Entamoeba histolytica — cycle and transmission
এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকার জীবনচক্র
এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা আমাশয় ঘটায় এবং তার জীবনচক্র একটিমাত্র পোষকে সম্পূর্ণ হয় — মানুষে; কোনো মধ্যবর্তী পোষক লাগে না। সক্রিয় ট্রফোজয়েট দশা বৃহদন্ত্রের প্রাচীরে বাস করে ও ক্ষত তৈরি করে, কিন্তু সেটি দেহের বাইরে বাঁচতে পারে না। ছড়ানোর কাজটি করে সিস্ট দশা — শক্ত আবরণে ঘেরা নিষ্ক্রিয় রূপ, যা মলের সঙ্গে বেরিয়ে দূষিত খাদ্য বা পানির মাধ্যমে পরের মানুষে পৌঁছায়। পরিণত সিস্টে চারটি নিউক্লিয়াস থাকে, আর সেই সংখ্যাটিই সংক্রমণক্ষম দশা চেনার চিহ্ন।
একপোষকী পরজীবী — জীবনচক্র কেবল মানুষে সম্পূর্ণ হয়
ট্রফোজয়েট সক্রিয় ও রোগসৃষ্টিকারী দশা, বৃহদন্ত্রে বাস করে
সিস্ট দশা সংক্রমণ ছড়ায়; মলের সঙ্গে দেহ থেকে নির্গত হয়
পরিণত সংক্রমণক্ষম সিস্টে চারটি নিউক্লিয়াস থাকে
সংক্রমণ ঘটে দূষিত খাদ্য ও পানির মাধ্যমে — মল-মুখ পথে
রোগের নাম অ্যামিবিক ডিসেন্ট্রি বা আমাশয়; যকৃতে ছড়ালে অ্যামিবিক লিভার অ্যাবসেস
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
ছড়ায় সিস্ট, রোগ ঘটায় ট্রফোজয়েট — দুটি দশার দুই কাজ গুলিয়ে ফেলো না।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·ট্রফোজয়েটকে সংক্রমণ-ছড়ানো দশা ধরা — সেটি দেহের বাইরে বাঁচে না
- ·এন্টামিবাকে দ্বিপোষকী ধরা — এটি একপোষকী
- ·পরিণত সিস্টে এক বা দুটি নিউক্লিয়াস ধরা — সংখ্যা চার
Host types and what defines a parasite
পোষক ও পরজীবীর সম্পর্ক
পরজীবী এমন জীব যে অন্য জীবের দেহে বা দেহের উপর থেকে খাদ্য ও আশ্রয় নেয় এবং বিনিময়ে পোষকের ক্ষতি করে। পোষককে ভাগ করা হয় পরজীবীর জীবনচক্রের কোন অংশ সেখানে ঘটে তার ভিত্তিতে — যে পোষকে যৌন জনন সম্পন্ন হয় তাকে বলে মুখ্য বা নির্দিষ্ট পোষক, আর যেখানে অযৌন দশা কাটে তাকে গৌণ বা মধ্যবর্তী পোষক। ম্যালেরিয়ায় এই ভাগটি অনেককে অবাক করে: যৌন জনন ঘটে মশার দেহে, তাই স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশাই মুখ্য পোষক এবং মানুষ গৌণ পোষক — যদিও রোগে ভোগে মানুষ। পরজীবীর চেনা বৈশিষ্ট্য হলো ইন্দ্রিয় ও চলন অঙ্গের অবনতি, কিন্তু প্রজনন ক্ষমতার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি।
মুখ্য বা নির্দিষ্ট পোষক = যেখানে পরজীবীর যৌন জনন ঘটে
গৌণ বা মধ্যবর্তী পোষক = যেখানে অযৌন দশা কাটে
ম্যালেরিয়ায় মুখ্য পোষক স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা; মানুষ গৌণ পোষক
পরজীবীর বৈশিষ্ট্য: চলন ও ইন্দ্রিয় অঙ্গের অবনতি, পরিপাকতন্ত্রের সরলীকরণ, প্রজনন ক্ষমতার প্রবল বৃদ্ধি
প্রজনন ক্ষমতা কম হওয়া পরজীবীর বৈশিষ্ট্য নয় — বরং উল্টোটি
একপোষকী (monogenetic) পরজীবী এক পোষকে চক্র সম্পূর্ণ করে; দ্বিপোষকী (digenetic) দুই পোষকে
কালাজ্বরের পরজীবী Leishmania-র জীবনচক্রে দুটি দশা — মানুষে অ্যামাস্টিগোট, বেলেমাছিতে প্রোমাস্টিগোট
