← সব চ্যাপ্টার

অণুজীব (ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া)

৩৪টি প্রশ্ন এসেছে ২৫ বছরে · ১১টি টপিক

ব্যাকটেরিয়া

ব্যাকটেরিয়া: বৈশিষ্ট্য ও আকৃতিগত শ্রেণিবিভাগ

ব্যাকটেরিয়া হলো আদিকোষী (প্রোক্যারিওটিক), সাধারণত এককোষী অণুজীব যাদের সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও ঝিল্লিবেষ্টিত অঙ্গাণু নেই। আকৃতির ভিত্তিতে এদের প্রধান শ্রেণি: গোলাকার কক্কাস (Coccus), দণ্ডাকার ব্যাসিলাস (Bacillus), কমা-আকৃতির ভিব্রিও (Vibrio) এবং প্যাঁচানো স্পাইরিলাম (Spirillum)। কক্কাস আবার সজ্জা অনুসারে ডিপ্লো-, স্ট্রেপ্টো-, স্ট্যাফাইলো-কক্কাস ইত্যাদি হয়। এরা বিভাজন (binary fission)-এর মাধ্যমে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। আদিকোষী, নিউক্লিয়ার ঝিল্লি ও ঝিল্লিবদ্ধ অঙ্গাণু নেই আকৃতি: কক্কাস (গোল), ব্যাসিলাস (দণ্ড), ভিব্রিও (কমা), স্পাইরিলাম (প্যাঁচানো) কক্কাসের সজ্জা: ডিপ্লো/স্ট্রেপ্টো/স্ট্যাফাইলো বংশবৃদ্ধি প্রধানত দ্বিবিভাজন (binary fission)

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

কলেরার জীবাণু Vibrio cholerae — কমা-আকৃতির, এটি ভিব্রিওর ধ্রুপদী উদাহরণ। আকৃতির নাম ও উদাহরণ একসাথে মনে রাখা জরুরি।

এখানে ভুল হয় ()

  • ব্যাকটেরিয়াকে প্রকৃতকোষী ভাবা — আদিকোষী
  • ভিব্রিওকে গোলাকার ভাবা — কমা-আকৃতির
  • কক্কাসকে দণ্ডাকার ভাবা — গোলাকার

ব্যাকটেরিয়া

ব্যাকটেরিয়ায় বংশগতীয় পুনর্বিন্যাস

ব্যাকটেরিয়া অযৌনভাবে বিভাজিত হলেও তিনটি উপায়ে জিনগত বৈচিত্র্য অর্জন করে। কনজুগেশনে দুটি ব্যাকটেরিয়া পিলাই/সেতুর মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে দাতা থেকে গ্রহীতায় DNA স্থানান্তর করে। ট্রান্সফরমেশনে ব্যাকটেরিয়া পরিবেশ থেকে মুক্ত DNA খণ্ড সরাসরি গ্রহণ করে। ট্রান্সডাকশনে ব্যাকটেরিওফাজ এক ব্যাকটেরিয়ার DNA বহন করে অন্য ব্যাকটেরিয়ায় পৌঁছে দেয়। এই তিন প্রক্রিয়ায় জিন পুনর্বিন্যাস ঘটে যা অভিযোজন ও অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বিস্তারে ভূমিকা রাখে। কনজুগেশন: পিলাই/সেতুর মাধ্যমে সরাসরি DNA স্থানান্তর ট্রান্সফরমেশন: পরিবেশ থেকে মুক্ত DNA গ্রহণ ট্রান্সডাকশন: ব্যাকটেরিওফাজ-মাধ্যমে DNA স্থানান্তর এগুলো জিন পুনর্বিন্যাস ও রেজিস্ট্যান্স বিস্তারে সাহায্য করে

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

মাধ্যম গুলিয়ে ফেলা সাধারণ: কনজুগেশন=পিলাই, ট্রান্সডাকশন=ফাজ, ট্রান্সফরমেশন=মুক্ত DNA। বাহক দিয়েই তিনটি আলাদা করা যায়।

এখানে ভুল হয় ()

  • ট্রান্সডাকশন সরাসরি সংযোগে ভাবা — ফাজ-মাধ্যমে
  • কনজুগেশন মুক্ত DNA গ্রহণে ভাবা — পিলাই/সেতুতে
  • ট্রান্সফরমেশন ফাজ দিয়ে ভাবা — মুক্ত DNA গ্রহণে

