শ্বসন
সবাত ও অবাত শ্বসনের পার্থক্য
সবাত শ্বসন অক্সিজেনের উপস্থিতিতে ঘটে, গ্লুকোজকে সম্পূর্ণ জারিত করে CO2 ও পানি তৈরি করে এবং প্রতি গ্লুকোজে প্রায় ৩৮ ATP দেয়; এটি সাইটোপ্লাজম ও মাইটোকন্ড্রিয়া উভয়ে সম্পন্ন হয়। অবাত শ্বসন অক্সিজেন ছাড়া ঘটে, গ্লুকোজকে অসম্পূর্ণ জারিত করে অ্যালকোহল/ল্যাকটিক অ্যাসিড ও অল্প CO2 দেয় এবং মাত্র ২ ATP উৎপন্ন করে; এটি কেবল সাইটোপ্লাজমে ঘটে। শক্তি-উৎপাদনের বিশাল পার্থক্যই দুই প্রকারের মূল বিভাজক।
অক্সিজেন: সবাতে লাগে, অবাতে লাগে না
ATP: সবাতে ~৩৮, অবাতে মাত্র ২
জারণ: সবাতে সম্পূর্ণ (CO2+পানি), অবাতে অসম্পূর্ণ (অ্যালকোহল/ল্যাকটেট)
স্থান: সবাতে সাইটোপ্লাজম+মাইটোকন্ড্রিয়া, অবাতে শুধু সাইটোপ্লাজম
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
ATP-র সংখ্যা (৩৮ বনাম ২) সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত পার্থক্য। অবাত শ্বসনও গ্লাইকোলাইসিস দিয়েই শুরু — তাই '২ ATP' গ্লাইকোলাইসিস থেকেই আসে।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·অবাত শ্বসনে সম্পূর্ণ জারণ ভাবা — অসম্পূর্ণ
- ·উভয়ে সমান ATP ভাবা — ৩৮ বনাম ২
- ·অবাত শ্বসনে গ্লাইকোলাইসিস হয় না ভাবা — হয়
মানব শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া
আলভিওলাস ও গ্যাস বিনিময়ের স্থান
আলভিওলাস হলো ফুসফুসের ক্ষুদ্র বেলুন-আকৃতির থলি যেখানে রক্ত ও বায়ুর মধ্যে গ্যাস বিনিময় ঘটে। এর গঠন গ্যাস বিনিময়ের জন্য আদর্শ: প্রাচীর অত্যন্ত পাতলা (একস্তরী এপিথেলিয়াম), চারপাশে ঘন রক্তজালক, বিশাল সম্মিলিত পৃষ্ঠতল (লক্ষ লক্ষ আলভিওলাস) এবং আর্দ্র পৃষ্ঠ যা গ্যাসকে দ্রবীভূত হতে সাহায্য করে। ব্যাপন নিয়মে O2 আলভিওলাস থেকে রক্তে এবং CO2 রক্ত থেকে আলভিওলাসে যায় — কারণ প্রতিটি গ্যাস উচ্চ ঘনত্ব থেকে নিম্ন ঘনত্বের দিকে চলে। আলভিওলার প্রাচীরে থাকা সারফ্যাক্ট্যান্ট পৃষ্ঠটান কমিয়ে থলিকে চুপসে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
আলভিওলাস = গ্যাস বিনিময়ের প্রকৃত স্থান
পাতলা প্রাচীর + ঘন রক্তজালক + বিশাল পৃষ্ঠতল + আর্দ্রতা
গ্যাস বিনিময় ব্যাপন নিয়মে (উচ্চ→নিম্ন ঘনত্ব)
সারফ্যাক্ট্যান্ট পৃষ্ঠটান কমায়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
গ্যাস বিনিময় সক্রিয় পরিবহন নয়, নিষ্ক্রিয় ব্যাপন (শক্তি লাগে না) — প্রায়ই ভুল হয়। পাতলা প্রাচীর ব্যাপন সহজ করে।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·গ্যাস বিনিময়কে সক্রিয় পরিবহন ভাবা — নিষ্ক্রিয় ব্যাপন
- ·O2 রক্ত→আলভিওলাস ভাবা — আলভিওলাস→রক্ত
