প্রতীক প্রাণী: ঘাসফড়িং
ঘাসফড়িং: সংবহন ও শ্বসনতন্ত্র
ঘাসফড়িংয়ের সংবহনতন্ত্র মুক্ত (open) — রক্ত (হিমোলিম্ফ) রক্তনালিতে সীমাবদ্ধ না থেকে দেহগহ্বর হিমোসিলে অবাধে প্রবাহিত হয়ে অঙ্গ স্নান করায়। পৃষ্ঠীয় নলাকার হৃৎপিণ্ড হিমোলিম্ফকে সামনে ঠেলে দেয়। উল্লেখ্য, পতঙ্গের হিমোলিম্ফ O2 পরিবহন করে না (হিমোগ্লোবিন থাকে না), শুধু পুষ্টি ও বর্জ্য বহন করে। শ্বসন হয় স্বতন্ত্র শ্বাসনালি বা ট্রাকিয়াল তন্ত্রে — দেহপার্শ্বের শ্বাসছিদ্র (স্পাইরাকল) দিয়ে বায়ু ঢুকে সূক্ষ্ম ট্রাকিয়া ও ট্রাকিওল বেয়ে সরাসরি কোষে O2 পৌঁছে দেয়; অর্থাৎ গ্যাস বিনিময়ে রক্তের কোনো ভূমিকা নেই।
সংবহন মুক্ত (open); রক্ত = হিমোলিম্ফ হিমোসিলে প্রবাহিত
হিমোলিম্ফ O2 বহন করে না (হিমোগ্লোবিন নেই)
শ্বসন ট্রাকিয়াল তন্ত্রে; স্পাইরাকল দিয়ে বায়ু ঢোকে
ট্রাকিওল সরাসরি কোষে O2 পৌঁছায় (রক্তের ভূমিকা নেই)
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
ঘাসফড়িংয়ের রক্ত O2 বহন করে না — গ্যাস বিনিময় সরাসরি ট্রাকিয়া দিয়ে হয়। মানুষের বিপরীত, প্রিয় ফাঁদ।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·হিমোলিম্ফ O2 বহন করে ভাবা — বহন করে না (ট্রাকিয়া করে)
- ·সংবহনতন্ত্রকে বদ্ধ ভাবা — মুক্ত
- ·শ্বাসছিদ্রকে মস্তকে ভাবা — দেহপার্শ্বে (উদর/বক্ষে)
প্রতীক প্রাণী: ঘাসফড়িং
ঘাসফড়িং: পৌষ্টিকতন্ত্র
ঘাসফড়িং তৃণভোজী; এর পৌষ্টিকনালি তিন অংশে বিভক্ত — স্টোমোডিয়াম (অগ্রপৌষ্টিক: মুখ, গলবিল, অন্ননালি, ক্রপ ও পেষণকারী গিজার্ড), মেসেন্টেরন (মধ্যপৌষ্টিক: হেপাটিক সিকাসহ, যেখানে প্রকৃত পরিপাক ও শোষণ হয়) এবং প্রক্টোডিয়াম (পশ্চাৎপৌষ্টিক: ইলিয়াম, কোলন, মলাশয় ও পায়ু)। খাদ্য মুখোপাঙ্গে (ম্যান্ডিবল দিয়ে) চিবিয়ে লালার সাথে মিশ্রিত হয়, ক্রপে সাময়িক জমা ও গিজার্ডে পিষ্ট হয়, মেসেন্টেরনে পৌষ্টিক গ্রন্থির এনজাইমে পরিপাক ও শোষিত হয় এবং অপাচ্য অংশ পায়ু দিয়ে বেরোয়। মুখোপাঙ্গ কর্তন-চর্বণ ধরনের।
পৌষ্টিকনালি: স্টোমোডিয়াম, মেসেন্টেরন, প্রক্টোডিয়াম
গিজার্ড খাদ্য পেষণ করে; মেসেন্টেরনে প্রকৃত পরিপাক-শোষণ
হেপাটিক সিকা এনজাইম ক্ষরণ করে
মুখোপাঙ্গ কর্তন-চর্বণ ধরনের (তৃণভোজী)
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
প্রকৃত পরিপাক ও শোষণ হয় মেসেন্টেরনে (মধ্যপৌষ্টিক), গিজার্ড শুধু পেষণ করে — কোন অংশ কী করে তা প্রিয় প্রশ্ন।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·গিজার্ডকে পরিপাকের প্রধান স্থান ভাবা — শুধু পেষণ; মেসেন্টেরনে পরিপাক
