← সব চ্যাপ্টার

পরিবেশ রসায়ন

৩৬টি প্রশ্ন এসেছে ২৫ বছরে · ১১টি টপিক

Acid rain — cause, chemistry and effects

এসিড বৃষ্টি

স্বাভাবিক বৃষ্টির পানিও সামান্য অম্লীয়, কারণ বাতাসের কার্বন ডাইঅক্সাইড দ্রবীভূত হয়ে দুর্বল কার্বনিক এসিড তৈরি করে; তার pH প্রায় ৫.৬। এর চেয়ে বেশি অম্লীয় হলে তাকে এসিড বৃষ্টি বলা হয়, আর তার প্রধান কারণ সালফার ডাইঅক্সাইড। বাতাসে SO₂ জারিত হয়ে SO₃ হয় এবং SO₃ পানির সঙ্গে মিশে সালফিউরিক এসিড তৈরি করে; নাইট্রোজেন অক্সাইড একইভাবে নাইট্রিক এসিড দেয়। ফলে মাটি অম্লীয় হয়, জলাশয়ের মাছ মরে এবং মার্বেল পাথরের স্থাপত্য ক্ষয়ে যায়। প্রধান কারণ SO₂; সহায়ক কারণ NOₓ SO₂ → SO₃ → H₂SO₄ (পানির সঙ্গে); NO₂ → HNO₃ স্বাভাবিক বৃষ্টির pH প্রায় ৫.৬ — CO₂ দ্রবীভূত হওয়ার কারণে এসিড বৃষ্টির pH সাধারণত ৫.৬-এর নিচে প্রভাব: মাটির অম্লায়ন, জলজ প্রাণীর মৃত্যু, মার্বেল ও চুনাপাথরের স্থাপত্যের ক্ষয় CO₂ এসিড বৃষ্টির কারণ নয় — সে স্বাভাবিক বৃষ্টিকেই সামান্য অম্লীয় করে

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

বিকল্পে SO₂ ও SO₃ দুটোই থাকলে SO₂ বাছো — সেটিই নির্গত দূষক, SO₃ পথের মধ্যবর্তী ধাপ।

এখানে ভুল হয় ()

  • CO₂-কে এসিড বৃষ্টির কারণ ধরা — সে স্বাভাবিক বৃষ্টির সামান্য অম্লত্বের কারণ, এসিড বৃষ্টির নয়
  • স্বাভাবিক বৃষ্টির pH ৭ ধরা — তা ৫.৬-এর কাছাকাছি
  • SO₃-কে প্রধান নির্গত দূষক ধরা

Air pollutants, their sources and their effects

বায়ু দূষক ও তাদের উৎস

বায়ু দূষককে ভাগ করা যায় উৎস অনুযায়ী। কার্বন মনোক্সাইড আসে অসম্পূর্ণ দহন থেকে — অক্সিজেনের ঘাটতিতে জ্বালানি পুরোপুরি পুড়তে না পারলে CO₂-এর বদলে CO তৈরি হয়। সালফার ডাইঅক্সাইড আসে কয়লা ও তেলে থাকা সালফার পুড়ে; নাইট্রোজেন অক্সাইড তৈরি হয় ইঞ্জিনের উচ্চ তাপে বাতাসের নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন যুক্ত হয়ে। ফটোকেমিক্যাল স্মগ তৈরি হয় নাইট্রোজেন অক্সাইড ও হাইড্রোকার্বনের উপর সূর্যালোক পড়লে; CFC এতে অংশ নেয় না, আর সেই ব্যতিক্রমটিই প্রশ্নে ধরা হয়। CO — অসম্পূর্ণ দহনের উৎপাদ; হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন পরিবহন ব্যাহত করে SO₂ — সালফারযুক্ত কয়লা ও জ্বালানি তেল পোড়ানো থেকে NOₓ — উচ্চ তাপে ইঞ্জিনের ভিতরে বাতাসের N₂ ও O₂ থেকে ফটোকেমিক্যাল স্মগের উপাদান: NOₓ, হাইড্রোকার্বন, ওজোন, PAN — CFC নয় সীসা দূষণের উৎস ছিল সীসাযুক্ত পেট্রোল কণা দূষণ (particulate matter) শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

স্মগের উপাদান নিয়ে প্রশ্নে CFC থাকলে সেটিই ব্যতিক্রম — CFC স্মগ তৈরি করে না, ওজোন ক্ষয় করে।

এখানে ভুল হয় ()

