Distinguishing 1°, 2° and 3° alcohols in the lab
অ্যালকোহলের শ্রেণি আলাদা করার পরীক্ষা
তিন শ্রেণির অ্যালকোহল দেখতে একই রকম, কিন্তু বিকারকের সামনে আলাদা আচরণ করে। লুকাস বিকারক তৃতীয়ক অ্যালকোহলের সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গে ঘোলা করে দেয়, দ্বিতীয়কের ক্ষেত্রে কিছুক্ষণ লাগে, প্রাথমিকে ঠান্ডায় প্রায় কিছুই হয় না। উত্তপ্ত কপার প্রভাবকের সামনে প্রাথমিক অ্যালকোহল অ্যালডিহাইড দেয়, দ্বিতীয়ক কিটোন দেয়, আর তৃতীয়ক পানি হারিয়ে অ্যালকিন হয়ে যায়। এই দুই পরীক্ষা একসঙ্গে চালালে তিন শ্রেণি নিশ্চিতভাবে আলাদা হয়।
লুকাস বিকারক = গাঢ় HCl + অনার্দ্র ZnCl₂
লুকাস: ৩° তাৎক্ষণিক ঘোলা, ২° কয়েক মিনিটে, ১° ঠান্ডায় বিক্রিয়াহীন
উত্তপ্ত Cu প্রভাবক: ১° → অ্যালডিহাইড, ২° → কিটোন, ৩° → অ্যালকিন (নিরুদন)
ফেনল লুকাস বিকারকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে না
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
লুকাস পরীক্ষায় 'কোনটি সাড়া দেয় না' জিজ্ঞাসা করলে ফেনলও উত্তর হতে পারে — শুধু ১° অ্যালকোহল ভেবে বসে থাকবে না।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·লুকাসের ক্রম উল্টে ফেলা — দ্রুততম সাড়া ৩°-এর, ১°-এর নয়
- ·৩° অ্যালকোহল থেকে কিটোন পাওয়া যায় ভাবা — ৩°-এ কার্বনিল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় হাইড্রোজেনই নেই
- ·ফেনলকে সাধারণ অ্যারোমেটিক অ্যালকোহল ধরা
Physical properties of alcohols — boiling point and solubility
অ্যালকোহলের ভৌত ধর্ম
অ্যালকোহলের −OH গোষ্ঠী একদিকে হাইড্রোজেন দিতে পারে, অন্যদিকে অক্সিজেন দিয়ে হাইড্রোজেন গ্রহণ করতে পারে — তাই অণুরা নিজেদের মধ্যে হাইড্রোজেন বন্ধনের জালে বাঁধা পড়ে। এই বাঁধন ছিঁড়তে বেশি তাপ লাগে, ফলে সমান আণবিক ভরের হাইড্রোকার্বন বা ইথারের চেয়ে অ্যালকোহলের স্ফুটনাঙ্ক অনেক বেশি। একই বন্ধন পানির সঙ্গেও গড়ে ওঠে, তাই ছোট অ্যালকোহল পানিতে অবাধে মেশে। কিন্তু কার্বন শিকল লম্বা হতে থাকলে অণুর তেলবৎ অংশ বেড়ে যায় এবং পানিতে দ্রাব্যতা ক্রমশ কমে আসে।
−OH হাইড্রোজেন বন্ধনের দাতা ও গ্রহীতা দুটোই — তাই আন্তঃআণবিক আকর্ষণ প্রবল
সমভরের অ্যালকেন ও ইথারের চেয়ে অ্যালকোহলের স্ফুটনাঙ্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি
মিথানল, ইথানল ও প্রোপানল পানির সঙ্গে সব অনুপাতে মিশ্রণীয়
শিকল লম্বা হলে পানিতে দ্রাব্যতা কমে; উচ্চ অ্যালকোহল প্রায় অদ্রবণীয়
সমান কার্বনে শাখাযুক্ত অ্যালকোহলের স্ফুটনাঙ্ক সরল শিকলের চেয়ে কম
ইথানলের স্ফুটনাঙ্ক ৭৮ °C, পানির চেয়ে কম
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
স্ফুটনাঙ্ক বা দ্রাব্যতার তুলনার প্রশ্নে প্রথমেই দেখো কোন অণুতে O−H বা N−H আছে — সেটিই সবচেয়ে উঁচুতে থাকবে।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·আণবিক ভর দিয়ে স্ফুটনাঙ্কের ক্রম ঠিক করা — হাইড্রোজেন বন্ধন ভরের প্রভাব ছাপিয়ে যায়
- ·শাখাযুক্ত অ্যালকোহলের স্ফুটনাঙ্ক বেশি ভাবা — শাখা বাড়লে পৃষ্ঠসংস্পর্শ কমে, স্ফুটনাঙ্ক নামে
- ·সব অ্যালকোহলকে পানিতে সম্পূর্ণ মিশ্রণীয় ধরা — শিকল লম্বা হলে দ্রাব্যতা পড়ে যায়
Laboratory preparation of alcohols
অ্যালকোহলের গবেষণাগার প্রস্তুতি
অ্যালকোহল বানানোর দুটি পথ পরীক্ষায় ঘুরেফিরে আসে। প্রথমটি হ্যালোজেনো অ্যালকেনের আর্দ্রবিশ্লেষণ — জলীয় ক্ষারের সঙ্গে উত্তপ্ত করলে হ্যালোজেনের জায়গায় −OH বসে যায়। দ্বিতীয়টি গ্রিগনার্ড বিকারকের পথ, যেখানে কার্বনিল যৌগের সঙ্গে বিক্রিয়া করিয়ে তারপর জল যোগ করা হয়; এখানে কোন কার্বনিল বেছে নিলে কোন ডিগ্রির অ্যালকোহল পাওয়া যাবে সেটাই মূল কথা। ফরমালডিহাইড দিলে প্রাথমিক, অন্য অ্যালডিহাইড দিলে দ্বিতীয়ক, আর কিটোন দিলে তৃতীয়ক অ্যালকোহল মেলে।
R−X + NaOH(aq), উত্তাপ → R−OH (কেন্দ্রাকর্ষী প্রতিস্থাপন)
গ্রিগনার্ড বিকারক = R−MgX, শুষ্ক ইথারে প্রস্তুত
গ্রিগনার্ড + মিথান্যাল (HCHO) → ১° অ্যালকোহল
গ্রিগনার্ড + অন্য অ্যালডিহাইড → ২° অ্যালকোহল
গ্রিগনার্ড + কিটোন → ৩° অ্যালকোহল
গ্রিগনার্ড বিক্রিয়ায় পানি থাকলে বিকারক নষ্ট হয়ে যায়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
গ্রিগনার্ড দিয়ে ৩° অ্যালকোহল চাইলে কিটোন লাগবে — এই জোড়াটা প্রশ্নে সবচেয়ে বেশি আসে।
এখানে ভুল হয় (২)
- ·গ্রিগনার্ড + ফরমালডিহাইড থেকে ৩° অ্যালকোহল আশা করা — ক্রম উল্টে যাওয়া
- ·আর্দ্রবিশ্লেষণে জলীয়ের বদলে অ্যালকোহলীয় ক্ষার ধরা — অ্যালকোহলীয় KOH দিলে অ্যালকিন হয়, অ্যালকোহল নয়
Characteristic reactions of alcohols
অ্যালকোহলের বিক্রিয়া
