রক্ত ও রক্তকণিকা
রক্তের উপাদান
রক্ত একটি তরল যোজক কলা, যা প্রায় ৫৫% তরল রক্তরস (প্লাজমা) ও ৪৫% রক্তকণিকা নিয়ে গঠিত। রক্তরস প্রধানত পানি (~৯০%) এবং তাতে দ্রবীভূত প্রোটিন (অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন, ফাইব্রিনোজেন), গ্লুকোজ, খনিজ লবণ, হরমোন ও বর্জ্য থাকে। রক্তকণিকা তিন প্রকার: লোহিত রক্তকণিকা (O2 পরিবহন), শ্বেত রক্তকণিকা (রোগ প্রতিরোধ) ও অণুচক্রিকা (রক্ত জমাট বাঁধা)। রক্ত O2-CO2, পুষ্টি ও হরমোন পরিবহন, তাপ-নিয়ন্ত্রণ ও রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
রক্ত = ~৫৫% রক্তরস + ~৪৫% রক্তকণিকা
রক্তরসের ~৯০% পানি; প্রোটিন: অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন, ফাইব্রিনোজেন
তিন কণিকা: লোহিত (O2), শ্বেত (প্রতিরোধ), অণুচক্রিকা (তঞ্চন)
রক্ত একটি তরল যোজক কলা
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
রক্ত একটি যোজক কলা (এপিথেলিয়াল নয়) — প্রায়ই জিজ্ঞাসিত। ফাইব্রিনোজেন রক্তরসে থাকে, সিরামে থাকে না।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·রক্তকে এপিথেলিয়াল কলা ভাবা — যোজক কলা
- ·রক্তরসকে ৪৫% ভাবা — ~৫৫%
- ·সিরামে ফাইব্রিনোজেন আছে ভাবা — তঞ্চনে ব্যবহৃত হয়ে যায়
হৃৎপিণ্ড ও হৃৎক্রিয়া
রক্তচাপ ও ব্যারোরিসেপ্টর
ধমনির প্রাচীরে প্রবহমান রক্তের চাপকে রক্তচাপ বলে; এটি সিস্টোলিক (নিলয় সংকোচনকালীন উচ্চ চাপ, স্বাভাবিক ~১২০ mmHg) ও ডায়াস্টোলিক (নিলয় প্রসারণকালীন নিম্ন চাপ, ~৮০ mmHg) — এই দুই মানে প্রকাশ করা হয় (১২০/৮০)। রক্তচাপ স্প্রিগমোম্যানোমিটার দিয়ে মাপা হয়। দেহ রক্তচাপ স্থির রাখতে ব্যারোরিসেপ্টর ব্যবহার করে — অ্যাওর্টা ও ক্যারোটিড ধমনির প্রাচীরে অবস্থিত এই চাপ-সংবেদী রিসেপ্টর রক্তচাপের পরিবর্তন শনাক্ত করে মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়, ফলে হৃৎস্পন্দন ও রক্তনালির ব্যাস সমন্বয় করে চাপ স্বাভাবিক রাখা হয়। ধারাবাহিক উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন) হৃদরোগের বড় ঝুঁকি।
স্বাভাবিক রক্তচাপ ~১২০/৮০ mmHg (সিস্টোলিক/ডায়াস্টোলিক)
মাপা হয় স্প্রিগমোম্যানোমিটারে
ব্যারোরিসেপ্টর অ্যাওর্টা ও ক্যারোটিডে; চাপ শনাক্ত করে
উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন) হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
সিস্টোলিক = উচ্চ (সংকোচন), ডায়াস্টোলিক = নিম্ন (প্রসারণ) — ১২০ ও ৮০ কোনটি কী তা গুলিয়ে ফেলা হয়।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·ডায়াস্টোলিক চাপকে উচ্চ মান ভাবা — সিস্টোলিক উচ্চ
- ·ব্যারোরিসেপ্টরকে O2-সংবেদী ভাবা — চাপ-সংবেদী
