Autonomic nervous system and the enteric 'second brain'
স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র ও এন্টেরিক স্নায়ুতন্ত্র
স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র ইচ্ছার বাইরে চলা কাজগুলো সামলায় এবং তার দুটি শাখা পরস্পরের বিপরীতে কাজ করে। সিমপ্যাথেটিক শাখা বিপদের সময় সক্রিয় হয় — হৃৎস্পন্দন ও শ্বাস বাড়ে, পিউপিল প্রসারিত হয়, পরিপাক থেমে যায়। প্যারাসিমপ্যাথেটিক শাখা বিশ্রামের সময় সক্রিয় — হৃৎস্পন্দন কমে, পিউপিল সংকুচিত হয়, পরিপাক চলে। তৃতীয় একটি শাখাও আছে যা তুলনামূলকভাবে নতুন আলোচনায় এসেছে: পৌষ্টিকনালির প্রাচীরে ছড়িয়ে থাকা এন্টেরিক স্নায়ুতন্ত্র, যাতে প্রায় দশ কোটি নিউরন আছে এবং যা মস্তিষ্ক ছাড়াই অন্ত্রের চলন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে — সেই স্বাধীনতার জন্যই একে দ্বিতীয় মস্তিষ্ক বলা হয়।
স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের দুই শাখা: সিমপ্যাথেটিক ও প্যারাসিমপ্যাথেটিক
সিমপ্যাথেটিক = লড়াই-বা-পলায়ন; হৃৎস্পন্দন বাড়ায়, পিউপিল প্রসারিত করে, পরিপাক থামায়
প্যারাসিমপ্যাথেটিক = বিশ্রাম-ও-পরিপাক; হৃৎস্পন্দন কমায়, পিউপিল সংকুচিত করে
এন্টেরিক স্নায়ুতন্ত্র পৌষ্টিকনালির প্রাচীরে, খাদ্যনালি থেকে মলদ্বার পর্যন্ত
এন্টেরিক তন্ত্রে প্রায় ১০ কোটি নিউরন — একে 'দ্বিতীয় মস্তিষ্ক' বলা হয়
এন্টেরিক তন্ত্র কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেও অন্ত্রের পেরিস্টালসিস চালাতে পারে
সিমপ্যাথেটিকের নিঃসারক নরঅ্যাড্রেনালিন; প্যারাসিমপ্যাথেটিকের অ্যাসিটাইলকোলিন
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
'দ্বিতীয় মস্তিষ্ক' মানে এন্টেরিক স্নায়ুতন্ত্র — সুষুম্নাকাণ্ড বা মেডালা নয়।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·'দ্বিতীয় মস্তিষ্ক' হিসেবে সুষুম্নাকাণ্ড বেছে নেওয়া
- ·সিমপ্যাথেটিক ও প্যারাসিমপ্যাথেটিকের প্রভাব উল্টে দেওয়া — বিশেষত পিউপিলে
- ·এন্টেরিক তন্ত্রকে মস্তিষ্কের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ধরা
স্নায়বিক সমন্বয়
মস্তিষ্কের গঠন ও কাজ
মস্তিষ্ক করোটির ভেতরে তিন-স্তরী মেনিনজেস আবরণে সুরক্ষিত এবং প্রধানত তিন অংশে বিভক্ত। অগ্রমস্তিষ্কের সেরিব্রাম সবচেয়ে বড় ও উন্নত — এটি বুদ্ধি, স্মৃতি, চিন্তা ও ঐচ্ছিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে; থ্যালামাস সংবেদী সংকেতের রিলে-কেন্দ্র এবং হাইপোথ্যালামাস দেহতাপ, ক্ষুধা-তৃষ্ণা ও অন্তঃক্ষরা নিয়ন্ত্রণ করে। মধ্যমস্তিষ্ক দৃষ্টি-শ্রবণ প্রতিবর্তে সাহায্য করে। পশ্চাৎমস্তিষ্কের সেরিবেলাম দেহের ভারসাম্য ও পেশি-সমন্বয় রক্ষা করে এবং মেডুলা অবলংগাটা হৃৎস্পন্দন, শ্বসন ও রক্তচাপের মতো অনৈচ্ছিক জৈবক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