- ·স্টোমোডিয়ামে শোষণ হয় ভাবা — মেসেন্টেরনে
- ·মুখোপাঙ্গকে চোষণ-ধরনের ভাবা — কর্তন-চর্বণ
প্রতীক প্রাণী: ঘাসফড়িং
ঘাসফড়িং: পুঞ্জাক্ষি ও রূপান্তর
ঘাসফড়িংয়ের এক জোড়া পুঞ্জাক্ষি (compound eye) অসংখ্য ক্ষুদ্র দর্শন-একক ওমাটিডিয়াম দিয়ে গঠিত; প্রতিটি ওমাটিডিয়াম দৃশ্যের ছোট অংশ ধরে, সব মিলে মোজাইক প্রতিবিম্ব তৈরি করে। উজ্জ্বল আলোয় অ্যাপোজিশন (মোজাইক) ও অল্প আলোয় সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। ঘাসফড়িং অসম্পূর্ণ রূপান্তরে (incomplete metamorphosis) বড় হয় — জীবনচক্রে ডিম → নিম্ফ (পূর্ণাঙ্গের মতো কিন্তু ডানাহীন/অপরিণত) → পূর্ণাঙ্গ পোকা; কোনো পিউপা দশা নেই। নিম্ফ কয়েকবার খোলস বদলে (মোল্টিং) পূর্ণাঙ্গ হয়, যা হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
পুঞ্জাক্ষি অসংখ্য ওমাটিডিয়ামে গঠিত → মোজাইক প্রতিবিম্ব
উজ্জ্বল আলোয় অ্যাপোজিশন, অল্প আলোয় সুপারপজিশন
অসম্পূর্ণ রূপান্তর: ডিম→নিম্ফ→পূর্ণাঙ্গ (পিউপা নেই)
মোল্টিং ও রূপান্তর হরমোন-নিয়ন্ত্রিত
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
ঘাসফড়িং অসম্পূর্ণ রূপান্তর (পিউপা দশা নেই) — প্রজাপতির সম্পূর্ণ রূপান্তর থেকে আলাদা, প্রিয় প্রশ্ন।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·ঘাসফড়িংকে সম্পূর্ণ রূপান্তরী ভাবা — অসম্পূর্ণ (পিউপা নেই)
- ·পুঞ্জাক্ষিকে একক লেন্স ভাবা — বহু ওমাটিডিয়াম
- ·নিম্ফকে লার্ভা ভাবা — নিম্ফ পূর্ণাঙ্গের সদৃশ
প্রতীক প্রাণী: ঘাসফড়িং
ঘাসফড়িং: বাহ্যিক অঙ্গসংস্থান
ঘাসফড়িং (Poekilocerus) Arthropoda পর্বের প্রতীক প্রাণী, দেহ কাইটিন-নির্মিত বহিঃকঙ্কালে আবৃত ও স্পষ্ট খণ্ডায়িত। দেহ তিন অঞ্চলে বিভক্ত: মস্তক (head — এক জোড়া শুঙ্গ, এক জোড়া পুঞ্জাক্ষি ও মুখোপাঙ্গ বহন করে), বক্ষ (thorax — তিন খণ্ডবিশিষ্ট, তিন জোড়া পা ও দুই জোড়া ডানা বহন করে; পশ্চাৎ পা লাফানোর জন্য বড় ও পেশিবহুল) এবং উদর (abdomen — ১১ খণ্ডবিশিষ্ট, শ্বাসছিদ্র ও প্রজননাঙ্গ ধারণ করে)। এই তিন-অঞ্চল ও সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ সন্ধিপদী প্রাণীর সাধারণ বৈশিষ্ট্য।
Arthropoda পর্ব; কাইটিন বহিঃকঙ্কাল, খণ্ডায়িত দেহ
তিন অঞ্চল: মস্তক, বক্ষ, উদর
বক্ষে ৩ জোড়া পা ও ২ জোড়া ডানা; পশ্চাৎ পা লাফানোর
উদর ১১ খণ্ড; শ্বাসছিদ্র ও প্রজননাঙ্গ বহন করে
