← সব চ্যাপ্টার

উদ্ভিদ প্রজনন ও ফল

টি প্রশ্ন এসেছে ২৫ বছরে · টি টপিক

উদ্ভিদ প্রজনন

নিষেক ও দ্বি-নিষেক

পরাগায়নের পর পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে অঙ্কুরিত হয়ে পরাগনালিকা সৃষ্টি করে, যা গর্ভদণ্ড বেয়ে ডিম্বকে পৌঁছে দুটি পুংগ্যামিট মুক্ত করে। আবৃতবীজীর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ দ্বি-নিষেকে একটি পুংগ্যামিট ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড জাইগোট (ভবিষ্যতের ভ্রূণ) গঠন করে (সত্যিকার নিষেক), আর অন্য পুংগ্যামিটটি কেন্দ্রীয় কোষের দুটি মেরু-নিউক্লিয়াসের সাথে মিলে ট্রিপলয়েড (3n) সস্য-নিউক্লিয়াস তৈরি করে (ত্রিমিলন), যা থেকে ভ্রূণের খাদ্য সস্য গঠিত হয়। এই দুটি নিষেক একসাথে ঘটে বলে একে দ্বি-নিষেক বলে — এটি কেবল আবৃতবীজীতে দেখা যায়। দ্বি-নিষেক শুধু আবৃতবীজীতে; আবিষ্কারক নাওয়াশিন পুংগ্যামিট ১ + ডিম্বাণু → জাইগোট (2n, ভ্রূণ) পুংগ্যামিট ২ + ২ মেরু-নিউক্লিয়াস → সস্য (3n) সস্য (3n) ভ্রূণের খাদ্য জোগায়

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

সস্য ট্রিপলয়েড (3n) কারণ এক পুংগ্যামিট (n) + দুই মেরু-নিউক্লিয়াস (n+n)। জাইগোট ডিপ্লয়েড (2n)। এই সংখ্যা প্রায়ই জিজ্ঞাসিত।

এখানে ভুল হয় ()

  • সস্যকে 2n ভাবা ভুল — 3n (ত্রিমিলন)
  • দ্বি-নিষেক নগ্নবীজীতেও হয় ভাবা ভুল — শুধু আবৃতবীজী
  • জাইগোটকে 3n ভাবা ভুল — 2n

উদ্ভিদ প্রজনন

পুংগ্যামিটোফাইট ও স্ত্রীগ্যামিটোফাইট সৃষ্টি

আবৃতবীজী উদ্ভিদের যৌন প্রজননে পরাগধানীতে মাইক্রোস্পোরোজেনেসিসে পরাগমাতৃকোষ মিয়োসিসে পরাগরেণু (মাইক্রোস্পোর) তৈরি করে; পরাগরেণু অঙ্কুরিত হয়ে পুংগ্যামিটোফাইট গঠন করে যাতে একটি নালিকা-নিউক্লিয়াস ও দুটি পুংগ্যামিট থাকে। ডিম্বকের ভেতরে মেগাস্পোরোজেনেসিসে স্ত্রীমাতৃকোষ মিয়োসিসে চারটি মেগাস্পোর দেয়, যার একটি সক্রিয় থেকে সাত-কোষী আট-নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট স্ত্রীগ্যামিটোফাইট বা ভ্রূণথলি তৈরি করে — এতে একটি ডিম্বাণু, দুটি সহকারী কোষ, তিনটি প্রতিপাদ কোষ ও একটি কেন্দ্রীয় কোষ (দুই মেরু-নিউক্লিয়াসসহ) থাকে। পরাগরেণু = মাইক্রোস্পোর; মিয়োসিসে পরাগমাতৃকোষ থেকে তৈরি পুংগ্যামিটোফাইট: ১ নালিকা-নিউক্লিয়াস + ২ পুংগ্যামিট ভ্রূণথলি: ৭ কোষ, ৮ নিউক্লিয়াস (মনোস্পোরিক) গঠন: ১ ডিম্বাণু + ২ সহকারী + ৩ প্রতিপাদ + ১ কেন্দ্রীয় কোষ

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

ভ্রূণথলি ৭ কোষ কিন্তু ৮ নিউক্লিয়াস (কেন্দ্রীয় কোষে ২টি) — সংখ্যা গুলিয়ে ফেলা সবচেয়ে সাধারণ ভুল।

এখানে ভুল হয় ()

  • ভ্রূণথলিকে ৮ কোষ ভাবা ভুল — ৭ কোষ, ৮ নিউক্লিয়াস
  • পরাগরেণুকে গ্যামিট ভাবা ভুল — এটি মাইক্রোস্পোর/গ্যামিটোফাইট
  • সহকারী কোষকে ৩টি ভাবা ভুল — ২টি (প্রতিপাদ ৩টি)

