← সব চ্যাপ্টার

উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব

৫৯টি প্রশ্ন এসেছে ২৫ বছরে · ১৭টি টপিক

খনিজ লবণ পরিশোষণ

সক্রিয় পরিশোষণ ও এর মতবাদসমূহ

সক্রিয় পরিশোষণে শিকড় বিপাকীয় শক্তি (ATP) ব্যয় করে ঘনত্বের নতিমাত্রার বিপরীতে আয়ন শোষণ করে। এটি ব্যাখ্যায় কয়েকটি মতবাদ আছে: সাইটোক্রোম পাম্প মতবাদে সাইটোক্রোম শৃঙ্খলের মাধ্যমে অ্যানায়ন সক্রিয়ভাবে ভেতরে প্রবেশ করে; প্রোটন-অ্যানায়ন কো-ট্রান্সপোর্ট মতবাদে H+ পাম্প দিয়ে সৃষ্ট প্রোটন নতিমাত্রা কাজে লাগিয়ে আয়ন প্রবেশ করে; ক্যারিয়ার/বাহক মতবাদে ঝিল্লিস্থ বাহক অণু আয়নের সাথে যুক্ত হয়ে ভেতরে বহন করে। সব মতবাদেই ATP-জাত শক্তি অপরিহার্য। সক্রিয় শোষণ শক্তি (ATP) ব্যয় করে, তাই অক্সিজেন ও শ্বসনের হারের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত ঘনত্বের নতিমাত্রার বিপরীতে (low→high) আয়ন চলে বাহক অণু নির্দিষ্ট আয়নের প্রতি নির্বাচনশীল (selective) শ্বসন-বিষ (respiratory poison) প্রয়োগে সক্রিয় শোষণ বন্ধ হয়ে যায়

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

সক্রিয় শোষণের প্রধান শনাক্তকারী = শক্তি ব্যয় ও নতিমাত্রার বিপরীতে চলাচল। অক্সিজেন কমলে বা শ্বসন-বিষে থামে — এটাই প্রমাণ যে এটি বিপাক-নির্ভর।

এখানে ভুল হয় ()

  • সক্রিয় শোষণে শক্তি লাগে না ভাবা — ATP লাগে
  • ঘনত্বের অনুকূলে চলে ভাবা — বিপরীতে চলে
  • অক্সিজেন কমলেও চলে ভাবা — শ্বসন-নির্ভর বলে থামে

খনিজ লবণ পরিশোষণ

সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় পরিশোষণের পার্থক্য

সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় পরিশোষণের মূল পার্থক্য শক্তি ব্যবহারে। সক্রিয় পরিশোষণে ATP ব্যয় হয়, আয়ন ঘনত্বের নতিমাত্রার বিপরীতে চলে, এবং প্রক্রিয়াটি বাহক-নির্ভর ও নির্বাচনশীল; অক্সিজেন বা শ্বসন-হার কমলে এটি বন্ধ হয়। বিপরীতে নিষ্ক্রিয় পরিশোষণে শক্তি লাগে না, আয়ন নতিমাত্রা অনুসারে চলে, এবং এটি অক্সিজেন বা বিপাকের ওপর নির্ভরশীল নয়। পরীক্ষায় এই পার্থক্য প্রায়ই ছক আকারে চাওয়া হয়। শক্তি: সক্রিয়ে ATP লাগে, নিষ্ক্রিয়ে লাগে না নতিমাত্রা: সক্রিয়ে বিপরীতে, নিষ্ক্রিয়ে অনুকূলে অক্সিজেন-নির্ভরতা: সক্রিয় নির্ভরশীল, নিষ্ক্রিয় অনির্ভরশীল নির্বাচনশীলতা: সক্রিয় নির্বাচনশীল, নিষ্ক্রিয় সাধারণত অনির্বাচনশীল

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

মনে রাখার সূত্র: 'সক্রিয় = শক্তি + শ্বসন + বিপরীত + নির্বাচনশীল'। যেকোনো একটি উল্টে দিলে সেটি নিষ্ক্রিয়।

এখানে ভুল হয় ()

  • দুটোতেই শক্তি লাগে ভাবা — শুধু সক্রিয়ে
  • নিষ্ক্রিয় শোষণ নির্বাচনশীল ভাবা — সাধারণত নয়
  • সক্রিয় শোষণ অক্সিজেন-নিরপেক্ষ ভাবা — নির্ভরশীল