- ·রক্তচাপকে শিরায় মাপা ভাবা — ধমনির চাপ
হৃৎপিণ্ড ও হৃৎক্রিয়া
কার্ডিয়াক চক্র (হৃৎস্পন্দন)
এক হৃৎস্পন্দনে হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলোর সংকোচন ও প্রসারণের পূর্ণ চক্রকে কার্ডিয়াক চক্র বলে; প্রাপ্তবয়স্কে এটি প্রায় ০.৮ সেকেন্ডে সম্পন্ন হয় (মিনিটে ~৭২ বার)। চক্রের সংকোচন দশা সিস্টোল ও প্রসারণ দশা ডায়াস্টোল: প্রথমে অলিন্দ সংকুচিত হয়ে নিলয়ে রক্ত পাঠায় (অ্যাট্রিয়াল সিস্টোল), তারপর নিলয় সংকুচিত হয়ে ধমনিতে রক্ত পাঠায় (ভেন্ট্রিকুলার সিস্টোল), এরপর সবাই শিথিল হয় (ডায়াস্টোল)। হৃৎস্পন্দনে দুটি শব্দ শোনা যায় — 'লাব' (অলিন্দ-নিলয় কপাটিকা বন্ধ হওয়া) ও 'ডাব' (সেমিলুনার কপাটিকা বন্ধ হওয়া)।
এক চক্র ~০.৮ সেকেন্ড; মিনিটে ~৭২ বার
সিস্টোল = সংকোচন, ডায়াস্টোল = প্রসারণ
লাব = অলিন্দ-নিলয় কপাটিকা বন্ধ; ডাব = সেমিলুনার কপাটিকা বন্ধ
ক্রম: অ্যাট্রিয়াল সিস্টোল → ভেন্ট্রিকুলার সিস্টোল → ডায়াস্টোল
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
'লাব' = অলিন্দ-নিলয় (AV) কপাটিকা বন্ধ, 'ডাব' = সেমিলুনার কপাটিকা বন্ধ — কোন শব্দ কোন কপাটিকা তা গুলিয়ে ফেলা হয়।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·সিস্টোলকে প্রসারণ ভাবা — সংকোচন
- ·'ডাব' শব্দকে AV কপাটিকা বন্ধ ভাবা — সেমিলুনার
- ·এক চক্রকে ৮ সেকেন্ড ভাবা — ~০.৮ সেকেন্ড
রক্ত সংবহন ও হৃদরোগ
মানবদেহে রক্ত সংবহন: সিস্টেমিক, পালমোনারি, পোর্টাল ও করোনারি
মানুষের রক্তসংবহন বদ্ধ ও দ্বি-সংবহন (double circulation) — রক্ত প্রতি চক্রে দুবার হৃৎপিণ্ড অতিক্রম করে। পালমোনারি সংবহনে ডান নিলয় O2-হীন রক্ত ফুসফুসে পাঠায়, O2 গ্রহণ করে বাম অলিন্দে ফেরে। সিস্টেমিক সংবহনে বাম নিলয় O2-যুক্ত রক্ত অ্যাওর্টা দিয়ে সারা দেহে পাঠায় এবং O2-হীন রক্ত ভেনাক্যাভা দিয়ে ডান অলিন্দে ফেরে। পোর্টাল সংবহনে পরিপাকতন্ত্র থেকে আসা রক্ত হেপাটিক পোর্টাল শিরা দিয়ে সরাসরি যকৃতে গিয়ে পরে হৃৎপিণ্ডে ফেরে। করোনারি সংবহন হৃৎপেশিকে নিজে O2 ও পুষ্টি সরবরাহ করে।
দ্বি-সংবহন: রক্ত প্রতি চক্রে দুবার হৃৎপিণ্ড অতিক্রম করে
পালমোনারি: হৃৎপিণ্ড↔ফুসফুস (O2 গ্রহণ)
সিস্টেমিক: হৃৎপিণ্ড↔সারা দেহ
পোর্টাল: পরিপাকতন্ত্র→যকৃত→হৃৎপিণ্ড; করোনারি: হৃৎপেশির নিজস্ব সরবরাহ
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
পালমোনারি ধমনি O2-হীন রক্ত বহন করে (একমাত্র ধমনি যা O2-হীন), পালমোনারি শিরা O2-যুক্ত — এই ব্যতিক্রম প্রিয় ফাঁদ।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·পালমোনারি ধমনিকে O2-যুক্ত ভাবা — O2-হীন রক্ত বহন করে