ব্যাকটেরিয়া

ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

ব্যাকটেরিয়া পরিবেশ ও মানবজীবনে দ্বিমুখী ভূমিকা রাখে। উপকারিতা: নাইট্রোজেন সংবন্ধন (Rhizobium), জৈব পদার্থের বিয়োজন ও মৃত্তিকা উর্বরতা, দুগ্ধজাত (দই তৈরিতে Lactobacillus), অ্যান্টিবায়োটিক ও ভিটামিন উৎপাদন এবং জিন প্রকৌশল। অপকারিতা: বহু রোগ সৃষ্টি (কলেরা, যক্ষ্মা, টাইফয়েড), খাদ্য ও ফসল নষ্ট। উদাহরণ হিসেবে কলেরা ঘটায় Vibrio cholerae, যা দূষিত পানি-খাবারে ছড়ায় ও তীব্র পানিশূন্যতা ঘটায়; প্রতিকারে খাবার স্যালাইন (ORS) ও বিশুদ্ধ পানি অপরিহার্য। উপকার: নাইট্রোজেন সংবন্ধন (Rhizobium), দই (Lactobacillus), অ্যান্টিবায়োটিক অপকার: কলেরা, যক্ষ্মা, টাইফয়েড ইত্যাদি রোগ কলেরা: Vibrio cholerae, দূষিত পানি-খাবারে ছড়ায় কলেরার প্রতিকারে ORS/খাবার স্যালাইন — পানিশূন্যতা পূরণ

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

কলেরায় মৃত্যুর মূল কারণ পানিশূন্যতা, তাই ORS জীবনরক্ষাকারী। Rhizobium শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের মূলে বাস করে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।

এখানে ভুল হয় ()

  • কলেরায় মৃত্যুর কারণ সংক্রমণ ভাবা — পানিশূন্যতা
  • Rhizobium ক্ষতিকর ভাবা — নাইট্রোজেন সংবন্ধনে উপকারী
  • সব ব্যাকটেরিয়া রোগ ঘটায় ভাবা — অনেক উপকারী

ব্যাকটেরিয়া

ব্যাকটেরিয়ার গঠন

একটি আদর্শ ব্যাকটেরিয়াম কোষের বাইরে থেকে ভেতরে থাকে: সুরক্ষামূলক ক্যাপসুল/স্লাইম স্তর, দৃঢ়তা-দানকারী কোষপ্রাচীর (পেপটিডোগ্লাইকান/মিউরিন দিয়ে গঠিত), প্লাজমা মেমব্রেন, এবং সাইটোপ্লাজম যাতে রাইবোসোম ও সঞ্চিত খাদ্য থাকে। বংশগতীয় বস্তু হিসেবে থাকে একটি বৃত্তাকার নগ্ন DNA (নিউক্লিয়য়েড) এবং প্রায়ই অতিরিক্ত ক্ষুদ্র বৃত্তাকার DNA বা প্লাজমিড। চলনের জন্য ফ্ল্যাজেলা ও সংযুক্তির জন্য পিলাই থাকতে পারে। ঝিল্লিবদ্ধ অঙ্গাণু অনুপস্থিত। কোষপ্রাচীর পেপটিডোগ্লাইকান/মিউরিন দিয়ে গঠিত বংশগতীয় বস্তু: বৃত্তাকার নগ্ন DNA (নিউক্লিয়য়েড) প্লাজমিড = অতিরিক্ত বৃত্তাকার DNA (অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বহন করে) ফ্ল্যাজেলা চলনে, পিলাই সংযুক্তিতে সাহায্য করে

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

প্লাজমিড ক্রোমোজোম থেকে আলাদা, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স জিন বহন করে — জেনেটিক প্রকৌশলে গুরুত্বপূর্ণ, প্রায়ই জিজ্ঞাসিত।

এখানে ভুল হয় ()

  • ব্যাকটেরিয়ায় ঝিল্লিবদ্ধ অঙ্গাণু আছে ভাবা — নেই
  • প্লাজমিডকে প্রধান ক্রোমোজোম ভাবা — অতিরিক্ত বৃত্তাকার DNA
  • কোষপ্রাচীর সেলুলোজের ভাবা — পেপটিডোগ্লাইকান