- ·আলভিওলার প্রাচীর পুরু ভাবা — অত্যন্ত পাতলা
শ্বসন
অবাত শ্বসন ও গাঁজন (Fermentation)
অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে গ্লুকোজের অসম্পূর্ণ জারণকে অবাত শ্বসন বলে। এতে গ্লাইকোলাইসিসের পাইরুভিক অ্যাসিড অক্সিজেন ছাড়াই ইথাইল অ্যালকোহল ও CO2 (সুরাসার/অ্যালকোহলীয় গাঁজন, ইস্ট) অথবা ল্যাকটিক অ্যাসিডে (পেশিকোষ) পরিণত হয়। যেহেতু ক্রেবস চক্র ও ETC ঘটে না, প্রতি গ্লুকোজে মাত্র ২ ATP উৎপন্ন হয় — সবাত শ্বসনের তুলনায় অনেক কম। অণুজীব দ্বারা সংঘটিত অবাত শ্বসনকে বিশেষভাবে গাঁজন বা সন্ধান (fermentation) বলে।
অক্সিজেন ছাড়া ঘটে; সম্পূর্ণ সাইটোপ্লাজমে
উৎপাদ: ইথানল+CO2 (ইস্ট) বা ল্যাকটিক অ্যাসিড (পেশি)
নিট মাত্র ২ ATP প্রতি গ্লুকোজ (গ্লাইকোলাইসিস থেকেই)
গাঁজন = অণুজীব-চালিত অবাত শ্বসন (রুটি, দই, অ্যালকোহল শিল্পে)
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
অবাত শ্বসনে ২ ATP মাত্র, কারণ শুধু গ্লাইকোলাইসিস চলে। অ্যালকোহলীয় গাঁজনে CO2 বের হয়, ল্যাকটিক গাঁজনে হয় না — এই পার্থক্য প্রায়ই আসে।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·অবাত শ্বসনে ৩৮ ATP ভাবা — মাত্র ২
- ·ল্যাকটিক গাঁজনে CO2 বের হয় ভাবা — অ্যালকোহলীয়তে হয়
- ·অবাত শ্বসন মাইটোকন্ড্রিয়ায় ভাবা — সাইটোপ্লাজমে
মানব শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া
কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস
শ্বাসক্রিয়া হঠাৎ বন্ধ হলে (ডুবে যাওয়া, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, বিষক্রিয়া) বাইরে থেকে কৃত্রিম উপায়ে ফুসফুসে বায়ু চালিয়ে জীবন রক্ষার প্রচেষ্টাকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস বলে। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি মুখ-থেকে-মুখ পদ্ধতি (mouth-to-mouth) — উদ্ধারকারী নিজের নিঃশ্বাস আক্রান্তের মুখে ফুঁকে ফুসফুস স্ফীত করেন; পাশাপাশি বুকে চাপ (chest compression) দিয়ে হৃৎক্রিয়া চালু রাখা হয় (CPR)। দ্রুত ও সঠিকভাবে শুরু করলে মস্তিষ্কে O2 সরবরাহ বজায় থেকে প্রাণ রক্ষা পায়; দেরি হলে অক্সিজেন-অভাবে মস্তিষ্ক স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস: শ্বাস বন্ধ হলে বাইরে থেকে বায়ু চালানো
প্রধান পদ্ধতি: মুখ-থেকে-মুখ
CPR-এ বুকে চাপসহ হৃৎক্রিয়া চালু রাখা হয়
দ্রুত শুরু করলে মস্তিষ্কে O2 বজায় থাকে
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