- ·করোনারি সংবহনকে ফুসফুসে ভাবা — হৃৎপেশিতে
- ·মানব সংবহনকে একক-সংবহন ভাবা — দ্বি-সংবহন
Dissolving clots and opening blocked arteries
রক্ত জমাট গলানো ও অবরুদ্ধ ধমনি খোলা
রক্ত জমাট বাঁধার একটি উল্টো ব্যবস্থাও দেহে আছে — ফাইব্রিনোলাইসিস, যেখানে প্লাজমিন নামের এনজাইম ফাইব্রিনের জাল কেটে জমাট গলিয়ে দেয়। প্লাজমিন সরাসরি থাকে না, থাকে তার নিষ্ক্রিয় রূপ প্লাজমিনোজেন; ওষুধ হিসেবে দেওয়া স্ট্রেপ্টোকাইনেজ বা ইউরোকাইনেজ সেই প্লাজমিনোজেনকে সক্রিয় করে দেয়, আর তাতেই হৃদরোগে জমাট গলে। যান্ত্রিক পথটি আলাদা — এনজিওপ্লাস্টিতে বেলুনযুক্ত ক্যাথেটার ঢুকিয়ে সরু হয়ে যাওয়া ধমনিকে প্রসারিত করা হয় এবং প্রায়ই স্টেন্ট বসিয়ে খোলা রাখা হয়, ফলে রক্তপ্রবাহ ফিরে আসে।
ফাইব্রিনোলাইসিস = জমাট রক্ত গলানোর প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া; সক্রিয় এনজাইম প্লাজমিন
থ্রম্বোলাইটিক ওষুধ: স্ট্রেপ্টোকাইনেজ, ইউরোকাইনেজ, টিস্যু প্লাজমিনোজেন অ্যাক্টিভেটর
হেপারিন ও ওয়ারফারিন জমাট গলায় না — এরা নতুন জমাট বাঁধা ঠেকায়
এনজিওপ্লাস্টি: বেলুন ক্যাথেটারে সরু ধমনি প্রসারণ, প্রায়ই স্টেন্টসহ
এনজিওপ্লাস্টির তাৎক্ষণিক ফল — ধমনি প্রশস্ত হয়, তাই রক্তপ্রবাহ বাড়ে
বাইপাস সার্জারিতে অবরুদ্ধ অংশ এড়িয়ে বিকল্প রক্তপথ তৈরি করা হয়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
জমাট গলায় থ্রম্বোলাইটিক, জমাট ঠেকায় অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট — হেপারিন দ্বিতীয় দলে।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·হেপারিনকে জমাট-গলানো ওষুধ ধরা — সে কেবল নতুন জমাট ঠেকায়
- ·এনজিওপ্লাস্টিকে হৃৎস্পন্দন নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি ধরা — সেটি পেসমেকারের কাজ
- ·প্লাজমিন ও প্লাজমিনোজেন গুলিয়ে ফেলা — একটি সক্রিয়, অন্যটি নিষ্ক্রিয় পূর্বরূপ
রক্ত সংবহন ও হৃদরোগ
হৃদরোগ: অ্যানজাইনা, হার্ট অ্যাটাক ও হার্ট ফেইলিউর
করোনারি ধমনিতে চর্বি জমে (অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস) রক্তপ্রবাহ কমলে বিভিন্ন হৃদরোগ হয়। অ্যানজাইনা হলো হৃৎপেশিতে সাময়িক O2-স্বল্পতায় সৃষ্ট বুকে ব্যথা, বিশ্রামে যা কমে। হার্ট অ্যাটাক বা মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশনে করোনারি ধমনি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে হৃৎপেশির একটি অংশ O2-অভাবে মারা যায় — এটি জরুরি অবস্থা। হার্ট ফেইলিউরে হৃৎপিণ্ড দেহের চাহিদামতো পর্যাপ্ত রক্ত পাম্প করতে ব্যর্থ হয়, ফলে ক্লান্তি ও পানি জমা দেখা দেয়। ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য এসবের প্রধান ঝুঁকি; জীবনযাপন পরিবর্তন ও চিকিৎসা প্রতিরোধে সহায়ক।