  • CFC-কে ফটোকেমিক্যাল স্মগের উপাদান ধরা — দুটি আলাদা প্রক্রিয়া
  • CO ও CO₂ গুলিয়ে ফেলা — একটি অসম্পূর্ণ দহনের বিষাক্ত উৎপাদ, অন্যটি সম্পূর্ণ দহনের গ্রিনহাউস গ্যাস
  • NOₓ-এর উৎস হিসেবে জ্বালানির নাইট্রোজেন বলা — প্রধান উৎস বাতাসের নাইট্রোজেন

Arsenic in drinking water — limits and effects

পানীয় জলে আর্সেনিক দূষণ

বাংলাদেশে ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক দূষণ একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা, আর পরীক্ষায় প্রায় সবসময় নিরাপদ মাত্রার সংখ্যাটি জিজ্ঞাসা করা হয়। এখানে সতর্ক হতে হয়, কারণ দুটি আলাদা মানদণ্ড প্রচলিত — বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনেক কড়া, আর বাংলাদেশের জাতীয় মান তুলনামূলকভাবে শিথিল। প্রশ্নে কোন মানদণ্ডের কথা বলা হচ্ছে সেটি পড়ে নিতে হয়। দীর্ঘদিন আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করলে ত্বকে কালো দাগ ও শক্ত আঁচিল দেখা দেয়, যাকে আর্সেনিকোসিস বলা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা: ০.০১ mg/L (১০ ppb) বাংলাদেশের জাতীয় গ্রহণযোগ্য মাত্রা: ০.০৫ mg/L (৫০ ppb) উৎস প্রধানত ভূগর্ভস্থ পানি, প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক কারণে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব: মেলানোসিস, কেরাটোসিস, ত্বক ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গের ক্যান্সার আর্সেনিক একটি ভারী ধাতুসদৃশ (metalloid) দূষক, দেহে সঞ্চিত হয় শনাক্তকরণে ফিল্ড টেস্ট কিট ব্যবহৃত হয়; নিরাপদ বিকল্প গভীর নলকূপ ও পরিশোধন

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

প্রশ্নে 'বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা' লেখা থাকলে ০.০১, 'বাংলাদেশে' লেখা থাকলে ০.০৫ — শব্দটি না পড়লে ভুল হবেই।

এখানে ভুল হয় ()

  • দুই মানদণ্ড গুলিয়ে ফেলা — এটিই এই প্রশ্নের প্রধান ফাঁদ, এবং দুটি মানই কোথাও না কোথাও সঠিক
  • mg/L ও ppb-এর রূপান্তরে ভুল করা — ১ mg/L = ১০০০ ppb
  • আর্সেনিককে ব্যাকটেরিয়াজনিত দূষণ ভাবা — এটি রাসায়নিক ও ভূতাত্ত্বিক

Composition of air and nitrogen fixation

বায়ুমণ্ডলের সংযুতি ও নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণ

শুষ্ক বাতাসের প্রায় আটাত্তর ভাগ নাইট্রোজেন এবং একুশ ভাগ অক্সিজেন; বাকি এক ভাগে আর্গন, কার্বন ডাইঅক্সাইড ও অন্যান্য গ্যাস। নাইট্রোজেন এত বেশি থাকলেও গাছপালা সরাসরি তা ব্যবহার করতে পারে না, কারণ নাইট্রোজেন অণুর ত্রিবন্ধন ভাঙা অত্যন্ত কঠিন। এই বন্ধন ভেঙে নাইট্রোজেনকে ব্যবহারযোগ্য যৌগে বদলানোর প্রক্রিয়াকে বলে নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণ, যা ঘটে বজ্রপাতে, মূলের অণুজীবে এবং শিল্পে হেবার পদ্ধতিতে। শুষ্ক বাতাসে N₂ প্রায় ৭৮%, O₂ প্রায় ২১%, আর্গন প্রায় ০.৯%, CO₂ প্রায় ০.০৪% আয়তনের বিচারে নাইট্রোজেনই সর্বাধিক N₂ অণুর ত্রিবন্ধন খুব দৃঢ় (৯৪৫ kJ/mol) — তাই নাইট্রোজেন রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় প্রাকৃতিক আবদ্ধকরণ: বজ্রপাত, এবং ডালজাতীয় উদ্ভিদের মূলের রাইজোবিয়াম শিল্প আবদ্ধকরণ: হেবার পদ্ধতিতে অ্যামোনিয়া উৎপাদন আর্গন বাতাসের সর্বাধিক প্রাপ্য নিষ্ক্রিয় গ্যাস

