মানব পরিপাক ও শোষণ
খাদ্য শোষণ ও শোষিত খাদ্যের পরিণতি
পরিপাকের পর সৃষ্ট সরল অণু ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রাচীরে অসংখ্য ভিলাস (অঙ্গুলিসদৃশ উদ্বর্ধন) দিয়ে শোষিত হয়; ভিলাস শোষণ-পৃষ্ঠতল বহুগুণ বাড়ায় এবং প্রতিটি ভিলাসে রক্তজালক ও একটি ল্যাক্টিয়াল থাকে। গ্লুকোজ ও অ্যামিনো অ্যাসিড রক্তজালকে শোষিত হয়ে হেপাটিক পোর্টাল শিরা দিয়ে যকৃতে যায়; ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল ল্যাক্টিয়ালের লসিকায় শোষিত হয়ে চর্বি রূপে সংবহনে যায়। শোষিত খাদ্য কোষে শক্তি উৎপাদন, বৃদ্ধি ও সঞ্চয়ে (গ্লাইকোজেন/চর্বি) ব্যবহৃত হয় — একে আত্তীকরণ বলে।
শোষণের প্রধান স্থান ক্ষুদ্রান্ত্র; ভিলাস পৃষ্ঠতল বাড়ায়
গ্লুকোজ ও অ্যামিনো অ্যাসিড → রক্তজালক → যকৃত
ফ্যাটি অ্যাসিড/গ্লিসারল → ল্যাক্টিয়াল (লসিকা)
আত্তীকরণে শোষিত খাদ্য শক্তি/বৃদ্ধি/সঞ্চয়ে ব্যবহৃত
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
চর্বি শোষিত হয় ল্যাক্টিয়ালে (লসিকা), গ্লুকোজ/অ্যামিনো অ্যাসিড রক্তে — এই পৃথক পথ প্রিয় প্রশ্ন।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·সব শোষিত খাদ্য সরাসরি রক্তে যায় ভাবা — চর্বি ল্যাক্টিয়ালে
- ·শোষণ পাকস্থলীতে প্রধান ভাবা — ক্ষুদ্রান্ত্রে
- ·ভিলাসকে পরিপাকী গ্রন্থি ভাবা — শোষণ-পৃষ্ঠ
Emulsification of fats and the role of bile
স্নেহ পদার্থের ইমালসিফিকেশন ও পিত্তের ভূমিকা
চর্বি পানিতে মেশে না, তাই অন্ত্রে সে বড় বড় ফোঁটা হয়ে ভাসতে থাকে এবং পানিতে দ্রবণীয় এনজাইম তার কেবল বাইরের পৃষ্ঠটুকু নাগালে পায়। পিত্তলবণ এই সমস্যা মেটায় — তার অণুর একদিক পানিপ্রিয় ও অন্যদিক তেলপ্রিয় হওয়ায় সে বড় ফোঁটাকে ভেঙে অসংখ্য ছোট ফোঁটায় পরিণত করে এবং তাদের আবার জুড়ে যেতে দেয় না। এতে মোট পৃষ্ঠক্ষেত্র বহুগুণ বেড়ে যায় এবং লাইপেজ এনজাইম দ্রুত কাজ করতে পারে। জরুরি কথা — পিত্তে কোনো এনজাইম নেই, তার কাজ সম্পূর্ণ ভৌত; পরিপাক করে লাইপেজ, পিত্ত কেবল পথ তৈরি করে দেয়।
ইমালসিফিকেশন করে পিত্তলবণ, এনজাইম নয় — প্রক্রিয়াটি ভৌত, রাসায়নিক নয়
পিত্তরসে কোনো পরিপাককারী এনজাইম থাকে না
পিত্ত তৈরি হয় যকৃতে, সঞ্চিত ও ঘনীভূত হয় পিত্তথলিতে
চর্বি ভাঙার এনজাইম লাইপেজ, আসে অগ্ন্যাশয় রস থেকে
ইমালসিফিকেশনে পৃষ্ঠক্ষেত্র বাড়ে, তাই এনজাইমের কাজের হার বাড়ে
পিত্তরস ক্ষারীয় — পাকস্থলী থেকে আসা অম্লীয় খাদ্যমণ্ডকে প্রশমিত করে
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