সেরিব্রাম: বৃহত্তম; বুদ্ধি, স্মৃতি, ঐচ্ছিক কাজ
হাইপোথ্যালামাস: দেহতাপ, ক্ষুধা-তৃষ্ণা, অন্তঃক্ষরা নিয়ন্ত্রণ
সেরিবেলাম: ভারসাম্য ও পেশি-সমন্বয়
মেডুলা: হৃৎস্পন্দন, শ্বসন, রক্তচাপ (অনৈচ্ছিক)
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
সেরিবেলাম ভারসাম্য, মেডুলা হৃৎস্পন্দন-শ্বসন নিয়ন্ত্রণ করে — কোন অংশ কী করে তা গুলিয়ে ফেলা সবচেয়ে সাধারণ ভুল।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·সেরিবেলামকে বুদ্ধির কেন্দ্র ভাবা — সেরিব্রাম; সেরিবেলাম ভারসাম্য
- ·মেডুলাকে ঐচ্ছিক নিয়ন্ত্রক ভাবা — অনৈচ্ছিক জৈবক্রিয়া
- ·হাইপোথ্যালামাসকে শুধু রিলে ভাবা — সেটা থ্যালামাস
Brain regions and what each controls
মস্তিষ্কের অংশ ও তাদের নির্দিষ্ট কাজ
মস্তিষ্কের প্রতিটি অংশের আলাদা দায়িত্ব আছে, আর পরীক্ষায় প্রায় সবসময় জিজ্ঞাসা করা হয় কোন কাজটি কোন অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম চিন্তা, স্মৃতি, ঐচ্ছিক চলন ও ইন্দ্রিয়ের ব্যাখ্যা সামলায়। লঘুমস্তিষ্ক বা সেরিবেলাম দেহভঙ্গি ও চলনের সমন্বয় করে — মদ্যপানে টলমল ভাব এখানেই ব্যাঘাতের ফল। মেডালা অবলংগাটা শ্বাসক্রিয়া, হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপের মতো অনিচ্ছাধীন প্রাণরক্ষাকারী কাজ চালায়, তাই এতে আঘাত সঙ্গে সঙ্গে প্রাণঘাতী। হাইপোথ্যালামাস আকারে ছোট কিন্তু কাজে বিশাল — ক্ষুধা, তৃষ্ণা, দেহতাপ ও ঘুমের কেন্দ্র এখানেই।
সেরিব্রাম: চিন্তা, স্মৃতি, বুদ্ধি, ঐচ্ছিক চলন, ইন্দ্রিয়-ব্যাখ্যা
সেরিবেলাম: দেহভঙ্গি, ভারসাম্য ও পেশি চলনের সমন্বয়
মেডালা অবলংগাটা: শ্বাসক্রিয়া, হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ, বমি, হাঁচি — প্রাণরক্ষাকারী কেন্দ্র
হাইপোথ্যালামাস: ক্ষুধা, তৃষ্ণা, দেহতাপ, ঘুম ও পিটুইটারি নিয়ন্ত্রণ
থ্যালামাস: ইন্দ্রিয় সংকেতের রিলে কেন্দ্র
মস্তিষ্কের আবরণী তিনটি — ডুরা, অ্যারাকনয়েড ও পায়া ম্যাটার
সেরিব্রামের ভাঁজ (গাইরাস) পৃষ্ঠক্ষেত্র বাড়ায়, তাই বুদ্ধি বেশি
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
ক্ষুধা-তৃষ্ণা-তাপ হাইপোথ্যালামাস, শ্বাস-হৃৎস্পন্দন মেডালা, ভারসাম্য সেরিবেলাম — এই তিন জোড়াই সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·ভারসাম্যের জন্য সেরিব্রাম বেছে নেওয়া — সেটি সেরিবেলামের কাজ
