নিউক্লিক অ্যাসিড ও আণবিক জীববিজ্ঞান
DNA রেপ্লিকেশন (অর্ধ-সংরক্ষণশীল)
DNA রেপ্লিকেশন হলো এক অণু DNA থেকে অবিকল দুই অণু DNA তৈরির প্রক্রিয়া, যা কোষ বিভাজনের S-দশায় ঘটে। এটি অর্ধ-সংরক্ষণশীল (semiconservative) — মূল দ্বৈত সূত্র হেলিকেজ এনজাইমে খুলে দুটি একক সূত্রে বিভক্ত হয় এবং প্রতিটি পুরনো সূত্র টেমপ্লেট হিসেবে কাজ করে, DNA পলিমারেজ পরিপূরক বেস যোগ করে নতুন সূত্র গড়ে; ফলে প্রতিটি নতুন DNA-তে একটি পুরনো ও একটি নতুন সূত্র থাকে। একটি সূত্র অবিচ্ছিন্নভাবে (leading) ও অন্যটি খণ্ডে খণ্ডে (lagging, ওকাজাকি খণ্ড) সংশ্লেষিত হয়।
ঘটে কোষচক্রের S-দশায়; অর্ধ-সংরক্ষণশীল
প্রতিটি নতুন DNA = ১ পুরনো সূত্র + ১ নতুন সূত্র
প্রধান এনজাইম: হেলিকেজ (খোলে), DNA পলিমারেজ (গঠন করে)
লিডিং সূত্র অবিচ্ছিন্ন; ল্যাগিং সূত্র ওকাজাকি খণ্ডে
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
'অর্ধ-সংরক্ষণশীল' মানে প্রতিটি নতুন অণুতে একটি পুরনো সূত্র সংরক্ষিত থাকে (মেসেলসন-স্টাল পরীক্ষা)। এই সংজ্ঞাই সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·রেপ্লিকেশনকে সংরক্ষণশীল ভাবা — অর্ধ-সংরক্ষণশীল
- ·M-দশায় ঘটে ভাবা — S-দশায়
- ·উভয় সূত্র অবিচ্ছিন্নভাবে তৈরি ভাবা — একটি ল্যাগিং (ওকাজাকি)
নিউক্লিক অ্যাসিড ও আণবিক জীববিজ্ঞান
DNA-এর গঠন (ওয়াটসন-ক্রিক মডেল)
ওয়াটসন ও ক্রিকের মডেল অনুসারে DNA দুটি পলিনিউক্লিওটাইড সূত্র নিয়ে গঠিত একটি ডান-হাতি প্যাঁচানো দ্বৈত হেলিক্স, যেখানে সূত্রদুটি বিপরীতমুখী (antiparallel)। বাইরের কাঠামো শর্করা-ফসফেট মেরুদণ্ড এবং ভেতরে নাইট্রোজেন বেস জোড়ায় হাইড্রোজেন বন্ধনে যুক্ত — পরিপূরক বেসজোড় নিয়মে অ্যাডেনিন সর্বদা থাইমিনের সাথে (A=T, দুই H-বন্ধন) ও গুয়ানিন সাইটোসিনের সাথে (G≡C, তিন H-বন্ধন) জোড় বাঁধে। তাই যেকোনো DNA-তে A=T ও G=C (চার্গাফের নিয়ম)। প্রতিটি সম্পূর্ণ প্যাঁচ প্রায় ৩৪Å দীর্ঘ ও ১০ বেসজোড়বিশিষ্ট।
দুই বিপরীতমুখী (antiparallel) সূত্রের দ্বৈত হেলিক্স
পরিপূরক বেসজোড়: A=T (২ H-বন্ধন), G≡C (৩ H-বন্ধন)
চার্গাফের নিয়ম: A=T, G=C
শর্করা-ফসফেট মেরুদণ্ড বাইরে, বেসজোড় ভেতরে
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
G≡C তিন হাইড্রোজেন বন্ধন (তাই বেশি স্থিতিশীল), A=T দুই — সংখ্যা গুলিয়ে ফেলা সাধারণ। সূত্রদুটি antiparallel (5'→3' ও 3'→5')।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·A=T তিন বন্ধন ভাবা — দুই; G≡C তিন
- ·DNA সূত্র সমান্তরালমুখী ভাবা — বিপরীতমুখী (antiparallel)
- ·A গুয়ানিনের সাথে জোড় বাঁধে ভাবা — থাইমিনের সাথে
নিউক্লিক অ্যাসিড ও আণবিক জীববিজ্ঞান
জেনেটিক কোড ও জিন
