই ত্রিস্তরী প্রাণী অধিকতর জটিল ও উন্নত।
দ্বিস্তরী: এক্টোডার্ম + এন্ডোডার্ম (Cnidaria)
ত্রিস্তরী: এক্টো + মেসো + এন্ডোডার্ম
মেসোডার্ম থেকে পেশি, কঙ্কাল, সংবহন, রেচন অঙ্গ
Platyhelminthes থেকে সব প্রাণী ত্রিস্তরী
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
মেসোডার্মের উপস্থিতিই ত্রিস্তরী করে; Cnidaria দ্বিস্তরী কিন্তু Platyhelminthes থেকে সব ত্রিস্তরী — সীমারেখা মনে রাখো।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·Cnidaria-কে ত্রিস্তরী ভাবা — দ্বিস্তরী
- ·স্পঞ্জ/Porifera-কে দ্বিস্তরী ভাবা — কলা-স্তরই গঠিত হয় না (কোষীয় মাত্রা)
- ·মেসোডার্মকে বহিঃস্তর ভাবা — মধ্যস্তর
প্রাণিজগতের পর্ব ও শ্রেণি
ননকর্ডাটা পর্ব (১): Porifera, Cnidaria, Platyhelminthes, Nematoda
প্রথম চারটি ননকর্ডাটা পর্ব: Porifera (ছিদ্রাল প্রাণী) — দেহে অসংখ্য অস্টিয়া ছিদ্র, কোষীয় সংগঠন মাত্রা, অপ্রতিসম (যেমন স্পঞ্জ, Scypha)। Cnidaria — দ্বিস্তরী, অরীয় প্রতিসম, নিডোব্লাস্ট কোষে হুল, দেহে একটিমাত্র মুখ-সহ সিলেন্টেরন গহ্বর (যেমন Hydra, জেলিফিশ)। Platyhelminthes (চ্যাপ্টা কৃমি) — ত্রিস্তরী, দ্বিপার্শ্বীয়, অ্যাসিলোমেট, চ্যাপ্টা দেহ, অধিকাংশ পরজীবী (যেমন Fasciola, Taenia)। Nematoda (গোলকৃমি) — নলাকার দেহ, সিউডোসিলোমেট, সম্পূর্ণ পৌষ্টিকনালি (যেমন Ascaris)।
Porifera: ছিদ্রাল, কোষীয় মাত্রা, অপ্রতিসম (স্পঞ্জ)
Cnidaria: দ্বিস্তরী, অরীয়, নিডোব্লাস্ট (Hydra)
Platyhelminthes: অ্যাসিলোমেট, চ্যাপ্টা, পরজীবী (Taenia)
Nematoda: সিউডোসিলোমেট, নলাকার (Ascaris)
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
নিডোব্লাস্ট (হুল কোষ) শুধু Cnidaria-তে — শনাক্তকারী। Taenia/Fasciola = Platyhelminthes, Ascaris = Nematoda।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·Cnidaria-কে ত্রিস্তরী ভাবা — দ্বিস্তরী
- ·Ascaris-কে Platyhelminthes ভাবা — Nematoda
- ·Porifera-কে কলা-স্তরযুক্ত ভাবা — কোষীয় মাত্রা
প্রাণিজগতের পর্ব ও শ্রেণি
ননকর্ডাটা পর্ব (২): Mollusca, Annelida, Arthropoda, Echinodermata
পরবর্তী চার পর্ব: Mollusca (কম্বোজ প্রাণী) — নরম দেহ, প্রায়ই ক্যালসিয়াম-খোলকে আবৃত, ম্যান্টল ও পেশিবহুল পদ (যেমন ঝিনুক, শামুক, অক্টোপাস)। Annelida (অঙ্গুরীমাল) — দেহ প্রকৃত খণ্ডে বিভক্ত (মেটামেরিক সেগমেন্টেশন), প্রকৃত সিলোমযুক্ত (যেমন কেঁচো, জোঁক)। Arthropoda (সন্ধিপদী) — সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ, কাইটিন-নির্মিত বহিঃকঙ্কাল, খণ্ডায়িত দেহ; এটি প্রাণিজগতের বৃহত্তম পর্ব (যেমন আরশোলা, চিংড়ি)। Echinodermata (কন্টকত্বকী) — কাঁটাযুক্ত ত্বক, পঞ্চঅরীয় প্রতিসম, পানি-সংবহন তন্ত্র (যেমন তারামাছ)।