সালোকসংশ্লেষণ

C3 ও C4 উদ্ভিদের পার্থক্য

C3 ও C4 উদ্ভিদের পার্থক্য প্রথম স্থিরীকৃত উৎপাদ, এনজাইম ও গঠনে। C3 উদ্ভিদে CO2 সরাসরি রুবিসকো দিয়ে RuBP-তে যুক্ত হয়ে প্রথম উৎপাদ 3-PGA (৩C) দেয়, ক্র্যান্‌ৎস অ্যানাটমি থাকে না এবং আলোকশ্বসন বেশি হয়। C4 উদ্ভিদে CO2 প্রথমে PEP কার্বক্সিলেজ দিয়ে PEP-তে যুক্ত হয়ে OAA (৪C) দেয়, ক্র্যান্‌ৎস অ্যানাটমি থাকে ও আলোকশ্বসন নগণ্য, তাই উচ্চ তাপ-আলোয় C4 বেশি দক্ষ। উদাহরণ: ধান/গম C3; ভুট্টা/আখ C4। প্রথম উৎপাদ: C3 → PGA (3C); C4 → OAA (4C) প্রাথমিক এনজাইম: C3 → রুবিসকো; C4 → PEP কার্বক্সিলেজ ক্র্যান্‌ৎস অ্যানাটমি: C3-এ নেই, C4-এ আছে আলোকশ্বসন: C3-এ বেশি, C4-এ নগণ্য → C4 বেশি উৎপাদনশীল

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

উদাহরণ গুলিয়ে ফেলা যায়: ধান-গম = C3, ভুট্টা-আখ-বাজরা = C4। C4 বেশি দক্ষ কারণ আলোকশ্বসন কম — কারণসহ লিখতে হয়।

এখানে ভুল হয় ()

  • ধান/গমকে C4 ভাবা — এরা C3
  • C4-এ ক্র্যান্‌ৎস অ্যানাটমি নেই ভাবা — আছে
  • C3-এ আলোকশ্বসন কম ভাবা — বেশি

সালোকসংশ্লেষণ

C4 পথ (হ্যাচ-স্ল্যাক চক্র) ও ক্র্যান্‌ৎস অ্যানাটমি

কিছু উদ্ভিদে (যেমন ভুট্টা, আখ, বাজরা) CO2 স্থিরীকরণের প্রথম উৎপাদ ৪ কার্বনের অক্সালো-অ্যাসেটিক অ্যাসিড (OAA) বলে একে C4 পথ বা হ্যাচ-স্ল্যাক চক্র বলে। মেসোফিল কোষে PEP কার্বক্সিলেজ এনজাইম CO2 কে PEP এর সাথে যুক্ত করে OAA তৈরি করে, যা ম্যালিক অ্যাসিড রূপে বান্ডল-শীথ কোষে গিয়ে CO2 মুক্ত করে; সেই CO2 আবার ক্যালভিন চক্রে ঢোকে। এই দ্বৈত-কোষ ব্যবস্থা (ক্র্যান্‌ৎস অ্যানাটমি) CO2 কে ঘনীভূত করে আলোকশ্বসন কমায়, তাই C4 উদ্ভিদ উচ্চ তাপ ও আলোয় বেশি দক্ষ। প্রথম স্থায়ী উৎপাদ OAA (৪ কার্বন) → নাম C4 মেসোফিলে PEP কার্বক্সিলেজ, বান্ডল-শীথে রুবিসকো/ক্যালভিন চক্র ক্র্যান্‌ৎস অ্যানাটমি: বান্ডল-শীথ কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট ঘনভাবে সাজানো C4 উদ্ভিদে আলোকশ্বসন নগণ্য, তাই উষ্ণ জলবায়ুতে বেশি উৎপাদনশীল

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

C4-এ CO2 দুবার স্থির হয় — একবার মেসোফিলে (PEP কার্বক্সিলেজ), একবার বান্ডল-শীথে (রুবিসকো)। এনজাইম দুটি গুলিয়ে ফেলা সবচেয়ে সাধারণ ভুল।

এখানে ভুল হয় ()

  • প্রথম উৎপাদ PGA ভাবা — OAA (4C)
  • শুধু রুবিসকো জড়িত ভাবা — PEP কার্বক্সিলেজও
  • C4-এ আলোকশ্বসন বেশি ভাবা — নগণ্য

সালোকসংশ্লেষণ

আলোক-নিরপেক্ষ পর্যায়: ক্যালভিন চক্র (C3 পথ)