জেনেটিক কোড হলো mRNA-এর পরপর তিনটি নিউক্লিওটাইডের সমষ্টি বা কোডন, যা একটি নির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিড নির্দেশ করে। এর বৈশিষ্ট্য: ট্রিপলেট (তিন বেসে এক কোডন), অধঃপতিত/ডিজেনারেট (একাধিক কোডন একই অ্যামিনো অ্যাসিড কোড করতে পারে), আনঅ্যাম্বিগুয়াস (এক কোডন এক অ্যামিনো অ্যাসিড), অকোভারল্যাপিং ও প্রায় সর্বজনীন। জিন হলো DNA-এর সেই কার্যকরী অংশ যা একটি নির্দিষ্ট পলিপেপটাইড বা RNA-এর সংকেত ধারণ করে — এটি বংশগতির একক। প্রোক্যারিওটে সম্পর্কিত জিনগুলো অপেরন হিসেবে একত্রে নিয়ন্ত্রিত হয় (যেমন ল্যাক অপেরন)।
কোডন = mRNA-এর তিন নিউক্লিওটাইড; একটি অ্যামিনো অ্যাসিড নির্দেশ করে
কোড ট্রিপলেট, ডিজেনারেট, আনঅ্যাম্বিগুয়াস ও প্রায় সর্বজনীন
৬৪টি কোডনের ৬১টি অ্যামিনো অ্যাসিড কোড করে, ৩টি স্টপ
জিন = বংশগতির একক; প্রোক্যারিওটে অপেরন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
কোড 'ডিজেনারেট' মানে একাধিক কোডন একই অ্যামিনো অ্যাসিড দেয় — কিন্তু এক কোডন কখনো দুই অ্যামিনো অ্যাসিড দেয় না (আনঅ্যাম্বিগুয়াস)। ৬৪টির ৩টি স্টপ কোডন।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·এক কোডন একাধিক অ্যামিনো অ্যাসিড কোড করে ভাবা — আনঅ্যাম্বিগুয়াস
- ·কোড ওভারল্যাপিং ভাবা — অকোভারল্যাপিং
- ·৬৪ কোডনই অ্যামিনো অ্যাসিড কোড করে ভাবা — ৩টি স্টপ
নিউক্লিক অ্যাসিড ও আণবিক জীববিজ্ঞান
নিউক্লিক অ্যাসিড ও নিউক্লিওটাইড
নিউক্লিক অ্যাসিড হলো বংশগতীয় তথ্য বহনকারী বৃহৎ জৈব অণু, দুই প্রকার — DNA ও RNA। এদের গঠনগত একক নিউক্লিওটাইড, যা তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত: একটি পেন্টোজ শর্করা (DNA-তে ডিঅক্সিরাইবোজ, RNA-তে রাইবোজ), একটি ফসফেট গ্রুপ এবং একটি নাইট্রোজেন বেস। নাইট্রোজেন বেস দুই শ্রেণির — পিউরিন (অ্যাডেনিন A, গুয়ানিন G, দুই বলয়) ও পাইরিমিডিন (সাইটোসিন C, থাইমিন T, ইউরাসিল U, এক বলয়)। শর্করা+বেস = নিউক্লিওসাইড, আর এর সাথে ফসফেট যুক্ত হলে নিউক্লিওটাইড।
নিউক্লিওটাইড = পেন্টোজ শর্করা + ফসফেট + নাইট্রোজেন বেস
পিউরিন: A, G (দুই বলয়); পাইরিমিডিন: C, T, U (এক বলয়)
DNA-তে ডিঅক্সিরাইবোজ ও থাইমিন; RNA-তে রাইবোজ ও ইউরাসিল
নিউক্লিওসাইড (শর্করা+বেস) + ফসফেট = নিউক্লিওটাইড
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
থাইমিন শুধু DNA-তে, ইউরাসিল শুধু RNA-তে। পিউরিন (A,G) দুই বলয়, পাইরিমিডিন (C,T,U) এক বলয় — এই শ্রেণিবিভাগ প্রায়ই জিজ্ঞাসিত।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·থাইমিন RNA-তে থাকে ভাবা — শুধু DNA-তে
- ·পিউরিন এক বলয় ভাবা — দুই বলয়
- ·নিউক্লিওসাইড = শর্করা+ফসফেট+বেস ভাবা — শর্করা+বেস (ফসফেট ছাড়া)
নিউক্লিক অ্যাসিড ও আণবিক জীববিজ্ঞান
RNA ও এর প্রকারভেদ; DNA বনাম RNA