পিত্ত ভাঙে না, ছড়িয়ে দেয় — ভাঙার কাজ লাইপেজের। প্রশ্নে 'ইমালসিফিকেশন' শব্দটি থাকলে উত্তর পিত্তলবণ।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·ইমালসিফিকেশনের কারণ হিসেবে এনজাইম বেছে নেওয়া — এটি পিত্তলবণের ভৌত ক্রিয়া
- ·পিত্তরসে লাইপেজ আছে ধরা — পিত্তে কোনো এনজাইম নেই
- ·পিত্ত পিত্তথলিতে তৈরি হয় ধরা — তৈরি যকৃতে, সঞ্চয় পিত্তথলিতে
Gut wall layers and the cells that line them
পৌষ্টিকনালির প্রাচীরের স্তর ও আবরণী কোষ
পৌষ্টিকনালির প্রাচীর সর্বত্র একই চারটি স্তরে গড়া — ভিতর থেকে মিউকোসা, সাবমিউকোসা, পেশিস্তর ও সেরোসা। মিউকোসার আবরণী কোষগুলোর মধ্যে গবলেট কোষ মিউকাস ক্ষরণ করে, যা নালির গা পিচ্ছিল রাখে ও এসিড-এনজাইম থেকে রক্ষা করে। এই কোষের ঘনত্ব সব জায়গায় সমান নয় — যেখানে বিষয়বস্তু যত শুষ্ক ও শক্ত, সেখানে তত বেশি মিউকাস দরকার, তাই বৃহদন্ত্রে গবলেট কোষের সংখ্যা সর্বোচ্চ। ক্ষুদ্রান্ত্রের মিউকোসা ভিলাই ও মাইক্রোভিলাইতে ভাঁজ হয়ে শোষণক্ষেত্র বহুগুণ বাড়ায়, যেটি বৃহদন্ত্রে নেই।
প্রাচীরের চারটি স্তর: মিউকোসা, সাবমিউকোসা, পেশিস্তর, সেরোসা
গবলেট কোষ মিউকাস ক্ষরণ করে; সংখ্যা বৃহদন্ত্রে সর্বোচ্চ
ক্ষুদ্রান্ত্রে ভিলাই ও মাইক্রোভিলাই শোষণের ক্ষেত্রফল বহুগুণ বাড়ায়
পাকস্থলীর প্যারাইটাল কোষ HCl, চিফ/পেপটিক কোষ পেপসিনোজেন, জি-কোষ গ্যাস্ট্রিন ক্ষরণ করে
পেশিস্তরের সংকোচনে পেরিস্টালসিস ঘটে
বৃহদন্ত্রে ভিলাই নেই — তার প্রধান কাজ পানি ও লবণ শোষণ
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
গবলেট কোষ সবচেয়ে বেশি বৃহদন্ত্রে — ক্ষুদ্রান্ত্র নয়, যদিও শোষণ সেখানেই বেশি।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·গবলেট কোষের সর্বোচ্চ ঘনত্ব ক্ষুদ্রান্ত্রে ধরা
- ·বৃহদন্ত্রে ভিলাই আছে ধরা
- ·প্যারাইটাল ও চিফ কোষের ক্ষরণ অদলবদল করা
মানব পরিপাক ও শোষণ
যকৃত ও পিত্তরস
যকৃত মানবদেহের বৃহত্তম গ্রন্থি ও একটি প্রধান বিপাকীয় কেন্দ্র। এর সঞ্চয়ী ভূমিকা: গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেন রূপে, এবং ভিটামিন (A, D, B12) ও লোহা সঞ্চয় করে। বিপাকীয় ভূমিকা: রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বিষাক্ত অ্যামোনিয়াকে ইউরিয়ায় রূপান্তর, বিষমুক্তকরণ (detoxification) ও প্লাজমা প্রোটিন সংশ্লেষ। যকৃত পিত্তরস নিঃসরণ করে, যা পিত্তথলিতে জমা থাকে; পিত্তরসে এনজাইম নেই তবে পিত্তলবণ চর্বিকে ইমালসিফাই করে লাইপেজের কাজ সহজ করে এবং পিত্তরঞ্জক (বিলিরুবিন) বর্জ্য নিষ্কাশন করে।