আলোক-নিরপেক্ষ পর্যায় বা ক্যালভিন চক্র ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমায় ঘটে এবং আলোক পর্যায়ে তৈরি ATP ও NADPH ব্যবহার করে CO2 কে শর্করায় রূপান্তরিত করে। এর তিনটি ধাপ: (১) কার্বক্সিলেশন — RuBP (৫C) CO2 এর সাথে যুক্ত হয়ে দুই অণু 3-ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড (3C, PGA) তৈরি করে, এনজাইম রুবিসকো; (২) বিজারণ — PGA বিজারিত হয়ে PGAL/G3P (৩C শর্করা) হয়; (৩) RuBP পুনরুৎপাদন। প্রথম স্থায়ী উৎপাদ ৩ কার্বনের PGA বলে এই পথের নাম C3 পথ। স্থান: ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমা; আলো সরাসরি লাগে না তবে ATP/NADPH লাগে প্রথম স্থায়ী উৎপাদ 3-PGA (৩ কার্বন) → নাম C3 চক্র CO2 গ্রহীতা RuBP (৫ কার্বন); মূল এনজাইম রুবিসকো ৬ অণু CO2 স্থিরীকরণে এক অণু গ্লুকোজ তৈরি হয়

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

'অন্ধকার পর্যায়' মানে অন্ধকারে ঘটে নয় — মানে সরাসরি আলো লাগে না। প্রথম স্থায়ী উৎপাদ PGA (3C), RuBP নয়; RuBP হলো গ্রহীতা।

এখানে ভুল হয় ()

  • অন্ধকার পর্যায় অন্ধকারে ঘটে ভাবা — আলো সরাসরি লাগে না মাত্র
  • প্রথম স্থায়ী উৎপাদ RuBP ভাবা — PGA (3C)
  • RuBP-কে উৎপাদ ভাবা — এটি CO2 গ্রহীতা

সালোকসংশ্লেষণ

CAM প্রক্রিয়া

CAM (Crassulacean Acid Metabolism) হলো মরু ও রসালো উদ্ভিদের (যেমন ক্যাকটাস, পাথরকুচি) বিশেষ কৌশল যেখানে সময়-ভিত্তিক বিভাজন ঘটে। এসব উদ্ভিদ পানি বাঁচাতে রাতে স্টোমা খুলে CO2 গ্রহণ করে ম্যালিক অ্যাসিড রূপে ভ্যাকুওলে জমা রাখে, আর দিনে স্টোমা বন্ধ রেখে সঞ্চিত CO2 মুক্ত করে ক্যালভিন চক্রে ব্যবহার করে। ফলে তীব্র রোদে পানিক্ষয় কমেও সালোকসংশ্লেষণ চলে। C4-এ বিভাজন স্থান-ভিত্তিক (দুই কোষ), CAM-এ বিভাজন সময়-ভিত্তিক (রাত-দিন)। রাতে CO2 গ্রহণ → ম্যালিক অ্যাসিড সঞ্চয়; দিনে CO2 মুক্তি → ক্যালভিন চক্র স্থান-ভিত্তিক নয়, সময়-ভিত্তিক CO2 স্থিরীকরণ মরু/রসালো উদ্ভিদে দেখা যায় (ক্যাকটাস, পাথরকুচি, আনারস) দিনে স্টোমা বন্ধ থাকায় প্রস্বেদনজনিত পানিক্ষয় সর্বনিম্ন

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

C4 বনাম CAM: C4 = স্থানভেদে (মেসোফিল/বান্ডল-শীথ), CAM = সময়ভেদে (রাত/দিন)। এই এক লাইনেই দুটোর পার্থক্য ধরা যায়।

এখানে ভুল হয় ()

  • CAM-এ স্থান-ভিত্তিক বিভাজন ভাবা — সময়-ভিত্তিক
  • দিনে স্টোমা খোলে ভাবা — রাতে খোলে
  • CAM ও C4 একই ভাবা — একটি সময়ভেদে, একটি স্থানভেদে

সালোকসংশ্লেষণ

চক্রীয় ও অচক্রীয় ফটোফসফোরাইলেশন

আলোক পর্যায়ে ATP উৎপাদনের দুটি পথ আছে। অচক্রীয় ফটোফসফোরাইলেশনে PS-II ও PS-I উভয়ই জড়িত, ইলেকট্রন পানি থেকে এসে NADP+ এ গিয়ে NADPH তৈরি করে এবং ATP ও O2 উভয়ই উৎপন্ন হয় — ইলেকট্রন উৎসে ফেরে না। চক্রীয় ফটোফসফোরাইলেশনে কেবল PS-I জড়িত, উত্তেজিত ইলেকট্রন ঘুরে আবার PS-I এ ফিরে আসে, ফলে শুধু ATP তৈরি হয় — NADPH বা O2 তৈরি হয় না। কোষে NADPH এর তুলনায় বেশি ATP দরকার হলে চক্রীয় পথ সক্রিয় হয়। অচক্রীয়: PS-I ও PS-II; উৎপাদ ATP + NADPH + O2 চক্রীয়: শুধু PS-I; উৎপাদ কেবল ATP চক্রীয় পথে পানির ফটোলাইসিস হয় না, তাই O2 নেই অচক্রীয় পথে ইলেকট্রন উৎসে ফেরে না; চক্রীয় পথে ফেরে