- ·ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে মেডালা বলা — ক্ষুধাকেন্দ্র হাইপোথ্যালামাসে
- ·হাইপোথ্যালামাস ও পিটুইটারিকে এক ধরা — একটি স্নায়বিক কেন্দ্র, অন্যটি গ্রন্থি
Cranial nerves — numbering, function and parasympathetic fibres
করোটিক স্নায়ু ও প্যারাসিমপ্যাথেটিক তন্তু
মানুষের বারো জোড়া করোটিক স্নায়ু আছে এবং প্রশ্নে সাধারণত ক্রমিক নম্বর ও নামের জোড়া, নয়তো কোনটি কী বহন করে, তা জিজ্ঞাসা করা হয়। স্নায়ুগুলোকে ভাগ করা যায় তিন ভাগে — কেবল সংজ্ঞাবহ, কেবল আজ্ঞাবহ, আর মিশ্র। আলাদা করে মনে রাখতে হয় কোনগুলো প্যারাসিমপ্যাথেটিক তন্তু বহন করে, কারণ সেটি একটি প্রিয় প্রশ্ন: তৃতীয়, সপ্তম, নবম ও দশম — অকুলোমোটর, ফেসিয়াল, গ্লসোফ্যারিঞ্জিয়াল ও ভেগাস। অলফ্যাক্টরি, অপটিক ও ট্রকলিয়ার কোনো প্যারাসিমপ্যাথেটিক তন্তু বহন করে না।
মানুষে ১২ জোড়া করোটিক স্নায়ু
I অলফ্যাক্টরি (ঘ্রাণ), II অপটিক (দৃষ্টি), III অকুলোমোটর, IV ট্রকলিয়ার, V ট্রাইজেমিনাল
VI অ্যাবডুসেন্স, VII ফেসিয়াল, VIII অডিটরি/ভেস্টিবুলোককলিয়ার, IX গ্লসোফ্যারিঞ্জিয়াল, X ভেগাস, XI অ্যাকসেসরি, XII হাইপোগ্লসাল
প্যারাসিমপ্যাথেটিক তন্তু বহন করে কেবল III, VII, IX ও X
সপ্তম করোটিক স্নায়ু ফেসিয়াল — মুখমণ্ডলের পেশি, জিহ্বার সামনের দুই-তৃতীয়াংশের স্বাদ ও অশ্রু-লালা ক্ষরণ
ভেগাস (X) সবচেয়ে দীর্ঘ ও বিস্তৃত করোটিক স্নায়ু, বক্ষ ও উদর পর্যন্ত পৌঁছায়
সুষুম্না স্নায়ু ৩১ জোড়া, সবই মিশ্র
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
প্যারাসিমপ্যাথেটিক করোটিক স্নায়ু চারটি — ৩, ৭, ৯, ১০। এই চারটি সংখ্যা মনে থাকলে প্রশ্নটি নিশ্চিত।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·অপটিক বা অলফ্যাক্টরিকে প্যারাসিমপ্যাথেটিক ধরা — এরা কেবল সংজ্ঞাবহ
- ·সপ্তম স্নায়ুকে ভেগাস ধরা — সপ্তম ফেসিয়াল, ভেগাস দশম
- ·করোটিক ও সুষুম্না স্নায়ুর সংখ্যা অদলবদল করা — ১২ জোড়া বনাম ৩১ জোড়া
সংবেদী অঙ্গ
কান: শ্রবণ ও ভারসাম্য
কান শ্রবণ ও দেহের ভারসাম্য রক্ষার সংবেদী অঙ্গ, তিন অংশে গঠিত: বহিঃকর্ণ (পিনা ও শ্রবণনালি — শব্দতরঙ্গ সংগ্রহ), মধ্যকর্ণ (কর্ণপটহ ও তিনটি কর্ণাস্থি — ম্যালিয়াস, ইনকাস, স্টেপিস — শব্দকম্পন বিবর্ধিত করে) এবং অন্তঃকর্ণ (ককলিয়া ও অর্ধবৃত্তাকার নালি)। শ্রবণে শব্দতরঙ্গ কর্ণপটহ কাঁপায়, কর্ণাস্থি সেই কম্পন ককলিয়ায় পাঠায়, সেখানকার সংবেদী কোষ উদ্দীপনা তৈরি করে অডিটরি স্নায়ু দিয়ে মস্তিষ্কে পাঠায়। ভারসাম্য রক্ষা করে অর্ধবৃত্তাকার নালি ও ভেস্টিবিউল, যা মাথার অবস্থান ও গতি শনাক্ত করে।