RNA একসূত্রক নিউক্লিক অ্যাসিড, যাতে রাইবোজ শর্করা ও থাইমিনের বদলে ইউরাসিল থাকে। কাজভেদে তিন প্রধান প্রকার: mRNA (মেসেঞ্জার — DNA থেকে বার্তা বহন করে প্রোটিন সংশ্লেষণের ছক দেয়), tRNA (ট্রান্সফার — নির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিড রাইবোসোমে বহন করে, ক্লোভারলিফ আকৃতি ও অ্যান্টিকোডনযুক্ত) এবং rRNA (রাইবোসোমাল — রাইবোসোমের গাঠনিক উপাদান)। DNA দ্বিসূত্রক, ডিঅক্সিরাইবোজ ও থাইমিনযুক্ত এবং বংশগতি সংরক্ষণ করে; RNA একসূত্রক, রাইবোজ ও ইউরাসিলযুক্ত এবং প্রোটিন সংশ্লেষণে ভূমিকা রাখে।
RNA একসূত্রক; রাইবোজ ও ইউরাসিলযুক্ত
mRNA বার্তা বহন করে, tRNA অ্যামিনো অ্যাসিড আনে, rRNA রাইবোসোম গঠন করে
tRNA-তে অ্যান্টিকোডন থাকে (ক্লোভারলিফ আকৃতি)
DNA দ্বিসূত্রক/থাইমিন; RNA একসূত্রক/ইউরাসিল
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
tRNA অ্যান্টিকোডন বহন করে ও অ্যামিনো অ্যাসিড আনে — কোন RNA কী করে তা গুলিয়ে ফেলা সাধারণ। RNA-তে থাইমিনের বদলে ইউরাসিল।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·tRNA বার্তা বহন করে ভাবা — mRNA করে
- ·RNA-তে থাইমিন থাকে ভাবা — ইউরাসিল
- ·RNA দ্বিসূত্রক ভাবা — একসূত্রক
নিউক্লিক অ্যাসিড ও আণবিক জীববিজ্ঞান
ট্রান্সক্রিপশন ও রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন
ট্রান্সক্রিপশন হলো DNA-এর একটি সূত্রকে টেমপ্লেট ধরে RNA (প্রধানত mRNA) সংশ্লেষণের প্রক্রিয়া, যা নিউক্লিয়াসে ঘটে ও RNA পলিমারেজ এনজাইম দ্বারা পরিচালিত হয়। এতে DNA-এর নির্দিষ্ট অংশের বেস ক্রম RNA-তে অনুলিপি হয় (A→U, T→A, G→C, C→G নিয়মে)। প্রকৃতকোষে প্রথমে প্রি-mRNA তৈরি হয়, পরে স্প্লাইসিং-এ ইন্ট্রন বাদ ও এক্সন যুক্ত হয়ে পরিণত mRNA হয়। রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন হলো এর বিপরীত — RNA থেকে DNA তৈরি, যা রেট্রোভাইরাসে (যেমন HIV) রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ এনজাইম দিয়ে ঘটে।
ট্রান্সক্রিপশন: DNA → RNA, নিউক্লিয়াসে, RNA পলিমারেজ দিয়ে
টেমপ্লেট সূত্রের পরিপূরক RNA তৈরি হয় (T→A, A→U)
প্রি-mRNA → স্প্লাইসিং (ইন্ট্রন বাদ) → পরিণত mRNA
রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন: RNA→DNA (রেট্রোভাইরাস, HIV)
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
ট্রান্সক্রিপশনে RNA-তে থাইমিনের বদলে ইউরাসিল বসে। রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন সেন্ট্রাল ডগমার ব্যতিক্রম (RNA→DNA), HIV-তে ঘটে — প্রিয় প্রশ্ন।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·ট্রান্সক্রিপশনে থাইমিন বসে ভাবা — ইউরাসিল
- ·রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন সব কোষে ঘটে ভাবা — রেট্রোভাইরাসে
- ·ইন্ট্রন mRNA-তে থাকে ভাবা — স্প্লাইসিং-এ বাদ যায়
নিউক্লিক অ্যাসিড ও আণবিক জীববিজ্ঞান