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

চক্রীয় পথে O2 ও NADPH হয় না — এই 'নেই' পয়েন্টগুলোই সবচেয়ে বেশি পরীক্ষায় আসে। 'চক্রীয় = শুধু ATP' মনে রাখো।

এখানে ভুল হয় ()

  • চক্রীয় পথে O2 তৈরি হয় ভাবা — হয় না
  • চক্রীয় পথে NADPH তৈরি ভাবা — শুধু ATP
  • অচক্রীয় পথে শুধু PS-I ভাবা — PS-I ও PS-II উভয়

খনিজ লবণ পরিশোষণ

উদ্ভিদের অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান

উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও জীবনচক্র সম্পন্ন করতে ১৬টি মৌল অপরিহার্য। যেসব মৌল অপেক্ষাকৃত বেশি পরিমাণে লাগে (C, H, O, N, P, K, Ca, Mg, S) সেগুলো ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট এবং যেগুলো সামান্য পরিমাণে লাগে (Fe, Mn, Zn, Cu, B, Mo, Cl, Ni) সেগুলো মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা অণুপুষ্টি। একটি মৌলকে অত্যাবশ্যকীয় বলা হয় যদি তার অনুপস্থিতিতে উদ্ভিদ জীবনচক্র সম্পন্ন করতে না পারে এবং অন্য কোনো মৌল তার কাজ প্রতিস্থাপন করতে না পারে। C, H, O আসে বায়ু ও পানি থেকে; বাকি মৌল মাটি থেকে আয়ন আকারে শোষিত হয় ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট ৯টি, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ৭টি — মোট ১৬টি অত্যাবশ্যকীয় মৌল N শোষিত হয় NO3- ও NH4+ রূপে; P শোষিত হয় ফসফেট রূপে; K শোষিত হয় K+ রূপে প্রতিটি মৌলের ঘাটতিতে নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা দেয় (যেমন N ঘাটতিতে ক্লোরোসিস)

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

C, H, O কে অনেকে খনিজ পুষ্টি ভাবে — কিন্তু এরা মাটি থেকে নয়, বায়ু (CO2) ও পানি থেকে আসে। 'ম্যাক্রো বনাম মাইক্রো' নির্ভর করে প্রয়োজনীয় পরিমাণের ওপর, গুরুত্বের ওপর নয়।

এখানে ভুল হয় ()

  • C, H, O কে খনিজ পুষ্টি ভাবা — এরা বায়ু ও পানি থেকে আসে
  • ম্যাক্রো/মাইক্রো ভাগকে গুরুত্ব অনুযায়ী ভাবা — আসলে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অনুযায়ী
  • মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টকে কম গুরুত্বপূর্ণ ভাবা — এরাও অত্যাবশ্যকীয়

সালোকসংশ্লেষণ

আলোক-নির্ভর পর্যায়: ফটোসিস্টেম, ফটোলাইসিস ও উৎপাদ

আলোক-নির্ভর পর্যায় থাইলাকয়েড ঝিল্লিতে ঘটে। এখানে ফটোসিস্টেম-II (P680) ও ফটোসিস্টেম-I (P700) আলো শোষণ করে ইলেকট্রন উত্তেজিত করে। পানির ফটোলাইসিসে (আলোক-বিদারণ) পানি ভেঙে ইলেকট্রন, প্রোটন ও O2 উৎপন্ন হয়; উত্তেজিত ইলেকট্রন ইলেকট্রন-বাহক শৃঙ্খল বেয়ে চলার সময় ATP (ফটোফসফোরাইলেশন) ও NADPH তৈরি হয়। অর্থাৎ এই পর্যায়ের প্রধান উৎপাদ তিনটি: ATP, NADPH এবং O2 — যেগুলো পরবর্তী অন্ধকার পর্যায়ে ব্যবহৃত হয়। উৎপাদ: ATP, NADPH ও O2 (O2 উপজাত) O2 আসে পানির ফটোলাইসিস থেকে PS-II এর বিক্রিয়া কেন্দ্র P680, PS-I এর P700 স্থান: থাইলাকয়েড ঝিল্লি; এটি আলো ছাড়া ঘটে না