মুখ-থেকে-মুখ পদ্ধতি সবচেয়ে কার্যকর কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস। দ্রুত শুরু করা জরুরি — বিলম্বে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসকে শুধু ওষুধভিত্তিক ভাবা — যান্ত্রিক বায়ু চালানো
- ·CPR-কে শুধু বুকে চাপ ভাবা — শ্বাসও অন্তর্ভুক্ত
- ·দেরিতে শুরুকে ক্ষতিহীন ভাবা — মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি
শ্বসন
ইলেকট্রন পরিবহন তন্ত্র ও ATP হিসাব
সবাত শ্বসনের শেষ ধাপে NADH ও FADH2 এর ইলেকট্রন মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরের ঝিল্লিস্থ ইলেকট্রন পরিবহন তন্ত্রে (ETC) প্রবাহিত হয়। এই প্রবাহে সৃষ্ট প্রোটন-নতিমাত্রা ব্যবহার করে ATP সিন্থেজ এনজাইম ATP তৈরি করে — একে অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন বলে; ইলেকট্রনের চূড়ান্ত গ্রহীতা অক্সিজেন, যা পানি তৈরি করে। এক অণু গ্লুকোজের সম্পূর্ণ সবাত জারণে সাধারণ হিসাবে প্রায় ৩৮ ATP উৎপন্ন হয় (গ্লাইকোলাইসিস ২ + ক্রেবস-সংশ্লিষ্ট ২ + ETC ৩৪)।
স্থান: মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরের ঝিল্লি (ক্রিস্টি)
অক্সিজেন = ইলেকট্রনের চূড়ান্ত গ্রহীতা → পানি তৈরি
১ NADH → ~৩ ATP, ১ FADH2 → ~২ ATP
গ্লুকোজপ্রতি মোট ~৩৮ ATP (প্রথাগত হিসাব)
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
চূড়ান্ত ইলেকট্রন গ্রহীতা অক্সিজেন — অক্সিজেন সরাসরি গ্লুকোজ ভাঙে না, শুধু শেষে ইলেকট্রন গ্রহণ করে। মোট ৩৮ ATP (কিছু বই ৩৬ ধরে; বোর্ড সাধারণত ৩৮)।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·গ্লুকোজপ্রতি ২ ATP ভাবা — সবাতে ~৩৮
- ·অক্সিজেন সরাসরি গ্লুকোজ ভাঙে ভাবা — শুধু চূড়ান্ত ইলেকট্রন গ্রহীতা
- ·১ FADH2 → ৩ ATP ভাবা — ~২ ATP
মানব শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া
রক্তে গ্যাসীয় পরিবহন (O2 ও CO2)
রক্ত O2 ও CO2 উভয়ই পরিবহন করে। অক্সিজেন প্রধানত (~৯৭%) লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন রূপে টিস্যুতে পরিবাহিত হয়; উচ্চ O2 চাপে (ফুসফুসে) হিমোগ্লোবিন O2 গ্রহণ করে ও নিম্ন চাপে (টিস্যুতে) ছেড়ে দেয়। কার্বন ডাই-অক্সাইড তিনভাবে পরিবাহিত হয়: বেশিরভাগ (~৭০%) বাইকার্বনেট আয়ন রূপে রক্তরসে, কিছু (~২৩%) হিমোগ্লোবিনের সাথে কার্বামিনো-হিমোগ্লোবিন রূপে এবং সামান্য (~৭%) রক্তরসে দ্রবীভূত অবস্থায়। টিস্যুতে উৎপন্ন CO2 এভাবে ফুসফুসে এসে নিঃশ্বাসে বেরিয়ে যায়।
O2 প্রধানত হিমোগ্লোবিনে (অক্সিহিমোগ্লোবিন, ~৯৭%)
CO2 প্রধানত বাইকার্বনেট রূপে (~৭০%)
CO2 আরও: কার্বামিনো-হিমোগ্লোবিন ও দ্রবীভূত
হিমোগ্লোবিন উচ্চ চাপে O2 নেয়, নিম্ন চাপে ছাড়ে
