অস্থি ও কঙ্কাল
অস্থির গঠন ও কাজ
অস্থি একটি দৃঢ়, ক্যালসিফায়েড যোজক কলা যা দেহের অন্তঃকঙ্কাল গঠন করে। এর ম্যাট্রিক্সে ক্যালসিয়াম ফসফেট ও ক্যালসিয়াম কার্বনেট জমা থাকায় এটি শক্ত; ম্যাট্রিক্সে বসবাসকারী অস্থিকোষকে অস্টিওসাইট বলে, যা ল্যাকুনায় থাকে ও ক্যানালিকুলি দিয়ে পুষ্টি পায়। লম্বা অস্থির বাইরের অংশ ঘন কম্প্যাক্ট অস্থি এবং ভেতরে স্পঞ্জি অস্থি ও অস্থিমজ্জা থাকে (লাল অস্থিমজ্জায় রক্তকণিকা তৈরি হয়)। অস্থির কাজ: দেহকে অবলম্বন ও আকৃতি দেওয়া, কোমল অঙ্গ রক্ষা, পেশির সাথে যুক্ত হয়ে চলন, খনিজ সঞ্চয় ও রক্তকণিকা উৎপাদন।
অস্থি = ক্যালসিফায়েড যোজক কলা (ক্যালসিয়াম লবণ)
অস্থিকোষ = অস্টিওসাইট (ল্যাকুনায় অবস্থিত)
লাল অস্থিমজ্জায় রক্তকণিকা তৈরি হয়
কাজ: অবলম্বন, সুরক্ষা, চলন, খনিজ সঞ্চয়, রক্তকণিকা উৎপাদন
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
রক্তকণিকা তৈরি হয় লাল অস্থিমজ্জায় — অস্থির একটি কম-জানা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কাজ। অস্থিকোষ = অস্টিওসাইট।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·অস্থিকে জড় পদার্থ ভাবা — জীবন্ত যোজক কলা
- ·অস্থিকোষকে কন্ড্রোসাইট ভাবা — অস্টিওসাইট (কন্ড্রোসাইট তরুণাস্থিতে)
- ·রক্তকণিকা যকৃতে তৈরি ভাবা — লাল অস্থিমজ্জায়
Named landmarks on the major bones
প্রধান অস্থির নামকরা চিহ্ন
প্রতিটি লম্বা অস্থির গায়ে কিছু উঁচু-নিচু চিহ্ন থাকে, আর প্রায় সবগুলোর একটাই কারণ — পেশি বা লিগামেন্ট সেখানে জুড়ে থাকে, নয়তো সেখানে সন্ধি তৈরি হয়। ডেলটয়েড টিউবারসিটি হিউমেরাসের মাঝ বরাবর বাইরের দিকে একটি খসখসে উঁচু জায়গা, যেখানে ডেলটয়েড পেশি যুক্ত হয়। স্ক্যাপুলার গ্লেনয়েড গহ্বরে হিউমেরাসের মাথা বসে কাঁধের সন্ধি তৈরি করে। চিহ্নের নাম মনে রাখার সহজ উপায় — নামটি প্রায়ই সেখানে যুক্ত পেশির নামই বহন করে, যেমন ডেলটয়েড পেশি থেকে ডেলটয়েড টিউবারসিটি।
ডেলটয়েড টিউবারসিটি হিউমেরাসের কাণ্ডের পার্শ্বদেশে; ডেলটয়েড পেশির সংযুক্তিস্থল
গ্লেনয়েড গহ্বর স্ক্যাপুলায়; হিউমেরাসের মাথার সঙ্গে কাঁধ সন্ধি গঠন করে
অ্যাসিটাবুলাম শ্রোণিচক্রে; ফিমারের মাথার সঙ্গে নিতম্ব সন্ধি গঠন করে
অলেক্রেনন প্রসেস আলনায়; কনুইয়ের পিছনের উঁচু অংশ
মানুষের দীর্ঘতম ও শক্তিশালীতম অস্থি ফিমার; ক্ষুদ্রতম স্টেপিস (কানে)
টিউবারসিটি ও প্রসেস পেশি-সংযুক্তির জন্য; গহ্বর ও ফোসা সন্ধি বা অঙ্গ ধারণের জন্য