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

'বাতাসে সবচেয়ে বেশি কোন গ্যাস' — উত্তর নাইট্রোজেন, অক্সিজেন নয়। এই ভুলটি খুব সাধারণ।

এখানে ভুল হয় ()

  • অক্সিজেনকে বাতাসের প্রধান গ্যাস ভাবা — শ্বাসের জন্য জরুরি বলে এই ভুলটি হয়
  • CO₂-এর পরিমাণ অনেক বেশি ধরা — এটি এক শতাংশেরও অনেক নিচে
  • নাইট্রোজেনের নিষ্ক্রিয়তাকে নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মতো ভাবা — কারণ ত্রিবন্ধন, পূর্ণ ইলেকট্রন কক্ষ নয়

CFC properties, uses and replacements

CFC-এর ধর্ম, ব্যবহার ও বিকল্প

CFC-কে একসময় আদর্শ শিল্প-রাসায়নিক ভাবা হত, আর সেটাই তার বিপদের কারণ। এরা বিষহীন, অদাহ্য, গন্ধহীন এবং সহজে তরল করা যায় — তাই হিমায়ক, অ্যারোসল স্প্রের চালক ও ফোম তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। যে স্থিতিশীলতা তাদের এত নিরাপদ করেছিল, সেই স্থিতিশীলতাই তাদের বায়ুমণ্ডলে দশকের পর দশক টিকে থাকতে দেয়। এখন এদের জায়গায় HFC ও হাইড্রোকার্বন ব্যবহার করা হয়, কারণ এগুলোতে ক্লোরিন নেই বলে ওজোন ক্ষয় করে না। CFC-এর বাণিজ্যিক নাম ফ্রেয়ন; গঠনে কার্বন, ক্লোরিন ও ফ্লোরিন ধর্ম: বিষহীন, অদাহ্য, গন্ধহীন, রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয়, সহজে তরলীকরণযোগ্য ব্যবহার: রেফ্রিজারেটর ও এয়ার কন্ডিশনারে হিমায়ক, অ্যারোসল প্রোপেলেন্ট, ফোম ব্লোয়িং বায়ুমণ্ডলে আয়ুষ্কাল কয়েক দশক থেকে একশো বছরের বেশি বিকল্প: HFC ও হাইড্রোকার্বন — ক্লোরিনবিহীন, তাই ওজোন-নিরাপদ HFC ওজোন ক্ষয় করে না, কিন্তু এখনও গ্রিনহাউস গ্যাস

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

CFC-এর যে ধর্মটি তাকে বিপজ্জনক করে সেটি তার নিষ্ক্রিয়তা — প্রশ্নে 'কেন ক্ষতিকর' জিজ্ঞাসা করলে সেটাই উত্তর।

এখানে ভুল হয় ()

  • CFC-কে বিষাক্ত বা দাহ্য ধরা — এর নিরাপত্তাই তার জনপ্রিয়তার কারণ ছিল
  • HFC-কে সম্পূর্ণ নিরাপদ ভাবা — ওজোন-নিরাপদ হলেও গ্রিনহাউস গ্যাস
  • CFC-কে প্রাকৃতিক গ্যাস ভাবা — এটি সম্পূর্ণ কৃত্রিম

Why CO₂ puts out fire, and when it must not be used

অগ্নি নির্বাপণে কার্বন ডাইঅক্সাইড

কার্বন ডাইঅক্সাইড আগুন নেভায় দুটি কারণে একসঙ্গে। এটি নিজে দহনে অংশ নেয় না, আর বাতাসের চেয়ে ভারী হওয়ায় জ্বলন্ত পদার্থের উপর কম্বলের মতো বসে গিয়ে অক্সিজেনের সরবরাহ কেটে দেয়। কিন্তু সব আগুনে এটি চলে না। জ্বলন্ত ম্যাগনেসিয়াম বা সোডিয়ামের মতো সক্রিয় ধাতুর আগুনে CO₂ ব্যবহার করলে ধাতু নিজেই CO₂-কে বিজারিত করে ফেলে এবং আগুন আরও বেড়ে যায়। সেসব ক্ষেত্রে শুকনো বালি বা বিশেষ শ্রেণির নির্বাপক লাগে। CO₂ অদাহ্য এবং দহনে সহায়কও নয় বাতাসের চেয়ে ভারী — তাই আগুনের উপর স্তর তৈরি করে অক্সিজেন আটকায় বৈদ্যুতিক ও তেলজাত আগুনে বিশেষভাবে উপযোগী, কারণ এটি বিদ্যুৎ পরিবাহী নয় ও অবশেষ রাখে না জ্বলন্ত Mg বা Na-এর আগুনে CO₂ ব্যবহার নিষিদ্ধ — ধাতু CO₂ বিজারিত করে সোডা-অ্যাসিড নির্বাপকে NaHCO₃ ও H₂SO₄ বিক্রিয়া করে CO₂ তৈরি হয় ধাতব আগুনে শুকনো বালি বা শুষ্ক গুঁড়ো নির্বাপক ব্যবহার করা হয়