তিন অংশ: বহিঃ (পিনা), মধ্য (কর্ণাস্থি), অন্তঃকর্ণ (ককলিয়া)
কর্ণাস্থি: ম্যালিয়াস, ইনকাস, স্টেপিস (কম্পন বিবর্ধন)
ককলিয়া শ্রবণে; অর্ধবৃত্তাকার নালি ভারসাম্যে
অডিটরি স্নায়ু উদ্দীপনা মস্তিষ্কে পাঠায়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
ককলিয়া শ্রবণ, অর্ধবৃত্তাকার নালি ভারসাম্য — দুটি কাজ গুলিয়ে ফেলা হয়। কর্ণাস্থি তিনটি: ম্যালিয়াস-ইনকাস-স্টেপিস।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·অর্ধবৃত্তাকার নালিকে শ্রবণ-অঙ্গ ভাবা — ভারসাম্য
- ·ককলিয়াকে ভারসাম্য-অঙ্গ ভাবা — শ্রবণ
- ·কর্ণাস্থি দুটি ভাবা — তিনটি
সংবেদী অঙ্গ
চোখ: গঠন ও দর্শন প্রক্রিয়া
চোখ দর্শনের সংবেদী অঙ্গ, যার অক্ষিগোলক তিন স্তরে গঠিত: বাইরের স্ক্লেরা (সুরক্ষা, সামনে স্বচ্ছ কর্নিয়া), মধ্যম কোরয়েড (রক্তনালিযুক্ত, সামনে আইরিস ও পিউপিল) এবং ভেতরের রেটিনা (আলোক-সংবেদী স্তর)। লেন্স আলোকরশ্মিকে রেটিনায় কেন্দ্রীভূত করে উল্টো প্রতিবিম্ব তৈরি করে। দর্শন প্রক্রিয়ায় আলো কর্নিয়া-লেন্স ভেদ করে রেটিনার আলোক-সংবেদী কোষে পড়ে, রাসায়নিক পরিবর্তনে স্নায়ু-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়, যা অপটিক স্নায়ু দিয়ে মস্তিষ্কের দর্শন কেন্দ্রে পৌঁছালে আমরা সোজা ও স্পষ্ট দেখি।
তিন স্তর: স্ক্লেরা (সুরক্ষা), কোরয়েড (রক্তনালি), রেটিনা (আলোক-সংবেদী)
আইরিস পিউপিলের আকার নিয়ন্ত্রণ করে (আলো নিয়ন্ত্রণ)
রেটিনায় উল্টো প্রতিবিম্ব গঠিত হয়
অপটিক স্নায়ু উদ্দীপনা মস্তিষ্কে পাঠায়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
রেটিনায় প্রতিবিম্ব উল্টো ও ছোট হয়, মস্তিষ্ক একে সোজা করে ব্যাখ্যা করে — প্রিয় ফাঁদ। আইরিস পিউপিলের আকার নিয়ন্ত্রণ করে।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·রেটিনায় সোজা প্রতিবিম্ব ভাবা — উল্টো
- ·আলোক-সংবেদী স্তরকে কোরয়েড ভাবা — রেটিনা
- ·লেন্সকে আলো-নিয়ন্ত্রক ভাবা — আইরিস/পিউপিল নিয়ন্ত্রণ করে
সংবেদী অঙ্গ
রড-কোণ কোষ ও উপযোজন
রেটিনায় দুই ধরনের আলোক-সংবেদী কোষ থাকে: রড কোষ (আলোক-স্বল্পতায়/অন্ধকারে দেখায়, বর্ণ শনাক্ত করে না, রোডপসিন রঞ্জকযুক্ত) ও কোণ কোষ (উজ্জ্বল আলোয় ও রঙিন দর্শনে সাহায্য করে)। বিভিন্ন দূরত্বের বস্তু স্পষ্ট দেখতে চোখের লেন্সের বক্রতা পরিবর্তন করে ফোকাস সমন্বয়ের প্রক্রিয়াকে উপযোজন (accommodation) বলে — সিলিয়ারি পেশির সংকোচন-প্রসারণে কাছের বস্তুতে লেন্স মোটা ও দূরের বস্তুতে পাতলা হয়। দুই চোখে একই বস্তু দেখাকে দ্বিনেত্র দর্শন বলে, যা গভীরতা ও ত্রিমাত্রিক অনুভূতি দেয়।