যকৃত = বৃহত্তম গ্রন্থি; গ্লাইকোজেন, ভিটামিন, লোহা সঞ্চয় করে
অ্যামোনিয়া→ইউরিয়া রূপান্তর ও বিষমুক্তকরণ
পিত্তরসে এনজাইম নেই; পিত্তলবণ চর্বি ইমালসিফাই করে
পিত্তরঞ্জক = বিলিরুবিন (বর্জ্য)
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
যকৃত অ্যামোনিয়াকে ইউরিয়ায় বদলায় (ইউরিয়া চক্র) — রেচনের সাথে সংযোগ। পিত্তরসে এনজাইম নেই।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·পিত্তরসে চর্বি-পরিপাকী এনজাইম আছে ভাবা — নেই
- ·যকৃতকে ছোট গ্রন্থি ভাবা — বৃহত্তম গ্রন্থি
- ·ইউরিয়া বৃক্কে তৈরি ভাবা — যকৃতে তৈরি, বৃক্কে নিষ্কাশিত
মানব পরিপাক ও শোষণ
মুখগহ্বরে পরিপাক: দাঁত ও লালা
মুখগহ্বরে পরিপাক শুরু হয়। মানুষের দাঁত হেটেরোডন্ট (চার ধরন — কর্তন, ছেদন, অগ্র/পশ্চাৎ পেষণ) ও ডাইফায়োডন্ট (দুধ ও স্থায়ী — দুই সেট); প্রাপ্তবয়স্কে ৩২টি স্থায়ী দাঁত থাকে। দাঁত খাদ্য চিবিয়ে যান্ত্রিকভাবে ভাঙে (ম্যাস্টিকেশন)। লালাগ্রন্থি (প্যারোটিড, সাবম্যান্ডিবুলার, সাবলিঙ্গুয়াল) নিঃসৃত লালায় থাকে টায়ালিন বা স্যালাইভারি অ্যামাইলেজ, যা রান্না করা শ্বেতসারকে (স্টার্চ) মল্টোজে পরিণত করে — মুখেই শর্করার রাসায়নিক পরিপাক শুরু হয়। লালা খাদ্যকে পিচ্ছিল করে গলাধঃকরণে সাহায্য করে।
দাঁত হেটেরোডন্ট (৪ প্রকার) ও ডাইফায়োডন্ট (২ সেট); প্রাপ্তবয়স্কে ৩২টি
লালায় এনজাইম টায়ালিন (স্যালাইভারি অ্যামাইলেজ)
টায়ালিন স্টার্চ → মল্টোজ (শর্করা পরিপাক শুরু)
তিন জোড়া লালাগ্রন্থি: প্যারোটিড, সাবম্যান্ডিবুলার, সাবলিঙ্গুয়াল
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
লালায় শুধু শর্করা (স্টার্চ) পরিপাক হয়, আমিষ/স্নেহ নয়। টায়ালিন = স্যালাইভারি অ্যামাইলেজ।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·লালায় আমিষ পরিপাক হয় ভাবা — শুধু শর্করা
- ·প্রাপ্তবয়স্কে ২৮ দাঁত ভাবা — ৩২টি
- ·টায়ালিনকে প্রোটিয়েজ ভাবা — অ্যামাইলেজ
মানব পরিপাক ও শোষণ
পরিপাকে স্নায়ু ও হরমোনের ভূমিকা
পরিপাক স্নায়ু ও হরমোন উভয় দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণে খাদ্যের দৃশ্য, গন্ধ বা উপস্থিতি স্নায়ু-উদ্দীপনার মাধ্যমে লালা ও গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরণ ঘটায় এবং পৌষ্টিকনালির পেশিপ্রাচীরে পেরিস্টালসিস চালায় (এন্টেরিক স্নায়ুতন্ত্র)। হরমোনাল নিয়ন্ত্রণে পৌষ্টিকনালির নিঃসৃত হরমোন কাজ করে — গ্যাস্ট্রিন (গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরণ বাড়ায়), সিক্রেটিন (অগ্ন্যাশয় থেকে বাইকার্বনেট ক্ষরণ ঘটায়) ও কোলিসিস্টোকাইনিন/CCK (পিত্ত ও অগ্ন্যাশয় এনজাইম ক্ষরণ ঘটায়)। এভাবে সঠিক সময়ে সঠিক পাচক রস নিঃসৃত হয়।