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
O2 প্রধানত হিমোগ্লোবিনে, কিন্তু CO2 প্রধানত বাইকার্বনেট রূপে (হিমোগ্লোবিনে নয়) — এই পার্থক্য প্রিয় ফাঁদ।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·CO2 প্রধানত হিমোগ্লোবিনে বাহিত ভাবা — বাইকার্বনেট রূপে
- ·O2 প্রধানত রক্তরসে দ্রবীভূত ভাবা — হিমোগ্লোবিনে
- ·হিমোগ্লোবিন টিস্যুতে O2 নেয় ভাবা — সেখানে ছাড়ে
শ্বসন
সবাত শ্বসন ধাপ ১: গ্লাইকোলাইসিস
গ্লাইকোলাইসিস হলো শ্বসনের প্রথম ধাপ যা কোষের সাইটোপ্লাজমে অক্সিজেন ছাড়াই ঘটে। এখানে এক অণু গ্লুকোজ (৬C) ধাপে ধাপে ভেঙে দুই অণু পাইরুভিক অ্যাসিড (৩C) তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়ায় নিট ২ অণু ATP (সাবস্ট্রেট-লেভেল ফসফোরাইলেশন) এবং ২ অণু NADH উৎপন্ন হয়। যেহেতু এটি অক্সিজেন ছাড়াই ঘটে, সবাত ও অবাত — উভয় শ্বসনের সাধারণ প্রথম ধাপ এটিই।
স্থান: সাইটোপ্লাজম; অক্সিজেন লাগে না
গ্লুকোজ (৬C) → ২ পাইরুভিক অ্যাসিড (৩C)
নিট লাভ: ২ ATP + ২ NADH
সবাত ও অবাত উভয় শ্বসনের সাধারণ ধাপ
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
গ্লাইকোলাইসিসের নিট ATP = ২ (৪ তৈরি − ২ ব্যয়)। 'নিট' আর 'মোট' গুলিয়ে ফেললে হিসাব ভুল হয়। স্থান সাইটোপ্লাজম, মাইটোকন্ড্রিয়া নয়।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·গ্লাইকোলাইসিস মাইটোকন্ড্রিয়ায় ভাবা — সাইটোপ্লাজমে
- ·নিট ATP ৪ ভাবা — নিট ২ (৪−২)
- ·অক্সিজেন লাগে ভাবা — লাগে না
মানব শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া
মানব শ্বসনতন্ত্রের গঠন
মানুষের শ্বসনতন্ত্র বায়ু পরিবহন ও গ্যাস বিনিময়ের জন্য বিশেষায়িত। বায়ুপথ ক্রম: নাসারন্ধ্র→নাসাগহ্বর→গলবিল→স্বরযন্ত্র (ল্যারিংক্স)→শ্বাসনালি (ট্রাকিয়া)→দুটি ব্রঙ্কাস→বহু ব্রঙ্কিওল→আলভিওলাস। ট্রাকিয়া 'C'-আকৃতির তরুণাস্থি-বলয়ে খোলা থাকে। এই পথকে দুই অঞ্চলে ভাগ করা যায়: পরিবহন অঞ্চল (নাসারন্ধ্র থেকে ব্রঙ্কিওল — শুধু বায়ু চলাচল, গ্যাস বিনিময় হয় না) ও শ্বসন অঞ্চল (আলভিওলাস — যেখানে প্রকৃত গ্যাস বিনিময় হয়)। দুই ফুসফুস প্লুরা পর্দায় আবৃত এবং বক্ষগহ্বরে অবস্থিত।
বায়ুপথ: নাসারন্ধ্র→গলবিল→ল্যারিংক্স→ট্রাকিয়া→ব্রঙ্কাস→ব্রঙ্কিওল→আলভিওলাস
ট্রাকিয়া C-আকৃতির তরুণাস্থি-বলয়ে খোলা থাকে
পরিবহন অঞ্চল: গ্যাস বিনিময় হয় না; শ্বসন অঞ্চল (আলভিওলাস): হয়
ফুসফুস প্লুরা পর্দায় আবৃত
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