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
পা ও ডানা বক্ষে যুক্ত থাকে (উদরে নয়) — অবস্থান প্রিয় প্রশ্ন। ৩ জোড়া পা, ২ জোড়া ডানা — সংখ্যা মনে রাখো।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·পা/ডানা উদরে যুক্ত ভাবা — বক্ষে
- ·ঘাসফড়িংয়ে ৪ জোড়া পা ভাবা — ৩ জোড়া
- ·বহিঃকঙ্কালকে সেলুলোজের ভাবা — কাইটিনের
প্রতীক প্রাণী: Hydra
Hydra: চলন, খাদ্যগ্রহণ ও পরিপাক
Hydra সচল প্রাণী — প্রধান চলন লুপিং (কর্ষিকা ও পাদ-চাকতি পালাক্রমে ব্যবহার করে ফিতাকৃমির মতো এগোনো) ও সমারসল্টিং (ডিগবাজি খেয়ে চলা); এছাড়া ভাসা ও হামাগুড়ি দেয়। খাদ্য প্রধানত ক্ষুদ্র জলজ প্রাণী (যেমন Daphnia); কর্ষিকা নেমাটোসিস্ট দিয়ে শিকার অবশ করে মুখ দিয়ে সিলেন্টেরনে ঢোকায়। Hydra-র পরিপাক দ্বিধাপে: প্রথমে গ্যাস্ট্রোডার্মিসের গ্রন্থিকোষ এনজাইম ছেড়ে সিলেন্টেরনে বহিঃকোষীয় পরিপাক করে, পরে পুষ্টিকোষ খাদ্যকণা গ্রহণ করে অন্তঃকোষীয় পরিপাক সম্পন্ন করে। অপাচ্য অংশ মুখ দিয়েই বেরিয়ে যায়।
চলন: লুপিং (প্রধান) ও সমারসল্টিং
প্রধান খাদ্য Daphnia; কর্ষিকা দিয়ে শিকার ধরে
পরিপাক দ্বিধাপ: বহিঃকোষীয় (সিলেন্টেরনে) + অন্তঃকোষীয়
অপাচ্য খাদ্য মুখ দিয়েই বের হয় (পায়ু নেই)
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
Hydra-তে পায়ু নেই — খাদ্য ও বর্জ্য একই মুখ দিয়ে যাতায়াত করে। পরিপাক বহিঃ ও অন্তঃকোষীয় উভয়ই — প্রিয় প্রশ্ন।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·Hydra-তে আলাদা পায়ু আছে ভাবা — নেই (একটিমাত্র মুখ)
- ·পরিপাককে শুধু অন্তঃকোষীয় ভাবা — বহিঃকোষীয়ও
- ·লুপিংকে সাঁতার ভাবা — কর্ষিকা-পাদচাকতি চলন
প্রতীক প্রাণী: Hydra
Hydra: নিডোসাইট ও নেমাটোসিস্ট
Hydra-র এপিডার্মিসে বিশেষ হুল-কোষ নিডোসাইট (বা নিডোব্লাস্ট) থাকে, প্রধানত কর্ষিকায় ঘন — এটি Cnidaria পর্বের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য। প্রতিটি নিডোসাইটের ভেতরে থাকে সূত্রক-কুণ্ডলিত থলি নেমাটোসিস্ট এবং বাইরে সংবেদী নিডোসিল। শিকার স্পর্শ করলে নিডোসিল উদ্দীপ্ত হয়ে নেমাটোসিস্টের সূত্রক ছুড়ে দেয়, যা শিকারে বিদ্ধ হয়ে হিপনোটক্সিন নামক বিষ ঢেলে শিকারকে অবশ ও আটকে ফেলে। নেমাটোসিস্ট কয়েক প্রকার — কিছু বিদ্ধ করে বিষ ঢালে, কিছু শিকারকে জড়িয়ে ধরে বা আটকে রাখে। এভাবে Hydra শিকার ধরা ও আত্মরক্ষা করে।