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

ATP ও NADPH আলোক পর্যায়ে তৈরি হয়, অন্ধকার পর্যায়ে ব্যবহৃত হয়। NADPH (NADP), NADH নয় — সালোকসংশ্লেষণে NADP, শ্বসনে NAD/FAD; এই বিভ্রান্তি খুব সাধারণ।

এখানে ভুল হয় ()

  • ATP/NADPH অন্ধকার পর্যায়ে তৈরি ভাবা — আলোক পর্যায়ে
  • NADH তৈরি হয় ভাবা — NADPH (NADP)
  • O2 CO2 থেকে আসে ভাবা — পানির ফটোলাইসিস থেকে

সালোকসংশ্লেষণ

সালোকসংশ্লেষণের সীমাবদ্ধকারী নিয়ামক

ব্ল্যাকম্যানের সীমাবদ্ধকারী নিয়ামক সূত্র অনুসারে, একাধিক নিয়ামক-নির্ভর কোনো প্রক্রিয়ার হার সেই মুহূর্তে সবচেয়ে কম-সরবরাহকৃত নিয়ামক দ্বারা নির্ধারিত হয়। সালোকসংশ্লেষণের প্রধান নিয়ামক হলো আলোর তীব্রতা, CO2 ঘনত্ব, তাপমাত্রা, পানি ও ক্লোরোফিল। যেমন CO2 কম থাকলে আলো বাড়িয়েও হার বাড়ে না — তখন CO2 ই সীমাবদ্ধকারী নিয়ামক। নিয়ামকগুলোকে বাহ্যিক (আলো, CO2, তাপ, পানি) ও অভ্যন্তরীণ (ক্লোরোফিল, এনজাইম, পাতার গঠন) — এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। ব্ল্যাকম্যানের সূত্র: হার নির্ধারণ করে সবচেয়ে সীমিত নিয়ামক প্রধান নিয়ামক: আলো, CO2, তাপমাত্রা, পানি, ক্লোরোফিল একটি নিয়ামক সীমিত থাকলে অন্যগুলো বাড়িয়েও হার বাড়ে না নিয়ামক: বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ — দুই শ্রেণিতে বিভক্ত

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

লেখচিত্রে 'মালভূমি' অংশ মানে অন্য কোনো নিয়ামক সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। কোন নিয়ামক সীমাবদ্ধ তা লেখচিত্র থেকে শনাক্ত করার প্রশ্ন প্রায়ই আসে।

এখানে ভুল হয় ()

  • সব নিয়ামক একসাথে হার বাড়ায় ভাবা — সবচেয়ে সীমিতটি নির্ধারণ করে
  • মালভূমি মানে হার শূন্য ভাবা — অন্য নিয়ামক সীমাবদ্ধ
  • ক্লোরোফিলকে বাহ্যিক নিয়ামক ভাবা — অভ্যন্তরীণ

খনিজ লবণ পরিশোষণ

নিষ্ক্রিয় পরিশোষণ ও এর মতবাদসমূহ

নিষ্ক্রিয় পরিশোষণে কোনো বিপাকীয় শক্তি ব্যয় হয় না; আয়ন ঘনত্বের নতিমাত্রা অনুসারে (high→low) স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোষে প্রবেশ করে। এর ব্যাখ্যায় ব্যাপন মতবাদ (সরল ব্যাপনে আয়ন প্রবেশ), আয়ন বিনিময় মতবাদ (কোষপৃষ্ঠের H+/HCO3- এর সাথে মাটির আয়নের বিনিময়) এবং ডোনান সাম্যাবস্থা মতবাদ (অচলনশীল আয়নের উপস্থিতিতে ঝিল্লির দুই পাশে ভারসাম্য) উল্লেখযোগ্য। এখানে শোষণের হার শ্বসন বা অক্সিজেনের ওপর নির্ভরশীল নয়। শক্তি ব্যয় হয় না; ঘনত্বের নতিমাত্রা অনুসারে চলে শ্বসন-বিষে বা অক্সিজেন-স্বল্পতায় নিষ্ক্রিয় শোষণ থামে না আয়ন বিনিময়ে কোষের H+ মাটির ক্যাটায়নের সাথে বিনিময় হয় ডোনান সাম্যাবস্থায় অচলনশীল (fixed) আয়ন ভারসাম্য নির্ধারণ করে