ট্রান্সলেশন (প্রোটিন সংশ্লেষণ)
ট্রান্সলেশন হলো mRNA-এর কোডন-ক্রম অনুসারে অ্যামিনো অ্যাসিড সাজিয়ে প্রোটিন (পলিপেপটাইড) তৈরির প্রক্রিয়া, যা সাইটোপ্লাজমে রাইবোসোমে ঘটে। রাইবোসোম mRNA-তে যুক্ত হয়ে প্রতিটি কোডন পড়ে; সংশ্লিষ্ট অ্যান্টিকোডনযুক্ত tRNA নির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিড বহন করে আনে এবং পরপর অ্যামিনো অ্যাসিডের মধ্যে পেপটাইড বন্ধন গঠিত হয়। প্রক্রিয়াটি স্টার্ট কোডন (AUG) থেকে শুরু হয়ে স্টপ কোডনে (UAA/UAG/UGA) শেষ হয়। এভাবে DNA→RNA→প্রোটিন — এই তথ্যপ্রবাহকে সেন্ট্রাল ডগমা বলে।
ট্রান্সলেশন: mRNA → প্রোটিন, রাইবোসোমে (সাইটোপ্লাজম)
tRNA অ্যান্টিকোডন দিয়ে কোডন মিলিয়ে অ্যামিনো অ্যাসিড আনে
শুরু: স্টার্ট কোডন AUG; শেষ: স্টপ কোডন (UAA/UAG/UGA)
সেন্ট্রাল ডগমা: DNA → RNA → প্রোটিন
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
স্টার্ট কোডন AUG (মিথিওনিন) — প্রায় সব প্রোটিন সংশ্লেষণ এখান থেকে শুরু। স্টপ কোডন কোনো অ্যামিনো অ্যাসিড কোড করে না — প্রিয় ফাঁদ।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·ট্রান্সলেশন নিউক্লিয়াসে ঘটে ভাবা — সাইটোপ্লাজমে (রাইবোসোমে)
- ·স্টপ কোডন অ্যামিনো অ্যাসিড কোড করে ভাবা — করে না
- ·স্টার্ট কোডন UAA ভাবা — AUG
জীবপ্রযুক্তি
জীবপ্রযুক্তি ও উদ্ভিদ টিস্যু কালচার
জীবপ্রযুক্তি (বায়োটেকনোলজি) হলো জীব বা জীবকোষ ও তাদের অংশ ব্যবহার করে মানবকল্যাণে পণ্য বা সেবা উৎপাদনের প্রযুক্তি। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা উদ্ভিদ টিস্যু কালচার — জীবাণুমুক্ত পরিবেশে পুষ্টিমাধ্যমে উদ্ভিদের কোষ, টিস্যু বা অঙ্গকে (এক্সপ্লান্ট) কালচার করে সম্পূর্ণ উদ্ভিদে পরিণত করা। এটি সম্ভব হয় কোষের টোটিপোটেন্সি ধর্মের কারণে (প্রতিটি জীবিত উদ্ভিদকোষে পূর্ণ উদ্ভিদে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে)। এতে অল্প সময়ে বহু রোগমুক্ত ও অভিন্ন চারা উৎপাদন, বিরল/বিপন্ন উদ্ভিদ সংরক্ষণ ও উন্নত জাত তৈরি করা যায়।
জীবপ্রযুক্তি = জীব/জীবকোষ ব্যবহার করে পণ্য/সেবা উৎপাদন
টিস্যু কালচারের ভিত্তি: কোষের টোটিপোটেন্সি
জীবাণুমুক্ত পুষ্টিমাধ্যমে এক্সপ্লান্ট থেকে পূর্ণ উদ্ভিদ
সুবিধা: রোগমুক্ত অভিন্ন চারা, দ্রুত ও বহু উৎপাদন
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
টিস্যু কালচার সম্ভব হয় টোটিপোটেন্সির কারণে — এই শব্দটিই মূল উত্তর। উৎপন্ন চারা জিনগতভাবে অভিন্ন (ক্লোন)।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·টিস্যু কালচারে ভিন্ন গুণের চারা হয় ভাবা ভুল — অভিন্ন
- ·টিস্যু কালচারকে যৌন প্রজনন ভাবা ভুল — অযৌন
- ·টোটিপোটেন্সি শুধু জননকোষে ভাবা ভুল — যেকোনো জীবিত কোষে
জিনতত্ত্ব
ABO রক্তগ্রুপ ও Rh ফ্যাক্টর