নিডোসাইট = হুল-কোষ (Cnidaria-র শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য)
নিডোসাইটের ভেতরে নেমাটোসিস্ট, বাইরে সংবেদী নিডোসিল
স্পর্শে সূত্রক ছুড়ে হিপনোটক্সিন বিষ ঢালে
কাজ: শিকার ধরা ও আত্মরক্ষা
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
নিডোসাইট কোষ, নেমাটোসিস্ট তার ভেতরের অঙ্গাণু — কোষ ও থলি গুলিয়ে ফেলা সাধারণ। হিপনোটক্সিন শিকার অবশ করে।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·নিডোসাইট ও নেমাটোসিস্টকে একই ভাবা — কোষ বনাম ভেতরের থলি
- ·নিডোসাইটকে গ্যাস্ট্রোডার্মিসে ভাবা — মূলত এপিডার্মিসে
- ·নেমাটোসিস্টকে শুধু আত্মরক্ষার ভাবা — শিকার ধরাও
প্রতীক প্রাণী: Hydra
Hydra: জনন ও পুনরুৎপত্তি
Hydra অযৌন ও যৌন — উভয়ভাবে বংশবৃদ্ধি করে। অনুকূল পরিবেশে প্রধান অযৌন জনন মুকুলোদ্গম (বাডিং) — দেহগাত্রে কুঁড়ি জন্মে বড় হয়ে মাতৃদেহ থেকে আলাদা হয়ে নতুন Hydra হয়। প্রতিকূল পরিবেশে যৌন জনন ঘটে — দেহে অস্থায়ী শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয় সৃষ্টি হয়ে গ্যামেট তৈরি হয় ও নিষেকের পর জাইগোট প্রতিকূল সময় পার করে। Hydra-র অসাধারণ পুনরুৎপত্তি ক্ষমতা আছে — দেহের ক্ষুদ্র খণ্ড থেকেও পূর্ণাঙ্গ নতুন Hydra গড়ে উঠতে পারে, কারণ এতে বহু ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ (অপরিণত, বিভাজনক্ষম) থাকে।
অযৌন জনন: মুকুলোদ্গম/বাডিং (অনুকূল পরিবেশে)
যৌন জনন: প্রতিকূল পরিবেশে অস্থায়ী জননাঙ্গে গ্যামেট
পুনরুৎপত্তি: ক্ষুদ্র খণ্ড থেকে পূর্ণাঙ্গ Hydra
ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ পুনরুৎপত্তিতে মুখ্য
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
অনুকূলে অযৌন (বাডিং), প্রতিকূলে যৌন জনন — পরিবেশের সাথে জননের সম্পর্ক প্রিয় প্রশ্ন। পুনরুৎপত্তি ইন্টারস্টিশিয়াল কোষের কারণে।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·Hydra-কে শুধু অযৌন প্রজননক্ষম ভাবা — যৌনও
- ·প্রতিকূল পরিবেশে বাডিং ভাবা — যৌন জনন
- ·পুনরুৎপত্তিকে অসম্ভব ভাবা — অসাধারণ ক্ষমতা আছে
প্রতীক প্রাণী: Hydra
Hydra: বহিঃগঠন ও দেহপ্রাচীর
Hydra হলো Cnidaria পর্বের স্বাদু পানির প্রতীক প্রাণী, দেহ নলাকার ও অরীয় প্রতিসম। এর এক প্রান্তে চাকতির মতো পাদ-চাকতি (আঁকড়ে থাকে) ও অন্য প্রান্তে মুখঘেরা কর্ষিকা (কর্ষিকা দিয়ে শিকার ধরে)। Hydra দ্বিস্তরী বা দ্বিভ্রূণস্তরী প্রাণী — দেহপ্রাচীর দুটি কোষস্তর নিয়ে গঠিত: বাইরের এপিডার্মিস (বহিঃত্বক) ও ভেতরের গ্যাস্ট্রোডার্মিস (অন্তঃত্বক), যাদের মাঝে অকোষীয় জেলির মতো মেসোগ্লিয়া থাকে। দেহের কেন্দ্রীয় ফাঁপা গহ্বরকে সিলেন্টেরন বা পরিপাক-সংবহন গহ্বর বলে, যার একটিমাত্র খোলা মুখ।
