← সব চ্যাপ্টার

রোগ, স্বাস্থ্য ও শারীরতত্ত্ব (সাধারণ)

৩৮টি প্রশ্ন এসেছে ২৫ বছরে · টি টপিক

মানবদেহের প্রতিরক্ষা (ইমিউনিটি)

অ্যান্টিবডি: গঠন ও কাজ; অ্যান্টিজেনের সাথে পার্থক্য

অ্যান্টিবডি (ইমিউনোগ্লোবিউলিন) হলো B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপন্ন Y-আকৃতির প্রোটিন, যা নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে তৈরি হয়ে তাকে নিষ্ক্রিয় করে। এর দুটি ভারী ও দুটি হালকা পলিপেপটাইড শৃঙ্খল থাকে; Y-এর দুই বাহুর প্রান্তে পরিবর্তনশীল অংশ নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের সাথে তালা-চাবির মতো যুক্ত হয়। অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনকে পুঞ্জীভূত করা, বিষ নিষ্ক্রিয় করা ও ফ্যাগোসাইটকে সাহায্য করার মাধ্যমে জীবাণু ধ্বংসে সহায়তা করে। অ্যান্টিজেন হলো বহিরাগত পদার্থ (প্রায়ই প্রোটিন) যা প্রতিরক্ষা প্রতিক্রিয়া জাগায়, আর অ্যান্টিবডি হলো তার বিরুদ্ধে দেহের তৈরি প্রতিরোধী প্রোটিন। অ্যান্টিবডি = B-লিম্ফোসাইট-উৎপন্ন Y-আকৃতির প্রোটিন গঠন: ২ ভারী + ২ হালকা শৃঙ্খল; পরিবর্তনশীল প্রান্ত অ্যান্টিজেনে যুক্ত অ্যান্টিজেন প্রতিক্রিয়া জাগায়; অ্যান্টিবডি প্রতিরোধ করে এক অ্যান্টিবডি নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে কাজ করে

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

অ্যান্টিজেন = রোগ-উদ্দীপক (বাইরের), অ্যান্টিবডি = প্রতিরোধক (দেহের তৈরি) — দুটি গুলিয়ে ফেলা সবচেয়ে সাধারণ ভুল।

এখানে ভুল হয় ()

  • অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডিকে একই ভাবা — উদ্দীপক বনাম প্রতিরোধক
  • অ্যান্টিবডিকে T-কোষ-উৎপন্ন ভাবা — B-লিম্ফোসাইট
  • অ্যান্টিবডিকে অনির্দিষ্ট ভাবা — নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনে কাজ করে

মানবদেহের প্রতিরক্ষা (ইমিউনিটি)

প্রতিরক্ষার প্রথম স্তর: বাহ্যিক বাধা

মানবদেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তিন স্তরে সাজানো। প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর হলো দেহে জীবাণুর প্রবেশ ঠেকানো বাহ্যিক বাধা: ত্বক (অভেদ্য শারীরিক প্রাচীর), মিউকাস ঝিল্লি (জীবাণু আটকায়), শ্বাসনালির সিলিয়া (জীবাণু বের করে দেয়) এবং রাসায়নিক বাধা — যেমন ঘামের অম্লীয়তা, লালা-অশ্রুর লাইসোজাইম এনজাইম (ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে) ও পাকস্থলীর HCl (গৃহীত জীবাণু মারে)। এই স্তর অনির্দিষ্ট — সব ধরনের জীবাণুর বিরুদ্ধে একইভাবে কাজ করে ও জন্মগতভাবে উপস্থিত থাকে। প্রথম স্তর: ত্বক, মিউকাস, সিলিয়া (শারীরিক বাধা) রাসায়নিক বাধা: লাইসোজাইম (লালা/অশ্রু), পাকস্থলীর HCl এই স্তর অনির্দিষ্ট ও জন্মগত জীবাণুকে দেহে ঢুকতেই বাধা দেয়

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

ত্বক প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর (জীবাণু ঢুকতেই দেয় না)। লাইসোজাইম লালা/অশ্রুতে থাকে ও ব্যাকটেরিয়া মারে — প্রায়ই জিজ্ঞাসিত।