স্নায়বিক: খাদ্যের দৃশ্য/গন্ধে রস ক্ষরণ ও পেরিস্টালসিস
গ্যাস্ট্রিন: গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরণ বাড়ায়
সিক্রেটিন: অগ্ন্যাশয় বাইকার্বনেট ক্ষরণ
CCK: পিত্ত ও অগ্ন্যাশয় এনজাইম ক্ষরণ
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
গ্যাস্ট্রিন পাকস্থলীর, সিক্রেটিন/CCK ক্ষুদ্রান্ত্রের হরমোন — কোন হরমোন কী করে তা গুলিয়ে ফেলা হয়।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·গ্যাস্ট্রিনকে অগ্ন্যাশয়-উদ্দীপক ভাবা — গ্যাস্ট্রিক রস
- ·পরিপাককে শুধু হরমোন-নিয়ন্ত্রিত ভাবা — স্নায়ুও
- ·সিক্রেটিনকে পিত্ত-উদ্দীপক ভাবা — CCK পিত্ত ঘটায়
মানব পরিপাক ও শোষণ
স্থূলতা ও BMI
শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমে স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টিকারী অবস্থাকে স্থূলতা বলে। এটি মূল্যায়নে বডি মাস ইনডেক্স (BMI) ব্যবহৃত হয়, যা ওজন (কেজি) ÷ উচ্চতার বর্গ (মিটার²) দিয়ে গণনা করা হয়। সাধারণত BMI ১৮.৫–২৪.৯ স্বাভাবিক, ২৫–২৯.৯ অতিরিক্ত ওজন এবং ৩০+ স্থূল হিসেবে ধরা হয়। অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও বংশগতি স্থূলতার প্রধান কারণ; এটি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। সুষম খাদ্য ও নিয়মিত ব্যায়াম প্রতিরোধে কার্যকর।
BMI = ওজন(কেজি) ÷ উচ্চতা²(মিটার²)
স্বাভাবিক BMI ১৮.৫–২৪.৯; ৩০+ স্থূল
কারণ: অতিরিক্ত ক্যালরি, নিষ্ক্রিয়তা, বংশগতি
স্থূলতা ডায়াবেটিস/উচ্চ রক্তচাপ/হৃদরোগ ঝুঁকি বাড়ায়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
BMI = ওজন/উচ্চতা² (একক কেজি/মি²) — সূত্র ও একক প্রায়ই জিজ্ঞাসিত। ৩০+ স্থূলতার সীমা।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·BMI = উচ্চতা/ওজন ভাবা — ওজন/উচ্চতা²
- ·BMI-কে চর্বি শতাংশ ভাবা — ওজন-উচ্চতা অনুপাত
- ·স্থূলতাকে শুধু খাদ্যজনিত ভাবা — বংশগতি ও নিষ্ক্রিয়তাও
মানব পরিপাক ও শোষণ
অগ্ন্যাশয় ও অগ্ন্যাশয় রস
অগ্ন্যাশয় একটি মিশ্র গ্রন্থি — এটি একাধারে বহিঃক্ষরা (পরিপাক) ও অন্তঃক্ষরা (হরমোন) কাজ করে। বহিঃক্ষরা অংশ অগ্ন্যাশয় রস নিঃসরণ করে, যাতে তিন শ্রেণির খাদ্যের এনজাইম থাকে: অ্যামাইলেজ (শর্করা), ট্রিপসিন/কাইমোট্রিপসিন (আমিষ) ও লাইপেজ (স্নেহ) — তাই একে 'সম্পূর্ণ পাচক রস' বলা হয়। অন্তঃক্ষরা অংশ আইলেটস অফ ল্যাঙ্গারহ্যান্স থেকে ইনসুলিন (রক্তে শর্করা কমায়) ও গ্লুকাগন (বাড়ায়) হরমোন ক্ষরণ করে রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে।
