Antiseptic versus disinfectant — the distinction that decides the answer
অ্যান্টিসেপটিক ও ডিসইনফেকট্যান্টের পার্থক্য
দুটো শব্দই বাংলায় প্রায়ই 'জীবাণুনাশক' বলে অনুবাদ হয়, কিন্তু রসায়নে এদের ভাগ করা হয় কোথায় ব্যবহার করা যাবে তার ভিত্তিতে। অ্যান্টিসেপটিক জীবন্ত কলার উপর লাগানোর মতো যথেষ্ট মৃদু — ক্ষতস্থানে, ত্বকে। ডিসইনফেকট্যান্ট অনেক বেশি কড়া, তাই কেবল নির্জীব পৃষ্ঠে — মেঝে, যন্ত্রপাতি, শৌচাগারে। মজার ব্যাপার হলো একই রাসায়নিক ঘনমাত্রা বদলে দুই ভূমিকাতেই যেতে পারে; লঘু ফেনল অ্যান্টিসেপটিক, গাঢ় ফেনল ডিসইনফেকট্যান্ট।
অ্যান্টিসেপটিক জীবন্ত কলায় প্রয়োগযোগ্য; ডিসইনফেকট্যান্ট নয়
ঘনমাত্রাই অনেক সময় ভূমিকা ঠিক করে — লঘু ফেনল অ্যান্টিসেপটিক, গাঢ় ফেনল ডিসইনফেকট্যান্ট
অ্যান্টিসেপটিকের উদাহরণ: টিংচার আয়োডিন, ডেটল, হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড
ডিসইনফেকট্যান্টের উদাহরণ: ব্লিচিং পাউডার, গাঢ় ফেনল, ফরমালিন
জোসেফ লিস্টার ফেনল ব্যবহার করে অ্যান্টিসেপটিক সার্জারির সূচনা করেন
স্টেরিলাইজেশন আলাদা ধারণা — সব অণুজীব সম্পূর্ণ ধ্বংস
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
'ক্ষতস্থানে ব্যবহার করা যায় কোনটি' ধরনের প্রশ্নে ডিসইনফেকট্যান্ট বাদ দাও, যত শক্তিশালীই শোনাক।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·দুটোকে সমার্থক ধরা — বাংলা অনুবাদ এক হওয়ায় এই ভুল সবচেয়ে বেশি হয়
- ·ফেনলকে কেবল ডিসইনফেকট্যান্ট ধরা — ঘনমাত্রা কমালে এটি অ্যান্টিসেপটিক
- ·স্টেরিলাইজেশন ও ডিসইনফেকশনকে এক ভাবা
Electrolysis of brine and its three products
ব্রাইনের তড়িৎ বিশ্লেষণ
ব্রাইন হলো সোডিয়াম ক্লোরাইডের সম্পৃক্ত জলীয় দ্রবণ, আর তাতে বিদ্যুৎ চালালে একসঙ্গে তিনটি কাজে লাগার মতো পদার্থ পাওয়া যায়। অ্যানোডে ক্লোরাইড আয়ন ইলেকট্রন ছেড়ে ক্লোরিন গ্যাস হয়। ক্যাথোডে সোডিয়াম আয়ন নয়, বরং পানি বিজারিত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস দেয় — কারণ পানির বিজারণ সোডিয়ামের চেয়ে সহজ। ফলে সোডিয়াম আয়ন দ্রবণে থেকে যায় এবং অবশিষ্ট হাইড্রক্সাইডের সঙ্গে মিলে কস্টিক সোডা তৈরি করে। এই তিন উৎপাদের শিল্পকে ক্লোর-অ্যালকালি শিল্প বলা হয়।
ব্রাইন = NaCl-এর সম্পৃক্ত জলীয় দ্রবণ
অ্যানোডে: 2Cl⁻ → Cl₂ + 2e⁻
ক্যাথোডে: 2H₂O + 2e⁻ → H₂ + 2OH⁻ — পানি বিজারিত হয়, সোডিয়াম নয়
দ্রবণে অবশিষ্ট থাকে NaOH (কস্টিক সোডা)
তিনটি উৎপাদ: ক্লোরিন, হাইড্রোজেন ও কস্টিক সোডা
গলিত NaCl-এর তড়িৎ বিশ্লেষণে ক্যাথোডে ধাতব সোডিয়াম মেলে — জলীয় ক্ষেত্রে নয়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
জলীয় দ্রবণে ক্যাথোডে সোডিয়াম ধাতু পাওয়া যায় না — পানি আগে বিজারিত হয়। গলিত হলে গল্প আলাদা।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·জলীয় ব্রাইনের ক্যাথোডে ধাতব সোডিয়াম আশা করা — গলিত ও জলীয় ক্ষেত্র গুলিয়ে ফেলা