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
চিহ্নের নাম প্রায়ই পেশির নাম — ডেলটয়েড টিউবারসিটি মানে হিউমেরাস, স্ক্যাপুলা নয়।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·ডেলটয়েড টিউবারসিটিকে স্ক্যাপুলার অংশ ধরা — নামের সঙ্গে কাঁধের সম্পর্ক থাকায় এই ভুলটি স্বাভাবিক
- ·গ্লেনয়েড গহ্বর ও অ্যাসিটাবুলাম গুলিয়ে ফেলা — একটি কাঁধে, অন্যটি নিতম্বে
- ·দীর্ঘতম অস্থি হিসেবে টিবিয়া বলা — উত্তর ফিমার
অস্থি ও কঙ্কাল
তরুণাস্থি ও এর প্রকারভেদ
তরুণাস্থি বা কোমলাস্থি একটি নমনীয় অথচ দৃঢ় যোজক কলা, যার ম্যাট্রিক্স কন্ড্রিন প্রোটিনে গঠিত এবং কোষ (কন্ড্রোসাইট) ল্যাকুনায় থাকে; এতে ক্যালসিয়াম লবণ কম বলে এটি অস্থির চেয়ে নরম ও স্থিতিস্থাপক এবং রক্তনালিবিহীন। ম্যাট্রিক্সের তন্তু অনুসারে তিন প্রকার: স্বচ্ছ তরুণাস্থি (হায়ালিন — অস্থিসন্ধি, শ্বাসনালিতে), স্থিতিস্থাপক তরুণাস্থি (কানের পিনা, এপিগ্লটিসে) ও শ্বেততন্তুময় তরুণাস্থি (ইন্টারভার্টেব্রাল ডিস্কে, চাপ সহনে)। তরুণাস্থি অস্থিসন্ধিতে ঘর্ষণ কমায় ও ভ্রূণে অস্থির পূর্বসূরি হিসেবে কাজ করে।
তরুণাস্থির ম্যাট্রিক্স কন্ড্রিন; কোষ = কন্ড্রোসাইট
রক্তনালিবিহীন, অস্থির চেয়ে নরম ও নমনীয়
তিন প্রকার: হায়ালিন (স্বচ্ছ), স্থিতিস্থাপক, শ্বেততন্তুময়
কাজ: সন্ধিতে ঘর্ষণ হ্রাস, ভ্রূণে অস্থির পূর্বসূরি
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
তরুণাস্থির কোষ কন্ড্রোসাইট (অস্থির অস্টিওসাইট নয়), ম্যাট্রিক্স কন্ড্রিন — কোষ ও ম্যাট্রিক্সের নাম প্রায়ই ফাঁদ।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·তরুণাস্থির কোষকে অস্টিওসাইট ভাবা — কন্ড্রোসাইট
- ·তরুণাস্থিতে রক্তনালি আছে ভাবা — নেই
- ·কানের তরুণাস্থিকে হায়ালিন ভাবা — স্থিতিস্থাপক
পেশি ও সঞ্চালন
অস্থিভঙ্গ, স্থানচ্যুতি ও মচকানো
অস্থি ভেঙে যাওয়াকে অস্থিভঙ্গ বা ফ্র্যাকচার বলে। প্রকারভেদ: সাধারণ ফ্র্যাকচার (অস্থি ভাঙে কিন্তু ত্বক অক্ষত), যৌগিক/কম্পাউন্ড ফ্র্যাকচার (ভাঙা অস্থি ত্বক ভেদ করে বাইরে আসে — সংক্রমণ ঝুঁকি) ও জটিল/কমপ্লেক্স ফ্র্যাকচার (ভাঙা অস্থির প্রান্ত পার্শ্ববর্তী স্নায়ু/রক্তনালি/অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত করে)। স্থানচ্যুতি (ডিসলোকেশন) হলো অস্থি সন্ধিস্থল থেকে সরে যাওয়া, আর মচকানো (স্প্রেইন) হলো সন্ধির লিগামেন্ট অতিরিক্ত টান/ছিঁড়ে যাওয়া। প্রাথমিক চিকিৎসায় আক্রান্ত অংশ নাড়াচাড়া না করে স্প্লিন্ট দিয়ে স্থির রাখা ও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