ভাইরাস

লাইটিক ও লাইসোজেনিক চক্র

ব্যাকটেরিওফাজ দুই উপায়ে বংশবৃদ্ধি করে। লাইটিক চক্রে ফাজ পোষক ব্যাকটেরিয়ায় DNA প্রবেশ করিয়ে দ্রুত বহু নতুন ফাজ তৈরি করে এবং পোষক কোষ ফেটে (লাইসিস) নতুন ফাজ মুক্ত হয়। লাইসোজেনিক চক্রে ফাজ DNA পোষকের ক্রোমোজোমে প্রোফাজ হিসেবে যুক্ত হয়ে সুপ্ত থাকে ও পোষকের বিভাজনের সাথে বংশানুক্রমে ছড়ায়, কোষ ধ্বংস হয় না; পরে অনুকূল পরিস্থিতিতে প্রোফাজ সক্রিয় হয়ে লাইটিক চক্রে প্রবেশ করতে পারে। লাইটিক: দ্রুত বংশবৃদ্ধি → পোষক কোষ লাইসিস (ধ্বংস) লাইসোজেনিক: ফাজ DNA প্রোফাজ রূপে পোষক জিনোমে সুপ্ত লাইসোজেনিক চক্রে পোষক কোষ ধ্বংস হয় না প্রোফাজ পরে সক্রিয় হয়ে লাইটিক চক্রে যেতে পারে

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

মূল পার্থক্য: লাইটিকে পোষক কোষ মরে, লাইসোজেনিকে বাঁচে। প্রোফাজ শব্দটি শুধু লাইসোজেনিক চক্রে আসে।

এখানে ভুল হয় ()

  • লাইসোজেনিক চক্রে পোষক কোষ মরে ভাবা — বাঁচে
  • প্রোফাজ লাইটিক চক্রের অংশ ভাবা — লাইসোজেনিক
  • লাইটিক চক্রে DNA সুপ্ত থাকে ভাবা — দ্রুত বংশবৃদ্ধি

ম্যালেরিয়া পরজীবী

ম্যালেরিয়া পরজীবীর মানবদেহে জীবনচক্র

ম্যালেরিয়া ঘটায় Plasmodium গণের পরজীবী, যার অযৌন চক্র মানবদেহে সম্পন্ন হয় (তাই মানুষ মধ্যবর্তী পোষক)। সংক্রমিত স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা কামড়ালে স্পোরোজয়েট রক্তে প্রবেশ করে যকৃতকোষে গিয়ে হেপাটিক সাইজোগনি ঘটায় ও বহু মেরোজয়েট তৈরি করে। এরপর মেরোজয়েট লোহিত রক্তকণিকায় প্রবেশ করে এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি চালায়; নির্দিষ্ট বিরতিতে লোহিত কণিকা ফেটে মেরোজয়েট ও বিষাক্ত পদার্থ মুক্ত হয় — এতেই কাঁপুনি-জ্বর আসে। কিছু মেরোজয়েট গ্যামিটোসাইটে পরিণত হয়। মানুষ = মধ্যবর্তী পোষক (অযৌন চক্র); মশা = চূড়ান্ত পোষক সংক্রামক দশা স্পোরোজয়েট মশার লালাগ্রন্থি থেকে আসে হেপাটিক সাইজোগনি যকৃতে, এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি লোহিত কণিকায় লোহিত কণিকা ফাটার সাথে সাথে পর্যায়ক্রমিক জ্বর-কাঁপুনি

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

মানুষে অযৌন চক্র, মশায় যৌন চক্র — তাই মশা চূড়ান্ত পোষক (যদিও ছোট)। জ্বর আসে লোহিত কণিকা ফাটার সময়, এই সংযোগ প্রায়ই জিজ্ঞাসিত।

এখানে ভুল হয় ()

  • মশাকে মধ্যবর্তী পোষক ভাবা — মানুষ মধ্যবর্তী, মশা চূড়ান্ত
  • সংক্রামক দশা মেরোজয়েট ভাবা — স্পোরোজয়েট
  • জ্বর যকৃত-দশায় আসে ভাবা — লোহিত কণিকা ফাটায়

ম্যালেরিয়া পরজীবী

মশকীর দেহে জীবনচক্র, সংক্রমণ ও প্রতিরোধ

স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া রোগীর রক্ত পান করলে গ্যামিটোসাইট মশার পাকস্থলীতে গিয়ে যৌন চক্র (গ্যামিটোগনি) শুরু করে — পুং ও স্ত্রী গ্যামিট মিলিত হয়ে জাইগোট, পরে চলনশীল উকিনেট ও উওসিস্ট গঠন করে; উওসিস্টের ভেতরে স্পোরোগনির মাধ্যমে বহু স্পোরোজয়েট তৈরি হয়ে মশার লালাগ্রন্থিতে জমা হয়। এই মশা পরবর্তী কামড়ে স্পোরোজয়েট মানুষে সঞ্চারিত করে। প্রতিরোধে মশা নিধন, মশারি ব্যবহার, জমা পানি অপসারণ ও রোগীর দ্রুত চিকিৎসা কার্যকর। মশার দেহে যৌন চক্র: গ্যামিটোগনি → স্পোরোগনি চূড়ান্ত সংক্রামক দশা স্পোরোজয়েট লালাগ্রন্থিতে জমা হয় বাহক শুধু স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা প্রতিরোধ: মশা নিধন, মশারি, জমা পানি অপসারণ, দ্রুত চিকিৎসা