- ·অ্যানোড ও ক্যাথোডের উৎপাদ উল্টে দেওয়া
- ·কস্টিক সোডাকে অ্যানোডের উৎপাদ ভাবা — এটি দ্রবণে অবশিষ্ট থাকে
What named household disinfectants actually contain
প্রচলিত জীবাণুনাশকের উপাদান
বাজারের পরিচিত জীবাণুনাশকগুলোর নাম এক হলেও ভিতরের সক্রিয় রাসায়নিক আলাদা, আর পরীক্ষায় ঠিক সেই উপাদানের নামটাই জিজ্ঞাসা করা হয়। ডেটলের সক্রিয় উপাদান ক্লোরো-জাইলিনল — এটি ফেনল-গোত্রের যৌগ, কিন্তু নিছক ফেনল নয়। ব্লিচিং পাউডারের কার্যকারিতা আসে তার থেকে নির্গত ক্লোরিন থেকে। স্যাভলনে ক্লোরহেক্সিডিন ও সেট্রিমাইড দুটোই থাকে। নাম আর উপাদান জোড়া বেঁধে মনে রাখলে এই প্রশ্নগুলো নিশ্চিত নম্বর।
ডেটলের সক্রিয় উপাদান ক্লোরো-জাইলিনল (৪-ক্লোরো-৩,৫-ডাইমিথাইল ফেনল), ঘনমাত্রা প্রায় ৪.৮%
ব্লিচিং পাউডার Ca(OCl)Cl — নির্গত ক্লোরিনই জীবাণু ধ্বংস করে
স্যাভলনে ক্লোরহেক্সিডিন গ্লুকোনেট ও সেট্রিমাইড
টিংচার আয়োডিন = অ্যালকোহলে দ্রবীভূত আয়োডিন
হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড জারণ ঘটিয়ে জীবাণু ধ্বংস করে
ফরমালিন (ফরমালডিহাইডের জলীয় দ্রবণ) সংরক্ষক ও জীবাণুনাশক দুটোই
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
ডেটলের উত্তরে 'ফেনল' বিকল্পটি প্রায় সবসময় থাকে — সঠিক উত্তর ক্লোরো-জাইলিনল, নিছক ফেনল নয়।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·ডেটলের উপাদান হিসেবে ফেনল বেছে নেওয়া — ক্লোরো-জাইলিনল ফেনল-গোত্রীয় বলে কাছাকাছি শোনায়, কিন্তু এক নয়
- ·ব্লিচিং পাউডারের কার্যকারিতা ক্যালসিয়ামের কারণে ভাবা — কারণ নির্গত ক্লোরিন
- ·টিংচার আয়োডিনকে জলীয় দ্রবণ ভাবা — দ্রাবক অ্যালকোহল
Explosives — composition and what makes them explosive
বিস্ফোরক পদার্থ
বিস্ফোরকের ভিতরে জ্বালানি ও অক্সিজেন-সরবরাহকারী অংশ একই অণুতে বসে থাকে, তাই বাইরের বাতাসের অপেক্ষা না করেই দহন ঘটে যেতে পারে। ফলে অতি অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ গ্যাস ও তাপ তৈরি হয়, আর সেই আকস্মিক আয়তন-বৃদ্ধিই বিস্ফোরণ। নাইট্রোগ্লিসারিন এই শ্রেণির প্রধান উদাহরণ; তরল অবস্থায় এটি এত সংবেদনশীল যে সামান্য ঝাঁকুনিতেই ফেটে যায়। আলফ্রেড নোবেল একে কিসেলগুর নামে একটি শোষক মাটিতে শুষিয়ে স্থিতিশীল করেন, আর সেই মিশ্রণই ডাইনামাইট।
নাইট্রোগ্লিসারিন গ্লিসারল ও গাঢ় নাইট্রিক-সালফিউরিক এসিড মিশ্রণ থেকে তৈরি
ডাইনামাইট = নাইট্রোগ্লিসারিন + শোষক জড় মাধ্যম (কিসেলগুর)
TNT = ট্রাই নাইট্রো টলুইন, নাইট্রোগ্লিসারিনের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল
বিস্ফোরকে অক্সিজেন-সরবরাহকারী গোষ্ঠী অণুর ভিতরেই থাকে (সাধারণত −NO₂)
বিস্ফোরণের মূল কারণ অতি দ্রুত গ্যাস উৎপাদন ও আয়তন বৃদ্ধি
কালো বারুদ = পটাশিয়াম নাইট্রেট + কাঠকয়লা + গন্ধক
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