অ্যালকোহলের বিক্রিয়াগুলো দুই ভাগে ভাবলে সহজ — কখনো O−H বন্ধন ভাঙে, কখনো C−O বন্ধন ভাঙে। সোডিয়ামের সঙ্গে বিক্রিয়ায় হাইড্রোজেন বেরিয়ে যায়, অর্থাৎ O−H ভাঙছে। PCl₅ বা গাঢ় HCl-এর সঙ্গে বিক্রিয়ায় −OH পুরোটাই হ্যালোজেন দিয়ে বদলে যায়, অর্থাৎ C−O ভাঙছে। আর গাঢ় সালফিউরিক এসিড দিয়ে উত্তপ্ত করলে পানি বেরিয়ে অ্যালকিন তৈরি হয় — শর্ত বদলে গেলে একই বিকারক থেকে ইথারও পাওয়া যায়।
2R−OH + 2Na → 2R−ONa + H₂ (O−H বিভাজন)
R−OH + PCl₅ → R−Cl + POCl₃ + HCl
R−OH, গাঢ় H₂SO₄, ~170 °C → অ্যালকিন (অপসারণ/নিরুদন)
R−OH, গাঢ় H₂SO₄, ~140 °C → ইথার
অ্যালকোহল + কার্বক্সিলিক এসিড, H⁺ → এস্টার (এস্টারীকরণ)
ইথানল থেকে ইথিন উৎপাদন একটি অপসারণ বিক্রিয়া
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
গাঢ় H₂SO₄-এর সঙ্গে তাপমাত্রা দেওয়া থাকলে সেটাই উত্তরের চাবি — ১৪০ °C-এ ইথার, ১৭০ °C-এ অ্যালকিন।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·নিরুদন ও এস্টারীকরণ গুলিয়ে ফেলা — দুটোতেই H₂SO₄ লাগে, কিন্তু একটিতে অ্যালকোহল একা, অন্যটিতে এসিডসহ
- ·১৪০ °C ও ১৭০ °C-এর উৎপাদ উল্টে দেওয়া
- ·সোডিয়াম বিক্রিয়ায় C−O ভাঙছে ভাবা — ভাঙে O−H
Carbonyl reactions and the aldehyde/ketone divide
কার্বনিল যৌগের বিক্রিয়া ও অ্যালডিহাইড-কিটোন বিভাজন
কার্বনিল কার্বনের উপর অক্সিজেন ইলেকট্রন টেনে রাখে, তাই সেই কার্বন আংশিক ধনাত্মক হয়ে যায় এবং কেন্দ্রাকর্ষী কণা সেখানেই আক্রমণ করে। এটাই অ্যালডিহাইড ও কিটোনের সব যোগ বিক্রিয়ার ভিত্তি। দুই শ্রেণির তফাত জারণে — অ্যালডিহাইডের কার্বনিল কার্বনে একটি হাইড্রোজেন থাকায় সে সহজে জারিত হয়ে এসিড হয়, কিটোনে সেই হাইড্রোজেন নেই তাই সাধারণ জারকে সে নিরুত্তর থাকে। এই একটি পার্থক্য থেকেই ফেলিং ও টলেন পরীক্ষা দাঁড়িয়ে আছে।
কার্বনিল কার্বন আংশিক ধনাত্মক, কেন্দ্রাকর্ষী আক্রমণের স্থান
অ্যালডিহাইড মৃদু জারকেও কার্বক্সিলিক এসিডে জারিত হয়; কিটোন হয় না
উভয়েই HCN যোগ করে সায়ানোহাইড্রিন দেয়
উভয়েই বিজারণে অ্যালকোহল দেয় — অ্যালডিহাইড ১°, কিটোন ২°
α-হাইড্রোজেনযুক্ত কার্বনিল যৌগ অ্যালডল ঘনীভবন দেয়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
'কোনটি জারিত হয় না' জিজ্ঞাসা করলে কিটোন খোঁজো; 'কোনটি বিজারণে ২° অ্যালকোহল দেয়' জিজ্ঞাসা করলেও কিটোন।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·কিটোনকে ফেলিং দ্রবণে সাড়া দেবে ভাবা — কার্বনিল আছে বলে মনে হয়, কিন্তু জারণযোগ্য হাইড্রোজেন নেই
- ·অ্যালডিহাইড বিজারণে ২° অ্যালকোহল আশা করা — পাওয়া যায় ১°
- ·যোগ বিক্রিয়াতেও দুই শ্রেণির আচরণ আলাদা ভাবা — যোগে দুটোই সাড়া দেয়, তফাত জারণে
Distinguishing aliphatic from aromatic amines
অ্যালিফেটিক ও অ্যারোমেটিক অ্যামিনের পার্থক্যকরণ
এটি এই অধ্যায়ের সবচেয়ে বেশিবার আসা একক প্রশ্ন। মূল কৌশল হলো ঠান্ডায় নাইট্রাস অ্যাসিড দিয়ে বিক্রিয়া করানো। অ্যারোমেটিক প্রাথমিক অ্যামিন ঠান্ডায় স্থায়ী ডায়াজোনিয়াম লবণ তৈরি করে, যা ক্ষারীয় দ্রবণে ফেনলের সঙ্গে মিশিয়ে দিলে গাঢ় রঙিন অ্যাজো যৌগ দেয় — চোখে দেখা রঙই প্রমাণ। অ্যালিফেটিক প্রাথমিক অ্যামিনের ডায়াজোনিয়াম লবণ ঠান্ডাতেও টেকে না, ভেঙে নাইট্রোজেন গ্যাস ছেড়ে দেয়। তাই একদিকে রঙ, অন্যদিকে বুদবুদ।
NaNO₂ + HCl ঠান্ডায় (০–৫ °C) নাইট্রাস অ্যাসিড দেয়
অ্যারোমেটিক ১° অ্যামিন → স্থায়ী ডায়াজোনিয়াম লবণ → ফেনল/ক্ষারে অ্যাজো রঞ্জক, কমলা-লাল বর্ণ
অ্যালিফেটিক ১° অ্যামিন → অস্থায়ী ডায়াজোনিয়াম → N₂ গ্যাসের বুদবুদ + অ্যালকোহল
কার্বিল অ্যামিন (আইসোসায়ানাইড) পরীক্ষা প্রাথমিক অ্যামিন শনাক্ত করে — CHCl₃ + ক্ষারে দুর্গন্ধ
ডায়াজোনিয়াম লবণের স্থায়িত্বের কারণ বলয়ের সঙ্গে অনুন্মেষ (resonance)
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
ঠান্ডা নাইট্রাস অ্যাসিডে রঙ এলে অ্যারোমেটিক, গ্যাস বেরোলে অ্যালিফেটিক — এই একটি জোড়া মনে রাখলেই চলে।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·কার্বিল অ্যামিন পরীক্ষাকে অ্যারোমেটিক-নির্দিষ্ট ভাবা — এটি প্রাথমিক অ্যামিন ধরে, শ্রেণি নয়
- ·দুই ক্ষেত্রেই ডায়াজোনিয়াম লবণ সমান স্থায়ী ধরে নেওয়া — স্থায়িত্বের পার্থক্যই পরীক্ষার ভিত্তি
- ·গরম অবস্থায় পরীক্ষা করা ভাবা — শর্তে ঠান্ডা থাকা আবশ্যক
Why some amines are stronger bases than others
অ্যামিনের ক্ষারীয় শক্তির তুলনা
অ্যামিনের ক্ষারত্ব আসে নাইট্রোজেনের মুক্তজোড় ইলেকট্রন থেকে — সেই জোড়াটি যত সহজলভ্য, ক্ষারত্ব তত বেশি। অ্যালকাইল গোষ্ঠী ইলেকট্রন ঠেলে দেয়, তাই নাইট্রোজেনের ঘনত্ব বাড়ে এবং অ্যালিফেটিক অ্যামিন অ্যামোনিয়ার চেয়ে বেশি ক্ষারীয় হয়। উল্টো দিকে বেনজিন বলয় সেই মুক্তজোড়কে নিজের ভিতরে টেনে ছড়িয়ে দেয়, ফলে অ্যানিলিনের ক্ষারত্ব অনেক কমে যায়। এই এক যুক্তিতেই তুলনার প্রশ্নগুলো সাজানো যায়।