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

শুধু স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা বাহক (পুরুষ মশা উদ্ভিদরস খায়)। রোনাল্ড রস মশায় ম্যালেরিয়া পরজীবী আবিষ্কারে নোবেল পান।

এখানে ভুল হয় ()

  • পুরুষ মশা বাহক ভাবা — শুধু স্ত্রী অ্যানোফিলিস
  • মশায় অযৌন চক্র ভাবা — যৌন চক্র
  • স্পোরোজয়েট পাকস্থলীতে জমা ভাবা — লালাগ্রন্থিতে

ভাইরাস

ভাইরাসজনিত রোগ: কোভিড-১৯ ও ডেঙ্গু

ভাইরাস মানবদেহে নানা রোগ ঘটায়। কোভিড-১৯ ঘটায় নভেল করোনা ভাইরাস (SARS-CoV-2), একটি RNA ভাইরাস; এটি প্রধানত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায় এবং হাঁচি-কাশির ড্রপলেট ও সংস্পর্শে ছড়ায়, লক্ষণ জ্বর-কাশি-শ্বাসকষ্ট। ডেঙ্গু জ্বর ঘটায় ডেঙ্গু ভাইরাস (RNA), যা এডিস মশা (Aedes aegypti) দ্বারা বাহিত হয়; লক্ষণ উচ্চ জ্বর, গায়ে ব্যথা ও রক্তক্ষরণজনিত জটিলতা। প্রতিরোধে টিকা, মশা নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যবিধি ও সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ। কোভিড-১৯: SARS-CoV-2 (RNA ভাইরাস), শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ, ড্রপলেটে ছড়ায় ডেঙ্গু: ডেঙ্গু ভাইরাস, বাহক এডিস মশা (দিনে কামড়ায়) উভয়ই RNA ভাইরাস প্রতিরোধ: টিকা, বাহক নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যবিধি

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা (দিনে কামড়ায়), অ্যানোফিলিস নয় (ওটা ম্যালেরিয়া)। বাহক গুলিয়ে ফেলা সবচেয়ে সাধারণ ভুল।

এখানে ভুল হয় ()

  • ডেঙ্গুর বাহক অ্যানোফিলিস ভাবা — এডিস মশা
  • কোভিড-১৯ ব্যাকটেরিয়াজনিত ভাবা — RNA ভাইরাস
  • ডেঙ্গু DNA ভাইরাস ভাবা — RNA

ভাইরাস

ভাইরাস: প্রকৃতি ও জড়-জীবীয় বৈশিষ্ট্য

ভাইরাস হলো নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA অথবা RNA) ও প্রোটিন আবরণ দিয়ে গঠিত অতিআণুবীক্ষণিক, বাধ্যতামূলক আন্তঃকোষীয় পরজীবী, যাকে ডি. আইভানভস্কি প্রথম শনাক্ত করেন। ভাইরাসের দ্বৈত সত্তা আছে: পোষক দেহের বাইরে এটি জড়ের মতো আচরণ করে (স্ফটিকে পরিণত হয়, বিপাক নেই, স্বাধীনভাবে বংশবৃদ্ধি করতে পারে না), কিন্তু জীবন্ত পোষক কোষের ভেতরে এটি জীবের মতো আচরণ করে (বংশবৃদ্ধি করে, বংশগতি বহন করে, পরিব্যক্তি ঘটে)। এই মধ্যবর্তী প্রকৃতির কারণে ভাইরাসকে জীব ও জড়ের সংযোগস্থল বলা হয়। গঠন: নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA বা RNA) + প্রোটিন ক্যাপসিড জড় বৈশিষ্ট্য: স্ফটিকে পরিণত, বিপাক নেই, পোষক ছাড়া নিষ্ক্রিয় জীবীয় বৈশিষ্ট্য: পোষক কোষে বংশবৃদ্ধি, বংশগতি, পরিব্যক্তি একটি ভাইরাসে DNA বা RNA যেকোনো একটি থাকে, দুটি একসাথে নয়

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

ভাইরাসে DNA ও RNA একসাথে থাকে না — যেকোনো একটি। কোষীয় গঠন (নিউক্লিয়াস, অঙ্গাণু) নেই বলে একে অকোষীয় বলা হয়।