ডাইনামাইট আলাদা যৌগ নয় — নাইট্রোগ্লিসারিনকে শোষকে ধরে রাখা একটি মিশ্রণ।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·ডাইনামাইটকে একটি রাসায়নিক যৌগ ভাবা
- ·নাইট্রোগ্লিসারিন ও নাইট্রোবেনজিন গুলিয়ে ফেলা — নামের মিল থাকলেও একটি বিস্ফোরক, অন্যটি নয়
- ·বিস্ফোরণের কারণ হিসেবে কেবল তাপ বলা — নির্ণায়ক হলো দ্রুত গ্যাস উৎপাদন
Food preservatives and how preservation works
খাদ্য সংরক্ষক ও সংরক্ষণ পদ্ধতি
খাদ্য নষ্ট হয় মূলত অণুজীবের বৃদ্ধিতে, তাই সংরক্ষণের সব পদ্ধতির লক্ষ্য এক — অণুজীবের বাড়ার পরিবেশ কেড়ে নেওয়া। লবণ ও চিনি সেই কাজ করে পানি টেনে নিয়ে, কারণ অভিস্রবণের চাপে অণুজীবের কোষ থেকে পানি বেরিয়ে যায়। জৈব অ্যাসিড যেমন সাইট্রিক বা বেনজোয়িক এসিড pH কমিয়ে দেয়, আর অম্লীয় পরিবেশে অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া টেকে না। মাংস সংরক্ষণে সোডিয়াম নাইট্রাইট ব্যবহৃত হয় — এটি একই সঙ্গে রঙ ধরে রাখে ও বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া ঠেকায়।
সাধারণ সংরক্ষক: সোডিয়াম বেনজোয়েট, সাইট্রিক এসিড, সোডিয়াম নাইট্রাইট, ভিনেগার
লবণ ও চিনি অভিস্রবণে পানি টেনে অণুজীবের বৃদ্ধি রোধ করে
জৈব অ্যাসিড pH কমিয়ে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঠেকায়
মাংস সংরক্ষণে সোডিয়াম নাইট্রাইট — রঙ ও নিরাপত্তা দুটোই
ফরমালিন খাদ্যে ব্যবহারের জন্য নয়; এটি অনুমোদিত সংরক্ষক নয়
হিমায়ন অণুজীব মারে না, কেবল তাদের বিপাক ধীর করে
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
হিমায়ন জীবাণু মারে না — 'কোনটি জীবাণু ধ্বংস করে না' প্রশ্নে এটিই উত্তর।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·ফরমালিনকে বৈধ খাদ্য সংরক্ষক ভাবা — এটি জীবাণুনাশক ও সংরক্ষক হলেও খাদ্যে নিষিদ্ধ
- ·হিমায়নকে জীবাণু-হত্যাকারী ভাবা
- ·লবণের কাজকে রাসায়নিক বিক্রিয়া ভাবা — কার্যপ্রণালী ভৌত, অভিস্রবণ
Formalin — composition, legitimate uses and misuse
ফরমালিন — গঠন ও ব্যবহার
ফরমালিন কোনো আলাদা যৌগ নয়, এটি ফরমালডিহাইড গ্যাসের জলীয় দ্রবণ, ঘনমাত্রা সাধারণত চল্লিশ শতাংশের কাছাকাছি। ফরমালডিহাইড প্রোটিনের সঙ্গে স্থায়ীভাবে জুড়ে গিয়ে তাকে জমিয়ে দেয়, আর সেই কারণেই এটি জীবদেহের নমুনা সংরক্ষণে এত কার্যকর — কলা পচে না, আকৃতি অটুট থাকে। একই বৈশিষ্ট্য একে বিপজ্জনকও করে তোলে: খাদ্যে মেশালে সেটি মানুষের প্রোটিনের সঙ্গেও একইভাবে বিক্রিয়া করে। তাই গবেষণাগারে বৈধ, খাদ্যে নিষিদ্ধ।
ফরমালিন = ফরমালডিহাইডের (HCHO) প্রায় ৪০% জলীয় দ্রবণ
সাধারণত সামান্য মিথানল যোগ করা হয় পলিমারকরণ ঠেকাতে
প্রোটিন জমিয়ে দেয়, তাই নমুনা ও মৃতদেহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত
জীবাণুনাশক হিসেবেও কার্যকর
খাদ্যদ্রব্যে ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও আইনত নিষিদ্ধ