ক্ষারত্বের উৎস নাইট্রোজেনের মুক্তজোড় ইলেকট্রন
অ্যালকাইল গোষ্ঠীর ইলেকট্রন-দানকারী প্রভাব ক্ষারত্ব বাড়ায়
জলীয় দ্রবণে সাধারণ ক্রম: ২° > ১° > ৩° > NH₃ > অ্যারোমেটিক অ্যামিন
৩° অ্যামিনে জলীয় দ্রবণে স্থানিক বাধা (steric) ক্ষারত্ব কমায়
অ্যানিলিনে মুক্তজোড় বলয়ে অনুন্মেষে যায়, তাই দুর্বল ক্ষার
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
অ্যানিলিন বনাম যেকোনো অ্যালিফেটিক অ্যামিন — অ্যালিফেটিকটিই বেশি ক্ষারীয়, ব্যতিক্রম নেই।
এখানে ভুল হয় (২)
- ·অ্যারোমেটিক বলয়কে ইলেকট্রন-দানকারী ভেবে অ্যানিলিনকে বেশি ক্ষারীয় বলা — বলয় বরং মুক্তজোড় টেনে নেয়
- ·৩° অ্যামিনকে সবচেয়ে ক্ষারীয় ধরা — গ্যাসীয় অবস্থায় হয়, জলীয় দ্রবণে স্থানিক বাধায় হয় না
Amine classes and naming
অ্যামিনের শ্রেণি ও নামকরণ
অ্যামিনের নাম দুই পদ্ধতিতে লেখা হয় — প্রচলিত নামে নাইট্রোজেনের সঙ্গে যুক্ত শিকলগুলোর নাম বলে শেষে অ্যামিন বসানো হয়, আর IUPAC পদ্ধতিতে মূল শিকলের নামের সঙ্গে অ্যামিনো উপসর্গ বা অ্যামিন প্রত্যয় জোড়া হয়। দুটি একই শিকল থাকলে ডাই, তিনটি থাকলে ট্রাই উপসর্গ বসে — সেখানেই ডিগ্রির খবরটা লুকিয়ে থাকে। ডাইমিথাইল অ্যামিন নাম শুনেই বোঝা যায় নাইট্রোজেনে দুটি মিথাইল আছে, তাই এটি দ্বিতীয়ক।
প্রচলিত নাম: শিকলের নাম + অ্যামিন (যেমন মিথাইল অ্যামিন, ডাইমিথাইল অ্যামিন)
ডাই/ট্রাই উপসর্গ = নাইট্রোজেনে দুটি/তিনটি শিকল = ২°/৩° অ্যামিন
অ্যানিলিন = ফিনাইল অ্যামিন, একটি অ্যারোমেটিক প্রাথমিক অ্যামিন
অ্যামিন ক্ষারীয় — নাইট্রোজেনের মুক্তজোড় ইলেকট্রন প্রোটন গ্রহণ করতে পারে
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
নামে 'ডাই' থাকলে দ্বিতীয়ক, 'ট্রাই' থাকলে তৃতীয়ক — নাম থেকেই ডিগ্রি পড়ে ফেলা যায়।
এখানে ভুল হয় (২)
- ·ডাইমিথাইল অ্যামিনকে প্রাথমিক ভাবা — দুটি মিথাইল মানেই দ্বিতীয়ক
- ·অ্যানিলিনকে অ্যালিফেটিক অ্যামিন ধরা
Electrophilic substitution reactions of benzene
বেনজিনের ইলেকট্রনাকর্ষী প্রতিস্থাপন
বেনজিনের চারটি ধ্রুপদী প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া প্রায় একই ছাঁচে চলে — একটি বিকারক জোড়া থেকে ইলেকট্রনাকর্ষী কণা তৈরি হয়, সেটি বলয়ে আক্রমণ করে, তারপর একটি হাইড্রোজেন বেরিয়ে যায় এবং বলয় আগের মতোই থাকে। কোন বিকারক জোড়া কোন উৎপাদ দেয়, আর কোন প্রভাবক লাগে — পরীক্ষায় সেটাই জিজ্ঞাসা করা হয়। সালফোনেশনের ক্ষেত্রে তাপমাত্রার শর্ত আলাদা করে মনে রাখতে হয়।
নাইট্রেশন: গাঢ় HNO₃ + গাঢ় H₂SO₄, ~৫০–৬০ °C → নাইট্রোবেনজিন
সালফোনেশন: গাঢ় H₂SO₄ বা ধূমায়িত H₂SO₄, উচ্চ তাপ → বেনজিন সালফোনিক এসিড
হ্যালোজেনেশন: Cl₂/Br₂ + অনার্দ্র AlCl₃ বা FeCl₃ → ক্লোরো/ব্রোমো বেনজিন
ফ্রিডেল-ক্রাফটস অ্যালকাইলেশন: R−Cl + অনার্দ্র AlCl₃ → অ্যালকাইল বেনজিন
সব ক্ষেত্রেই বলয় অটুট থাকে, একটি H প্রতিস্থাপিত হয়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
প্রশ্নে প্রভাবকের নাম দেওয়া থাকলে সেটাই বিক্রিয়ার নাম ধরিয়ে দেয় — অনার্দ্র AlCl₃ মানে হ্যালোজেনেশন বা ফ্রিডেল-ক্রাফটস।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·নাইট্রেশন ও সালফোনেশনের বিকারক গুলিয়ে ফেলা — দুটোতেই গাঢ় H₂SO₄ থাকে, তফাত HNO₃-এর উপস্থিতিতে
- ·AlCl₃-কে আর্দ্র অবস্থায় কাজ করবে ভাবা — পানি থাকলে প্রভাবক নষ্ট হয়
- ·প্রতিস্থাপনের বদলে যোগ উৎপাদ বেছে নেওয়া
Benzene structure and aromatic character
বেনজিনের গঠন ও অ্যারোমেটিক চরিত্র
বেনজিনে তিনটি দ্বিবন্ধন আছে বলে মনে হয়, কিন্তু ছয়টি C−C বন্ধনের দৈর্ঘ্যই সমান। কারণ π ইলেকট্রনগুলো কোনো নির্দিষ্ট জোড়া কার্বনের দখলে থাকে না, পুরো বলয়ে ছড়িয়ে থাকে। এই ছড়িয়ে থাকাই বেনজিনকে অস্বাভাবিক স্থায়িত্ব দেয়, আর সেই স্থায়িত্ব ধরে রাখতে বেনজিন যোগ বিক্রিয়া এড়িয়ে চলে — কারণ যোগ করলে বলয় ভাঙে। বদলে সে প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া করে, যেখানে একটি হাইড্রোজেন সরে গিয়ে অন্য কিছু বসে আর বলয় অটুট থাকে।
সংকেত C₆H₆, সমতলীয় ষড়ভুজ, সব C−C বন্ধন সমদীর্ঘ
প্রতিটি কার্বন sp² সংকরিত; ছয়টি p-ইলেকট্রন অসংশ্লিষ্ট (delocalised)
অসম্পৃক্ত হয়েও প্রধানত প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া করে, যোগ নয়
হাকেল নিয়ম: চক্রীয়, সমতলীয় ও (4n+2) π ইলেকট্রন থাকলে অ্যারোমেটিক