এখানে ভুল হয় ()

  • ত্বককে অকার্যকর প্রতিরক্ষা ভাবা — প্রথম ও প্রধান বাধা
  • প্রথম স্তরকে নির্দিষ্ট ভাবা — অনির্দিষ্ট
  • লাইসোজাইমকে অ্যান্টিবডি ভাবা — এনজাইম

Which pathogen causes which disease

কোন রোগজীবাণু কোন রোগ ঘটায়

রোগ-রোগজীবাণুর জোড়া মেলানো এই অধ্যায়ের সবচেয়ে বেশি আসা প্রশ্ন, আর ফাঁদটা প্রায় সবসময় একই — ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগকে ভাইরাসজনিত ভাবা বা উল্টোটা। মনে রাখার সহজ ভাগ: কলেরা, যক্ষ্মা, টাইফয়েড, ধনুষ্টঙ্কার, গনোরিয়া ব্যাকটেরিয়াজনিত; আর ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক, হাম, পোলিও, কোভিড-১৯ ও এইডস ভাইরাসজনিত। ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে, ভাইরাসজনিত রোগে করে না — এটিই দুই দলকে আলাদা রাখার সবচেয়ে ব্যবহারিক কারণ। কলেরার জীবাণু Vibrio cholerae একটি গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া। ব্যাকটেরিয়াজনিত: কলেরা, যক্ষ্মা, টাইফয়েড, ধনুষ্টঙ্কার, গনোরিয়া, ডিপথেরিয়া ভাইরাসজনিত: ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক, হাম, পোলিও, কোভিড-১৯, এইডস, চিকুনগুনিয়া প্রোটোজোয়াজনিত: ম্যালেরিয়া, আমাশয়, কালাজ্বর ছত্রাকজনিত: দাদ, অ্যাথলিটস ফুট কলেরার জীবাণু Vibrio cholerae, গ্রাম-নেগেটিভ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ায় কাজ করে, ভাইরাসে করে না সোয়াইন ফ্লুর জন্য দায়ী ভাইরাস H1N1

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করবে কি না ভাবো — কাজ করলে ব্যাকটেরিয়া, না করলে ভাইরাস।

এখানে ভুল হয় ()

  • জলাতঙ্ককে ব্যাকটেরিয়াজনিত ধরা — এটি ভাইরাসজনিত
  • কলেরাকে ভাইরাসজনিত ধরা — এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত
  • ম্যালেরিয়াকে ব্যাকটেরিয়াজনিত ধরা — এটি প্রোটোজোয়াজনিত

মানবদেহের প্রতিরক্ষা (ইমিউনিটি)

সহজাত ও অর্জিত অনাক্রম্যতা

অনাক্রম্যতা দুই ধরনের। সহজাত অনাক্রম্যতা (innate) জন্মগত, অনির্দিষ্ট ও দ্রুত — সব জীবাণুর বিরুদ্ধে একইভাবে কাজ করে (ত্বক, ফ্যাগোসাইট ইত্যাদি) এবং স্মৃতি রাখে না। অর্জিত অনাক্রম্যতা (acquired/adaptive) জীবাণুর সংস্পর্শের পর গড়ে ওঠে, নির্দিষ্ট (প্রতিটি অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া) এবং স্মৃতিধারী — একই জীবাণু দ্বিতীয়বার এলে দ্রুত ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেয় (তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর)। অর্জিত অনাক্রম্যতা দুই ধরনের: হিউমোরাল (B-লিম্ফোসাইট ও অ্যান্টিবডি) ও কোষীয় (T-লিম্ফোসাইট)। টিকা অর্জিত অনাক্রম্যতার ভিত্তিতেই কাজ করে। সহজাত: জন্মগত, অনির্দিষ্ট, স্মৃতিহীন, দ্রুত অর্জিত: সংস্পর্শজাত, নির্দিষ্ট, স্মৃতিধারী অর্জিত = হিউমোরাল (B-কোষ/অ্যান্টিবডি) + কোষীয় (T-কোষ) টিকা অর্জিত অনাক্রম্যতা কাজে লাগায়