ফরমালডিহাইড সবচেয়ে সরল অ্যালডিহাইড; এতে α-হাইড্রোজেন নেই
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
'ফরমালিন কী' — উত্তরে সবসময় 'জলীয় দ্রবণ' শব্দটি থাকতে হবে, নিছক ফরমালডিহাইড নয়।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·ফরমালিনকে বিশুদ্ধ ফরমালডিহাইড ভাবা
- ·ফরমালিনের ঘনমাত্রা ১০০% ধরা
- ·ফরমালিন ও ফরমিক এসিড গুলিয়ে ফেলা — নামের সাদৃশ্য থাকলেও একটি অ্যালডিহাইড দ্রবণ, অন্যটি এসিড
Fuel value, octane number and combustion quality
জ্বালানি মান, অকটেন সংখ্যা ও দহন
একটি জ্বালানি কতটা ভালো তা দুইভাবে মাপা হয়। প্রথমটি জ্বালানি মান — একক ভর পুড়িয়ে কত তাপ পাওয়া যায়; এখানে হাইড্রোজেন সবচেয়ে উপরে, কারণ তার দহনে কেবল পানি হয়। দ্বিতীয়টি অকটেন সংখ্যা, যা কেবল পেট্রোল ইঞ্জিনের জন্য প্রযোজ্য — এটি বলে জ্বালানিটি চাপে অকালে ফেটে যাওয়া কতটা প্রতিরোধ করে। শাখাযুক্ত ও অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বনের অকটেন সংখ্যা বেশি, সরল শিকলের কম। স্পিরিট ল্যাম্পে ব্যবহৃত মিথিলেটেড স্পিরিট ধোঁয়াবিহীন শিখা দেয়।
জ্বালানি মান = একক ভরের জ্বালানির পূর্ণ দহনে নির্গত তাপ
হাইড্রোজেনের জ্বালানি মান সর্বোচ্চ; কয়লার তুলনামূলকভাবে কম
অকটেন সংখ্যা: আইসো-অকটেন = ১০০, n-হেপ্টেন = ০
শাখাযুক্ত ও অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বনে অকটেন সংখ্যা বেশি
ডিজেল ইঞ্জিনের মাপকাঠি সিটেন সংখ্যা, অকটেন নয়
অসম্পূর্ণ দহনে কার্বন মনোক্সাইড ও কালি তৈরি হয়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
অকটেন সংখ্যা কেবল পেট্রোলের মাপকাঠি — ডিজেলের প্রশ্নে সিটেন সংখ্যা খোঁজো।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·অকটেন সংখ্যাকে জ্বালানি মানের সমার্থক ভাবা — দুটি সম্পূর্ণ আলাদা রাশি
- ·সরল শিকলের অকটেন সংখ্যা বেশি ধরা — শাখা বাড়লে অকটেন বাড়ে
- ·ডিজেলের গুণ অকটেন সংখ্যায় মাপা
Glass, ceramics and cement — composition and behaviour
কাচ, সিরামিক ও সিমেন্টের উপাদান
সাধারণ কাচ তৈরি হয় বালি, সোডা অ্যাশ ও চুনাপাথর একসঙ্গে গলিয়ে। কাচের একটি বৈশিষ্ট্য পরীক্ষায় বারবার আসে — এর কোনো নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক নেই, কারণ কাচ কেলাসিত কঠিন নয়, বরং অতিশীতল তরল বা অকেলাসী পদার্থ। উত্তপ্ত করলে সে হঠাৎ গলে না, ক্রমশ নরম হতে থাকে। উপাদান বদলে কাচের ধর্ম বদলানো যায় — বোরন যোগ করলে তাপ-প্রতিরোধী বোরোসিলিকেট কাচ, সিসা যোগ করলে ভারী ঝলমলে ক্রিস্টাল কাচ। সিরামিক ও চিনামাটির ভিত্তি কেওলিন।
সাধারণ কাচ = বালি (SiO₂) + সোডা অ্যাশ (Na₂CO₃) + চুনাপাথর (CaCO₃)
কাচ অকেলাসী (amorphous) — নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক নেই, ক্রমশ নরম হয়
বোরোসিলিকেট (পাইরেক্স) কাচে B₂O₃ থাকে, তাপ-প্রসারণ কম, তাই তাপ-প্রতিরোধী
ফ্লিন্ট বা ক্রিস্টাল কাচে সিসার অক্সাইড, প্রতিসরাঙ্ক বেশি