মানুষের ABO রক্তগ্রুপ লোহিত কণিকার পৃষ্ঠে অ্যান্টিজেন (A ও B) এবং রক্তরসে অ্যান্টিবডির উপস্থিতির ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়: A গ্রুপে A-অ্যান্টিজেন ও anti-B; B গ্রুপে B-অ্যান্টিজেন ও anti-A; AB গ্রুপে উভয় অ্যান্টিজেন, কোনো অ্যান্টিবডি নেই (সর্বজনীন গ্রহীতা); O গ্রুপে কোনো অ্যান্টিজেন নেই, উভয় অ্যান্টিবডি আছে (সর্বজনীন দাতা)। এটি A ও B অ্যালিলের সমপ্রকটতার উদাহরণ। Rh ফ্যাক্টর হলো আরেকটি অ্যান্টিজেন — উপস্থিত থাকলে Rh⁺, না থাকলে Rh⁻। Rh⁻ মায়ের গর্ভে Rh⁺ সন্তান হলে দ্বিতীয় গর্ভাবস্থায় এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস জটিলতা হতে পারে।
AB = সর্বজনীন গ্রহীতা; O = সর্বজনীন দাতা
AB গ্রুপ = সমপ্রকটতার উদাহরণ
O গ্রুপে কোনো অ্যান্টিজেন নেই, উভয় অ্যান্টিবডি আছে
Rh⁻ মা × Rh⁺ ভ্রূণে এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস ঝুঁকি
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
O সর্বজনীন দাতা (অ্যান্টিজেন নেই), AB সর্বজনীন গ্রহীতা (অ্যান্টিবডি নেই) — উল্টে ফেলা সবচেয়ে সাধারণ ভুল।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·O-কে সর্বজনীন গ্রহীতা ভাবা — সর্বজনীন দাতা
- ·AB-কে সর্বজনীন দাতা ভাবা — গ্রহীতা
- ·ABO-কে অসম্পূর্ণ প্রকটতা ভাবা — সমপ্রকটতা
জীবপ্রযুক্তি
জিনোম সিকোয়েন্সিং ও DNA ফিঙ্গারপ্রিন্টিং
জিনোম সিকোয়েন্সিং হলো কোনো জীবের সম্পূর্ণ DNA-এর নিউক্লিওটাইড ক্রম নির্ণয় — এটি রোগের জিন শনাক্তকরণ, বিবর্তন গবেষণা ও ব্যক্তিগত চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় (মানব জিনোম প্রকল্প এর বড় উদাহরণ)। DNA ফিঙ্গারপ্রিন্টিং হলো প্রতিটি ব্যক্তির অনন্য DNA বিন্যাস (বিশেষত পুনরাবৃত্ত অংশ) বিশ্লেষণ করে পরিচয় নিশ্চিত করার কৌশল — যমজ ছাড়া কারো DNA ফিঙ্গারপ্রিন্ট অভিন্ন নয়। এটি অপরাধী শনাক্তকরণ (ফরেনসিক), পিতৃত্ব নির্ধারণ ও দুর্ঘটনায় মৃতদেহ শনাক্তকরণে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
জিনোম সিকোয়েন্সিং = সম্পূর্ণ DNA-এর বেস ক্রম নির্ণয়
DNA ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রতিটি ব্যক্তিতে অনন্য (অভিন্ন যমজ ছাড়া)
ভিত্তি: DNA-এর পুনরাবৃত্ত অংশের ভিন্নতা
প্রয়োগ: ফরেনসিক, পিতৃত্ব নির্ধারণ, মৃতদেহ শনাক্তকরণ
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
অভিন্ন (মনোজাইগোটিক) যমজের DNA ফিঙ্গারপ্রিন্ট একই হয় — এই ব্যতিক্রম প্রায়ই ফাঁদ হিসেবে আসে।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·সব মানুষের DNA ফিঙ্গারপ্রিন্ট অনন্য ভাবা ভুল — অভিন্ন যমজে একই
- ·DNA ফিঙ্গারপ্রিন্টিং ও জিনোম সিকোয়েন্সিং একই ভাবা ভুল — আলাদা
- ·আঙুলের ছাপ ও DNA ফিঙ্গারপ্রিন্ট একই ভাবা ভুল — DNA-ভিত্তিক