রড কোষ: অন্ধকারে/আলোক-স্বল্পতায় দর্শন (বর্ণহীন, রোডপসিন)
কোণ কোষ: উজ্জ্বল আলো ও রঙিন দর্শন
উপযোজন: লেন্সের বক্রতা বদলে ফোকাস সমন্বয় (সিলিয়ারি পেশি)
দ্বিনেত্র দর্শন গভীরতা ও ত্রিমাত্রিক অনুভূতি দেয়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
রড অন্ধকারে (বর্ণ বোঝে না), কোণ আলোয় ও রঙে — কাজ গুলিয়ে ফেলা সাধারণ। উপযোজনে লেন্সের বক্রতা বদলায়, চোখের অবস্থান নয়।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·কোণ কোষকে অন্ধকার-দর্শী ভাবা — রড অন্ধকারে
- ·উপযোজনে লেন্স সরে যায় ভাবা — বক্রতা বদলায়
- ·রড কোষকে বর্ণ-সংবেদী ভাবা — বর্ণহীন দর্শন
রাসায়নিক সমন্বয়
হরমোন ও প্রধান অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি
হরমোন হলো অন্তঃক্ষরা (নালিবিহীন) গ্রন্থি থেকে সরাসরি রক্তে নিঃসৃত রাসায়নিক বার্তাবাহক, যা অল্প পরিমাণে দূরবর্তী লক্ষ্য-অঙ্গের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। প্রধান গ্রন্থি ও হরমোন: পিটুইটারি ('মাস্টার গ্রন্থি' — অন্য গ্রন্থি নিয়ন্ত্রণ ও বৃদ্ধি হরমোন), থাইরয়েড (থাইরক্সিন — বিপাক নিয়ন্ত্রণ, আয়োডিন-নির্ভর), প্যারাথাইরয়েড (রক্তে ক্যালসিয়াম নিয়ন্ত্রণ), অ্যাড্রিনাল (অ্যাড্রেনালিন — জরুরি/লড়াই-পলায়ন প্রতিক্রিয়া), অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস (ইনসুলিন-গ্লুকাগন — রক্তে শর্করা), এবং গোনাড (টেস্টোস্টেরন/ইস্ট্রোজেন — যৌন বৈশিষ্ট্য)। হরমোন নির্দিষ্ট, ধীর কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।
হরমোন = নালিবিহীন গ্রন্থির রক্তবাহিত রাসায়নিক বার্তাবাহক
পিটুইটারি = মাস্টার গ্রন্থি; থাইরয়েড = থাইরক্সিন (বিপাক)
অ্যাড্রেনালিন = জরুরি প্রতিক্রিয়া; ইনসুলিন = শর্করা কমায়
হরমোনের প্রভাব ধীর কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
পিটুইটারি 'মাস্টার গ্রন্থি' (অন্য গ্রন্থি নিয়ন্ত্রণ করে); থাইরক্সিনে আয়োডিন লাগে — প্রায়ই জিজ্ঞাসিত।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·থাইরয়েডকে মাস্টার গ্রন্থি ভাবা — পিটুইটারি
- ·অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিকে নালিযুক্ত ভাবা — নালিবিহীন
- ·অ্যাড্রেনালিনকে শর্করা-নিয়ন্ত্রক ভাবা — জরুরি প্রতিক্রিয়া; ইনসুলিন শর্করা
Which gland secretes which hormone, and what it does
কোন গ্রন্থি কোন হরমোন — উৎস ও কাজ