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

নিষ্ক্রিয় শোষণ 'শক্তি লাগে না' — এই একটি বৈশিষ্ট্যই MCQ-তে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসা করা হয়। ডোনান সাম্যাবস্থাকে সক্রিয় ভাবা সাধারণ ভুল; এটি নিষ্ক্রিয়।

এখানে ভুল হয় ()

  • নিষ্ক্রিয় শোষণে ATP লাগে ভাবা — লাগে না
  • ডোনান সাম্যাবস্থাকে সক্রিয় ভাবা — এটি নিষ্ক্রিয়
  • শ্বসন-বিষে থামে ভাবা — থামে না

সালোকসংশ্লেষণ

আলোকশ্বসন (Photorespiration)

আলোর উপস্থিতিতে C3 উদ্ভিদে রুবিসকো এনজাইম যখন CO2 এর বদলে O2 কে RuBP-তে যুক্ত করে, তখন যে প্রক্রিয়ায় O2 গৃহীত ও CO2 নির্গত হয় তাকে আলোকশ্বসন বলে। এটি ক্লোরোপ্লাস্ট, পারঅক্সিসোম ও মাইটোকন্ড্রিয়া — তিন অঙ্গাণু জুড়ে ঘটে এবং কোনো ATP উৎপন্ন করে না, বরং সালোকসংশ্লেষণের কার্যকারিতা কমায়। উচ্চ O2 ও নিম্ন CO2 ঘনত্বে (তীব্র রোদে স্টোমা বন্ধ থাকলে) এটি বাড়ে। এটি প্রকৃত শ্বসন নয়, কারণ শক্তি (ATP) উৎপন্ন হয় না। রুবিসকোর দ্বৈত ধর্ম: CO2-র সাথে সালোকসংশ্লেষণ, O2-র সাথে আলোকশ্বসন তিন অঙ্গাণুতে ঘটে: ক্লোরোপ্লাস্ট, পারঅক্সিসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া কোনো ATP উৎপন্ন হয় না — তাই প্রকৃত শ্বসন নয় C4 উদ্ভিদে CO2 ঘনীভূত থাকায় আলোকশ্বসন প্রায় হয় না

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

'আলোকশ্বসন প্রকৃত শ্বসন নয় কেন?' — উত্তর: ATP তৈরি হয় না। এটি বইয়ের একটি নির্দিষ্ট প্রশ্ন, কারণটাই মূল নম্বর।

এখানে ভুল হয় ()

  • আলোকশ্বসনকে প্রকৃত শ্বসন ভাবা — ATP তৈরি হয় না
  • শুধু মাইটোকন্ড্রিয়ায় ঘটে ভাবা — তিন অঙ্গাণুতে
  • C4 উদ্ভিদে বেশি হয় ভাবা — নগণ্য

সালোকসংশ্লেষণ

সালোকসংশ্লেষণ: সংজ্ঞা, সমীকরণ ও গুরুত্ব

সালোকসংশ্লেষণ হলো সেই প্রক্রিয়া যেখানে ক্লোরোফিলযুক্ত সবুজ কোষ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে CO2 ও পানি থেকে শর্করা (গ্লুকোজ) তৈরি করে এবং উপজাত হিসেবে O2 নির্গত করে। সামগ্রিক সমীকরণ: 6CO2 + 12H2O → (আলো, ক্লোরোফিল) → C6H12O6 + 6O2 + 6H2O। এটি একটি উপচিতি (anabolic) ও তাপগ্রাহী (endergonic) বিক্রিয়া যা আলোক-শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। পৃথিবীর প্রায় সব খাদ্যশৃঙ্খলের ভিত্তি ও বায়ুমণ্ডলের O2 এর প্রধান উৎস এটিই। সরলীকৃত সমীকরণ: 6CO2 + 6H2O → C6H12O6 + 6O2 (আলো ও ক্লোরোফিলসহ) নির্গত O2 আসে পানি থেকে (ফটোলাইসিসে), CO2 থেকে নয় এটি উপচিতি (anabolic) ও তাপগ্রাহী (endergonic) বিক্রিয়া শক্তি রূপান্তর: আলোক-শক্তি → রাসায়নিক শক্তি (গ্লুকোজে সঞ্চিত)

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

নির্গত অক্সিজেন পানি থেকে আসে — CO2 থেকে নয়। এটি রুবেনের ভারী-অক্সিজেন (O-18) পরীক্ষা দিয়ে প্রমাণিত এবং প্রায়ই MCQ-তে আসে।

এখানে ভুল হয় ()