কেওলিন বা চায়না ক্লে-র সংকেত Al₂O₃·2SiO₂·2H₂O
পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের প্রধান উপাদান ক্যালসিয়াম সিলিকেট ও অ্যালুমিনেট
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
'নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক নেই কোনটির' — উত্তর কাচ, কারণ এটি অকেলাসী।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·কাচকে কেলাসিত কঠিন ধরে নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক আছে ভাবা
- ·বোরোসিলিকেট কাচের তাপ-প্রতিরোধকে গলনাঙ্ক বেশি বলে ব্যাখ্যা করা — কারণ আসলে কম তাপীয় প্রসারণ
- ·কেওলিন ও চুনাপাথর গুলিয়ে ফেলা
The Haber process — conditions and why each is chosen
হেবার পদ্ধতিতে অ্যামোনিয়া উৎপাদন
নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন থেকে অ্যামোনিয়া তৈরির বিক্রিয়াটি তাপোৎপাদী এবং এতে গ্যাসের মোল সংখ্যা কমে যায়। লা শাতেলিয়ার নীতি বলে, চাপ বাড়ালে সাম্য কম মোলের দিকে অর্থাৎ অ্যামোনিয়ার দিকে সরবে, আর তাপমাত্রা কমালেও অ্যামোনিয়া বাড়বে। কিন্তু তাপমাত্রা খুব কমালে বিক্রিয়ার হার এত ধীর হয়ে যায় যে শিল্পে তা অচল। তাই বাস্তবে একটি আপসের তাপমাত্রা বেছে নেওয়া হয় এবং হারের ঘাটতি পুষিয়ে দিতে লোহার প্রভাবক ব্যবহার করা হয়।
N₂ + 3H₂ ⇌ 2NH₃; ΔH ঋণাত্মক (তাপোৎপাদী)
৪ মোল বিক্রিয়ক থেকে ২ মোল উৎপাদ — চাপ বাড়ালে উৎপাদ বাড়ে
শিল্পে চাপ প্রায় ২০০ বায়ুমণ্ডল, তাপমাত্রা প্রায় ৪৫০–৫০০ °C
প্রভাবক: সূক্ষ্ম বিভাজিত লোহা, সঙ্গে মলিবডেনাম প্রবর্ধক
প্রভাবক সাম্যের অবস্থান বদলায় না, কেবল সাম্যে পৌঁছাতে সময় কমায়
৪৫০ °C একটি আপস — নিম্ন তাপ ফলন বাড়ায় কিন্তু হার অগ্রহণযোগ্যভাবে কমায়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
প্রভাবক নিয়ে প্রশ্নে মনে রাখো — সে ফলন বাড়ায় না, কেবল দ্রুত সাম্যে পৌঁছে দেয়।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·প্রভাবক সাম্যের অবস্থান সরায় ভাবা — সে কেবল হার বাড়ায়
- ·তাপমাত্রা বাড়ালে ফলন বাড়বে ধরা — তাপোৎপাদী বিক্রিয়ায় উল্টো, তাপ বাড়ালে ফলন কমে
- ·চাপ বাড়ানোর কারণ হিসেবে হার বৃদ্ধি বলা — মূল কারণ মোল সংখ্যা কমা
Nanoparticles — scale and why properties change
ন্যানো কণা ও তার ধর্ম
ন্যানো কণা বলতে বোঝায় এক থেকে একশো ন্যানোমিটার মাপের কণা, যেখানে এক ন্যানোমিটার মিটারের একশো কোটি ভাগের এক ভাগ। এই মাপে এসে পদার্থের ধর্ম বদলে যায়, আর তার প্রধান কারণ পৃষ্ঠতলের অনুপাত। কণা যত ছোট, তার আয়তনের তুলনায় পৃষ্ঠতল তত বেশি, ফলে পৃষ্ঠে থাকা পরমাণুর ভাগ বেড়ে যায় এবং বিক্রিয়াশীলতা বাড়ে। স্বর্ণের ন্যানো কণা এর সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ — গুঁড়ো অবস্থায় সোনালি নয়, বরং কণার আকার অনুযায়ী লাল বা বেগুনি দেখায়।