অ্যানজাইনা: সাময়িক O2-স্বল্পতায় বুকে ব্যথা (বিশ্রামে কমে)
হার্ট অ্যাটাক: করোনারি বন্ধ → হৃৎপেশির অংশ মৃত্যু
হার্ট ফেইলিউর: পর্যাপ্ত রক্ত পাম্পে ব্যর্থতা
ঝুঁকি: ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্য
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
অ্যানজাইনা (সাময়িক ব্যথা, কোষ মরে না) বনাম হার্ট অ্যাটাক (স্থায়ী, পেশি মরে) — তীব্রতার পার্থক্য বোঝা জরুরি।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·অ্যানজাইনাকে স্থায়ী পেশি-মৃত্যু ভাবা — সাময়িক, কোষ মরে না
- ·হার্ট অ্যাটাক ও হার্ট ফেইলিউরকে একই ভাবা — আলাদা
- ·হৃদরোগকে শুধু বংশগত ভাবা — জীবনযাপনও বড় কারণ
হৃৎপিণ্ড ও হৃৎক্রিয়া
হৃৎপিণ্ডের গঠন: প্রকোষ্ঠ ও কপাটিকা
মানব হৃৎপিণ্ড পেশিবহুল, চার-প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট অঙ্গ যা পেরিকার্ডিয়াম আবরণে আবৃত। ওপরের দুটি অলিন্দ (ডান ও বাম অ্যাট্রিয়াম) রক্ত গ্রহণ করে এবং নিচের দুটি নিলয় (ডান ও বাম ভেন্ট্রিকল) রক্ত পাম্প করে; বাম নিলয়ের প্রাচীর সবচেয়ে পুরু কারণ এটি সারা দেহে রক্ত পাঠায়। রক্তের একমুখী প্রবাহ নিশ্চিত করতে কপাটিকা আছে: ডান অলিন্দ-নিলয়ের মাঝে ট্রাইকাসপিড, বাম অলিন্দ-নিলয়ের মাঝে বাইকাসপিড (মাইট্রাল) কপাটিকা, এবং নিলয়-ধমনির সংযোগে অর্ধচন্দ্রাকার (সেমিলুনার) কপাটিকা। ডান দিকে O2-হীন ও বাম দিকে O2-যুক্ত রক্ত থাকে — এরা মিশে না।
৪ প্রকোষ্ঠ: ২ অলিন্দ (গ্রহণ) + ২ নিলয় (পাম্প)
বাম নিলয়ের প্রাচীর পুরুতম (সারাদেহে রক্ত পাঠায়)
কপাটিকা: ট্রাইকাসপিড (ডান), বাইকাসপিড/মাইট্রাল (বাম), সেমিলুনার
ডান দিকে O2-হীন, বাম দিকে O2-যুক্ত রক্ত — মেশে না
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
বাইকাসপিড (মাইট্রাল) বাম দিকে, ট্রাইকাসপিড ডান দিকে — অবস্থান গুলিয়ে ফেলা সবচেয়ে সাধারণ ভুল। বাম নিলয়ের প্রাচীর পুরুতম।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·ট্রাইকাসপিডকে বাম দিকে ভাবা — ডান দিকে
- ·ডান নিলয়ের প্রাচীর পুরুতম ভাবা — বাম নিলয়
- ·অলিন্দ রক্ত পাম্প করে ভাবা — গ্রহণ করে, নিলয় পাম্প করে
রক্ত সংবহন ও হৃদরোগ
হৃদরোগের চিকিৎসা: পেসমেকার, বাইপাস ও এনজিওপ্লাস্টি
উন্নত চিকিৎসায় নানা হৃদরোগ ব্যবস্থাপনা সম্ভব। কৃত্রিম পেসমেকার একটি ব্যাটারিচালিত যন্ত্র যা SA নোড ঠিকমতো কাজ না করলে নিয়মিত বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা দিয়ে হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক রাখে। করোনারি বাইপাস সার্জারিতে দেহের অন্য অংশ থেকে রক্তনালি নিয়ে বন্ধ করোনারি ধমনির চারপাশে বিকল্প পথ তৈরি করা হয় (ওপেন হার্ট সার্জারির মাধ্যমে)। এনজিওপ্লাস্টিতে ক্যাথেটারের মাধ্যমে সরু ধমনিতে বেলুন ফুলিয়ে পথ প্রশস্ত করা হয় এবং প্রায়ই একটি স্টেন্ট বসিয়ে ধমনি খোলা রাখা হয়; এটি সার্জারি ছাড়াই কম-ঝুঁকির পদ্ধতি।