এখানে ভুল হয় ()

  • ভাইরাসে DNA ও RNA উভয়ই ভাবা — যেকোনো একটি
  • ভাইরাসকে কোষীয় ভাবা — অকোষীয়
  • পোষকের বাইরেও বংশবৃদ্ধি করে ভাবা — শুধু পোষকে

ভাইরাস

ভাইরাসের গঠন ও শ্রেণিবিভাগ

একটি পূর্ণাঙ্গ ভাইরাস কণা বা ভিরিয়নে থাকে কেন্দ্রীয় নিউক্লিক অ্যাসিড (জিনোম) ও তাকে ঘিরে প্রোটিনের আবরণ ক্যাপসিড; ক্যাপসিডের একক প্রোটিন অণুকে ক্যাপসোমিয়ার বলে। কিছু ভাইরাসে অতিরিক্ত লিপিড-প্রোটিন আবরণ (এনভেলাপ) থাকে। নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন (DNA/RNA), পোষক ও আকৃতির ভিত্তিতে ভাইরাসকে উদ্ভিদ ভাইরাস (সাধারণত RNA), প্রাণী ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া-আক্রমণকারী ব্যাকটেরিওফাজে ভাগ করা হয়। ব্যাকটেরিওফাজের গঠন টেডপোল-আকৃতির — মাথা, লেজ ও লেজতন্তু বিশিষ্ট। ভিরিয়ন = নিউক্লিক অ্যাসিড + ক্যাপসিড (± এনভেলাপ) ক্যাপসোমিয়ার = ক্যাপসিডের একক প্রোটিন অণু ব্যাকটেরিওফাজ ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে; গঠন টেডপোল-সদৃশ শ্রেণিবিভাগ: উদ্ভিদ, প্রাণী ও ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

ক্যাপসিড (পুরো আবরণ) ও ক্যাপসোমিয়ার (একক অণু) গুলিয়ে ফেলা যায়। ব্যাকটেরিওফাজ = ব্যাকটেরিয়া-ভক্ষক, নাম থেকেই কাজ বোঝা যায়।

এখানে ভুল হয় ()

  • ক্যাপসিড ও ক্যাপসোমিয়ারকে একই ভাবা — অংশ বনাম একক
  • ব্যাকটেরিওফাজ উদ্ভিদ আক্রমণ করে ভাবা — ব্যাকটেরিয়া
  • সব ভাইরাসে এনভেলাপ থাকে ভাবা — কিছুতে

ব্যাকটেরিয়া

ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার পার্থক্য

ভাইরাস অকোষীয় ও অতিআণুবীক্ষণিক, শুধু নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA বা RNA) ও প্রোটিন আবরণ দিয়ে গঠিত, নিজস্ব বিপাক নেই এবং কেবল জীবন্ত পোষক কোষের ভেতরেই বংশবৃদ্ধি করতে পারে। ব্যাকটেরিয়া প্রকৃত কোষীয় জীব (আদিকোষী), এর কোষপ্রাচীর, সাইটোপ্লাজম, রাইবোসোম ও DNA আছে, নিজস্ব বিপাক চালায় এবং পুষ্টিমাধ্যমে স্বাধীনভাবে বিভাজিত হয়ে বংশবৃদ্ধি করতে পারে। ভাইরাসে DNA বা RNA যেকোনো একটি থাকে, ব্যাকটেরিয়ায় DNA ও RNA উভয়ই থাকে। ভাইরাস অকোষীয়; ব্যাকটেরিয়া কোষীয় (আদিকোষী) ভাইরাসে DNA বা RNA; ব্যাকটেরিয়ায় উভয়ই ভাইরাসের নিজস্ব বিপাক নেই; ব্যাকটেরিয়ার আছে ভাইরাস শুধু পোষকে বংশবৃদ্ধি করে; ব্যাকটেরিয়া কৃত্রিম মাধ্যমে পারে

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

ব্যাকটেরিয়া কৃত্রিম মাধ্যমে জন্মে, ভাইরাস পারে না — এটিই সবচেয়ে বড় পার্থক্যকারী ও প্রিয় MCQ।

এখানে ভুল হয় ()

  • ভাইরাস কৃত্রিম মাধ্যমে জন্মে ভাবা — শুধু পোষকে
  • ব্যাকটেরিয়ায় একটিমাত্র নিউক্লিক অ্যাসিড ভাবা — DNA ও RNA উভয়
  • ভাইরাসকে কোষীয় ভাবা — অকোষীয়