অ্যাসিটিলিনের তিনটি অণু উত্তপ্ত লোহার উপর গিয়ে বেনজিন দেয়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
'অসম্পৃক্ত হয়েও যোগ বিক্রিয়া করে না কেন' — উত্তর সব সময় বলয়ের অনুন্মেষজনিত স্থায়িত্ব।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·অসম্পৃক্ত মানেই যোগ বিক্রিয়া ধরে নেওয়া — বেনজিন এই সাধারণীকরণের ব্যতিক্রম
- ·বেনজিনে তিনটি দ্বিবন্ধন ও তিনটি একবন্ধন আছে ভাবা — বাস্তবে সব বন্ধন সমান
- ·অ্যালকিনের মতো ব্রোমিন পানির বর্ণ দূর করবে ভাবা — বেনজিন সাধারণ অবস্থায় করে না
The Cannizzaro reaction
ক্যানিজারো বিক্রিয়া
যে অ্যালডিহাইডের কার্বনিল কার্বনের পাশে কোনো α-হাইড্রোজেন নেই, সে গাঢ় ক্ষারের সঙ্গে উত্তপ্ত হলে অ্যালডল ঘনীভবন করতে পারে না — বদলে নিজেই নিজেকে জারিত ও বিজারিত করে ফেলে। দুটি অণুর একটি অ্যালকোহলে নেমে যায়, অন্যটি এসিডের লবণে উঠে যায়। ফরমালডিহাইডে এই বিক্রিয়া চালালে মিথাইল অ্যালকোহল ও ফরমেট লবণ পাওয়া যায়, আর এই জোড়াটিই পরীক্ষায় বারবার এসেছে।
শর্ত: α-হাইড্রোজেনবিহীন অ্যালডিহাইড + গাঢ় ক্ষার (NaOH/KOH)
2HCHO + KOH → CH₃OH + HCOOK
একই বিক্রিয়ায় একটি অণু জারিত ও অন্যটি বিজারিত হয় — এটি একটি অসমতাবিধান (disproportionation)
বেনজালডিহাইডেও ঘটে; অ্যাসিটালডিহাইডে ঘটে না (α-হাইড্রোজেন আছে)
α-হাইড্রোজেন থাকলে বদলে অ্যালডল ঘনীভবন হয়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
ফরমালডিহাইড + KOH দেখলেই মিথাইল অ্যালকোহল উত্তরের দিকে যাও — এটি ক্যানিজারো।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·ফরমালডিহাইড ও ক্ষার থেকে ফরমিক এসিড আশা করা — ক্ষারীয় মাধ্যমে উৎপাদ লবণ, মুক্ত এসিড নয়
- ·অ্যাসিটালডিহাইডেও ক্যানিজারো হবে ধরে নেওয়া — α-হাইড্রোজেন থাকায় সে অ্যালডল পথে যায়
- ·একে সাধারণ জারণ বিক্রিয়া ভাবা — এখানে জারক-বিজারক দুটোই একই যৌগ
Carbohydrates and natural organic products
শর্করা ও প্রাকৃতিক জৈব যৌগ
শর্করাকে ভাগ করা হয় আর্দ্রবিশ্লেষণে কী পাওয়া যায় তার ভিত্তিতে। মনোস্যাকারাইড আর ভাঙে না; ডাইস্যাকারাইড ভেঙে দুটি মনোস্যাকারাইড দেয়; পলিস্যাকারাইড ভেঙে অসংখ্য মনোস্যাকারাইড দেয়। স্টার্চ ও সেলুলোজ দুটোই গ্লুকোজের পলিমার, কিন্তু গ্লুকোজ একক জোড়া লাগার ধরন আলাদা হওয়ায় একটি আমাদের খাদ্য আর অন্যটি আঁশ। প্রাকৃতিক রঞ্জক ও সুগন্ধির প্রশ্নেও উৎস ও যৌগের জোড়াটাই জিজ্ঞাসা করা হয়।
মনোস্যাকারাইড: গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, গ্যালাক্টোজ
ডাইস্যাকারাইড: সুক্রোজ (গ্লুকোজ + ফ্রুক্টোজ), মলটোজ (গ্লুকোজ + গ্লুকোজ), ল্যাকটোজ (গ্লুকোজ + গ্যালাক্টোজ)
পলিস্যাকারাইড: স্টার্চ, সেলুলোজ, গ্লাইকোজেন — সবই গ্লুকোজের পলিমার
সুক্রোজের আর্দ্রবিশ্লেষণে সমপরিমাণ গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ মেলে
আইভরি ব্ল্যাক একটি প্রাকৃতিক কালো রঞ্জক, হাড় পুড়িয়ে তৈরি
ফলের গন্ধ ও স্বাদের পিছনে প্রধানত এস্টার ও জৈব অ্যাসিড
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
আর্দ্রবিশ্লেষণে কী পাওয়া যায় সেটাই শ্রেণির পরিচয় — সুক্রোজ থেকে দুটি ভিন্ন মনোস্যাকারাইড, মলটোজ থেকে দুটি একই।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·সুক্রোজের আর্দ্রবিশ্লেষণে দুটি গ্লুকোজ আশা করা — মলটোজে হয়, সুক্রোজে নয়
- ·সেলুলোজকে স্টার্চের সমান পুষ্টিমূল্যের ধরা — একলক এক হলেও সংযোগ আলাদা
- ·গ্লাইকোজেনকে উদ্ভিদের সঞ্চিত শর্করা ধরা — এটি প্রাণীর
Carboxylic acids, esters and anhydrides
কার্বক্সিলিক এসিড, এস্টার ও অ্যানহাইড্রাইড
কার্বক্সিলিক এসিডের অম্লত্ব আসে −COOH থেকে হাইড্রোজেন ছেড়ে দেওয়ার পর তৈরি হওয়া আয়নের স্থায়িত্ব থেকে — ঋণাত্মক আধান দুটি অক্সিজেনে ভাগ হয়ে যায়, তাই আয়নটি টেকে। এই কারণেই কার্বক্সিলিক এসিড অ্যালকোহলের চেয়ে অনেক বেশি অম্লীয়, যদিও দুটোতেই O−H আছে। এসিডের সঙ্গে অ্যালকোহল বিক্রিয়া করলে এস্টার হয়, আর দুই অণু এসিড থেকে পানি সরিয়ে নিলে অ্যানহাইড্রাইড হয়। ফলের গন্ধ ও স্বাদের পিছনে বেশিরভাগ সময় এস্টার আর জৈব অ্যাসিড থাকে।
R−COOH → R−COO⁻ + H⁺; ঋণাত্মক আধান অনুন্মেষে দুটি অক্সিজেনে বিস্তৃত
কার্বক্সিলিক এসিড NaHCO₃-এর সঙ্গে CO₂ দেয়; অ্যালকোহল দেয় না
এস্টারীকরণ: R−COOH + R′−OH, গাঢ় H₂SO₄ → R−COO−R′ + H₂O
ইথানোয়িক অ্যানহাইড্রাইড: (CH₃CO)₂O
হ্যালোজেন প্রতিস্থাপন এসিডের শক্তি বাড়ায় — ক্লোরো-অ্যাসিটিক এসিড অ্যাসিটিক এসিডের চেয়ে তীব্র
লেবুতে সাইট্রিক, আপেলে ম্যালিক, তেঁতুলে টারটারিক এসিড
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