পেসমেকার: বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা দিয়ে হৃৎস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ (SA নোড অকার্যকর হলে)
বাইপাস সার্জারি: বন্ধ ধমনির বিকল্প পথ (ওপেন হার্ট)
এনজিওপ্লাস্টি: বেলুন দিয়ে ধমনি প্রশস্তকরণ + স্টেন্ট
এনজিওপ্লাস্টি অপেক্ষাকৃত কম-ঝুঁকির, সার্জারিবিহীন
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
বাইপাস = বিকল্প পথ তৈরি (সার্জারি), এনজিওপ্লাস্টি = একই ধমনি প্রশস্ত করা (ক্যাথেটার) — দুটি পদ্ধতি গুলিয়ে ফেলা হয়।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·পেসমেকারকে রক্ত পাম্পকারী যন্ত্র ভাবা — বৈদ্যুতিক উদ্দীপক
- ·বাইপাস ও এনজিওপ্লাস্টিকে একই ভাবা — বিকল্প পথ বনাম প্রশস্তকরণ
- ·স্টেন্টকে ওষুধ ভাবা — ধমনি খোলা রাখার জালিকা
রক্ত ও রক্তকণিকা
লসিকা ও লসিকাতন্ত্র
কৈশিকনালি থেকে চুইয়ে টিস্যুর ফাঁকে জমা হওয়া বর্ণহীন তরলকে লসিকা (লিম্ফ) বলে; এটি রক্তরসেরই মতো কিন্তু লোহিত কণিকা ও বড় প্রোটিন কম, আর প্রচুর লিম্ফোসাইট থাকে। লসিকা টিস্যু ও রক্তের মধ্যে বস্তু বিনিময়, চর্বি শোষণ (ল্যাক্টিয়াল), এবং রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। লসিকাতন্ত্র লসিকা নালি, লসিকা গ্রন্থি, প্লীহা ও টনসিল নিয়ে গঠিত; লসিকা গ্রন্থি জীবাণু ছেঁকে রক্ষা করে। লসিকা একমুখীভাবে শেষে রক্তসংবহনে ফিরে যায়। রক্তের সাথে পার্থক্য: লসিকায় লোহিত কণিকা ও অণুচক্রিকা নেই এবং এটি বর্ণহীন।
লসিকা = টিস্যু-তরল; বর্ণহীন, লোহিত কণিকাহীন, লিম্ফোসাইট-সমৃদ্ধ
লসিকাতন্ত্র: লসিকা নালি, গ্রন্থি, প্লীহা, টনসিল
কাজ: বস্তু বিনিময়, চর্বি শোষণ, রোগ প্রতিরোধ
লসিকা একমুখী প্রবাহে রক্তে ফিরে যায়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
লসিকায় লোহিত কণিকা নেই ও বর্ণহীন — রক্ত থেকে মূল পার্থক্য। ল্যাক্টিয়াল অন্ত্রে চর্বি শোষণ করে।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·লসিকায় লোহিত কণিকা আছে ভাবা — নেই
- ·লসিকাকে রক্তের মতো লাল ভাবা — বর্ণহীন
- ·লসিকা প্রবাহকে দ্বিমুখী ভাবা — একমুখী (রক্তে ফেরে)
হৃৎপিণ্ড ও হৃৎক্রিয়া
হৃৎস্পন্দনের মায়োজেনিক নিয়ন্ত্রণ