Cnidaria পর্বের স্বাদু পানির প্রাণী, অরীয় প্রতিসম
দ্বিস্তরী: এপিডার্মিস + গ্যাস্ট্রোডার্মিস, মাঝে মেসোগ্লিয়া
কেন্দ্রীয় গহ্বর = সিলেন্টেরন (একটিমাত্র মুখ)
পাদ-চাকতি আঁকড়ে থাকে, কর্ষিকা শিকার ধরে
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
মেসোগ্লিয়া কোষস্তর নয় (অকোষীয় জেলি), তাই Hydra দ্বিস্তরী — এই সূক্ষ্মতা প্রিয় ফাঁদ। সিলেন্টেরনের একটিমাত্র মুখ।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·মেসোগ্লিয়াকে তৃতীয় কোষস্তর ভাবা — অকোষীয় (তাই দ্বিস্তরী)
- ·Hydra-কে ত্রিস্তরী ভাবা — দ্বিস্তরী
- ·সিলেন্টেরনে দুটি মুখ ভাবা — একটিমাত্র
প্রতীক প্রাণী: রুই মাছ
রুই মাছ: পটকা ও প্রজনন
রুই মাছের দেহগহ্বরে একটি বায়ুপূর্ণ থলি পটকা বা এয়ার ব্লাডার থাকে, যার প্রধান কাজ ভাসমানতা (buoyancy) নিয়ন্ত্রণ — এতে গ্যাসের পরিমাণ কমিয়ে-বাড়িয়ে মাছ শক্তি ব্যয় ছাড়াই বিভিন্ন গভীরতায় ভেসে থাকতে পারে; এটি হাইড্রোস্ট্যাটিক অঙ্গ হিসেবে কাজ করে ও শব্দ-সংবেদনেও কিছুটা সাহায্য করে। রুই মাছ একলিঙ্গ ও ডিম্বপ্রসবী — বর্ষায় প্রবহমান পানিতে স্ত্রী মাছ ডিম ও পুরুষ মাছ শুক্রাণু ছাড়ে এবং নিষেক দেহের বাইরে পানিতে ঘটে (বহিঃনিষেক)। নিষিক্ত ডিম থেকে লার্ভা, ধানীপোনা হয়ে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ মাছ হয়।
পটকার প্রধান কাজ ভাসমানতা নিয়ন্ত্রণ (হাইড্রোস্ট্যাটিক অঙ্গ)
পটকা শব্দ-সংবেদনেও কিছুটা সাহায্য করে
রুই একলিঙ্গ ও ডিম্বপ্রসবী
নিষেক দেহের বাইরে পানিতে (বহিঃনিষেক)
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
রুই মাছে নিষেক দেহের বাইরে হয় (বহিঃনিষেক), মানুষের অন্তঃনিষেকের বিপরীত। পটকা ভাসমানতা নিয়ন্ত্রণ করে, শ্বসন নয়।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·পটকাকে শ্বাস-অঙ্গ ভাবা — ভাসমানতা নিয়ন্ত্রক (শ্বসন ফুলকায়)
- ·রুইয়ের নিষেককে অন্তঃনিষেক ভাবা — বহিঃনিষেক
- ·রুইকে উভলিঙ্গ ভাবা — একলিঙ্গ
প্রতীক প্রাণী: রুই মাছ
রুই মাছ: সংবহন ও শ্বসন