গ্যাস বিনিময় শুধু আলভিওলাসে হয়, ট্রাকিয়া/ব্রঙ্কাসে নয় (পরিবহন অঞ্চল) — প্রিয় ফাঁদ।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·ট্রাকিয়ায় গ্যাস বিনিময় হয় ভাবা — শুধু আলভিওলাসে
- ·ল্যারিংক্সকে শ্বাসনালি ভাবা — স্বরযন্ত্র (ট্রাকিয়া শ্বাসনালি)
- ·ফুসফুসকে পেশি দিয়ে সংকুচিত ভাবা — নিজে পেশিহীন (ডায়াফ্রাম/পাঁজর চালায়)
শ্বসন
সবাত শ্বসন ধাপ ২: ক্রেবস চক্র
গ্লাইকোলাইসিসে সৃষ্ট পাইরুভিক অ্যাসিড মাইটোকন্ড্রিয়ায় প্রবেশ করে অ্যাসিটাইল-CoA (২C) তে পরিণত হয় এবং অক্সালো-অ্যাসেটিক অ্যাসিডের (৪C) সাথে যুক্ত হয়ে সাইট্রিক অ্যাসিড (৬C) তৈরি করে — এখান থেকেই ক্রেবস চক্র বা সাইট্রিক অ্যাসিড চক্র শুরু। চক্রের ধারাবাহিক বিক্রিয়ায় CO2 নির্গত হয় এবং বিজারিত বাহক NADH ও FADH2 উৎপন্ন হয়। প্রতি চক্রে (এক পাইরুভেট থেকে অ্যাসিটাইল-CoA + ক্রেবস) ৩ NADH, ১ FADH2, ১ ATP(GTP) ও CO2 পাওয়া যায়; দুই পাইরুভেটের জন্য এর দ্বিগুণ।
স্থান: মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্স; অক্সিজেন-নির্ভর ধাপ
শুরু: অ্যাসিটাইল-CoA (2C) + OAA (4C) → সাইট্রিক অ্যাসিড (6C)
এক চক্রের ফল: ৩ NADH + ১ FADH2 + ১ ATP + ২ CO2
শ্বসনে নির্গত CO2 এর প্রায় সবটাই এই পর্যায়ে আসে
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
ক্রেবস চক্রের প্রথম উৎপাদ সাইট্রিক অ্যাসিড, তাই অন্য নাম সাইট্রিক অ্যাসিড চক্র। স্থান মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্স। p328 এর OCR বিক্রিয়া-চিত্র অস্পষ্ট (৬৭.৭%), তাই ধাপগুলো curriculum জ্ঞান থেকে লেখা।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·ক্রেবস চক্র সাইটোপ্লাজমে ভাবা — মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্সে
- ·প্রথম উৎপাদ পাইরুভেট ভাবা — সাইট্রিক অ্যাসিড
- ·এখানে O2 সরাসরি লাগে ভাবা — লাগে ETC ধাপে
Lung volumes and capacities
ফুসফুসের আয়তন ও ধারণক্ষমতা
ফুসফুসে বাতাসের পরিমাণ মাপার জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট রাশি আছে এবং তাদের নাম গুলিয়ে গেলে হিসাব ভুল হয়। স্বাভাবিক শ্বাসে যতটা বাতাস ভিতরে ঢোকে বা বেরোয় তাকে বলে টাইডাল ভলিউম। স্বাভাবিক নিঃশ্বাসের পরও জোর করে আরও কিছুটা বের করা যায় — সেটি নিঃশ্বাসীয় রিজার্ভ। তারপরও যা কিছুতেই বের হয় না, ফুসফুস চুপসে যাওয়া ঠেকায়, সেটি অবশিষ্ট আয়তন। স্বাভাবিক নিঃশ্বাসের পরে ফুসফুসে যা থেকে যায় তা এই দুটির যোগফল, যাকে বলা হয় কার্যকরী অবশিষ্ট ধারণক্ষমতা। ধারণক্ষমতা মানেই একাধিক আয়তনের যোগফল — এই একটি কথা মনে রাখলে নামগুলো আর গুলিয়ে যায় না।