ন্যানো কণার আকার ১–১০০ ন্যানোমিটার; ১ nm = ১০⁻⁹ মিটার
আকার কমলে পৃষ্ঠতল-আয়তন অনুপাত বাড়ে, তাই বিক্রিয়াশীলতা বাড়ে
স্বর্ণের ন্যানো কণা কলয়েডীয় দ্রবণে লাল বা বেগুনি বর্ণ দেয়
একই পদার্থ ন্যানো আকারে ভিন্ন রঙ, গলনাঙ্ক ও প্রভাবক ক্ষমতা দেখায়
কার্বন ন্যানোটিউব ও ফুলারিন কার্বনের ন্যানো রূপভেদ
ন্যানো কণা প্রভাবক, ওষুধ সরবরাহ ও সেন্সরে ব্যবহৃত হয়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
ন্যানো কণার ধর্ম বদলের কারণ জিজ্ঞাসা করলে উত্তর পৃষ্ঠতল-আয়তন অনুপাত, রাসায়নিক গঠন নয়।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·ন্যানো কণায় পদার্থের রাসায়নিক গঠন বদলে যায় ভাবা — গঠন এক, কেবল আকার আলাদা
- ·স্বর্ণের ন্যানো কণাকে সোনালি ধরা
- ·ন্যানোমিটার ও মাইক্রোমিটার গুলিয়ে ফেলা — হাজার গুণ পার্থক্য
Natural oils, extracts and their sources
প্রাকৃতিক তেল ও নির্যাসের উৎস
এই ভাগের প্রশ্নগুলো প্রায় সবসময় একটি জোড়া মেলানোর প্রশ্ন — কোন নির্যাস কোথা থেকে আসে, বা কোন পণ্যের প্রধান উপাদান কী। পাইন ওয়েল আসে পাইন গাছের রজন থেকে এবং তার প্রধান উপাদান টারপিনিওল। নারিকেল তেল থেকে পাওয়া লরাইল অ্যালকোহল ডিটারজেন্ট শিল্পের কাঁচামাল। প্রাকৃতিক কালো রঞ্জক আইভরি ব্ল্যাক তৈরি হয় হাড় বাতাসের অনুপস্থিতিতে পুড়িয়ে, তাই তার মূল উপাদান কার্বন। উৎস আর উপাদান একসঙ্গে মনে রাখলেই যথেষ্ট।
পাইন ওয়েলের প্রধান উপাদান টারপিনিওল, উৎস পাইন গাছের রজন
লরাইল অ্যালকোহলের প্রাকৃতিক উৎস নারিকেল তেল — ডিটারজেন্ট শিল্পে ব্যবহৃত
আইভরি ব্ল্যাক = হাড় বাতাসবিহীন অবস্থায় পুড়িয়ে পাওয়া কার্বন-সমৃদ্ধ কালো রঞ্জক
উদ্ভিজ্জ তেল অসম্পৃক্ত; হাইড্রোজেনেশনে সম্পৃক্ত হয়ে বনস্পতি ঘি হয়
সুগন্ধি তেল বাষ্প-পাতনে নিষ্কাশিত হয়
ময়েশ্চারাইজিং ক্রিমে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সরবিটল ব্যবহৃত হয়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
'প্রধান উপাদান' জিজ্ঞাসা করলে উৎস নয়, রাসায়নিক নামটি খোঁজো — পাইন ওয়েলের উত্তর টারপিনিওল, পাইন গাছ নয়।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·উৎস ও উপাদান গুলিয়ে ফেলা — প্রশ্ন কোনটি চাইছে তা না পড়া
- ·আইভরি ব্ল্যাককে হাতির দাঁত থেকে তৈরি ভাবা — নামের কারণে, বাস্তবে হাড় পুড়িয়ে
- ·উদ্ভিজ্জ তেলকে সম্পৃক্ত ধরা — অসম্পৃক্ততাই তার তরল থাকার কারণ
What optical fibre is made of and why
অপটিক্যাল ফাইবারের উপাদান
অপটিক্যাল ফাইবারের মূল উপাদান অত্যন্ত বিশুদ্ধ সিলিকা, অর্থাৎ সিলিকন ডাইঅক্সাইড। কাজটা করে দুই স্তরের কাচ — ভিতরের কোর-এর প্রতিসরাঙ্ক বাইরের ক্ল্যাডিং-এর চেয়ে সামান্য বেশি রাখা হয়, ফলে ভিতরে ঢোকা আলো বারবার পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনে ফিরে এসে বেরোতে পারে না। প্রতিসরাঙ্কের এই পার্থক্য তৈরি করা হয় কাচে অল্প পরিমাণ জার্মেনিয়াম বা বোরনের অক্সাইড মিশিয়ে। বিশুদ্ধতা এখানে সবচেয়ে জরুরি — সামান্য অপদ্রব্যও আলো শুষে নিয়ে সংকেত দুর্বল করে দেয়।