  • নির্গত O2 CO2 থেকে আসে ভাবা — পানি থেকে আসে
  • সালোকসংশ্লেষণকে তাপমোচী ভাবা — তাপগ্রাহী
  • একে অপচিতি বিক্রিয়া ভাবা — উপচিতি

সালোকসংশ্লেষণ

সালোকসংশ্লেষণের স্থান ও প্রয়োজনীয় উপাদান

সালোকসংশ্লেষণ ঘটে ক্লোরোপ্লাস্টে — এর গ্রানার থাইলাকয়েড ঝিল্লিতে আলোক-নির্ভর পর্যায় এবং স্ট্রোমায় আলোক-নিরপেক্ষ পর্যায় সম্পন্ন হয়। প্রক্রিয়াটির জন্য চারটি অপরিহার্য উপাদান লাগে: আলো (শক্তির উৎস), ক্লোরোফিল (আলো শোষণকারী রঞ্জক), কার্বন ডাই-অক্সাইড (কার্বনের উৎস) এবং পানি (হাইড্রোজেন ও ইলেকট্রনের উৎস)। এদের যেকোনো একটির অভাবে সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। স্থান: ক্লোরোপ্লাস্ট — থাইলাকয়েডে আলোক পর্যায়, স্ট্রোমায় অন্ধকার পর্যায় চার উপাদান: আলো, ক্লোরোফিল, CO2, পানি ক্লোরোফিল প্রধানত লাল ও নীল আলো শোষণ করে, সবুজ প্রতিফলিত করে পাতার মেসোফিল টিস্যুতে (প্যালিসেড ও স্পঞ্জি) সর্বাধিক ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

থাইলাকয়েড = আলোক পর্যায়, স্ট্রোমা = অন্ধকার পর্যায় — এই স্থান-ভাগ প্রায় প্রতি বছর জিজ্ঞাসা করা হয়। ক্লোরোফিল সবুজ আলো শোষণ করে না, প্রতিফলিত করে।

এখানে ভুল হয় ()

  • অন্ধকার পর্যায় স্ট্রোমায় না ভাবা — স্ট্রোমাতেই
  • ক্লোরোফিল সবুজ আলো শোষণ করে ভাবা — প্রতিফলিত করে
  • আলোক পর্যায় স্ট্রোমায় ভাবা — থাইলাকয়েডে

প্রস্বেদন

পত্ররন্ধ্রের গঠন ও খোলা-বন্ধের কৌশল

পত্ররন্ধ্র (স্টোমা) হলো দুটি শিমাকৃতি রক্ষীকোষ (guard cell) দ্বারা বেষ্টিত ক্ষুদ্র ছিদ্র, যা গ্যাস বিনিময় ও প্রস্বেদন নিয়ন্ত্রণ করে। রক্ষীকোষে K+ আয়ন প্রবেশ করলে অভিস্রবণিক চাপে পানি ঢোকে, কোষ স্ফীত (turgid) হয় এবং বাইরের পাতলা প্রাচীর বেশি প্রসারিত হওয়ায় ছিদ্র খুলে যায়; K+ বেরিয়ে গেলে কোষ শিথিল (flaccid) হয়ে ছিদ্র বন্ধ হয়। প্রোটন প্রবাহ মতবাদ অনুসারে আলোয় H+ পাম্প সক্রিয় হয়ে এই K+ প্রবেশ ঘটায়, তাই সাধারণত দিনে স্টোমা খোলে ও রাতে বন্ধ হয়। রক্ষীকোষের ভেতরের প্রাচীর পুরু, বাইরের প্রাচীর পাতলা — এই অসম পুরুত্বই খোলা-বন্ধের মূল K+ প্রবেশ → স্ফীতি → স্টোমা খোলে; K+ নির্গমন → শিথিলতা → বন্ধ আলো, নিম্ন CO2 ঘনত্ব ও পর্যাপ্ত পানি স্টোমা খোলায় সাহায্য করে রক্ষীকোষে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে (সাধারণ ত্বককোষে থাকে না)

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

খোলা-বন্ধের কারণ 'রক্ষীকোষের স্ফীতি', ত্বককোষের নয়। অসম প্রাচীর-পুরুত্ব ও K+ তত্ত্ব — এই দুটি একসাথে জিজ্ঞাসা করা হয়।

এখানে ভুল হয় ()

  • ত্বককোষের স্ফীতিতে স্টোমা খোলে ভাবা — রক্ষীকোষের স্ফীতিতে
  • K+ বেরোলে স্টোমা খোলে ভাবা — K+ ঢুকলে খোলে
  • রক্ষীকোষে ক্লোরোপ্লাস্ট নেই ভাবা — থাকে