মানব হৃৎস্পন্দন মায়োজেনিক — অর্থাৎ উদ্দীপনা হৃৎপেশির নিজস্ব বিশেষ টিস্যু থেকেই উৎপন্ন হয়, স্নায়ু থেকে নয়। ডান অলিন্দের প্রাচীরে অবস্থিত সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড (SA নোড) ছন্দবদ্ধভাবে উদ্দীপনা তৈরি করে বলে একে হৃৎপিণ্ডের 'পেসমেকার' বলা হয়। এই উদ্দীপনা অলিন্দে ছড়িয়ে অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার নোডে (AV নোড) পৌঁছায়, তারপর বান্ডল অফ হিজ ও পুরকিনজি তন্তু বেয়ে নিলয়ে ছড়িয়ে সংকোচন ঘটায়। এভাবে অলিন্দ ও নিলয়ের সংকোচন সমন্বিত হয়। স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র কেবল স্পন্দনের হার বাড়ায়-কমায়, উৎপন্ন করে না।
হৃৎস্পন্দন মায়োজেনিক (পেশি থেকে উদ্দীপনা, স্নায়ু নয়)
SA নোড = প্রাকৃতিক পেসমেকার (ডান অলিন্দে)
পথ: SA নোড → AV নোড → বান্ডল অফ হিজ → পুরকিনজি তন্তু
স্নায়ুতন্ত্র শুধু হার নিয়ন্ত্রণ করে, উদ্দীপনা তৈরি নয়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
SA নোড প্রাকৃতিক পেসমেকার — উদ্দীপনার উৎস। মায়োজেনিক (হৃৎপেশি) বনাম নিউরোজেনিক পার্থক্য প্রিয় প্রশ্ন।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·হৃৎস্পন্দনকে নিউরোজেনিক ভাবা — মায়োজেনিক
- ·AV নোডকে পেসমেকার ভাবা — SA নোড
- ·স্নায়ু উদ্দীপনা তৈরি করে ভাবা — শুধু হার নিয়ন্ত্রণ করে
রক্ত ও রক্তকণিকা
অণুচক্রিকা ও রক্ত জমাট বাঁধা (তঞ্চন)
অণুচক্রিকা বা থ্রম্বোসাইট হলো অস্থিমজ্জার মেগাক্যারিওসাইট কোষের খণ্ডাংশ, নিউক্লিয়াসবিহীন ক্ষুদ্র কণিকা যা রক্ত জমাট বাঁধায় (তঞ্চন) মুখ্য ভূমিকা রাখে। আঘাত পেলে ক্ষতস্থানে অণুচক্রিকা জমা ও ভেঙে থ্রম্বোপ্লাস্টিন মুক্ত করে; এটি Ca²⁺ এর উপস্থিতিতে রক্তরসের প্রোথ্রম্বিনকে থ্রম্বিনে পরিণত করে, আর থ্রম্বিন দ্রবণীয় ফাইব্রিনোজেনকে অদ্রবণীয় ফাইব্রিন সুতায় পরিণত করে। এই ফাইব্রিন জালে রক্তকণিকা আটকে জমাট বাঁধে ও রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়। ভিটামিন-K তঞ্চনে অপরিহার্য।
অণুচক্রিকা মেগাক্যারিওসাইটের খণ্ডাংশ, নিউক্লিয়াসবিহীন
তঞ্চন ধাপ: থ্রম্বোপ্লাস্টিন → (Ca²⁺) প্রোথ্রম্বিন→থ্রম্বিন → ফাইব্রিনোজেন→ফাইব্রিন
ফাইব্রিন জালে কণিকা আটকে জমাট বাঁধে
Ca²⁺ ও ভিটামিন-K তঞ্চনে অপরিহার্য
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
তঞ্চনের ক্রম: প্রোথ্রম্বিন→থ্রম্বিন, ফাইব্রিনোজেন→ফাইব্রিন। কোনটি দ্রবণীয় (ফাইব্রিনোজেন) আর কোনটি অদ্রবণীয় (ফাইব্রিন) — প্রিয় প্রশ্ন।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·ফাইব্রিনকে দ্রবণীয় ভাবা — অদ্রবণীয় (ফাইব্রিনোজেন দ্রবণীয়)
- ·অণুচক্রিকাকে পূর্ণ কোষ ভাবা — কোষের খণ্ডাংশ
- ·তঞ্চনে Ca²⁺ লাগে না ভাবা — অপরিহার্য
রক্ত ও রক্তকণিকা