অগ্ন্যাশয় মিশ্র গ্রন্থি (বহিঃক্ষরা + অন্তঃক্ষরা)
অগ্ন্যাশয় রসে তিন শ্রেণির এনজাইম — 'সম্পূর্ণ পাচক রস'
আইলেটস অফ ল্যাঙ্গারহ্যান্স: ইনসুলিন ও গ্লুকাগন
ইনসুলিন শর্করা কমায়, গ্লুকাগন বাড়ায়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
অগ্ন্যাশয় রসে তিন শ্রেণির খাদ্যের এনজাইমই থাকে — তাই 'সম্পূর্ণ পাচক রস'। ইনসুলিন-গ্লুকাগন বিপরীত কাজ করে।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·অগ্ন্যাশয়কে শুধু পাচক গ্রন্থি ভাবা — মিশ্র (হরমোনও ক্ষরণ করে)
- ·ইনসুলিনকে শর্করা বৃদ্ধিকারী ভাবা — হ্রাসকারী
- ·অগ্ন্যাশয় রসকে অসম্পূর্ণ ভাবা — তিন শ্রেণির এনজাইমযুক্ত
মানব পরিপাক ও শোষণ
ক্ষুদ্রান্ত্রে পরিপাক
ক্ষুদ্রান্ত্র পরিপাকের প্রধান স্থান, যেখানে অগ্ন্যাশয় রস, পিত্তরস ও আন্ত্রিক রসের সম্মিলিত ক্রিয়ায় তিন শ্রেণির খাদ্যই সম্পূর্ণ পরিপাক হয়। শর্করা: অ্যামাইলেজ ও আন্ত্রিক এনজাইমে (মল্টেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ) ডাইস্যাকারাইড ভেঙে মনোস্যাকারাইড (গ্লুকোজ) হয়। আমিষ: ট্রিপসিন/কাইমোট্রিপসিন ও পেপটাইডেজে পেপটাইড ভেঙে অ্যামিনো অ্যাসিড হয়। স্নেহ: পিত্তরস চর্বিকে ইমালসিফাই করে ছোট ফোঁটায় ভাঙে, তারপর লাইপেজ তাকে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে। এভাবে ক্ষুদ্রান্ত্রে সব খাদ্য শোষণযোগ্য সরল অণুতে পরিণত হয়।
ক্ষুদ্রান্ত্র = পরিপাকের প্রধান ও চূড়ান্ত স্থান
শর্করা→গ্লুকোজ; আমিষ→অ্যামিনো অ্যাসিড; স্নেহ→ফ্যাটি অ্যাসিড+গ্লিসারল
পিত্তরস চর্বিকে ইমালসিফাই করে (এনজাইম নয়)
ট্রিপসিন-কাইমোট্রিপসিন আমিষ, লাইপেজ স্নেহ পরিপাকে
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
পিত্তরসে কোনো এনজাইম নেই — এটি শুধু চর্বি ইমালসিফাই করে। ক্ষুদ্রান্ত্রেই সব খাদ্যের পরিপাক সম্পূর্ণ হয়।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·পিত্তরসে এনজাইম আছে ভাবা — নেই (শুধু ইমালসিফিকেশন)
- ·আমিষ পরিপাক পাকস্থলীতে শেষ হয় ভাবা — ক্ষুদ্রান্ত্রে সম্পূর্ণ
- ·স্নেহ পরিপাক মুখে শুরু ভাবা — মূলত ক্ষুদ্রান্ত্রে
মানব পরিপাক ও শোষণ
পাকস্থলীতে পরিপাক ও গ্যাস্ট্রিক রস
পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত গ্যাস্ট্রিক রসে থাকে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl), পেপসিনোজেন, রেনিন ও মিউকাস। HCl মাধ্যমকে অম্লীয় করে (pH ~২) জীবাণু ধ্বংস করে এবং নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে রূপান্তরিত করে; পেপসিন আমিষকে পেপটোন ও প্রোটিওজে ভাঙে। রেনিন দুধের প্রোটিন কেসিনকে জমাট বাঁধায় (শিশুতে)। মিউকাস পাকস্থলীর প্রাচীরকে অ্যাসিড ও এনজাইম থেকে রক্ষা করে। পাকস্থলীতে প্রধানত আমিষের পরিপাক শুরু হয় এবং খাদ্য অর্ধপাচিত কাইম-এ পরিণত হয়।
গ্যাস্ট্রিক রস: HCl, পেপসিনোজেন, রেনিন, মিউকাস
HCl পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে পরিণত করে
পেপসিন আমিষ → পেপটোন/প্রোটিওজ
মিউকাস প্রাচীরকে অ্যাসিড থেকে রক্ষা করে
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
পেপসিন নিঃসৃত হয় নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেন রূপে, HCl একে সক্রিয় করে — এই সক্রিয়ণ প্রায়ই জিজ্ঞাসিত। পাকস্থলীতে আমিষ পরিপাক শুরু।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·পাকস্থলীতে শর্করা পরিপাক হয় ভাবা — মূলত আমিষ
- ·পেপসিন সক্রিয় রূপে নিঃসৃত ভাবা — নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেন রূপে
- ·HCl কে এনজাইম ভাবা — অ্যাসিড (এনজাইম সক্রিয় করে)
মানব পরিপাক ও শোষণ
মানব পৌষ্টিকতন্ত্র ও পরিপাকের ধরন
মানুষের পৌষ্টিকতন্ত্র একটি দীর্ঘ পৌষ্টিকনালি (মুখ→গলবিল→অন্ননালি→পাকস্থলী→ক্ষুদ্রান্ত্র→বৃহদন্ত্র→মলদ্বার) এবং সহযোগী পাচকগ্রন্থি (লালাগ্রন্থি, যকৃত, অগ্ন্যাশয়) নিয়ে গঠিত। খাদ্যের জটিল অণুকে শোষণযোগ্য সরল অণুতে ভাঙার প্রক্রিয়াই পরিপাক, যা দুই ধরনের: যান্ত্রিক পরিপাক (চর্বণ ও পেরিস্টালসিসে খাদ্য ভাঙা ও মেশানো) এবং রাসায়নিক পরিপাক (পাচক এনজাইম দিয়ে জটিল অণুর ভাঙন)। পরিপাকের পাঁচটি ধাপ: গ্রহণ, পরিপাক, শোষণ, আত্তীকরণ ও বহিষ্করণ।
পৌষ্টিকনালি: মুখ→অন্ননালি→পাকস্থলী→ক্ষুদ্রান্ত্র→বৃহদন্ত্র→মলদ্বার
সহযোগী গ্রন্থি: লালাগ্রন্থি, যকৃত, অগ্ন্যাশয়
পরিপাক দুই ধরন: যান্ত্রিক ও রাসায়নিক
পাঁচ ধাপ: গ্রহণ, পরিপাক, শোষণ, আত্তীকরণ, বহিষ্করণ
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
যকৃত-অগ্ন্যাশয় পৌষ্টিকনালির অংশ নয়, সহযোগী গ্রন্থি (রস নালিতে ঢালে) — প্রায়ই ফাঁদ।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·যকৃত/অগ্ন্যাশয়কে পৌষ্টিকনালির অংশ ভাবা — সহযোগী গ্রন্থি
- ·যান্ত্রিক পরিপাকে এনজাইম লাগে ভাবা — শুধু রাসায়নিকে
- ·শোষণকে পরিপাকের প্রথম ধাপ ভাবা — পরে ঘটে