রুই মাছের সংবহনতন্ত্র বদ্ধ ও একচক্রীয় (single circulation) — রক্ত প্রতি চক্রে একবার হৃৎপিণ্ড অতিক্রম করে। হৃৎপিণ্ড দুই-প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট (একটি অলিন্দ ও একটি নিলয়) এবং এতে শুধু O2-হীন রক্ত থাকে; এটি রক্ত ফুলকায় পাঠায়, ফুলকায় O2 গ্রহণের পর O2-যুক্ত রক্ত সরাসরি সারা দেহে যায়। শ্বসন হয় ফুলকা দিয়ে — মুখ দিয়ে পানি ঢুকে ফুলকা-ফিলামেন্টের ওপর দিয়ে বেরোনোর সময় পানির দ্রবীভূত O2 রক্তে ব্যাপিত হয় ও CO2 বেরিয়ে যায় (প্রতিমুখী প্রবাহ গ্যাস বিনিময় দক্ষ করে)। ফুলকা অপারকুলাম নামক আবরণে সুরক্ষিত।
সংবহন বদ্ধ ও একচক্রীয় (single circulation)
হৃৎপিণ্ড দুই-প্রকোষ্ঠ; শুধু O2-হীন রক্ত থাকে
শ্বসন ফুলকায়; পানির দ্রবীভূত O2 রক্তে ব্যাপিত হয়
ফুলকা অপারকুলামে সুরক্ষিত
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
মাছের হৃৎপিণ্ডে শুধু O2-হীন রক্ত থাকে (মানুষের বিপরীত) ও একচক্রীয় সংবহন — প্রিয় প্রশ্ন। শ্বসন ফুলকায়।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·মাছের হৃৎপিণ্ডে O2-যুক্ত রক্ত ভাবা — শুধু O2-হীন
- ·মাছের সংবহনকে দ্বিচক্রীয় ভাবা — একচক্রীয়
- ·মাছের হৃৎপিণ্ডকে চার-প্রকোষ্ঠ ভাবা — দুই-প্রকোষ্ঠ
প্রতীক প্রাণী: রুই মাছ
রুই মাছ: বাহ্যিক গঠন ও পাখনা
রুই মাছ (Labeo rohita) Osteichthyes শ্রেণির অস্থিময় মিঠাপানির প্রতীক প্রাণী, দেহ মাকু-আকৃতির (স্ট্রিমলাইনড) যা পানিতে চলাচল সহজ করে। দেহ পিচ্ছিল সাইক্লয়েড আঁইশে আবৃত এবং পার্শ্বরেখা (lateral line) সংবেদী অঙ্গ পানির কম্পন শনাক্ত করে। চলনের জন্য নানা পাখনা আছে: জোড় পাখনা (বক্ষ ও শ্রোণি — দিক নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য) এবং বিজোড় পাখনা (পৃষ্ঠ, পায়ু ও পুচ্ছ)। পুচ্ছ-পাখনা হোমোসার্কাল (সমপালি) ও প্রধান চালিকা অঙ্গ। ফুলকা দিয়ে শ্বসন করে এবং পটকা ভাসমানতা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
Labeo rohita — Osteichthyes (অস্থিময় মাছ)
দেহ মাকু-আকৃতির; সাইক্লয়েড আঁইশে আবৃত
পার্শ্বরেখা পানির কম্পন শনাক্ত করে
জোড় পাখনা (ভারসাম্য) ও বিজোড় পাখনা (পুচ্ছ = চালিকা)
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
পুচ্ছ-পাখনা প্রধান চালিকা, জোড় পাখনা ভারসাম্য/দিক নিয়ন্ত্রণ করে — কাজ গুলিয়ে ফেলা হয়। রুই অস্থিময় মাছ।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·রুইকে তরুণাস্থিময় মাছ ভাবা — অস্থিময়
- ·জোড় পাখনাকে প্রধান চালিকা ভাবা — পুচ্ছ-পাখনা চালিকা
- ·পার্শ্বরেখাকে শ্বাস-অঙ্গ ভাবা — সংবেদী (কম্পন শনাক্ত)