← সব চ্যাপ্টার

বিবর্তন

টি প্রশ্ন এসেছে ২৫ বছরে · টি টপিক

বিবর্তন

বিবর্তনের স্বপক্ষে প্রমাণসমূহ

বিভিন্ন শাখার প্রমাণ বিবর্তনকে সমর্থন করে। অঙ্গসংস্থানিক প্রমাণে সমসংস্থ অঙ্গ (একই মৌলিক গঠন, ভিন্ন কাজ — যেমন মানুষের হাত, তিমির ফ্লিপার, বাদুড়ের ডানা — সাধারণ পূর্বপুরুষ নির্দেশ করে) ও সমবৃত্তি অঙ্গ (ভিন্ন গঠন, একই কাজ — যেমন পাখি ও পতঙ্গের ডানা) এবং নিষ্ক্রিয় অঙ্গ (যেমন মানুষের অ্যাপেন্ডিক্স) উল্লেখযোগ্য। ভ্রূণতাত্ত্বিক প্রমাণে বিভিন্ন মেরুদণ্ডীর প্রাথমিক ভ্রূণের সাদৃশ্য দেখা যায়। জীবাশ্মঘটিত প্রমাণ (যেমন ঘোড়ার বিবর্তন) ধারাবাহিক পরিবর্তন দেখায় এবং সংযোগকারী যোগসূত্র (যেমন Archaeopteryx — সরীসৃপ ও পাখির মধ্যবর্তী) দুই শ্রেণির সম্পর্ক প্রমাণ করে। সমসংস্থ অঙ্গ: একই গঠন ভিন্ন কাজ (সাধারণ পূর্বপুরুষ) সমবৃত্তি অঙ্গ: ভিন্ন গঠন একই কাজ নিষ্ক্রিয় অঙ্গ (অ্যাপেন্ডিক্স); ভ্রূণতাত্ত্বিক সাদৃশ্য Archaeopteryx = সরীসৃপ-পাখির সংযোগকারী যোগসূত্র

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

সমসংস্থ = একই গঠন ভিন্ন কাজ (মানুষের হাত/তিমির ফ্লিপার), সমবৃত্তি = ভিন্ন গঠন একই কাজ (পাখি/পতঙ্গের ডানা) — উল্টে ফেলা সবচেয়ে সাধারণ।

এখানে ভুল হয় ()

  • সমসংস্থ ও সমবৃত্তি অঙ্গকে উল্টো ভাবা — গঠন বনাম কাজ মিলিয়ে দেখো
  • Archaeopteryx-কে পূর্ণ পাখি ভাবা — সরীসৃপ-পাখি সংযোগসূত্র
  • নিষ্ক্রিয় অঙ্গকে কার্যকর ভাবা — বিবর্তনের অবশেষ

বিবর্তন

বিবর্তনের মতবাদ: ল্যামার্কবাদ ও ডারউইনবাদ

বিবর্তন হলো দীর্ঘ সময়ে জীবের বংশানুক্রমিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া। ল্যামার্কবাদ বা 'অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার' মতে, জীব জীবদ্দশায় ব্যবহার-অব্যবহারে যে বৈশিষ্ট্য অর্জন করে তা পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হয় (যেমন জিরাফ উঁচু পাতা খেতে গলা লম্বা করেছে) — তবে অর্জিত দৈহিক বৈশিষ্ট্য বংশগত নয় বলে এটি সমালোচিত। ডারউইনবাদ বা প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ অনুসারে, জীবের মধ্যে প্রকরণ থাকে, অস্তিত্বের সংগ্রামে পরিবেশের সাথে সবচেয়ে উপযোগী বৈশিষ্ট্যধারী জীব 'যোগ্যতমের উদ্বর্তন' নীতিতে টিকে ও বংশবৃদ্ধি করে, ফলে অনুকূল বৈশিষ্ট্য ধীরে ধীরে জনগোষ্ঠীতে সঞ্চিত হয়ে নতুন প্রজাতির উদ্ভব ঘটায়। ল্যামার্কবাদ: অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার (জিরাফের গলা) ল্যামার্কবাদের ত্রুটি: অর্জিত দৈহিক বৈশিষ্ট্য বংশগত নয় ডারউইনবাদ: প্রকরণ + অস্তিত্বের সংগ্রাম + প্রাকৃতিক নির্বাচন যোগ্যতমের উদ্বর্তন → অনুকূল বৈশিষ্ট্য সঞ্চিত হয়