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

CO₂ সব আগুনে চলে না — ধাতব আগুনের কথা এলে উত্তর বদলে যায়।

এখানে ভুল হয় ()

  • CO₂-কে সব ধরনের আগুনে নিরাপদ ধরা — সক্রিয় ধাতুর আগুনে এটি আগুন বাড়ায়
  • CO₂-এর কার্যকারিতার কারণ হিসেবে শীতলীকরণ বলা — মূল কারণ অক্সিজেন অবরোধ
  • CO₂-কে বাতাসের চেয়ে হালকা ধরা — ভারী হওয়াই তার কার্যকারিতার শর্ত

Greenhouse gases and global warming

গ্রিনহাউস গ্যাস ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন

সূর্য থেকে আসা স্বল্প তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো বায়ুমণ্ডল ভেদ করে ভূপৃষ্ঠে পৌঁছায় এবং পৃথিবীকে উষ্ণ করে। উষ্ণ ভূপৃষ্ঠ সেই শক্তি দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অবলোহিত বিকিরণ হিসেবে ফিরিয়ে দেয়, কিন্তু কিছু গ্যাস সেই অবলোহিত বিকিরণ শুষে নিয়ে আবার নিচের দিকে ছড়িয়ে দেয়। এতেই তাপ আটকে যায়। কার্বন ডাইঅক্সাইড পরিমাণে সবচেয়ে বেশি বলে প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস, তবে অণুপ্রতি ক্ষমতায় মিথেন অনেক বেশি শক্তিশালী। জলীয় বাষ্পও গ্রিনহাউস গ্যাস, কিন্তু তার পরিমাণ মানুষের নির্গমনে সরাসরি নিয়ন্ত্রিত হয় না। প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস: CO₂, CH₄, N₂O, জলীয় বাষ্প, CFC পরিমাণের বিচারে CO₂ প্রধান; অণুপ্রতি ক্ষমতায় CH₄ অনেক বেশি প্রবল কার্যপ্রণালী: দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অবলোহিত বিকিরণ শোষণ ও পুনর্বিকিরণ গ্রিনহাউস প্রভাব নিজে স্বাভাবিক — এটি না থাকলে পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য শীতল হত সমস্যা হলো মানবসৃষ্ট নির্গমনে প্রভাবের মাত্রাবৃদ্ধি গ্রিনহাউস প্রভাব ও ওজোন ক্ষয় সম্পূর্ণ আলাদা দুটি প্রক্রিয়া

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

'প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস' জিজ্ঞাসা করলে উত্তর CO₂; 'সবচেয়ে শক্তিশালী' জিজ্ঞাসা করলে মিথেন — শব্দটি পড়ো।

এখানে ভুল হয় ()

  • গ্রিনহাউস প্রভাবকে ওজোন ক্ষয়ের কারণ ভাবা — দুটি ভিন্ন প্রক্রিয়া
  • গ্রিনহাউস প্রভাবকে সম্পূর্ণ ক্ষতিকর ভাবা — প্রাকৃতিক মাত্রায় এটি জীবনধারণের শর্ত
  • মিথেনকে পরিমাণে প্রধান ধরা — পরিমাণে CO₂ প্রধান, ক্ষমতায় মিথেন