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
যৌন জনন যেখানে, মুখ্য পোষক সেখানে — মানুষ রোগে ভুগলেও ম্যালেরিয়ায় মুখ্য পোষক মশা।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·মানুষকে ম্যালেরিয়ার মুখ্য পোষক ধরা — রোগী মানুষ বলে এই ভুলটি প্রায় সবাই করে; নির্ণায়ক যৌন জনন কোথায় ঘটে
- ·পরজীবীর প্রজনন ক্ষমতা কম ধরা — অবনতি ঘটে চলন ও ইন্দ্রিয়ে, প্রজননে নয়
- ·মুখ্য ও গৌণ পোষকের সংজ্ঞা আকার বা গুরুত্ব দিয়ে ঠিক করা
The malaria life cycle and its named stages
ম্যালেরিয়া পরজীবীর জীবনচক্র
ম্যালেরিয়ার পরজীবী দুই পোষকে চক্র সম্পূর্ণ করে, আর প্রতিটি ধাপের আলাদা নাম আছে — পরীক্ষায় সেই নামের ক্রমটাই জিজ্ঞাসা করা হয়। সংক্রমিত মশা কামড়ালে তার লালারসের সঙ্গে স্পোরোজয়েট দশা মানুষের রক্তে ঢোকে। স্পোরোজয়েট সোজা যকৃতে গিয়ে বিভাজিত হয়, একে বলে হেপাটিক বা প্রি-ইরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি। সেখান থেকে মেরোজয়েট বেরিয়ে লোহিত কণিকায় ঢোকে এবং ইরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি শুরু করে — এই ধাপেই কণিকা ফেটে গিয়ে জ্বর আসে। কিছু পরজীবী গ্যামিটোসাইটে পরিণত হয়, যা মশা রক্ত টানার সময় তার দেহে যায় এবং সেখানে যৌন চক্র সম্পূর্ণ করে স্পোরোজয়েট তৈরি করে।
মশার লালারস থেকে মানুষে ঢোকে স্পোরোজয়েট দশা
হেপাটিক বা প্রি-ইরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি ঘটে যকৃতে
ইরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি ঘটে লোহিত রক্তকণিকায় — এই ধাপেই জ্বরের লক্ষণ প্রকাশ পায়
অযৌন চক্রের সর্বশেষ ধাপ মেরোজয়েট, স্পোরোজয়েট নয়
যৌন চক্রের সর্বশেষ ধাপ স্পোরোজয়েট, মশার দেহে
গ্যামিটোসাইট মানুষের রক্তে তৈরি হয় কিন্তু যৌন জনন সম্পূর্ণ হয় মশার দেহে
জ্বর আসে লোহিত কণিকা ফেটে মেরোজয়েট ও বিপাকজ বর্জ্য রক্তে ছড়ানোর সময়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
অযৌন চক্রের শেষ ধাপ মেরোজয়েট, যৌন চক্রের শেষ ধাপ স্পোরোজয়েট — এই দুটি প্রায় সবসময় একসঙ্গে বিকল্পে আসে।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·অযৌন চক্রের সর্বশেষ ধাপ স্পোরোজয়েট ধরা — সেটি যৌন চক্রের শেষ ধাপ
- ·হেপাটিক সাইজোগনিকে রক্তে ঘটে ধরা — এটি যকৃতে
- ·জ্বরের সময়কে যকৃতের দশার সঙ্গে জোড়া — জ্বর আসে ইরিথ্রোসাইটিক দশায়
Plasmodium species — fever periodicity and latency
ম্যালেরিয়ার প্রজাতি, জ্বরের পর্যায় ও সুপ্তাবস্থা
মানুষে ম্যালেরিয়া ঘটায় চারটি প্রধান Plasmodium প্রজাতি, আর তাদের আলাদা করা যায় জ্বর কত ঘণ্টা পরপর আসে তা দেখে — কারণ জ্বরের ছন্দ ঠিক করে দেয় ইরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি সম্পূর্ণ হতে কত সময় লাগে। vivax ও ovale-এ ৪৮ ঘণ্টা, তাই বেনাইন টারশিয়ান; malariae-তে ৭২ ঘণ্টা, তাই কোয়ার্টান; আর falciparum-এ চক্রটি অনিয়মিত ও ৩৬–৪৮ ঘণ্টার মধ্যে, যাকে বলে ম্যালিগন্যান্ট টারশিয়ান — এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী। আলাদা একটি বিষয় সুপ্তাবস্থা: vivax ও ovale যকৃতে হিপনোজয়েট নামে নিষ্ক্রিয় দশায় মাস থেকে বছর পর্যন্ত থেকে গিয়ে পরে রোগ ফিরিয়ে আনতে পারে, কিন্তু falciparum-এ হিপনোজয়েট হয় না।