লোহিত রক্তকণিকা ও হিমোগ্লোবিন
লোহিত রক্তকণিকা বা এরিথ্রোসাইট দ্বি-অবতল, চাকতি-আকৃতির এবং পরিণত অবস্থায় নিউক্লিয়াসবিহীন — এই গঠন O2 ধারণ ও সরু কৈশিকনালিতে চলাচলে সহায়ক। এতে থাকা লাল রঞ্জক হিমোগ্লোবিন (হিম + গ্লোবিন প্রোটিন) O2 এর সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন গঠন করে ফুসফুস থেকে টিস্যুতে O2 এবং কিছু CO2 পরিবহন করে। পরিণত মানুষে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে প্রায় ৫০ লক্ষ লোহিত কণিকা থাকে; এদের গড় আয়ু প্রায় ১২০ দিন এবং লাল অস্থিমজ্জায় উৎপন্ন হয়ে যকৃত-প্লীহায় ধ্বংস হয়।
দ্বি-অবতল, নিউক্লিয়াসবিহীন (পরিণত অবস্থায়)
হিমোগ্লোবিন = হিম + গ্লোবিন; O2 বহন করে (অক্সিহিমোগ্লোবিন)
সংখ্যা ~৫০ লক্ষ/ঘন মিমি; আয়ু ~১২০ দিন
উৎপত্তি লাল অস্থিমজ্জায়, ধ্বংস যকৃত-প্লীহায়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
পরিণত মানব-লোহিত কণিকায় নিউক্লিয়াস নেই (ব্যাঙে থাকে) — প্রিয় ফাঁদ। হিমোগ্লোবিনে লোহা (Fe) থাকে।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·পরিণত মানব-RBC তে নিউক্লিয়াস আছে ভাবা — নেই
- ·হিমোগ্লোবিনকে শুধু প্রোটিন ভাবা — হিম (লোহাযুক্ত) + গ্লোবিন
- ·RBC যকৃতে তৈরি ভাবা — লাল অস্থিমজ্জায়
রক্ত ও রক্তকণিকা
শ্বেত রক্তকণিকা: প্রকারভেদ ও কাজ
শ্বেত রক্তকণিকা বা লিউকোসাইট নিউক্লিয়াসযুক্ত, বর্ণহীন এবং দেহের রোগ প্রতিরোধে কাজ করে; এরা লোহিত কণিকার চেয়ে সংখ্যায় অনেক কম (~৫০০০–১০০০০/ঘন মিমি)। সাইটোপ্লাজমে দানার উপস্থিতি অনুসারে দুই ভাগ: গ্র্যানুলোসাইট (দানাযুক্ত) — নিউট্রোফিল (ফ্যাগোসাইটোসিসে জীবাণু ভক্ষণ), ইওসিনোফিল (অ্যালার্জি ও পরজীবীতে), বেসোফিল (হিস্টামিন/হেপারিন ক্ষরণ); এবং অ্যাগ্র্যানুলোসাইট (দানাহীন) — লিম্ফোসাইট (অ্যান্টিবডি ও কোষীয় প্রতিরোধ) ও মনোসাইট (বৃহৎ ভক্ষক কোষে পরিণত হয়)। নিউট্রোফিল সংখ্যায় সর্বাধিক।
গ্র্যানুলোসাইট: নিউট্রোফিল, ইওসিনোফিল, বেসোফিল
অ্যাগ্র্যানুলোসাইট: লিম্ফোসাইট, মনোসাইট
নিউট্রোফিল সর্বাধিক ও প্রধান ফ্যাগোসাইট
লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি তৈরিতে জড়িত
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
নিউট্রোফিল সর্বাধিক শ্বেত কণিকা ও প্রধান ফ্যাগোসাইট; লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি বানায় — কাজ গুলিয়ে ফেলা সাধারণ।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·লিম্ফোসাইটকে গ্র্যানুলোসাইট ভাবা — অ্যাগ্র্যানুলোসাইট
- ·শ্বেত কণিকাকে নিউক্লিয়াসবিহীন ভাবা — নিউক্লিয়াসযুক্ত
- ·ইওসিনোফিলকে সর্বাধিক ভাবা — নিউট্রোফিল সর্বাধিক