উদ্ভিদ প্রজনন

সংকরায়ন ও কৃত্রিম প্রজনন

সংকরায়ন হলো দুটি ভিন্ন জিনোটাইপের (জাত/প্রজাতির) উদ্ভিদের মধ্যে নিয়ন্ত্রিত পরাগায়ন ঘটিয়ে উন্নত গুণসম্পন্ন সংকর (হাইব্রিড) সৃষ্টির কৃত্রিম পদ্ধতি। এতে ধাপগুলো — কাঙ্ক্ষিত পিতৃ-মাতৃ নির্বাচন, স্ত্রী ফুলের ইমাস্কুলেশন (পরাগধানী অপসারণ, যাতে স্ব-পরাগায়ন না হয়), ব্যাগিং (বাইরের পরাগ ঠেকাতে আবরণ), এবং নির্বাচিত পিতৃ-পরাগ দিয়ে কৃত্রিম পরাগায়ন। এভাবে অধিক ফলনশীল, রোগ-প্রতিরোধী ও উন্নত জাত (যেমন হাইব্রিড ভুট্টা, ধান) তৈরি হয় — যা খাদ্য উৎপাদন ও ফসল উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখে। সংকরায়ন = দুই ভিন্ন জিনোটাইপে নিয়ন্ত্রিত পরাগায়ন ইমাস্কুলেশন = স্ত্রী ফুল থেকে পরাগধানী অপসারণ (স্ব-পরাগায়ন রোধ) ব্যাগিং = অবাঞ্ছিত বাইরের পরাগ ঠেকানো ফল: উচ্চফলনশীল, রোগ-প্রতিরোধী হাইব্রিড জাত

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

ইমাস্কুলেশন উভলিঙ্গ ফুলে করা হয় (স্ব-পরাগায়ন ঠেকাতে) — এর উদ্দেশ্য বোঝা জরুরি। ব্যাগিং ইমাস্কুলেশনের পরে করা হয়।

এখানে ভুল হয় ()

  • ইমাস্কুলেশনকে পরাগায়ন ভাবা ভুল — এটি পরাগধানী অপসারণ
  • ইমাস্কুলেশন একলিঙ্গ পুংফুলে হয় ভাবা ভুল — উভলিঙ্গ স্ত্রী-অংশে
  • সংকরায়নকে অঙ্গজ প্রজনন ভাবা ভুল — এটি যৌন প্রজননভিত্তিক

উদ্ভিদ প্রজনন

অঙ্গজ প্রজনন ও কৃত্রিম বংশবিস্তার

অঙ্গজ প্রজননে উদ্ভিদের দৈহিক অঙ্গ (মূল, কাণ্ড, পাতা) থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্মে, কোনো গ্যামিট মিলন ছাড়াই — তাই অপত্য উদ্ভিদ মাতৃউদ্ভিদের অবিকল প্রতিরূপ (ক্লোন)। প্রাকৃতিক অঙ্গজ প্রজনন হয় রাইজোম, টিউবার, বাল্ব, রানার প্রভৃতি রূপান্তরিত অঙ্গে; কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজনন হয় কাটিং, দাবা কলম, গুটি কলম ও জোড়কলম পদ্ধতিতে। আধুনিক টিস্যু কালচারে ক্ষুদ্র কোষ/টিস্যু থেকে অসংখ্য অভিন্ন চারা (মাইক্রোপ্রোপাগেশন) তৈরি করা যায়, যা রোগমুক্ত ও দ্রুত বংশবিস্তারে কার্যকর। এতে কাঙ্ক্ষিত গুণাগুণ হুবহু বজায় থাকে। অঙ্গজ প্রজনন = গ্যামিট ছাড়া, দৈহিক অঙ্গ থেকে; অপত্য ক্লোন প্রাকৃতিক: রাইজোম, টিউবার, বাল্ব, রানার কৃত্রিম: কাটিং, দাবা/গুটি/জোড় কলম টিস্যু কালচার: রোগমুক্ত অভিন্ন চারা দ্রুত উৎপাদন

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

অঙ্গজ প্রজননে অপত্য মাতৃউদ্ভিদের হুবহু কপি (ক্লোন) — জিনগত বৈচিত্র্য আসে না। এটি অযৌন প্রজনন।

এখানে ভুল হয় ()

  • অঙ্গজ প্রজননে জিনগত বৈচিত্র্য হয় ভাবা ভুল — ক্লোন, বৈচিত্র্য নেই
  • অঙ্গজ প্রজননকে যৌন প্রজনন ভাবা ভুল — অযৌন
  • টিস্যু কালচারে ভিন্ন গুণের চারা হয় ভাবা ভুল — অভিন্ন