প্রধান উপাদান অতি বিশুদ্ধ সিলিকা, SiO₂
কোর-এর প্রতিসরাঙ্ক ক্ল্যাডিং-এর চেয়ে বেশি — এটাই পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের শর্ত
প্রতিসরাঙ্ক নিয়ন্ত্রণে GeO₂ বা B₂O₃ মেশানো হয়
সিলিকন ডাইঅক্সাইড বালির প্রধান উপাদান; বিশুদ্ধকরণ ছাড়া ব্যবহারযোগ্য নয়
প্লাস্টিক অপটিক্যাল ফাইবারও আছে, তবে দূরপাল্লার সংকেতে কাচই ব্যবহৃত হয়
বিশুদ্ধ সিলিকন (অর্ধপরিবাহী) ও সিলিকা (অক্সাইড) আলাদা পদার্থ
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
উত্তর সিলিকা বা SiO₂ — 'সিলিকন' বিকল্পটি আলাদা পদার্থ এবং প্রায় সবসময় ফাঁদ হিসেবে থাকে।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·সিলিকন ও সিলিকা গুলিয়ে ফেলা — একটি মৌল ও অর্ধপরিবাহী, অন্যটি তার অক্সাইড
- ·ক্ল্যাডিং-এর প্রতিসরাঙ্ক বেশি ধরা — তাহলে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনই হবে না
- ·ফাইবারকে ধাতব তার ভাবা — এতে বিদ্যুৎ নয়, আলো চলে
Petroleum fractions and what each is used for
পেট্রোলিয়াম উপজাত ও তাদের ব্যবহার
অপরিশোধিত তেল নিজে কোনো একক পদার্থ নয়, বরং নানা দৈর্ঘ্যের হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ। আংশিক পাতনে এদের আলাদা করা হয় স্ফুটনাঙ্কের ভিত্তিতে — ছোট শিকল আগে বাষ্প হয়ে উপরে ওঠে, বড় শিকল নিচে জমা থাকে। তাই স্তম্ভের উপর থেকে নিচে নামলে শিকল ক্রমশ লম্বা, স্ফুটনাঙ্ক ক্রমশ বেশি এবং তরল ক্রমশ ঘন হতে থাকে। কোন ভগ্নাংশ কোথায় ব্যবহৃত হয় সেই জোড়াটাই পরীক্ষায় জিজ্ঞাসা করা হয়।
উপর থেকে নিচে: গ্যাস → পেট্রোল/গ্যাসোলিন → ন্যাপথা → কেরোসিন → ডিজেল → লুব্রিকেটিং তেল → বিটুমিন
শিকল যত লম্বা, স্ফুটনাঙ্ক ও সান্দ্রতা তত বেশি, দহনযোগ্যতা তত কম
কেরোসিন জেট জ্বালানির ভিত্তি; বিটুমিন রাস্তা নির্মাণে
ন্যাপথা পেট্রোরসায়ন শিল্পের কাঁচামাল
ভাঙন (cracking) প্রক্রিয়ায় বড় শিকল ভেঙে বেশি চাহিদার পেট্রোল বানানো হয়
LPG-তে প্রধানত বিউটেন ও প্রোপেন; LNG-তে প্রধানত মিথেন
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
স্তম্ভে অবস্থান মনে না থাকলে শিকলের দৈর্ঘ্য ভাবো — যত ভারী ব্যবহার, তত লম্বা শিকল, তত নিচে।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·LPG ও LNG-এর উপাদান উল্টে দেওয়া
- ·ভগ্নাংশের ক্রম উল্টে দেওয়া — ডিজেলকে পেট্রোলের উপরে বসানো
- ·আংশিক পাতনকে রাসায়নিক পরিবর্তন ভাবা — এটি ভৌত পৃথকীকরণ
How soaps and detergents clean, and why hard water matters
সাবান ও ডিটারজেন্টের পরিষ্কারক ক্রিয়া