টাইডাল ভলিউম: স্বাভাবিক এক শ্বাসে আদান-প্রদানকৃত বাতাস, প্রায় ৫০০ মিলি
নিঃশ্বাসীয় রিজার্ভ আয়তন (ERV): প্রায় ১১০০–১২০০ মিলি
অবশিষ্ট আয়তন (RV): প্রায় ১২০০ মিলি; কখনও বের করা যায় না
কার্যকরী অবশিষ্ট ধারণক্ষমতা (FRC) = ERV + RV, প্রায় ২৩০০–২৫০০ মিলি
প্রাণ ধারণক্ষমতা (Vital Capacity) = TV + IRV + ERV, প্রায় ৪৫০০–৪৮০০ মিলি
মোট ফুসফুস ধারণক্ষমতা = প্রাণ ধারণক্ষমতা + অবশিষ্ট আয়তন
'আয়তন' একক রাশি; 'ধারণক্ষমতা' দুই বা ততোধিক আয়তনের যোগফল
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
'ধারণক্ষমতা' শব্দটি দেখলেই যোগফল খোঁজো — একক আয়তন কখনও ধারণক্ষমতা নয়।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·স্বাভাবিক নিঃশ্বাসের পর অবশিষ্ট বাতাস হিসেবে কেবল অবশিষ্ট আয়তন বলা — উত্তর FRC, অর্থাৎ ERV + RV
- ·প্রাণ ধারণক্ষমতায় অবশিষ্ট আয়তন যোগ করা — সেটি মোট ধারণক্ষমতা
- ·টাইডাল ভলিউমকে সর্বোচ্চ শ্বাসের পরিমাণ ধরা
শ্বসন
সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসনের পার্থক্য
সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন বিপরীতমুখী প্রক্রিয়া। সালোকসংশ্লেষণ একটি উপচিতি (গঠনমূলক) প্রক্রিয়া যা CO2 ও পানি থেকে খাদ্য তৈরি করে, O2 নির্গত করে, শক্তি সঞ্চয় করে এবং কেবল আলোয় সবুজ কোষে ঘটে। শ্বসন একটি অপচিতি (ভাঙনমূলক) প্রক্রিয়া যা খাদ্য জারিত করে শক্তি (ATP) মুক্ত করে, O2 গ্রহণ ও CO2 নির্গত করে এবং দিনরাত সব জীবিত কোষে ঘটে। এক প্রক্রিয়ার উৎপাদ অন্যটির কাঁচামাল।
সালোকসংশ্লেষণ উপচিতি (শক্তি সঞ্চয়); শ্বসন অপচিতি (শক্তি মুক্তি)
গ্যাস: সালোকসংশ্লেষণ CO2 গ্রহণ/O2 ত্যাগ; শ্বসন উল্টো
সালোকসংশ্লেষণ শুধু আলোয় সবুজ কোষে; শ্বসন সর্বদা সব জীবিত কোষে
একটির উৎপাদ (O2, গ্লুকোজ) অন্যটির কাঁচামাল
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
শ্বসন দিনরাত সব কোষে চলে, সালোকসংশ্লেষণ শুধু আলোয় সবুজ কোষে — 'কখন ও কোথায়' পয়েন্টটি বেশি ভুল হয়।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·সালোকসংশ্লেষণকে অপচিতি ভাবা — উপচিতি
- ·শ্বসন শুধু রাতে ঘটে ভাবা — দিনরাত সব কোষে
- ·সালোকসংশ্লেষণে O2 গৃহীত হয় ভাবা — নির্গত হয়
মানব শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া
শ্বসননালির রোগ ও ধূমপানের প্রভাব