জিনতত্ত্ব
মেন্ডেলীয় সূত্রের ব্যতিক্রম
মেন্ডেলের সরল প্রকট-প্রচ্ছন্ন নিয়ম সবসময় খাটে না। অসম্পূর্ণ প্রকটতায় হেটেরোজাইগাসে দুই অ্যালিলের মাঝামাঝি মিশ্র বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায় (যেমন লাল × সাদা ফুল → গোলাপি; F2 অনুপাত ১:২:১)। সমপ্রকটতায় উভয় অ্যালিলই একসাথে পূর্ণভাবে প্রকাশ পায় (যেমন AB রক্তগ্রুপ)। এপিস্ট্যাসিসে একটি জিন অন্য জিনের প্রকাশ ঢেকে দেয় (পরিবর্তিত অনুপাত)। পলিজেনিক ইনহেরিট্যান্সে একাধিক জিন মিলে একটি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে ধারাবাহিক তারতম্য সৃষ্টি করে (যেমন ত্বকের রং, উচ্চতা)। এসব ক্ষেত্রে ৩:১ বা ৯:৩:৩:১ থেকে ভিন্ন অনুপাত পাওয়া যায়।
অসম্পূর্ণ প্রকটতা: মাঝামাঝি মিশ্র বৈশিষ্ট্য (১:২:১)
সমপ্রকটতা: দুই অ্যালিল একসাথে পূর্ণ প্রকাশ (AB রক্তগ্রুপ)
এপিস্ট্যাসিস: এক জিন অন্য জিনকে ঢাকে
পলিজেনিক: একাধিক জিন → ধারাবাহিক তারতম্য (উচ্চতা/ত্বকের রং)
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
অসম্পূর্ণ প্রকটতা = মিশ্রণ (গোলাপি), সমপ্রকটতা = দুটোই আলাদাভাবে প্রকাশ (AB) — এই দুটি গুলিয়ে ফেলা সবচেয়ে সাধারণ।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·অসম্পূর্ণ প্রকটতা ও সমপ্রকটতাকে একই ভাবা — মিশ্রণ বনাম উভয় প্রকাশ
- ·অসম্পূর্ণ প্রকটতায় F2 ৩:১ ভাবা — ১:২:১
- ·পলিজেনিককে একক-জিন ভাবা — একাধিক জিন
জিনতত্ত্ব
মেন্ডেলের সূত্রসমূহ
জিনতত্ত্বের জনক গ্রেগর মেন্ডেল মটরশুঁটি নিয়ে পরীক্ষা করে বংশগতির দুটি মৌলিক সূত্র প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথম সূত্র বা পৃথকীকরণ সূত্র (Law of Segregation): প্রতিটি বৈশিষ্ট্য এক জোড়া অ্যালিল দিয়ে নিয়ন্ত্রিত, যা গ্যামেট তৈরির সময় পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে প্রতিটি গ্যামেটে একটি করে যায়। দ্বিতীয় সূত্র বা স্বাধীন বিন্যাস সূত্র (Law of Independent Assortment): দুই বা ততোধিক জোড়া বৈশিষ্ট্যের অ্যালিল গ্যামেটে স্বাধীনভাবে বিন্যস্ত হয়, একটির বণ্টন অন্যটিকে প্রভাবিত করে না। একসংকর ক্রসে F2 জনুতে ৩:১ এবং দ্বিসংকর ক্রসে ৯:৩:৩:১ ফিনোটাইপ অনুপাত পাওয়া যায়।
মেন্ডেল = জিনতত্ত্বের জনক (মটরশুঁটি পরীক্ষা)
প্রথম সূত্র: অ্যালিল পৃথকীকরণ (গ্যামেটে একটি করে)
দ্বিতীয় সূত্র: স্বাধীন বিন্যাস
একসংকর F2 = ৩:১; দ্বিসংকর F2 = ৯:৩:৩:১
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
একসংকর ৩:১, দ্বিসংকর ৯:৩:৩:১ — অনুপাত মুখস্থ রাখা জরুরি, সরাসরি প্রশ্ন আসে। পৃথকীকরণ প্রথম সূত্র।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·৩:১ কে জিনোটাইপ অনুপাত ভাবা — ফিনোটাইপ (জিনোটাইপ ১:২:১)
- ·স্বাধীন বিন্যাসকে প্রথম সূত্র ভাবা — দ্বিতীয় সূত্র