সাধারণ: ত্বক অক্ষত; যৌগিক: অস্থি ত্বক ভেদ করে (সংক্রমণ ঝুঁকি)
জটিল: পার্শ্ববর্তী স্নায়ু/রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত
স্থানচ্যুতি: অস্থি সন্ধি থেকে সরে যাওয়া
মচকানো: লিগামেন্টে অতিরিক্ত টান/ছিঁড়ে যাওয়া
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
যৌগিক ফ্র্যাকচারে অস্থি ত্বক ভেদ করে (সংক্রমণ ঝুঁকি বেশি) — সাধারণ থেকে এই পার্থক্য প্রিয় প্রশ্ন। মচকানো লিগামেন্টের সমস্যা।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·যৌগিক ফ্র্যাকচারকে ত্বক-অক্ষত ভাবা — ত্বক ভেদ করে
- ·মচকানোকে অস্থিভঙ্গ ভাবা — লিগামেন্টের ক্ষতি
- ·স্থানচ্যুতিকে হাড়ভাঙা ভাবা — সন্ধি থেকে সরে যাওয়া
পেশি ও সঞ্চালন
অস্থি-পেশির লিভার তন্ত্র ও সন্ধি সঞ্চালন
দেহে অস্থি লিভার (দণ্ড), সন্ধি আলম্ব (ফালক্রাম) এবং পেশি প্রযুক্ত বল হিসেবে কাজ করে চলন ঘটায়। আলম্ব, ভার ও বলের অবস্থান অনুসারে তিন শ্রেণির লিভার: প্রথম শ্রেণি (আলম্ব মাঝে — যেমন করোটি-ঘাড় সঞ্চালন), দ্বিতীয় শ্রেণি (ভার মাঝে — যেমন পায়ের পাতা তুলে দাঁড়ানো) ও তৃতীয় শ্রেণি (বল মাঝে — যেমন কনুই ভাঁজে বাইসেপের ক্রিয়া, দেহে সর্বাধিক)। হাঁটু সঞ্চালনে ফিমার-টিবিয়ার সন্ধিতে ফ্লেক্সর ও এক্সটেনসর পেশির সমন্বিত ক্রিয়ায় পা ভাঁজ ও প্রসারিত হয়।
অস্থি = লিভার, সন্ধি = আলম্ব, পেশি = প্রযুক্ত বল
তিন শ্রেণি: প্রথম (আলম্ব মাঝে), দ্বিতীয় (ভার মাঝে), তৃতীয় (বল মাঝে)
তৃতীয় শ্রেণির লিভার দেহে সর্বাধিক (যেমন কনুই)
হাঁটু সঞ্চালনে ফ্লেক্সর-এক্সটেনসরের সমন্বয়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
কনুইয়ের বাইসেপ ক্রিয়া তৃতীয় শ্রেণির লিভার (বল মাঝে) — দেহে সবচেয়ে সাধারণ, প্রিয় প্রশ্ন।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·কনুইকে প্রথম শ্রেণির লিভার ভাবা — তৃতীয় শ্রেণি
- ·অস্থিকে আলম্ব ভাবা — লিভার (সন্ধি আলম্ব)
- ·দ্বিতীয় শ্রেণিকে দেহে সর্বাধিক ভাবা — তৃতীয় শ্রেণি সর্বাধিক
পেশি ও সঞ্চালন
পেশির সংকোচন ও কর্মকাণ্ড