হ্যালোজেন যত বেশি ও যত বেশি তড়িৎ ঋণাত্মক, এসিড তত তীব্র — ট্রাইক্লোরো > ডাইক্লোরো > মনোক্লোরো > অ্যাসিটিক।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·অ্যালকোহল ও কার্বক্সিলিক এসিডকে সমান অম্লীয় ভাবা — দুটোতেই O−H আছে, কিন্তু আয়নের স্থায়িত্ব সম্পূর্ণ আলাদা
- ·এস্টার ও অ্যানহাইড্রাইডের সংকেত গুলিয়ে ফেলা
- ·হ্যালোজেন যোগে এসিড দুর্বল হয় ভাবা — ক্রম উল্টো
Ortho-para versus meta directing groups
অর্থো-প্যারা ও মেটা নির্দেশক মূলক
বেনজিন বলয়ে একটি মূলক আগে থেকে বসে থাকলে পরের আক্রমণ যেখানে-সেখানে হয় না — প্রথম মূলকটিই ঠিক করে দেয় নতুন গোষ্ঠী কোথায় বসবে। যে মূলক বলয়ে ইলেকট্রন পাঠায়, সে অর্থো ও প্যারা অবস্থানকে ইলেকট্রন-সমৃদ্ধ করে, তাই আক্রমণ ওখানেই হয়। যে মূলক বলয় থেকে ইলেকট্রন টেনে নেয়, সে অর্থো-প্যারাকে বেশি নিঃস্ব করে ফেলে, ফলে তুলনামূলকভাবে কম নিঃস্ব মেটা অবস্থানে আক্রমণ হয়। হ্যালোজেন একটু আলাদা — সে বলয়কে নিষ্ক্রিয় করে, তবু অর্থো-প্যারা নির্দেশক।
অর্থো-প্যারা নির্দেশক: −OH, −NH₂, −OCH₃, −CH₃ ও অন্যান্য অ্যালকাইল, এবং হ্যালোজেন (−F, −Cl, −Br, −I)
মেটা নির্দেশক: −NO₂, −CHO, −COOH, −SO₃H, −CN, −COR
ইলেকট্রন-দানকারী মূলক বলয়কে সক্রিয় করে; ইলেকট্রন-আকর্ষী মূলক নিষ্ক্রিয় করে
হ্যালোজেন ব্যতিক্রম: নিষ্ক্রিয়কারী, কিন্তু অর্থো-প্যারা নির্দেশক
গাঢ় H₂SO₄-এর সঙ্গে ফেনলের বিক্রিয়ায় উচ্চ তাপে প্রধানত প্যারা-যৌগ মেলে
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
মূলকে একটি দ্বিবন্ধনযুক্ত অক্সিজেন বা নাইট্রোজেন থাকলে (−NO₂, −CHO, −COOH) মেটা নির্দেশক ধরে নাও — প্রায় সব ক্ষেত্রেই মিলে যায়।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·হ্যালোজেনকে মেটা নির্দেশক ধরা — নিষ্ক্রিয়কারী বলে মেটা মনে হয়, কিন্তু এরা অর্থো-প্যারা নির্দেশক
- ·−CH₃ কে নির্দেশক নয় ভেবে বাদ দেওয়া — অ্যালকাইল গোষ্ঠীও অর্থো-প্যারা নির্দেশক, তাই দুটি সঠিক বিকল্প থাকলে প্রশ্নই ত্রুটিপূর্ণ
- ·সক্রিয়তা ও নির্দেশনা একই জিনিস ভাবা — হ্যালোজেনেই দুটি আলাদা হয়ে যায়
Ethanol grades, fermentation and rectified spirit
ইথানল, গাঁজন ও রেকটিফাইড স্পিরিট
শিল্পে ইথানল তৈরি হয় শর্করার গাঁজনে, আর সেই গাঁজন চালায় ইস্টের এনজাইম। গ্লুকোজ থেকে ইথাইল অ্যালকোহল ও কার্বন ডাইঅক্সাইড তৈরি করে জাইমেজ এনজাইম — এই নামটি পরীক্ষায় সরাসরি জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। গাঁজনের পর পাতন করে যে ৯৫ শতাংশ ইথানল পাওয়া যায় তাকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলা হয়; সাধারণ পাতনে এর চেয়ে শুদ্ধ করা যায় না, কারণ ইথানল ও পানি একটি নির্দিষ্ট অনুপাতে একসঙ্গে ফোটে।
মলটেজ/ইনভার্টেজ শর্করাকে গ্লুকোজে ভাঙে; জাইমেজ গ্লুকোজকে ইথানলে পরিণত করে
C₆H₁₂O₆ → 2C₂H₅OH + 2CO₂ (জাইমেজ, ইস্ট)
রেকটিফাইড স্পিরিট ≈ ৯৫% ইথানল + ৫% পানি
পরম (absolute) অ্যালকোহল ≈ ১০০% — অনার্দ্র CaO বা বেনজিন যোগে পাতন করে পাওয়া যায়
ডিনেচার্ড/মিথিলেটেড স্পিরিটে বিষাক্ত মিথানল মেশানো থাকে
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
গ্লুকোজ → ইথানল ধাপে এনজাইমের নাম জাইমেজ — ডায়াস্টেজ বা মলটেজ আগের ধাপের।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·জাইমেজের বদলে ডায়াস্টেজ/মলটেজ/ইনভার্টেজ বেছে নেওয়া — সবই গাঁজন-শৃঙ্খলের এনজাইম, কিন্তু ভিন্ন ধাপের
- ·রেকটিফাইড স্পিরিটকে ১০০% অ্যালকোহল ভাবা
- ·রেকটিফাইড ও ডিনেচার্ড স্পিরিট গুলিয়ে ফেলা
Ethers — identification and physical behaviour
ইথার শনাক্তকরণ ও ভৌত ধর্ম
ইথারের অক্সিজেন দুটি কার্বনের মাঝখানে বসে থাকে, তাই তার হাতে কোনো হাইড্রোজেন নেই। ফলে ইথার অণুরা নিজেদের মধ্যে হাইড্রোজেন বন্ধন গড়তে পারে না, আর সেই একটি কারণেই সমান আণবিক ভরের অ্যালকোহলের চেয়ে ইথারের স্ফুটনাঙ্ক অনেক কম হয়। তবে পানির সঙ্গে ইথার হাইড্রোজেন বন্ধন গ্রহণ করতে পারে, তাই ছোট ইথার পানিতে কিছুটা দ্রবণীয়। PCl₅-এর সঙ্গে বিক্রিয়ায় ইথার দুটি অ্যালকাইল ক্লোরাইডে ভেঙে যায়।
সাধারণ সংকেত R−O−R′; অক্সিজেনে কোনো হাইড্রোজেন নেই
আন্তঃআণবিক হাইড্রোজেন বন্ধন গড়তে পারে না — তাই সমভরের অ্যালকোহলের চেয়ে স্ফুটনাঙ্ক কম
পানির সঙ্গে হাইড্রোজেন বন্ধন গ্রহণ করতে পারে — ছোট ইথার আংশিক দ্রবণীয়
R−O−R′ + PCl₅ → R−Cl + R′−Cl + POCl₃
গাঢ় H₂SO₄-এ ~১৪০ °C-এ অ্যালকোহল থেকে প্রস্তুত হয়
মেটামারিজম ইথারে সাধারণ (ডাইইথাইল ইথার ও মিথাইল প্রোপাইল ইথার)
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