- ·অ্যালিলকে গ্যামেটে জোড়ায় যায় ভাবা — একটি করে যায়
জিনতত্ত্ব
মেন্ডেলীয় পরিভাষা
জিনতত্ত্ব বুঝতে কিছু মৌলিক পরিভাষা জরুরি। জিন হলো বংশগতির একক; একই জিনের বিকল্প রূপকে অ্যালিল বলে। কোনো জীবের জিনগত গঠনকে জিনোটাইপ (যেমন TT, Tt, tt) এবং বাহ্যিক প্রকাশকে ফিনোটাইপ (যেমন লম্বা/বেঁটে) বলে। দুই অ্যালিল একই হলে হোমোজাইগাস (TT, tt) ও ভিন্ন হলে হেটেরোজাইগাস (Tt)। হেটেরোজাইগাসে যে অ্যালিলের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায় তা প্রকট (dominant) ও যেটি চাপা থাকে তা প্রচ্ছন্ন (recessive)। প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য কেবল হোমোজাইগাস অবস্থাতেই (tt) প্রকাশ পায়।
জিন = বংশগতির একক; অ্যালিল = জিনের বিকল্প রূপ
জিনোটাইপ = জিনগত গঠন; ফিনোটাইপ = বাহ্যিক প্রকাশ
হোমোজাইগাস (TT/tt) বনাম হেটেরোজাইগাস (Tt)
প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য শুধু হোমোজাইগাসে (tt) প্রকাশ পায়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য শুধু tt (হোমোজাইগাস) অবস্থায় প্রকাশ পায় — Tt-তে প্রকট চাপা দেয়। প্রিয় প্রশ্ন।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·জিনোটাইপ ও ফিনোটাইপকে একই ভাবা — গঠন বনাম প্রকাশ
- ·Tt-তে প্রচ্ছন্ন প্রকাশ পায় ভাবা — প্রকট প্রকাশ পায়
- ·অ্যালিলকে ভিন্ন জিন ভাবা — একই জিনের বিকল্প রূপ
জীবপ্রযুক্তি
রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি ও ধাপসমূহ
রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং হলো এক জীবের কাঙ্ক্ষিত জিন কেটে অন্য জীবের DNA-তে যুক্ত করে নতুন বৈশিষ্ট্যের জীব তৈরির কৌশল। ধাপ: (১) রেস্ট্রিকশন এনজাইম (আণবিক কাঁচি) দিয়ে কাঙ্ক্ষিত জিন ও বাহক DNA কর্তন; (২) কর্তিত জিনকে বাহক বা ভেক্টরে (প্লাজমিড/ব্যাকটেরিওফাজ) DNA লাইগেজ এনজাইম দিয়ে জোড়া দিয়ে রিকম্বিনেন্ট DNA তৈরি; (৩) রিকম্বিনেন্ট DNA পোষক কোষে (যেমন ব্যাকটেরিয়া) প্রবেশ; (৪) পোষকে জিনের ক্লোনিং ও প্রকাশ। এভাবে ইনসুলিনসহ বহু কাঙ্ক্ষিত প্রোটিন উৎপাদন করা হয়।
রেস্ট্রিকশন এনজাইম = 'আণবিক কাঁচি' (DNA কাটে)
DNA লাইগেজ = জিন ও ভেক্টর জোড়া দেয় ('আঠা')
ভেক্টর/বাহক: প্লাজমিড বা ব্যাকটেরিওফাজ
পোষকে ক্লোনিং → কাঙ্ক্ষিত প্রোটিন উৎপাদন
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
রেস্ট্রিকশন এনজাইম কাটে, DNA লাইগেজ জোড়া দেয় — দুটি এনজাইমের কাজ গুলিয়ে ফেলা সবচেয়ে সাধারণ ভুল। প্লাজমিড প্রধান বাহক।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·রেস্ট্রিকশন এনজাইমকে জোড়া-দানকারী ভাবা ভুল — এটি কাটে
- ·DNA লাইগেজকে কর্তনকারী ভাবা ভুল — এটি জোড়া দেয়
- ·ভাইরাসকে ভেক্টর হতে পারে না ভাবা ভুল — ব্যাকটেরিওফাজ ভেক্টর হয়