পেশি সংকোচনের মাধ্যমে চলন ঘটায় — গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো পেশি শুধু টান দেয় (সংকুচিত হয়), ধাক্কা দেয় না। তাই অস্থি চালাতে পেশি জোড়ায় বিপরীতভাবে (অ্যান্টাগনিস্টিক) কাজ করে: একটি পেশি সংকুচিত হয়ে অঙ্গ ভাঁজ করে (ফ্লেক্সর, যেমন বাইসেপ) আর বিপরীত পেশি সংকুচিত হয়ে তা সোজা করে (এক্সটেনসর, যেমন ট্রাইসেপ)। রৈখিক পেশির সংকোচনের এককে অ্যাক্টিন ও মায়োসিন তন্তু পরস্পরের ওপর পিছলে গিয়ে সারকোমিয়ার সংক্ষিপ্ত করে (স্লাইডিং ফিলামেন্ট তত্ত্ব), যা ক্যালসিয়াম ও ATP-নির্ভর।
পেশি শুধু টান দেয় (সংকোচন), ধাক্কা দেয় না
জোড়ায় বিপরীত কাজ: ফ্লেক্সর (বাইসেপ) ও এক্সটেনসর (ট্রাইসেপ)
সংকোচন: অ্যাক্টিন-মায়োসিন স্লাইডিং (সারকোমিয়ার ছোট হয়)
সংকোচন Ca²⁺ ও ATP-নির্ভর
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
পেশি ধাক্কা দিতে পারে না, শুধু টানে — তাই জোড়ায় (অ্যান্টাগনিস্টিক) কাজ করে। বাইসেপ ভাঁজ করে, ট্রাইসেপ সোজা করে।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·পেশি ধাক্কা দেয় ভাবা — শুধু টান দেয়
- ·সংকোচনে অ্যাক্টিন-মায়োসিন দৈর্ঘ্য কমে ভাবা — পিছলে যায়, দৈর্ঘ্য অপরিবর্তিত
- ·পেশি সংকোচনে ATP লাগে না ভাবা — লাগে
পেশি ও সঞ্চালন
পেশি টিস্যুর প্রকারভেদ
পেশি টিস্যু সংকোচনশীল কোষ নিয়ে গঠিত যা চলন ঘটায়; গঠন ও নিয়ন্ত্রণের ভিত্তিতে তিন প্রকার। রৈখিক বা ঐচ্ছিক পেশি (স্ট্রায়েটেড) — লম্বা, বহু-নিউক্লিয়াসযুক্ত, আড়াআড়ি ডোরাকাটা, ইচ্ছাধীন; কঙ্কালের সাথে যুক্ত হয়ে চলন ঘটায়। মসৃণ বা অনৈচ্ছিক পেশি — মাকু-আকৃতির, এক-নিউক্লিয়াসযুক্ত, ডোরাবিহীন, ইচ্ছার বাইরে; পৌষ্টিকনালি-রক্তনালির প্রাচীরে থাকে। হৃৎপেশি (কার্ডিয়াক) — শাখাযুক্ত, ডোরাকাটা কিন্তু অনৈচ্ছিক, শুধু হৃৎপিণ্ডে; ছন্দবদ্ধভাবে সারাজীবন ক্লান্তিহীনভাবে সংকুচিত হয়।
রৈখিক (ঐচ্ছিক): ডোরাকাটা, বহু-নিউক্লিয়াস, কঙ্কালে
মসৃণ (অনৈচ্ছিক): ডোরাবিহীন, মাকু-আকৃতি, অন্তরঙ্গ অঙ্গে
হৃৎপেশি: ডোরাকাটা কিন্তু অনৈচ্ছিক, শুধু হৃৎপিণ্ডে
হৃৎপেশি ক্লান্তিহীনভাবে ছন্দবদ্ধ সংকোচন করে
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
হৃৎপেশি ডোরাকাটা (রৈখিকের মতো) কিন্তু অনৈচ্ছিক (মসৃণের মতো) — এই মিশ্র বৈশিষ্ট্যই প্রিয় ফাঁদ।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·হৃৎপেশিকে ঐচ্ছিক ভাবা — অনৈচ্ছিক
- ·মসৃণ পেশিকে ডোরাকাটা ভাবা — ডোরাবিহীন
- ·রৈখিক পেশিকে এক-নিউক্লিয়াস ভাবা — বহু-নিউক্লিয়াস
অস্থি ও কঙ্কাল
মানব কঙ্কালের গুরুত্বপূর্ণ অস্থি