প্রস্বেদন

প্রস্বেদন ও বাষ্পীভবনের পার্থক্য

প্রস্বেদন একটি জৈবিক প্রক্রিয়া যেখানে জীবিত উদ্ভিদের অঙ্গ (মূলত পাতা) থেকে নিয়ন্ত্রিতভাবে জলীয় বাষ্প বের হয় এবং স্টোমা দিয়ে এর হার নিয়ন্ত্রিত হয়। বাষ্পীভবন একটি সম্পূর্ণ ভৌত প্রক্রিয়া যেখানে যেকোনো মুক্ত জলপৃষ্ঠ থেকে পানি বাষ্পে পরিণত হয় এবং কোনো জৈবিক নিয়ন্ত্রণ থাকে না। প্রস্বেদনে জীবন্ত টিস্যু ও অভিস্রবণিক চাপ জড়িত, বাষ্পীভবনে নয়। প্রস্বেদন: জৈবিক ও নিয়ন্ত্রিত; বাষ্পীভবন: ভৌত ও অনিয়ন্ত্রিত প্রস্বেদন জীবিত কোষে ঘটে; বাষ্পীভবন যেকোনো জলপৃষ্ঠে ঘটে প্রস্বেদন স্টোমা/কিউটিকল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত; বাষ্পীভবনে এমন নিয়ন্ত্রণ নেই প্রস্বেদনে কোষরসের ঘনত্ব ও অভিস্রবণ চাপ ভূমিকা রাখে

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

মূল পার্থক্যকারী শব্দ: প্রস্বেদন = 'নিয়ন্ত্রিত জৈবিক', বাষ্পীভবন = 'অনিয়ন্ত্রিত ভৌত'। এই দুই শব্দ মনে রাখলেই ছকের পুরোটা লেখা যায়।

এখানে ভুল হয় ()

  • প্রস্বেদনকে ভৌত প্রক্রিয়া ভাবা — এটি জৈবিক
  • বাষ্পীভবনকে নিয়ন্ত্রিত ভাবা — অনিয়ন্ত্রিত
  • দুটোকে একই ভাবা — একটি জৈবিক, একটি ভৌত

প্রস্বেদন

প্রস্বেদন: সংজ্ঞা, প্রকারভেদ ও তাৎপর্য

উদ্ভিদের বায়বীয় অঙ্গ থেকে জলীয় বাষ্প আকারে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যাওয়াকে প্রস্বেদন বলে। ঘটার স্থান অনুসারে এটি তিন প্রকার: পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন (স্টোমাটার মাধ্যমে, প্রায় ৯০-৯৫%), ত্বকীয় বা কিউটিকুলার প্রস্বেদন (পাতার ত্বক/কিউটিকল দিয়ে) এবং লেন্টিকুলার প্রস্বেদন (কাণ্ডের লেন্টিসেল দিয়ে)। প্রস্বেদন পানি ও খনিজের ঊর্ধ্বমুখী পরিবহনে সাহায্য করে, বাষ্পীভবনজনিত শীতলীকরণে উদ্ভিদকে ঠান্ডা রাখে — তবে অতিরিক্ত হলে পানিস্বল্পতা ঘটে, তাই একে 'প্রয়োজনীয় অমঙ্গল' (necessary evil) বলা হয়। তিন প্রকার: পত্ররন্ধ্রীয়, ত্বকীয় (কিউটিকুলার), লেন্টিকুলার পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদনই মোট প্রস্বেদনের প্রায় ৯০% এর বেশি প্রস্বেদন-টান (transpiration pull) পানির ঊর্ধ্বমুখী পরিবহনের প্রধান চালিকাশক্তি পটোমিটার যন্ত্র দিয়ে প্রস্বেদনের হার পরিমাপ করা হয়

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

প্রস্বেদনকে 'necessary evil' বলার কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয় — উপকার (পরিবহন, শীতলীকরণ) ও ক্ষতি (পানিস্বল্পতা) দুটোই লিখতে হবে।

এখানে ভুল হয় ()

  • সব প্রস্বেদন ত্বকীয় ভাবা — ৯০%+ পত্ররন্ধ্রীয়
  • প্রস্বেদনকে শুধু ক্ষতিকর ভাবা — পরিবহন/শীতলীকরণে উপকারীও
  • লেন্টিকুলার প্রস্বেদনকে পাতায় ভাবা — এটি কাণ্ডের লেন্টিসেলে