সাবানের অণুর একটি প্রান্ত পানিপ্রিয় আর অন্য প্রান্ত তেলপ্রিয়। ময়লা তেলের সঙ্গে লেগে থাকে, তাই সাবানের তেলপ্রিয় লেজ ময়লার ভিতরে ঢুকে যায় আর পানিপ্রিয় মাথা বাইরের দিকে থাকে; এভাবে ময়লা ছোট ছোট গোলকে ঘিরে ফেলা হয় এবং পানিতে ভেসে চলে যায়। খর পানিতে সাবান কাজ করতে পারে না, কারণ পানিতে থাকা ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম আয়ন সাবানের সঙ্গে বিক্রিয়া করে অদ্রবণীয় সর তৈরি করে ফেলে। ডিটারজেন্টের ক্যালসিয়াম লবণ দ্রবণীয়, তাই খর পানিতেও সে ফেনা দেয়।
সাবান = উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ
সাবান প্রস্তুতির প্রক্রিয়া সাপোনিফিকেশন — তেল বা চর্বি + ক্ষার
অণুর গঠন: পানিপ্রিয় (hydrophilic) মাথা + তেলপ্রিয় (hydrophobic) লেজ
ময়লা ঘিরে তৈরি গোলককে বলে মাইসেল
খর পানিতে সাবান অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম সর তৈরি করে
ডিটারজেন্ট সালফোনিক এসিডের লবণ; এর Ca ও Mg লবণ দ্রবণীয়, তাই খর পানিতেও কার্যকর
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
'খর পানিতে কোনটি কার্যকর' — উত্তর সবসময় ডিটারজেন্ট, সাবান নয়।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·সাবান ও ডিটারজেন্টের খর-পানি আচরণ উল্টে দেওয়া
- ·সাপোনিফিকেশনকে এস্টারীকরণ ভাবা — এটি এস্টারের ক্ষারীয় আর্দ্রবিশ্লেষণ, উল্টো দিক
- ·মাইসেলের গঠনে লেজ বাইরে ও মাথা ভিতরে ধরা
Toxic chemicals, pesticides and laboratory safety
বিষাক্ত রাসায়নিক ও নিরাপত্তা
কিছু রাসায়নিক অতি অল্প পরিমাণেই প্রাণঘাতী, আর তাদের বিষক্রিয়ার ধরনও আলাদা। সায়ানাইড শ্বসন-শৃঙ্খলের এনজাইম আটকে দিয়ে কোষকে অক্সিজেন ব্যবহার করতেই দেয় না। কার্বন মনোক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে অক্সিজেনের চেয়ে অনেক বেশি দৃঢ়ভাবে জুড়ে গিয়ে অক্সিজেন পরিবহন বন্ধ করে দেয়। ভারী ধাতু যেমন পারদ, সিসা ও ক্যাডমিয়াম শরীরে জমতে থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি করে। গবেষণাগারে গাঢ় এসিড মাপার সময় পিপেটে মুখ দিয়ে টানা নিষিদ্ধ — সবসময় যান্ত্রিক সহায়ক ব্যবহার করতে হয়।
পটাশিয়াম সায়ানাইড অতি বিষাক্ত — কোষীয় শ্বসনের এনজাইম নিষ্ক্রিয় করে
কার্বন মনোক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে অক্সিজেনের চেয়ে বহুগুণ দৃঢ়ভাবে যুক্ত হয়
ভারী ধাতু (Hg, Pb, Cd, As) দেহে সঞ্চিত হয়, দ্রুত নির্গত হয় না
ক্যাডমিয়াম দূষণে ইটাই-ইটাই রোগ; পারদ দূষণে মিনামাটা রোগ
DDT একটি ক্লোরিনযুক্ত কীটনাশক, পরিবেশে দীর্ঘস্থায়ী
গাঢ় এসিড মাপতে পিপেট ফিলার ব্যবহার করতে হয়, মুখে টানা নয়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
রোগের নাম আর ধাতুর জোড়া মনে রাখো — ইটাই-ইটাই ক্যাডমিয়াম, মিনামাটা পারদ।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·ইটাই-ইটাই ও মিনামাটা রোগের ধাতু উল্টে দেওয়া
- ·কার্বন মনোক্সাইডকে শ্বাসরোধী গ্যাস ভাবা — এটি অক্সিজেন পরিবহনে বাধা দেয়, বাতাস থেকে অক্সিজেন সরায় না
- ·সব ভারী ধাতুকে সমানভাবে দ্রুত নির্গত হয় ধরা