স্ফুটনাঙ্ক তুলনার প্রশ্নে সবসময় জিজ্ঞাসা করো — অণুটি নিজেরা হাইড্রোজেন বন্ধন গড়তে পারে কি না।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·ইথারকে অ্যালকোহলের সমান স্ফুটনাঙ্কের ধরা — অক্সিজেন আছে বলে একই রকম মনে হয়, কিন্তু O−H নেই
- ·ইথার পানিতে সম্পূর্ণ অদ্রবণীয় ধরা — হাইড্রোজেন বন্ধন গ্রহণ করতে পারায় ছোট ইথার আংশিক দ্রবণীয়
- ·ইথার ও অ্যালকোহলের সংকেত পড়তে ভুল করা
Primary, secondary and tertiary — the counting rule
১°, ২°, ৩° নির্ণয়ের নিয়ম
অ্যালকোহল বা হ্যালাইডের ডিগ্রি ঠিক হয় কার্যকরী মূলক যে কার্বনে বসেছে, সেই কার্বনের সঙ্গে আর কতগুলো কার্বন জোড়া আছে তা দিয়ে। শূন্য বা একটি হলে প্রাথমিক, দুটি হলে দ্বিতীয়ক, তিনটি হলে তৃতীয়ক। মনে রাখার সহজ উপায় — মূলকযুক্ত কার্বনটিকে ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকা কার্বন-প্রতিবেশীদের গুনে ফেলা। মিথানলে প্রতিবেশী কার্বন নেই, তবু সেটিকে প্রাথমিক ধরা হয়।
১° অ্যালকোহল: −OH যুক্ত কার্বনে সর্বোচ্চ একটি কার্বন প্রতিবেশী
২° অ্যালকোহল: দুটি কার্বন প্রতিবেশী
৩° অ্যালকোহল: তিনটি কার্বন প্রতিবেশী
মিথানল (CH₃OH) প্রথাগতভাবে ১° হিসেবে গণ্য
একই নিয়ম অ্যালকাইল হ্যালাইডেও খাটে
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
কার্বন শিকলের মোট দৈর্ঘ্য নয়, শুধু −OH যুক্ত কার্বনটির প্রতিবেশী গোনো — এই একটাই নিয়ম।
এখানে ভুল হয় (২)
- ·অণুর মোট কার্বন সংখ্যা দিয়ে ডিগ্রি ঠিক করা — চার কার্বনের অ্যালকোহল ১°, ২° বা ৩° তিনটিই হতে পারে
- ·নাইট্রোজেনের নিয়ম অ্যালকোহলে প্রয়োগ করা — অ্যামিনে গোনা হয় N-এর কার্বন, অ্যালকোহলে কার্বনের কার্বন
Reading nitrogen-containing group formulas
নাইট্রোজেনযুক্ত মূলকের সংকেত পড়া
নাইট্রোজেনের তিনটি বন্ধন গড়ার ক্ষমতা থাকায় একই −NH₂ থেকে তিনটি ভিন্ন শ্রেণি তৈরি হতে পারে, আর পরীক্ষায় ঠিক সেখানেই ভুল হয়। নাইট্রোজেনের সঙ্গে কতগুলো কার্বন শিকল যুক্ত আছে — একটি, দুটি না তিনটি — সেই সংখ্যাই ডিগ্রি ঠিক করে। নাইট্রোজেনে কতটি হাইড্রোজেন আছে সেটা গুনলেও একই উত্তর মেলে, কারণ কার্বন বাড়লে হাইড্রোজেন কমে।
প্রাথমিক (1°) অ্যামিন: R−NH₂ — নাইট্রোজেনে একটি কার্বন
দ্বিতীয়ক (2°) অ্যামিন: R−NH−R′ — দুটি কার্বন
তৃতীয়ক (3°) অ্যামিন: R₃N — তিনটি কার্বন, নাইট্রোজেনে কোনো হাইড্রোজেন নেই
ডাইমিথাইল অ্যামিন = (CH₃)₂NH, একটি দ্বিতীয়ক অ্যামিন
অ্যামাইড (R−CONH₂) অ্যামিন নয় — নাইট্রোজেনের পাশে কার্বনিল আছে
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
অ্যামিনের ডিগ্রি গুনতে নাইট্রোজেনের হাতে কতগুলো কার্বন আছে গোনো — কার্বন শিকল কত লম্বা তাতে কিছু আসে যায় না।
এখানে ভুল হয় (২)
- ·অ্যালকোহলের নিয়মে অ্যামিনের ডিগ্রি গোনা — অ্যালকোহলে কার্বন গোনা হয় −OH যুক্ত কার্বনের, অ্যামিনে গোনা হয় নাইট্রোজেনের
- ·অ্যামাইডকে অ্যামিন ধরা — নামের সাদৃশ্য থাকলেও কার্বনিল থাকায় ধর্ম আলাদা
Functional group — definition and why it decides reactivity
কার্যকরী মূলক ও যৌগের ধর্ম
জৈব অণুর কার্বন শিকল প্রায় নিষ্ক্রিয়; অণুর আসল রাসায়নিক চরিত্র ঠিক করে দেয় শিকলের সঙ্গে যুক্ত ছোট্ট পরমাণু-গুচ্ছটি। এই গুচ্ছকেই বলা হয় কার্যকরী মূলক। একই মূলক যে অণুতেই বসুক, সেই অণু একই ধরনের বিক্রিয়া দেখাবে — তাই মিথানল আর ইথানল দুটোই অ্যালকোহলের মতো আচরণ করে, যদিও তাদের শিকলের দৈর্ঘ্য আলাদা। উল্টোভাবে, একই সংখ্যক কার্বন থাকলেও মূলক বদলে গেলে যৌগটি সম্পূর্ণ ভিন্ন শ্রেণির হয়ে যায়। এই কারণেই জৈব রসায়ন পড়া হয় শ্রেণি ধরে, একটি একটি যৌগ ধরে নয়।
কার্যকরী মূলক = অণুর যে অংশ তার রাসায়নিক ধর্ম নির্ধারণ করে
একই কার্যকরী মূলকযুক্ত যৌগগুলো একটি সমসারি (homologous series) গঠন করে
সমসারির পরপর দুই সদস্যের পার্থক্য একটি −CH₂− একক
শিকল লম্বা হলে ভৌত ধর্ম (স্ফুটনাঙ্ক, দ্রাব্যতা) বদলায়, রাসায়নিক ধর্ম বদলায় না
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
প্রশ্নে যৌগের নাম দেখে ঘাবড়াবে না — সংকেতে কোন মূলকটি আছে সেটাই আগে খোঁজো, শ্রেণি তখনই বেরিয়ে আসবে।
এখানে ভুল হয় (২)
- ·কার্বন সংখ্যা মিলিয়ে শ্রেণি ঠিক করা — কার্বন সংখ্যা শ্রেণি ঠিক করে না, মূলক করে
- ·সমসারি ও সমাণু গুলিয়ে ফেলা — সমসারির সদস্যদের আণবিক সংকেত আলাদা, সমাণুদের এক
Picking the correct example of a named class
শ্রেণির সঠিক উদাহরণ বাছাই
এই ধরনের প্রশ্নে শ্রেণির নাম দেওয়া থাকে আর চারটি যৌগের সংকেত দেওয়া থাকে — কোনটি সেই শ্রেণির, বলতে হবে। ফাঁদটা সাধারণত এমন হয় যে দুটি বিকল্পে একই পরমাণুগুলো থাকে, কিন্তু সাজানো আলাদা। তাই সংকেত পড়ার সময় শুধু কোন পরমাণু আছে দেখলে হবে না, কোন পরমাণু কার সঙ্গে বসে আছে দেখতে হবে। C₂H₆O সংকেতটি ইথানল হতে পারে, ডাইমিথাইল ইথারও হতে পারে।