জিনতত্ত্ব
লিঙ্গ নির্ধারণ ও সেক্স-লিঙ্কড ডিসঅর্ডার
মানুষে লিঙ্গ নির্ধারিত হয় এক জোড়া লিঙ্গ ক্রোমোজোম দিয়ে (XX-XY পদ্ধতি): নারীতে XX ও পুরুষে XY। ডিম্বাণু সর্বদা X বহন করে, কিন্তু শুক্রাণু X বা Y — তাই সন্তানের লিঙ্গ পিতার শুক্রাণু দিয়ে নির্ধারিত হয় (X শুক্রাণু → কন্যা, Y → পুত্র)। কিছু জিন X-ক্রোমোজোমে থাকে; এদের ত্রুটিজনিত রোগকে সেক্স-লিঙ্কড ডিসঅর্ডার বলে, যা প্রচ্ছন্ন হওয়ায় পুরুষে (XY, একটিমাত্র X) বেশি প্রকাশ পায়। উদাহরণ: লাল-সবুজ বর্ণান্ধতা (রঙ চিনতে না পারা) ও হিমোফিলিয়া (রক্ত জমাট না বাঁধা)। নারী বাহক হলেও সাধারণত আক্রান্ত কম হয়, কারণ দ্বিতীয় স্বাভাবিক X ক্ষতিপূরণ দেয়।
XX-XY পদ্ধতি: নারী XX, পুরুষ XY
সন্তানের লিঙ্গ পিতার শুক্রাণু (X/Y) নির্ধারণ করে
সেক্স-লিঙ্কড ডিসঅর্ডার X-ক্রোমোজোমে; পুরুষে বেশি প্রকাশ
উদাহরণ: বর্ণান্ধতা, হিমোফিলিয়া
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
সন্তানের লিঙ্গ পিতা নির্ধারণ করেন (Y শুক্রাণু = পুত্র) — মাতা নয়, প্রিয় ভুল। বর্ণান্ধতা/হিমোফিলিয়া পুরুষে বেশি।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·সন্তানের লিঙ্গ মাতা নির্ধারণ করে ভাবা — পিতা (শুক্রাণু)
- ·সেক্স-লিঙ্কড রোগ নারীতে বেশি ভাবা — পুরুষে বেশি
- ·বর্ণান্ধতাকে প্রকট রোগ ভাবা — প্রচ্ছন্ন X-লিঙ্কড
জীবপ্রযুক্তি
ট্রান্সজেনিক জীব ও ইনসুলিন উৎপাদন
যে জীবের জিনোমে কৃত্রিমভাবে বহিরাগত জিন যুক্ত করা হয় তাকে ট্রান্সজেনিক (জিনগতভাবে পরিবর্তিত/GM) জীব বলে। ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদে রোগ-পোকা-আগাছানাশক সহনশীলতা ও পুষ্টিমান বাড়ানো হয় (যেমন Bt বেগুন, গোল্ডেন রাইস), আর ট্রান্সজেনিক প্রাণী গবেষণা ও ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একটি বড় সাফল্য মানুষের ইনসুলিন উৎপাদন — মানুষের ইনসুলিন-সংশ্লেষী জিন ব্যাকটেরিয়ায় (E. coli) প্রবেশ করিয়ে বিপুল পরিমাণ বিশুদ্ধ মানব-ইনসুলিন (হিউমুলিন) তৈরি করা হয়, যা ডায়াবেটিস চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
ট্রান্সজেনিক জীব = বহিরাগত জিনযুক্ত (GM) জীব
উদাহরণ: Bt বেগুন, গোল্ডেন রাইস
মানব-ইনসুলিন জিন E. coli তে ঢুকিয়ে ইনসুলিন (হিউমুলিন) উৎপাদন
প্রয়োগ: ডায়াবেটিস চিকিৎসা, ওষুধ ও ফসল উন্নয়ন
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
রিকম্বিনেন্ট ইনসুলিন ব্যাকটেরিয়া (E. coli) তে তৈরি হয়, শূকর/গরু থেকে নয় — এটি প্রিয় প্রয়োগভিত্তিক প্রশ্ন।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·ইনসুলিন প্রাণী থেকে সংগ্রহ ভাবা ভুল — ব্যাকটেরিয়ায় তৈরি
- ·ট্রান্সজেনিক ও ক্লোন জীবকে একই ভাবা ভুল — আলাদা
- ·Bt বেগুন প্রাণী-জিনযুক্ত ভাবা ভুল — ব্যাকটেরিয়া (Bt) জিন