Mollusca: নরম দেহ, খোলক, ম্যান্টল (শামুক, অক্টোপাস)
Annelida: প্রকৃত খণ্ডায়ন, সিলোমযুক্ত (কেঁচো, জোঁক)
Arthropoda: সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ, কাইটিন বহিঃকঙ্কাল — বৃহত্তম পর্ব
Echinodermata: পঞ্চঅরীয়, পানি-সংবহন তন্ত্র (তারামাছ)
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
Arthropoda বৃহত্তম পর্ব (সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গই নাম-উৎস)। Echinodermata-র পানি-সংবহন তন্ত্র অনন্য বৈশিষ্ট্য।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·Annelida-কে খণ্ডায়নহীন ভাবা — প্রকৃত খণ্ডায়িত
- ·Mollusca-কে বৃহত্তম পর্ব ভাবা — Arthropoda বৃহত্তম
- ·তারামাছকে দ্বিপার্শ্বীয় ভাবা — পঞ্চঅরীয় (প্রাপ্তবয়স্ক)
শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি
প্রতিসাম্য
কোনো প্রাণীর দেহকে কেন্দ্র বা অক্ষ বরাবর কাটলে সমান অংশে ভাগ হওয়ার ধরনকে প্রতিসাম্য বলে। অপ্রতিসম প্রাণীকে কোনো তলেই সমান দুই ভাগ করা যায় না (যেমন অধিকাংশ Porifera)। অরীয় প্রতিসাম্যে দেহকে কেন্দ্রীয় অক্ষ বরাবর যেকোনো তলে কাটলে সমান অংশ পাওয়া যায় (যেমন Cnidaria, Echinodermata-এর পূর্ণবয়স্ক)। দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্যে কেবল একটি নির্দিষ্ট তলে (মধ্যরেখা বরাবর) কাটলে দুই সমান অর্ধেক (বাম-ডান) পাওয়া যায় — এটি অধিকাংশ উন্নত প্রাণীর বৈশিষ্ট্য এবং সেফালাইজেশন (মাথা-গঠন) এর সাথে সম্পর্কিত।
অপ্রতিসম: কোনো তলে সমান ভাগ হয় না (Porifera)
অরীয়: যেকোনো তলে সমান (Cnidaria, প্রাপ্তবয়স্ক Echinodermata)
দ্বিপার্শ্বীয়: শুধু একটি তলে বাম-ডান সমান (উন্নত প্রাণী)
দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য সেফালাইজেশনের সাথে জড়িত
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
প্রাপ্তবয়স্ক তারামাছ (Echinodermata) অরীয় প্রতিসম কিন্তু এর লার্ভা দ্বিপার্শ্বীয় — এই ব্যতিক্রম প্রিয় প্রশ্ন।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·Echinodermata-র লার্ভাকে অরীয় ভাবা — দ্বিপার্শ্বীয় (প্রাপ্তবয়স্ক অরীয়)
- ·সব প্রাণীকে প্রতিসম ভাবা — Porifera অপ্রতিসম
- ·দ্বিপার্শ্বীয়কে সব তলে সমান ভাবা — শুধু একটি তলে
প্রাণিজগতের পর্ব ও শ্রেণি
মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী প্রাণীর পার্থক্য