হরমোনের প্রশ্ন প্রায় সবসময় জোড়া মেলানোর — কোন হরমোন কোথা থেকে আসে, বা কোন হরমোন কী নিয়ন্ত্রণ করে। এখানে দুটি ফাঁদ বারবার ফেরে। প্রথমটি মিশ্র গ্রন্থি: অগ্ন্যাশয়, শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয় একই সঙ্গে বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা কাজ করে, কিন্তু অ্যাড্রেনাল, থাইরয়েড ও পিটুইটারি বিশুদ্ধভাবে অন্তঃক্ষরা — 'কোনটি ভিন্ন প্রকৃতির' প্রশ্নে এটাই নির্ণায়ক। দ্বিতীয়টি বৃক্ক: বৃক্ক গ্রন্থি না হয়েও এরিথ্রোপোয়েটিন হরমোন নিঃসরণ করে, যা অস্থিমজ্জাকে লোহিত কণিকা বানাতে বলে। প্রোজেস্টেরন আসে ডিম্বাশয়ের কর্পাস লুটিয়াম থেকে, অক্সিটোসিন ও প্রোল্যাকটিন পিটুইটারি থেকে — এই তিনটি প্রায়ই একই প্রশ্নে বিকল্প হয়ে আসে।
মিশ্র গ্রন্থি: অগ্ন্যাশয়, শুক্রাশয়, ডিম্বাশয় — বহিঃ ও অন্তঃক্ষরা দুটোই
বিশুদ্ধ অন্তঃক্ষরা: পিটুইটারি, থাইরয়েড, প্যারাথাইরয়েড, অ্যাড্রেনাল
বৃক্ক গ্রন্থি নয়, তবু এরিথ্রোপোয়েটিন নিঃসরণ করে — অস্থিমজ্জায় লোহিত কণিকা উৎপাদন উদ্দীপিত করে
প্রোজেস্টেরন ডিম্বাশয়ের কর্পাস লুটিয়াম থেকে; জরায়ুপ্রাচীর প্রস্তুত ও গর্ভধারণ রক্ষা করে
অক্সিটোসিন ও প্রোল্যাকটিন পিটুইটারি থেকে; থাইরক্সিন থাইরয়েড থেকে
প্যারাথাইরয়েড হরমোন ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে
ইনসুলিন ও গ্লুকাগন অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স থেকে
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
'কোন গ্রন্থিটি ভিন্ন প্রকৃতির' — মিশ্র না বিশুদ্ধ অন্তঃক্ষরা, সেটাই পার্থক্য খুঁজছে।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·অ্যাড্রেনালকে মিশ্র গ্রন্থি ধরা — এটি বিশুদ্ধ অন্তঃক্ষরা
- ·এরিথ্রোপোয়েটিনের উৎস হিসেবে অস্থিমজ্জা বলা — উৎস বৃক্ক, লক্ষ্য অস্থিমজ্জা
- ·প্রোজেস্টেরনকে পিটুইটারির হরমোন ধরা
স্নায়বিক সমন্বয়
স্নায়ুতন্ত্রের শ্রেণিবিন্যাস
মানব স্নায়ুতন্ত্র প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত: কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র (CNS — মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড, যা তথ্য বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত নেয়) এবং প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র (PNS — করোটিক ও সুষুম্নীয় স্নায়ু, যা CNS ও দেহের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করে)। PNS আবার সোমাটিক (ঐচ্ছিক পেশি নিয়ন্ত্রণ) ও স্বয়ংক্রিয়/অটোনমিক (অনৈচ্ছিক অঙ্গ নিয়ন্ত্রণ) — এই দুই ভাগে বিভক্ত; অটোনমিক আবার সিমপ্যাথেটিক (জরুরি/উত্তেজনা) ও প্যারাসিমপ্যাথেটিক (বিশ্রাম) — বিপরীতভাবে কাজ করে।