P. vivax ও P. ovale: জ্বর ৪৮ ঘণ্টা পরপর — বেনাইন টারশিয়ান
P. malariae: জ্বর ৭২ ঘণ্টা পরপর — কোয়ার্টান
P. falciparum: ৩৬–৪৮ ঘণ্টা, অনিয়মিত — ম্যালিগন্যান্ট টারশিয়ান, সবচেয়ে মারাত্মক
হিপনোজয়েট = যকৃতে সুপ্ত দশা; কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর টিকতে পারে
হিপনোজয়েট হয় vivax ও ovale-এ; falciparum-এ হয় না
P. falciparum-এর প্রাক-প্যাটেন্ট সুপ্তিকাল সবচেয়ে কম, প্রায় ৮–১৫ দিন
সুপ্তাবস্থা থেকে রোগ ফিরে আসাকে বলে রিল্যাপ্স — এটি পুনঃসংক্রমণ নয়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
জ্বরের ব্যবধানই প্রজাতি ধরিয়ে দেয় — ৪৮ ঘণ্টা টারশিয়ান, ৭২ ঘণ্টা কোয়ার্টান।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·falciparum-এ হিপনোজয়েট হয় ধরা — হয় কেবল vivax ও ovale-এ
- ·টারশিয়ান মানে ৩ দিন পরপর ধরা — নামটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণনার, ব্যবধান ৪৮ ঘণ্টা
- ·রিল্যাপ্স ও পুনঃসংক্রমণ গুলিয়ে ফেলা
Classifying Plasmodium and the parasitic protozoa
ম্যালেরিয়া পরজীবী ও পরজীবী প্রোটোজোয়ার শ্রেণিবিন্যাস
Plasmodium পড়ে অ্যাপিকমপ্লেক্সা পর্বে, যার সদস্যরা সবাই পরজীবী এবং কারও চলন অঙ্গ নেই — না ফ্ল্যাজেলা, না সিলিয়া, না ক্ষণপদ। এই চলৎশক্তিহীনতাই তাকে অ্যামিবা বা ট্রাইপ্যানোসোমা থেকে আলাদা করে, আর প্রশ্নে সেটাই ধরা হয়। প্রাচীন শ্রেণিবিন্যাসে একে স্পোরোজোয়া শ্রেণিতে রাখা হত, আর নিডোস্পোরা উপপর্বে মিক্সোস্পোরিডিয়া ও মাইক্রোস্পোরিডিয়ার মতো শ্রেণি পড়ে। পরজীবীকে আরেকভাবে ভাগ করা হয় নির্ভরতা দিয়ে — যে পরজীবী ছাড়া বাঁচতেই পারে না তাকে বলে আবশ্যিক পরজীবী, আর যে সুযোগ পেলে মুক্তজীবীও হতে পারে তাকে বলে ঐচ্ছিক।
Plasmodium পর্ব Apicomplexa; সব সদস্যই পরজীবী
Plasmodium-এর কোনো চলন অঙ্গ নেই — ফ্ল্যাজেলা, সিলিয়া বা ক্ষণপদ কিছুই নয়
Entamoeba চলে ক্ষণপদ দিয়ে; Trypanosoma ও Leishmania ফ্ল্যাজেলা দিয়ে
প্রাচীন শ্রেণিবিন্যাসে Plasmodium শ্রেণি Sporozoa
নিডোস্পোরা উপপর্বে পড়ে মিক্সোস্পোরিডিয়া ও মাইক্রোস্পোরিডিয়া; হ্যাপ্লোস্পোরিয়া পড়ে না
আবশ্যিক পরজীবী পোষক ছাড়া বাঁচে না; ঐচ্ছিক পরজীবী মুক্তজীবীও হতে পারে
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
'কোন পরজীবীর চলৎশক্তি নেই' — উত্তর Plasmodium, কারণ Apicomplexa-র কোনো চলন অঙ্গ নেই।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·Plasmodium-কে ক্ষণপদযুক্ত ধরা — সেটি Entamoeba-র বৈশিষ্ট্য
- ·সব পরজীবী প্রোটোজোয়াকে ফ্ল্যাজেলাযুক্ত ধরা
- ·আবশ্যিক ও ঐচ্ছিক পরজীবীর সংজ্ঞা উল্টে দেওয়া