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

ল্যামার্কবাদ = অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার (ভুল প্রমাণিত), ডারউইনবাদ = প্রাকৃতিক নির্বাচন — দুটির ভিত্তি গুলিয়ে ফেলা হয়।

এখানে ভুল হয় ()

  • ডারউইনবাদকে অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার ভাবা — সেটা ল্যামার্কবাদ
  • প্রাকৃতিক নির্বাচনকে ল্যামার্কের নীতি ভাবা — ডারউইনের
  • ল্যামার্কবাদকে প্রমাণিত ভাবা — সমালোচিত/বাতিল

Vestigial organs as evidence of evolution

লুপ্তপ্রায় অঙ্গ ও বিবর্তনের প্রমাণ

লুপ্তপ্রায় অঙ্গ হলো এমন গঠন যা পূর্বপুরুষে কার্যকর ছিল কিন্তু বর্তমান প্রজাতিতে ছোট হয়ে গেছে ও কাজ হারিয়েছে। এগুলো বিবর্তনের পক্ষে একটি জোরালো যুক্তি, কারণ নতুন করে নকশা করলে অকেজো অংশ রাখার কোনো কারণ নেই — এরা টিকে আছে কেবল উত্তরাধিকারসূত্রে। মানুষে এমন অঙ্গের তালিকা লম্বা: অ্যাপেন্ডিক্স, কানের পেশি, লেজের অস্থি বা কক্সিস, আক্কেল দাঁত, নিকটিটেটিং পর্দার অবশেষ। কিছু অঙ্গ নিয়ে মতভেদ আছে — যেমন থাইমাস বয়ঃসন্ধির পরে গুটিয়ে যায় বলে অনেক পাঠ্যক্রমে একে লুপ্তপ্রায় বলা হয়, যদিও শৈশবে এটি প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য অপরিহার্য। লুপ্তপ্রায় অঙ্গ = পূর্বপুরুষে কার্যকর, বর্তমানে সংকুচিত ও কার্যহীন মানুষে উদাহরণ: অ্যাপেন্ডিক্স, কক্সিস, কানের পেশি, আক্কেল দাঁত থাইমাসকে প্রচলিত পাঠ্যক্রমে লুপ্তপ্রায় বলা হয় — বয়ঃসন্ধির পরে সংকুচিত হয় লুপ্তপ্রায় অঙ্গ বিবর্তনের গঠনগত প্রমাণের অন্তর্গত বিবর্তনের অন্য প্রমাণ: সমসংস্থ ও সমবৃত্তীয় অঙ্গ, জীবাশ্ম, ভ্রূণতাত্ত্বিক সাদৃশ্য সমসংস্থ অঙ্গ একই উৎস ভিন্ন কাজ; সমবৃত্তীয় অঙ্গ ভিন্ন উৎস একই কাজ

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

সমসংস্থ = একই উৎস ভিন্ন কাজ, সমবৃত্তীয় = ভিন্ন উৎস একই কাজ। এই জোড়াটি প্রতিবার আসে।

এখানে ভুল হয় ()

  • সমসংস্থ ও সমবৃত্তীয় অঙ্গের সংজ্ঞা উল্টে দেওয়া
  • লুপ্তপ্রায় অঙ্গকে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত অঙ্গ ধরা — এরা উপস্থিত, কেবল সংকুচিত
  • জীবাশ্মকে একমাত্র বিবর্তন-প্রমাণ ধরা