CNS: মস্তিষ্ক + সুষুম্নাকাণ্ড (নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র)
PNS: করোটিক + সুষুম্নীয় স্নায়ু
PNS = সোমাটিক (ঐচ্ছিক) + অটোনমিক (অনৈচ্ছিক)
অটোনমিক: সিমপ্যাথেটিক (উত্তেজনা) ও প্যারাসিমপ্যাথেটিক (বিশ্রাম)
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
সিমপ্যাথেটিক ও প্যারাসিমপ্যাথেটিক বিপরীত কাজ করে (হৃৎস্পন্দন বাড়ায়/কমায়) — এই বৈপরীত্য প্রিয় প্রশ্ন।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·সুষুম্নাকাণ্ডকে PNS-এর অংশ ভাবা — CNS
- ·সিম ও প্যারাসিমকে একই কাজ ভাবা — বিপরীত
- ·করোটিক স্নায়ুকে CNS ভাবা — PNS
রাসায়নিক সমন্বয়
স্নায়বিক ও হরমোন সমন্বয়ের পার্থক্য
দেহে দুটি সমন্বয় ব্যবস্থা একসাথে কাজ করে। স্নায়বিক সমন্বয় বৈদ্যুতিক-রাসায়নিক উদ্দীপনার মাধ্যমে নিউরন দিয়ে বার্তা পাঠায় — এটি অত্যন্ত দ্রুত কিন্তু প্রভাব স্বল্পস্থায়ী এবং নির্দিষ্ট অঙ্গে সীমিত। হরমোনাল বা রাসায়নিক সমন্বয় রক্তবাহিত হরমোনের মাধ্যমে কাজ করে — এটি ধীর কিন্তু প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী ও বিস্তৃত (বৃদ্ধি, বিপাক, প্রজননের মতো দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ায়)। হাইপোথ্যালামাস দুই ব্যবস্থার সংযোগ ঘটায়। অনিয়ন্ত্রিত হরমোন ব্যবহারে (যেমন স্টেরয়েড অপব্যবহার) নানা শারীরিক ও আচরণগত ক্ষতি হতে পারে।
স্নায়বিক: দ্রুত, স্বল্পস্থায়ী, নির্দিষ্ট (নিউরন)
হরমোনাল: ধীর, দীর্ঘস্থায়ী, বিস্তৃত (রক্তবাহিত)
হাইপোথ্যালামাস দুই ব্যবস্থার সংযোগস্থল
অনিয়ন্ত্রিত হরমোন ব্যবহারে শারীরিক ও আচরণগত ক্ষতি
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
স্নায়বিক = দ্রুত+স্বল্পস্থায়ী, হরমোনাল = ধীর+দীর্ঘস্থায়ী — গতি ও স্থায়িত্ব বিপরীত, প্রায়ই ছকে চাওয়া হয়।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·হরমোনাল সমন্বয়কে দ্রুত ভাবা — ধীর কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী
- ·স্নায়বিক সমন্বয়কে রক্তবাহিত ভাবা — নিউরন-বাহিত
- ·হরমোনের প্রভাবকে স্বল্পস্থায়ী ভাবা — দীর্ঘস্থায়ী
স্নায়বিক সমন্বয়
নিউরন: গঠন ও স্নায়ু-উদ্দীপনা
নিউরন বা স্নায়ুকোষ স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যগত একক, যা উদ্দীপনা গ্রহণ ও পরিবহন করে। এর তিনটি অংশ: কোষদেহ (সাইটন — নিউক্লিয়াস ধারণ করে), অসংখ্য ছোট ডেনড্রাইট (উদ্দীপনা গ্রহণ করে) এবং একটি দীর্ঘ অ্যাক্সন (উদ্দীপনা দূরে পরিবহন করে)। অনেক অ্যাক্সন মায়েলিন আবরণে ঢাকা থাকে, যা উদ্দীপনার গতি বাড়ায়। দুটি নিউরনের সংযোগস্থলকে সাইন্যাপস বলে, যেখানে নিউরোট্রান্সমিটার রাসায়নিকভাবে উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনে পৌঁছে দেয়। স্নায়ু-উদ্দীপনা একটি বৈদ্যুতিক-রাসায়নিক তরঙ্গ যা এক দিকেই চলে।