C₂H₆O → ইথানল (CH₃CH₂OH) অথবা ডাইমিথাইল ইথার (CH₃OCH₃)
C₃H₆O → প্রোপানাল (অ্যালডিহাইড) অথবা অ্যাসিটোন (কিটোন)
C₂H₄O₂ → অ্যাসিটিক এসিড অথবা মিথাইল ফরমেট (এস্টার)
একই আণবিক সংকেত, ভিন্ন কার্যকরী মূলক = কার্যকরী মূলক সমাণুতা
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
আণবিক সংকেত এক হলেই শ্রেণি এক নয় — বিকল্পে গঠন দেওয়া থাকলে গঠনই দেখো।
এখানে ভুল হয় (২)
- ·আণবিক সংকেত মিলিয়ে উত্তর দেওয়া — একই সংকেতে দুই শ্রেণির যৌগ থাকতে পারে
- ·সংক্ষিপ্ত সংকেতে বন্ধনের ক্রম না পড়া — CH₃OCH₃ আর CH₃CH₂OH দেখতে কাছাকাছি
Matching a condensed formula to its functional group
সংকেত দেখে কার্যকরী মূলক চেনা
পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি আসা ধরনটি হলো — চারটি সংকেত দেওয়া থাকে, বলতে হবে কোনটি কোন শ্রেণির। কাজটা সহজ হয় যদি মূলকগুলোর সংকেত মুখস্থ না করে গঠন হিসেবে চেনো। −OH মানে একটি অক্সিজেন একদিকে কার্বন, অন্যদিকে হাইড্রোজেন ধরে আছে; −CHO-তে সেই অক্সিজেন কার্বনের সঙ্গে দ্বিবন্ধনে আছে আর কার্বনের হাতে একটি হাইড্রোজেন রয়ে গেছে; −COOH-এ একই কার্বনে দ্বিবন্ধনযুক্ত অক্সিজেন ও −OH দুটোই আছে। এই তিনটি আলাদা করতে পারলে অর্ধেক প্রশ্ন শেষ।
অ্যালকোহল: R−OH
অ্যালডিহাইড: R−CHO (কার্বনিল কার্বনে একটি H)
কিটোন: R−CO−R′ (কার্বনিল কার্বনের দুদিকেই কার্বন)
কার্বক্সিলিক এসিড: R−COOH
ইথার: R−O−R′
অ্যামিন: R−NH₂ (প্রাথমিক)
এস্টার: R−COO−R′
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
−CHO আর −COOH-এর পার্থক্য একটাই অক্সিজেন — বিকল্প পড়ার সময় O-এর সংখ্যা গুনে নাও।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·অ্যালডিহাইড ও কিটোন গুলিয়ে ফেলা — কার্বনিল কার্বনে হাইড্রোজেন থাকলে অ্যালডিহাইড, না থাকলে কিটোন
- ·ইথার ও অ্যালকোহল গুলিয়ে ফেলা — ইথারের অক্সিজেন দুই কার্বনের মাঝে, অ্যালকোহলের অক্সিজেন এক কার্বন ও এক হাইড্রোজেনের মাঝে
- ·এস্টার ও কার্বক্সিলিক এসিড গুলিয়ে ফেলা — এসিডে O−H আছে, এস্টারে সেই হাইড্রোজেনের জায়গায় কার্বন শিকল
Which group names the compound when several are present
একাধিক মূলক থাকলে নামকরণে অগ্রাধিকার
একটি অণুতে দুটি বা তিনটি কার্যকরী মূলক একসঙ্গে থাকলে নামকরণে সবাই সমান মর্যাদা পায় না। একটি মূলক মুখ্য ধরা হয় এবং তার নামেই যৌগের শ্রেণি ঠিক হয়; বাকিগুলো উপসর্গ হিসেবে বসে। অগ্রাধিকারের ক্রম মোটামুটি কার্বক্সিলিক এসিড থেকে শুরু হয়ে নিচের দিকে নামে। এই ক্রম জানা থাকলে হাইড্রক্সি অ্যাসিডের মতো যৌগকে ভুল শ্রেণিতে ফেলার সম্ভাবনা থাকে না।
অগ্রাধিকার ক্রম (উঁচু → নিচু): কার্বক্সিলিক এসিড > এসিড অ্যানহাইড্রাইড > এস্টার > অ্যামাইড > অ্যালডিহাইড > কিটোন > অ্যালকোহল > অ্যামিন
মুখ্য মূলক নামের শেষে প্রত্যয় (suffix) হিসেবে বসে
গৌণ মূলক নামের শুরুতে উপসর্গ (prefix) হিসেবে বসে — যেমন হাইড্রক্সি-, অক্সো-, অ্যামিনো-
হাইড্রক্সি অ্যাসিডে −COOH মুখ্য, −OH গৌণ — তাই এটি এসিড, অ্যালকোহল নয়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
যৌগে −COOH দেখলে সেটাই মুখ্য — −OH বা −NH₂ যত থাকুক, শ্রেণি এসিডই।
এখানে ভুল হয় (২)
- ·হাইড্রক্সি অ্যাসিডকে অ্যালকোহল বলা — −OH আছে বলে অ্যালকোহল ভেবে নেওয়া হয়, কিন্তু −COOH অগ্রাধিকারে উঁচুতে
- ·অ্যামিনো অ্যাসিডকে অ্যামিন শ্রেণিতে ফেলা — একই কারণে ভুল
Wet tests that identify a functional group
কার্যকরী মূলক শনাক্তকরণের পরীক্ষা
একটি অজানা জৈব যৌগ হাতে পেলে কোন শ্রেণির তা বোঝা যায় কয়েকটি নির্দিষ্ট বিকারক দিয়ে। প্রতিটি পরীক্ষার একটি চোখে দেখা ফল থাকে — বর্ণ পরিবর্তন, অধঃক্ষেপ বা গ্যাস নির্গমন — আর সেই ফলটাই পরীক্ষায় জিজ্ঞাসা করা হয়। পরীক্ষাগুলো মুখস্থ করার সময় বিকারক আর ফল দুটো জোড়া বেঁধে মনে রাখো, আলাদা করে নয়।
ফেলিং দ্রবণ + অ্যালডিহাইড → লালচে Cu₂O অধঃক্ষেপ; কিটোনে হয় না
টলেন বিকারক + অ্যালডিহাইড → রূপার আস্তরণ (silver mirror)
2,4-ডাইনাইট্রোফিনাইলহাইড্রাজিন + কার্বনিল যৌগ → কমলা-হলুদ অধঃক্ষেপ (অ্যালডিহাইড ও কিটোন দুটোতেই)
সোডিয়াম ধাতু + অ্যালকোহল বা কার্বক্সিলিক এসিড → H₂ গ্যাস
NaHCO₃ + কার্বক্সিলিক এসিড → CO₂ গ্যাস; অ্যালকোহলে হয় না
ফেনল + নিরপেক্ষ FeCl₃ → বেগুনি বর্ণ
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