মেরুদণ্ডী প্রাণীতে (Vertebrata) পৃষ্ঠীয় মেরুদণ্ড বা কশেরুকা-নির্মিত মেরুরজ্জু থাকে, অন্তঃকঙ্কাল সুগঠিত, পৃষ্ঠীয় ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু ও উন্নত মস্তিষ্ক থাকে (যেমন মাছ, ব্যাঙ, মানুষ)। অমেরুদণ্ডী প্রাণীতে মেরুদণ্ড থাকে না, স্নায়ুরজ্জু সাধারণত অঙ্কীয় ও নিরেট, এবং কঙ্কাল থাকলে তা বহিঃকঙ্কাল (যেমন আরশোলা, শামুক, কেঁচো)। মনে রাখতে হবে — সব মেরুদণ্ডী কর্ডেট, কিন্তু কিছু কর্ডেট (Urochordata, Cephalochordata) মেরুদণ্ডহীন; আর সব অমেরুদণ্ডী ননকর্ডাটা নয় ব্যাপারটা উল্টো নয়।
মেরুদণ্ডী: মেরুদণ্ড, অন্তঃকঙ্কাল, পৃষ্ঠীয় ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু
অমেরুদণ্ডী: মেরুদণ্ড নেই, অঙ্কীয় নিরেট স্নায়ুরজ্জু
অমেরুদণ্ডীতে কঙ্কাল থাকলে বহিঃকঙ্কাল
কিছু কর্ডেট মেরুদণ্ডহীন (Urochordata, Cephalochordata)
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
স্নায়ুরজ্জুর অবস্থান (মেরুদণ্ডীতে পৃষ্ঠীয় ও ফাঁপা, অমেরুদণ্ডীতে অঙ্কীয় ও নিরেট) মূল পার্থক্যকারী।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·সব অমেরুদণ্ডীকে ননকর্ডাটা ভাবা — কিছু কর্ডেট মেরুদণ্ডহীন
- ·অমেরুদণ্ডীর স্নায়ুরজ্জুকে পৃষ্ঠীয় ভাবা — অঙ্কীয়
- ·মেরুদণ্ডীকে বহিঃকঙ্কালযুক্ত ভাবা — অন্তঃকঙ্কাল
প্রাণিজগতের পর্ব ও শ্রেণি
Vertebrata শ্রেণিসমূহ
মেরুদণ্ডী উপপর্ব Vertebrata-কে প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা হয়: Cyclostomata (চোয়ালবিহীন, যেমন ল্যাম্প্রে), Chondrichthyes (তরুণাস্থিময় মাছ, যেমন হাঙর), Osteichthyes (অস্থিময় মাছ, যেমন রুই/ইলিশ), Amphibia (উভচর, যেমন ব্যাঙ), Reptilia (সরীসৃপ, যেমন সাপ/টিকটিকি), Aves (পাখি) ও Mammalia (স্তন্যপায়ী, যেমন মানুষ, বাদুড়, তিমি)। মাছ থেকে স্তন্যপায়ী পর্যন্ত ক্রমশ জটিলতা বাড়ে — যেমন হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠ সংখ্যা, তাপ-নিয়ন্ত্রণ (শীতল থেকে উষ্ণ রক্ত)। স্তন্যপায়ীর স্তনগ্রন্থি, লোম ও চার-প্রকোষ্ঠ হৃৎপিণ্ড শনাক্তকারী।
শ্রেণি: Cyclostomata, Chondrichthyes, Osteichthyes, Amphibia, Reptilia, Aves, Mammalia
Chondrichthyes তরুণাস্থিময় (হাঙর), Osteichthyes অস্থিময় (রুই)
Mammalia: স্তনগ্রন্থি, লোম, চার-প্রকোষ্ঠ হৃৎপিণ্ড
মাছ→স্তন্যপায়ী: জটিলতা ও তাপনিয়ন্ত্রণ বাড়ে
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
হাঙর তরুণাস্থিময় মাছ (Chondrichthyes), রুই অস্থিময় (Osteichthyes) — মাছ দুই শ্রেণিতে ভাগ, প্রায়ই ফাঁদ। তিমি স্তন্যপায়ী, মাছ নয়।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·তিমি/ডলফিনকে মাছ ভাবা — স্তন্যপায়ী
- ·হাঙরকে অস্থিময় মাছ ভাবা — তরুণাস্থিময়
- ·বাদুড়কে পাখি ভাবা — স্তন্যপায়ী