নিউরনের তিন অংশ: কোষদেহ, ডেনড্রাইট (গ্রহণ), অ্যাক্সন (পরিবহন)
মায়েলিন আবরণ উদ্দীপনার গতি বাড়ায়
সাইন্যাপসে নিউরোট্রান্সমিটার দিয়ে উদ্দীপনা স্থানান্তর
স্নায়ু-উদ্দীপনা একমুখী (ডেনড্রাইট→অ্যাক্সন)
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
উদ্দীপনা ডেনড্রাইটে গৃহীত হয়, অ্যাক্সনে পরিবাহিত হয় (একমুখী)। সাইন্যাপসে সঞ্চালন রাসায়নিক — প্রায়ই জিজ্ঞাসিত।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·অ্যাক্সনকে উদ্দীপনা-গ্রাহক ভাবা — ডেনড্রাইট গ্রহণ করে
- ·স্নায়ু-উদ্দীপনাকে দ্বিমুখী ভাবা — একমুখী
- ·সাইন্যাপসে সঞ্চালনকে বৈদ্যুতিক ভাবা — রাসায়নিক (নিউরোট্রান্সমিটার)
স্নায়বিক সমন্বয়
করোটিক স্নায়ু, সুষুম্নাকাণ্ড ও প্রতিবর্ত ক্রিয়া
মানুষের ১২ জোড়া করোটিক স্নায়ু মস্তিষ্ক থেকে বেরিয়ে মাথা-ঘাড়ের সংবেদন ও পেশি নিয়ন্ত্রণ করে এবং ৩১ জোড়া সুষুম্নীয় স্নায়ু সুষুম্নাকাণ্ড থেকে বেরোয়। সুষুম্নাকাণ্ড মস্তিষ্ক ও দেহের মধ্যে উদ্দীপনা পরিবহন করে এবং প্রতিবর্ত ক্রিয়ার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। প্রতিবর্ত ক্রিয়া হলো উদ্দীপনার প্রতি দ্রুত, স্বয়ংক্রিয় ও অনিচ্ছাকৃত প্রতিক্রিয়া (যেমন গরমে হাত সরিয়ে নেওয়া), যা মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত ছাড়াই সুষুম্নাকাণ্ডে সম্পন্ন হয়। এর পথ (রিফ্লেক্স আর্ক): রিসেপ্টর→সংবেদী নিউরন→সুষুম্নাকাণ্ড→চেষ্টীয় নিউরন→ইফেক্টর (পেশি)।
১২ জোড়া করোটিক ও ৩১ জোড়া সুষুম্নীয় স্নায়ু
প্রতিবর্ত ক্রিয়া দ্রুত, স্বয়ংক্রিয়, মস্তিষ্ক-নিরপেক্ষ
কেন্দ্র সুষুম্নাকাণ্ড
রিফ্লেক্স আর্ক: রিসেপ্টর→সংবেদী নিউরন→সুষুম্নাকাণ্ড→চেষ্টীয় নিউরন→ইফেক্টর
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
প্রতিবর্ত ক্রিয়ায় মস্তিষ্ক সিদ্ধান্ত নেয় না, সুষুম্নাকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে — তাই এত দ্রুত। রিফ্লেক্স আর্কের ক্রম প্রিয় প্রশ্ন।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·প্রতিবর্ত ক্রিয়াকে মস্তিষ্ক-নিয়ন্ত্রিত ভাবা — সুষুম্নাকাণ্ড
- ·করোটিক স্নায়ু ৩১ জোড়া ভাবা — ১২ জোড়া (সুষুম্নীয় ৩১)
- ·রিফ্লেক্স আর্কে চেষ্টীয় নিউরন প্রথম ভাবা — সংবেদী নিউরন প্রথম