শ্বসনতন্ত্রে নানা রোগ হয়। সাইনুসাইটিস হলো নাসাগহ্বর-সংলগ্ন সাইনাসের প্রদাহ, লক্ষণ মাথাব্যথা, নাক বন্ধ ও চাপ অনুভূতি। ওটিটিস মিডিয়া হলো মধ্যকর্ণের সংক্রমণ (শিশুতে বেশি), লক্ষণ কানে ব্যথা ও শ্রবণে সমস্যা — শ্বসনতন্ত্রের সাথে ইউস্টেশিয়ান নালির সংযোগের কারণে সংক্রমণ কানে ছড়ায়। ধূমপান শ্বসনতন্ত্রের বড় ক্ষতি করে — এতে ফুসফুসে ক্ষতিকর টার ও রাসায়নিক জমে, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস, এমফাইসেমা ও ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে; ধূমপায়ীর ফুসফুস কালচে ও ক্ষতিগ্রস্ত দেখায়। ধূমপান বর্জন ও স্বাস্থ্যবিধিই মূল প্রতিরোধ।
সাইনুসাইটিস: সাইনাসের প্রদাহ (মাথাব্যথা, নাক বন্ধ)
ওটিটিস মিডিয়া: মধ্যকর্ণ সংক্রমণ (ইউস্টেশিয়ান নালি দিয়ে ছড়ায়)
ধূমপান: ব্রঙ্কাইটিস, এমফাইসেমা, ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকি
ধূমপায়ীর ফুসফুসে টার জমে কালচে হয়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
ওটিটিস মিডিয়া মধ্যকর্ণের রোগ কিন্তু শ্বসনতন্ত্রের সাথে ইউস্টেশিয়ান নালির সংযোগে সম্পর্কিত — সংযোগটি প্রিয় প্রশ্ন।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·ওটিটিস মিডিয়াকে বহিঃকর্ণের রোগ ভাবা — মধ্যকর্ণের
- ·সাইনুসাইটিসকে ফুসফুসের রোগ ভাবা — সাইনাসের
- ·ধূমপানকে শুধু ফুসফুস-ক্ষতিকর ভাবা — হৃদরোগ ঝুঁকিও
মানব শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া
প্রশ্বাস-নিঃশ্বাস কার্যক্রম
ফুসফুসে বায়ু ঢোকানো ও বের করার যান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শ্বাসক্রিয়া বা ভেন্টিলেশন বলে; ফুসফুস নিজে পেশিহীন, তাই ডায়াফ্রাম ও পঞ্জরান্তর পেশি এটি চালায়। প্রশ্বাসে (নিঃশ্বাস গ্রহণ) ডায়াফ্রাম সংকুচিত হয়ে চ্যাপ্টা হয় ও পাঁজর ওপরে-বাইরে ওঠে, ফলে বক্ষগহ্বরের আয়তন বাড়ে, ভেতরের চাপ কমে এবং বাইরের বায়ু ফুসফুসে ঢোকে। নিঃশ্বাসে (বায়ু ত্যাগ) পেশি শিথিল হয়ে বক্ষগহ্বর ছোট হয়, ভেতরের চাপ বাড়ে ও বায়ু বেরিয়ে যায়। অর্থাৎ প্রশ্বাস সক্রিয় (পেশি সংকোচন) ও স্বাভাবিক নিঃশ্বাস নিষ্ক্রিয় প্রক্রিয়া।
ফুসফুস পেশিহীন; ডায়াফ্রাম ও পঞ্জরান্তর পেশি শ্বাসক্রিয়া চালায়
প্রশ্বাস: আয়তন↑, চাপ↓ → বায়ু ঢোকে (সক্রিয়)
নিঃশ্বাস: আয়তন↓, চাপ↑ → বায়ু বেরোয় (নিষ্ক্রিয়)
ডায়াফ্রাম সংকোচনে চ্যাপ্টা হয় (প্রশ্বাস)
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
প্রশ্বাসে ডায়াফ্রাম সংকুচিত ও চ্যাপ্টা হয় (গম্বুজ নামে) — চাপ কমে বায়ু ঢোকে। প্রশ্বাস সক্রিয়, নিঃশ্বাস নিষ্ক্রিয়।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·প্রশ্বাসে চাপ বাড়ে ভাবা — কমে (বায়ু ঢোকে)
- ·ডায়াফ্রাম প্রশ্বাসে গম্বুজাকার হয় ভাবা — চ্যাপ্টা হয়
- ·নিঃশ্বাসকে সক্রিয় ভাবা — স্বাভাবিক নিঃশ্বাস নিষ্ক্রিয়