মানব কঙ্কাল দুই ভাগে বিভক্ত: অক্ষীয় কঙ্কাল (করোটি, কশেরুকা, বক্ষপিঞ্জর) ও উপাঙ্গীয় কঙ্কাল (হাত-পায়ের অস্থি ও তাদের গার্ডল)। মুখমণ্ডলের ম্যান্ডিবল সবচেয়ে বড় ও একমাত্র চলনশীল করোটি-অস্থি; হাইওয়েড একটি U-আকৃতির অস্থি যা কোনো অস্থির সাথে সরাসরি যুক্ত নয়। অগ্রপদে হিউমেরাস (উর্ধ্ববাহু), রেডিয়াস-আলনা (নিম্নবাহু) এবং পশ্চাৎপদে ফিমার (উরু — দেহের দীর্ঘতম অস্থি), টিবিয়া-ফিবুলা (পায়ের নিম্নাংশ) থাকে। প্রতিটি অস্থির নির্দিষ্ট আকৃতি ও শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য আছে যা চলন ও অবলম্বনে ভূমিকা রাখে।
অক্ষীয়: করোটি, কশেরুকা, বক্ষপিঞ্জর; উপাঙ্গীয়: হাত-পা ও গার্ডল
ম্যান্ডিবল একমাত্র চলনশীল করোটি-অস্থি
ফিমার দেহের দীর্ঘতম অস্থি
অগ্রপদ: হিউমেরাস, রেডিয়াস-আলনা; পশ্চাৎপদ: ফিমার, টিবিয়া-ফিবুলা
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
ফিমার দীর্ঘতম, ম্যান্ডিবল একমাত্র চলনশীল করোটি-অস্থি — এই দুটি তথ্য প্রায়ই জিজ্ঞাসিত।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·হিউমেরাসকে দীর্ঘতম অস্থি ভাবা — ফিমার দীর্ঘতম
- ·হাইওয়েডকে অন্য অস্থিতে যুক্ত ভাবা — সরাসরি যুক্ত নয়
- ·টিবিয়াকে অগ্রপদের অস্থি ভাবা — পশ্চাৎপদের
অস্থি ও কঙ্কাল
কশেরুকা ও বক্ষপিঞ্জর
মেরুদণ্ড ৩৩টি কশেরুকা নিয়ে গঠিত, যা অঞ্চল অনুসারে সাজানো: ৭টি সার্ভাইক্যাল (গ্রীবা), ১২টি থোরাসিক (বক্ষদেশীয়), ৫টি লাম্বার (কটিদেশীয়), ৫টি স্যাক্রাল (মিলিত স্যাক্রাম) ও ৪টি কক্সিজিয়াল (মিলিত কক্সিক্স)। প্রতিটি কশেরুকার একটি সেন্ট্রাম ও নিউরাল আর্চ থাকে, যার ফাঁক দিয়ে সুষুম্নাকাণ্ড যায় ও সুরক্ষিত থাকে। বক্ষপিঞ্জর ১২ জোড়া পঞ্জরাস্থি (রিব), পৃষ্ঠে থোরাসিক কশেরুকা ও সামনে স্টার্নাম নিয়ে গঠিত; এটি হৃৎপিণ্ড-ফুসফুস রক্ষা করে ও শ্বাসক্রিয়ায় সাহায্য করে। উপরের ৭ জোড়া রিব সত্য পঞ্জরাস্থি।
মোট ৩৩ কশেরুকা: ৭ সার্ভাইক্যাল, ১২ থোরাসিক, ৫ লাম্বার, ৫ স্যাক্রাল, ৪ কক্সিজিয়াল
নিউরাল আর্চের ফাঁকে সুষুম্নাকাণ্ড সুরক্ষিত
বক্ষপিঞ্জর: ১২ জোড়া রিব + স্টার্নাম + থোরাসিক কশেরুকা
উপরের ৭ জোড়া রিব সত্য পঞ্জরাস্থি; হৃৎপিণ্ড-ফুসফুস রক্ষা করে
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
কশেরুকা সংখ্যা অঞ্চলভেদে (৭-১২-৫-৫-৪) মনে রাখা জরুরি — গণনাভিত্তিক প্রশ্ন আসে। সার্ভাইক্যাল সবসময় ৭টি।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·থোরাসিক কশেরুকা ৭টি ভাবা — ১২টি (সার্ভাইক্যাল ৭)
- ·সব রিবকে সত্য পঞ্জরাস্থি ভাবা — উপরের ৭ জোড়া
- ·বক্ষপিঞ্জরকে ১০ জোড়া রিব ভাবা — ১২ জোড়া