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

স্মৃতি (memory) শুধু অর্জিত অনাক্রম্যতায় থাকে — তাই দ্বিতীয়বার সংক্রমণে দ্রুত প্রতিক্রিয়া, টিকার ভিত্তি। প্রিয় প্রশ্ন।

এখানে ভুল হয় ()

  • সহজাত অনাক্রম্যতাকে স্মৃতিধারী ভাবা — স্মৃতি নেই
  • অর্জিত অনাক্রম্যতাকে জন্মগত ভাবা — সংস্পর্শজাত
  • সহজাত অনাক্রম্যতাকে নির্দিষ্ট ভাবা — অনির্দিষ্ট

মানবদেহের প্রতিরক্ষা (ইমিউনিটি)

ফ্যাগোসাইটোসিস ও দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা

জীবাণু বাহ্যিক বাধা ভেদ করে দেহে ঢুকলে দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তর সক্রিয় হয়, যার প্রধান অস্ত্র ফ্যাগোসাইটোসিস — কিছু শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণুকে গিলে ধ্বংস করে। ম্যাক্রোফেজ (বড় ভক্ষক কোষ, মনোসাইট থেকে সৃষ্ট) ও নিউট্রোফিল প্রধান ফ্যাগোসাইট; এরা জীবাণুকে ঘিরে ফেলে ভেতরে নিয়ে (ফ্যাগোসোম) লাইসোসোমের এনজাইমে হজম করে। এই স্তরে প্রদাহ (ইনফ্লামেশন — লালচেভাব, উষ্ণতা, ফোলা) ও জ্বরও অন্তর্ভুক্ত, যা জীবাণুর বৃদ্ধি ঠেকায়। দ্বিতীয় স্তরও অনির্দিষ্ট (সহজাত) — নির্দিষ্ট জীবাণু চেনে না। দ্বিতীয় স্তর: ফ্যাগোসাইটোসিস, প্রদাহ, জ্বর ম্যাক্রোফেজ ও নিউট্রোফিল প্রধান ফ্যাগোসাইট ফ্যাগোসাইট জীবাণু গিলে লাইসোসোম-এনজাইমে হজম করে এই স্তর অনির্দিষ্ট (সহজাত)

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

ম্যাক্রোফেজ মনোসাইট থেকে সৃষ্ট বড় ভক্ষক কোষ। ফ্যাগোসাইটোসিস অনির্দিষ্ট (সব জীবাণু গেলে) — অ্যান্টিবডির মতো নির্দিষ্ট নয়।

এখানে ভুল হয় ()

  • ফ্যাগোসাইটোসিসকে নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা ভাবা — অনির্দিষ্ট
  • ম্যাক্রোফেজকে লোহিত কণিকা ভাবা — শ্বেত কণিকা
  • জ্বরকে শুধু ক্ষতিকর ভাবা — জীবাণু-বৃদ্ধি ঠেকায়

মানবদেহের প্রতিরক্ষা (ইমিউনিটি)

টিকা ও লিম্ফোসাইট (T ও B কোষ)

টিকা বা ভ্যাকসিন হলো দুর্বল/নিষ্ক্রিয় জীবাণু বা তার অ্যান্টিজেন, যা দেহে প্রবেশ করিয়ে রোগ না ঘটিয়ে অর্জিত অনাক্রম্যতা তৈরি করা হয় — এতে দেহ অ্যান্টিবডি ও স্মৃতিকোষ তৈরি করে, ফলে পরে আসল জীবাণু এলে দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে (টিকাদান)। এই প্রতিক্রিয়ার মূল কোষ লিম্ফোসাইট — দুই প্রকার: B-লিম্ফোসাইট (অস্থিমজ্জায় পরিণত, অ্যান্টিবডি তৈরি করে — হিউমোরাল অনাক্রম্যতা) ও T-লিম্ফোসাইট (থাইমাসে পরিণত, সরাসরি সংক্রমিত কোষ ধ্বংস ও অন্য কোষ নিয়ন্ত্রণ করে — কোষীয় অনাক্রম্যতা)। স্মৃতিকোষ দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা দেয়। টিকা: দুর্বল/নিষ্ক্রিয় জীবাণু দিয়ে অনাক্রম্যতা তৈরি (রোগ ছাড়াই) B-লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি তৈরি করে (হিউমোরাল) T-লিম্ফোসাইট সংক্রমিত কোষ ধ্বংস করে (কোষীয়) স্মৃতিকোষ দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা দেয়