Which gases destroy ozone, and which do not

ওজোন স্তর ক্ষয়কারী গ্যাস

ওজোন ক্ষয়ের প্রধান কারণ ক্লোরোফ্লুরোকার্বন বা CFC। এরা এতটাই নিষ্ক্রিয় যে ভূপৃষ্ঠে ভাঙে না, বরং অক্ষত অবস্থায় স্ট্রাটোস্ফিয়ার পর্যন্ত উঠে যায়। সেখানে তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি তাদের ভেঙে মুক্ত ক্লোরিন পরমাণু ছেড়ে দেয়, আর একটি ক্লোরিন পরমাণু হাজার হাজার ওজোন অণু ভাঙতে পারে কারণ বিক্রিয়ার শেষে সে নিজে ফিরে আসে। একই কাজ হ্যালন ও কিছু নাইট্রোজেন অক্সাইডও করে। কার্বন ডাইঅক্সাইড ওজোন ক্ষয় করে না — সে গ্রিনহাউস গ্যাস, দুটি সম্পূর্ণ আলাদা সমস্যা। প্রধান ক্ষয়কারী: CFC (ফ্রেয়ন), হ্যালন, কার্বন টেট্রাক্লোরাইড, মিথাইল ব্রোমাইড CFC ভূপৃষ্ঠে নিষ্ক্রিয় ও অদাহ্য — তাই অক্ষত অবস্থায় স্ট্রাটোস্ফিয়ারে পৌঁছায় UV আলোয় CFC ভেঙে মুক্ত ক্লোরিন পরমাণু দেয় একটি ক্লোরিন পরমাণু বহু ওজোন অণু ভাঙে — বিক্রিয়াটি শৃঙ্খল ও প্রভাবকীয় CO₂ ওজোন ক্ষয় করে না; এটি গ্রিনহাউস গ্যাস মন্ট্রিল প্রোটোকল CFC উৎপাদন নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক চুক্তি

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

'ওজোন ক্ষয়ের জন্য দায়ী নয় কোনটি' — উত্তর প্রায় সবসময় CO₂।

এখানে ভুল হয় ()

  • CO₂-কে ওজোন ক্ষয়কারী ধরা — গ্রিনহাউস প্রভাব ও ওজোন ক্ষয় আলাদা সমস্যা
  • CFC-কে বিক্রিয়াশীল ভাবা — তার নিষ্ক্রিয়তাই তাকে স্ট্রাটোস্ফিয়ার পর্যন্ত পৌঁছাতে দেয়
  • ক্লোরিন পরমাণু একটি ওজোন ভেঙে শেষ হয়ে যায় ভাবা — সে পুনরুৎপন্ন হয়

The ozone layer — where it is and what it does

ওজোন স্তর ও তার ভূমিকা

ওজোন স্তর বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত, ভূপৃষ্ঠ থেকে মোটামুটি পনেরো থেকে পঁয়ত্রিশ কিলোমিটার উঁচুতে। এই স্তরের ওজোন অণু সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শুষে নিয়ে ভেঙে যায় এবং আবার তৈরি হয়, আর এই চক্রই ক্ষতিকর বিকিরণকে ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে দেয় না। এখানে একটি উল্টো ব্যাপার আছে যা পরীক্ষায় কাজে লাগে — উঁচুতে ওজোন রক্ষাকারী, কিন্তু ভূপৃষ্ঠের কাছে একই ওজোন একটি দূষক, কারণ সেখানে সে শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি করে এবং ফটোকেমিক্যাল স্মগের উপাদান হয়ে ওঠে। ওজোন স্তরের অবস্থান স্ট্রাটোস্ফিয়ারে, প্রায় ১৫–৩৫ কিমি উচ্চতায় ওজোনের সংকেত O₃ — অক্সিজেনের একটি রূপভেদ এটি সূর্যের অতিবেগুনি (UV) বিকিরণ শোষণ করে স্ট্রাটোস্ফিয়ারের ওজোন উপকারী; ট্রপোস্ফিয়ারের ওজোন দূষক ওজোন স্তরের পুরুত্ব ডবসন এককে মাপা হয় অ্যান্টার্কটিকার উপরে ওজোন স্তরের ক্ষয় সবচেয়ে প্রকট

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

'কোন স্তর UV থেকে রক্ষা করে' — উত্তরে স্ট্রাটোস্ফিয়ার শব্দটি থাকা চাই, নিছক 'ওজোন' নয়।

এখানে ভুল হয় ()

  • ওজোন স্তরকে ট্রপোস্ফিয়ারে বসানো — আবহাওয়া ওখানে ঘটে বলে ভুলটা স্বাভাবিক
  • ভূপৃষ্ঠের ওজোনকেও উপকারী ভাবা — সেখানে এটি দূষক
  • ওজোনকে অক্সিজেনের সমার্থক ভাবা — এটি রূপভেদ, তিনটি পরমাণুবিশিষ্ট

Soil chemistry and heavy-metal pollution

মাটির রসায়ন ও ভারী ধাতু দূষণ

মাটির উর্বরতা অনেকটাই নির্ভর করে তার pH-এর উপর, কারণ pH ঠিক করে দেয় কোন পুষ্টি উপাদান উদ্ভিদের কাছে দ্রবণীয় অবস্থায় পৌঁছাবে। বেশিরভাগ ফসলের জন্য সামান্য অম্লীয় থেকে নিরপেক্ষ মাটি উপযুক্ত; অতিরিক্ত অম্লীয় মাটিতে চুন যোগ করে তা শোধরানো হয়। আলাদা একটি সমস্যা ভারী ধাতু দূষণ — সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম ও আর্সেনিক শিল্পবর্জ্য থেকে মাটি ও পানিতে ঢুকে খাদ্যশৃঙ্খলে জমতে থাকে। এদের বিশেষত্ব হলো এরা ভাঙে না, তাই ঘনত্ব ধাপে ধাপে বাড়ে। অধিকাংশ ফসলের জন্য উপযুক্ত মাটির pH প্রায় ৬–৭.৫ অম্লীয় মাটি সংশোধনে চুন (CaO বা CaCO₃) যোগ করা হয় ভারী ধাতু: Pb, Hg, Cd, As — জৈব-অভঙ্গুর, দেহে সঞ্চিত হয় ক্যাডমিয়াম দূষণে ইটাই-ইটাই রোগ; পারদ দূষণে মিনামাটা রোগ খাদ্যশৃঙ্খলে ধাপে ধাপে ঘনত্ব বৃদ্ধিকে বলে জৈব-বিবর্ধন (biomagnification) মাটির লবণাক্ততা উপকূলীয় অঞ্চলে প্রধান কৃষি সমস্যা

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

রোগের নাম ও ধাতুর জোড়া মনে রাখো — ইটাই-ইটাই ক্যাডমিয়াম, মিনামাটা পারদ।

এখানে ভুল হয় ()

  • ইটাই-ইটাই ও মিনামাটা রোগের ধাতু উল্টে দেওয়া
  • ভারী ধাতুকে সময়ের সঙ্গে ভেঙে যায় ভাবা — এরা জৈব-অভঙ্গুর
  • সব ফসলের জন্য নিরপেক্ষ pH আদর্শ ধরা — কিছু ফসল অম্লীয় মাটি পছন্দ করে

BOD, DO and what they say about water

পানির গুণমান নির্ণায়ক — BOD ও DO

পানির স্বাস্থ্য মাপার দুটি প্রধান সূচক আছে এবং তারা পরস্পরের বিপরীত দিকে চলে। দ্রবীভূত অক্সিজেন বা DO বলে পানিতে কতটা অক্সিজেন আছে — যত বেশি, পানি তত ভালো। জৈব রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা বা BOD বলে পানিতে থাকা জৈব দূষণ ভাঙতে অণুজীবের কত অক্সিজেন লাগবে — যত বেশি, দূষণ তত বেশি এবং পানি তত খারাপ। তাই দূষিত পানিতে BOD উঁচু আর DO নিচু, দুটো একসঙ্গে। এই বিপরীত সম্পর্কটাই পরীক্ষায় ধরা হয়। DO = দ্রবীভূত অক্সিজেন; বেশি DO মানে ভালো পানি সুস্থ পৃষ্ঠজলে DO সাধারণত ৫ mg/L-এর বেশি থাকা কাম্য BOD = জৈব দূষণ ভাঙতে অণুজীবের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন; বেশি BOD মানে বেশি দূষণ পানীয় জলে BOD ১ mg/L-এর নিচে থাকা কাম্য BOD ও DO পরস্পর বিপরীতভাবে চলে COD রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা — জৈব ও অজৈব দুই দূষণই ধরে, তাই সাধারণত BOD-এর চেয়ে বেশি

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

BOD বাড়া খারাপ খবর, DO বাড়া ভালো খবর — উল্টে গেলে পুরো উত্তর উল্টে যায়।

এখানে ভুল হয় ()

  • BOD বেশি মানে ভালো পানি ভাবা — নামের মধ্যে 'অক্সিজেন' থাকায় ভুলটা সহজ
  • BOD ও COD-কে সমার্থক ধরা — COD জৈব ও অজৈব দুই দূষণ ধরে
  • DO-কে পানিতে দ্রবীভূত মোট গ্যাস ভাবা — কেবল অক্সিজেন