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

B-কোষ অস্থিমজ্জায়, T-কোষ থাইমাসে পরিণত হয় (নামের B/T এখান থেকেই)। টিকা স্মৃতিকোষ তৈরি করে বলেই দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা।

এখানে ভুল হয় ()

  • T-কোষকে অ্যান্টিবডি-উৎপাদক ভাবা — B-কোষ উৎপন্ন করে
  • টিকাকে রোগ-সৃষ্টিকারী ভাবা — দুর্বল জীবাণু, রোগ ঘটায় না
  • B-কোষকে থাইমাসে পরিণত ভাবা — অস্থিমজ্জায় (T থাইমাসে)

Vaccine types and public health measures

টিকার প্রকারভেদ ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা

টিকা কাজ করে দেহকে রোগজীবাণুর চেহারা আগেভাগে চিনিয়ে দিয়ে, যাতে আসল সংক্রমণ এলে প্রতিরোধ ব্যবস্থা দ্রুত সাড়া দিতে পারে। কয়েক ধরনের টিকা আছে এবং তাদের ভাগ হয় ভিতরে কী দেওয়া হচ্ছে তার ভিত্তিতে — দুর্বল করা জীবন্ত জীবাণু, সম্পূর্ণ মৃত জীবাণু, জীবাণুর একটি অংশ বা প্রোটিন, নিষ্ক্রিয় করা বিষ, অথবা mRNA। BCG একটি জীবন্ত-দুর্বলীকৃত টিকা। কোভিড-১৯-এর টিকা তৈরি হয়েছে নিষ্ক্রিয় ভাইরাস, ভাইরাল ভেক্টর ও mRNA পদ্ধতিতে — টক্সয়েড পদ্ধতিতে নয়, কারণ কোভিড টক্সিন-চালিত রোগ নয়। জনস্বাস্থ্যের দিকে EPI কর্মসূচি শিশুদের নির্দিষ্ট কয়েকটি রোগের বিরুদ্ধে টিকা দেয়। জীবন্ত-দুর্বলীকৃত (attenuated) টিকা: BCG, হাম, পোলিও (মুখে দেওয়া) নিষ্ক্রিয় (killed) টিকা: পোলিও (ইঞ্জেকশন), র‍্যাবিস টক্সয়েড টিকা: ধনুষ্টঙ্কার, ডিপথেরিয়া — বিষকে নিষ্ক্রিয় করে বানানো কোভিড-১৯ টিকা তৈরি হয় নিষ্ক্রিয় ভাইরাস, ভাইরাল ভেক্টর ও mRNA পদ্ধতিতে; টক্সয়েড পদ্ধতিতে নয় সক্রিয় অনাক্রম্যতা টিকা বা সংক্রমণ থেকে, দীর্ঘস্থায়ী; নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতা তৈরি অ্যান্টিবডি থেকে, স্বল্পস্থায়ী মাতৃদুগ্ধ ও প্লাসেন্টার মাধ্যমে শিশু নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতা পায় DDT এখন বাংলাদেশে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয় না

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

'কোন পদ্ধতিতে কোভিড টিকা তৈরি হয় না' — উত্তর টক্সয়েড, কারণ কোভিড টক্সিনজনিত রোগ নয়।

এখানে ভুল হয় ()

  • BCG-কে নিষ্ক্রিয় টিকা ধরা — এটি জীবন্ত-দুর্বলীকৃত
  • সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতার স্থায়িত্ব অদলবদল করা
  • টক্সয়েড টিকাকে জীবাণু-ভিত্তিক ধরা — এটি বিষ থেকে তৈরি