ফেলিং ও টলেন দুটোই অ্যালডিহাইডকে ধরে, কিন্তু 2,4-DNP অ্যালডিহাইড-কিটোন দুটোকেই ধরে — 'কোনটি কিটোনকে আলাদা করে না' ধরনের প্রশ্নে এটাই উত্তর।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·2,4-DNP-কে অ্যালডিহাইড-নির্দিষ্ট ভাবা — এটি কার্বনিল-নির্দিষ্ট, শ্রেণি আলাদা করে না
- ·সোডিয়াম পরীক্ষাকে অ্যালকোহল-নির্দিষ্ট ভাবা — কার্বক্সিলিক এসিডেও H₂ ছাড়ে, তাই এটি একক প্রমাণ নয়
- ·ফেনলের FeCl₃ পরীক্ষা অ্যালকোহলেও হয় ভেবে নেওয়া — সাধারণ অ্যালকোহলে বেগুনি বর্ণ আসে না
General character of organic compounds
জৈব যৌগের সাধারণ বৈশিষ্ট্য
জৈব যৌগ প্রধানত সমযোজী বন্ধনে গঠিত, আয়নিক নয় — আর এই একটি কথা থেকেই বাকি বৈশিষ্ট্যগুলো বেরিয়ে আসে। আয়ন নেই মানে গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক তুলনামূলকভাবে কম, দ্রবণে বিদ্যুৎ পরিবহন প্রায় হয় না, আর পানির চেয়ে জৈব দ্রাবকেই এরা ভালো দ্রবীভূত হয়। একসময় ভাবা হত জৈব যৌগ কেবল জীবদেহেই তৈরি হয়; উইলার অজৈব অ্যামোনিয়াম সায়ানেট থেকে ইউরিয়া বানিয়ে সেই ধারণা ভেঙে দেন।
প্রধানত সমযোজী বন্ধনে গঠিত; আয়নিক বন্ধন বিরল
সাধারণত গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক কম, দহনযোগ্য
দ্রবণে বিদ্যুৎ পরিবহন করে না (ব্যতিক্রম কার্বক্সিলিক এসিডের মতো আয়নীভবনযোগ্য যৌগ)
জৈব দ্রাবকে ভালো দ্রবণীয়, পানিতে সাধারণত কম
ফ্রেডরিক উইলার (১৮২৮) অ্যামোনিয়াম সায়ানেট থেকে ইউরিয়া সংশ্লেষ করে জীবনীশক্তি মতবাদ খণ্ডন করেন
কার্বনের ক্যাটিনেশন ধর্মের কারণে জৈব যৌগের সংখ্যা এত বিপুল
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
'জৈব যৌগের জন্য কোনটি সত্য নয়' প্রশ্নে আয়নিক বন্ধন বা উচ্চ গলনাঙ্কের কথা থাকলে সেটাই উত্তর।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·জৈব যৌগকে আয়নিক ভাবা — কার্বক্সিলিক এসিড আয়নীভূত হয় বলে পুরো শ্রেণিকে আয়নিক ধরে ফেলা হয়
- ·সব জৈব যৌগকে পানিতে অদ্রবণীয় ধরা — অ্যালকোহল, শর্করা, নিম্ন এসিড দ্রবণীয়
- ·উইলারের সংশ্লেষকে জৈব থেকে জৈব রূপান্তর ভাবা — কাঁচামাল ছিল অজৈব
Alkyl halides — classification and substitution
অ্যালকাইল হ্যালাইড ও প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া
অ্যালকাইল হ্যালাইডে হ্যালোজেন ইলেকট্রন টেনে রাখায় সংলগ্ন কার্বন আংশিক ধনাত্মক হয়, আর সেখানেই কেন্দ্রাকর্ষী কণা আক্রমণ করে হ্যালোজেনকে সরিয়ে দেয়। প্রাথমিক হ্যালাইডে জায়গা খোলা থাকায় আক্রমণকারী সরাসরি পিছন দিক থেকে ঢুকে পড়ে — এটি SN2 পথ। তৃতীয়ক হ্যালাইডে চারপাশে শিকলের ভিড় থাকায় সেই পথ বন্ধ, তাই আগে হ্যালোজেন নিজে সরে গিয়ে কার্বোক্যাটায়ন তৈরি হয় — এটি SN1 পথ। শ্রেণি জানলে পথটাও জানা হয়ে যায়।
শ্রেণিবিভাগ ১°/২°/৩° নির্ধারিত হয় হ্যালোজেনযুক্ত কার্বনের কার্বন প্রতিবেশী গুনে
১° হ্যালাইড + NaOH(aq) → অ্যালকোহল, প্রধানত SN2
৩° হ্যালাইড প্রধানত SN1 পথে, কার্বোক্যাটায়ন মধ্যবর্তী হয়ে
অ্যালকোহলীয় KOH দিলে প্রতিস্থাপনের বদলে অপসারণ ঘটে, উৎপাদ অ্যালকিন
R−X + KCN → R−CN; R−X + NH₃ → অ্যামিন
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
জলীয় ক্ষার দিলে অ্যালকোহল, অ্যালকোহলীয় ক্ষার দিলে অ্যালকিন — শর্তের এই একটি শব্দই উত্তর বদলে দেয়।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·জলীয় ও অ্যালকোহলীয় ক্ষারের উৎপাদ গুলিয়ে ফেলা
- ·১° হ্যালাইডে SN1 পথ ধরা — কার্বোক্যাটায়ন স্থায়ী না হওয়ায় সে পথ অনুকূল নয়
- ·প্রতিস্থাপন ও অপসারণকে একই বিক্রিয়া ভাবা
Alkanes, alkenes, alkynes — structure, reactivity, fuels
অ্যালকেন, অ্যালকিন, অ্যালকাইন ও জ্বালানি
কার্বনের মধ্যে বন্ধনের সংখ্যা বাড়লে অণু ছোট হয় কিন্তু সক্রিয়তা বাড়ে। অ্যালকেনে শুধু একবন্ধন থাকায় ইলেকট্রন শক্তভাবে ধরা, তাই সে প্রধানত প্রতিস্থাপন করে এবং তুলনামূলকভাবে নিষ্ক্রিয়। অ্যালকিন ও অ্যালকাইনে π ইলেকট্রন আলগা হয়ে বাইরে ছড়িয়ে থাকে, তাই ইলেকট্রনাকর্ষী কণা সহজেই যোগ বিক্রিয়া করে ফেলে। জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের প্রশ্নে প্রধান উপাদান গ্যাসের নামটাই মূল — LNG-তে মিথেন, LPG-তে বিউটেন ও প্রোপেন।
অ্যালকেন CₙH₂ₙ₊₂, sp³, প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া প্রধান
অ্যালকিন CₙH₂ₙ, sp², যোগ বিক্রিয়া প্রধান; ব্রোমিন পানির বর্ণ দূর করে
অ্যালকাইন CₙH₂ₙ₋₂, sp, সবচেয়ে বেশি অসম্পৃক্ত
সক্রিয়তার ক্রম যোগ বিক্রিয়ায়: অ্যালকাইন ও অ্যালকিন > অ্যালকেন
LNG প্রধানত মিথেনসমৃদ্ধ; LPG প্রধানত বিউটেন ও প্রোপেন
তিন অণু অ্যাসিটিলিন উত্তপ্ত লোহায় বেনজিন দেয়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
ব্রোমিন পানির বর্ণ দূর হলে অসম্পৃক্ত — অ্যালকেন ও বেনজিন সাধারণ অবস্থায় বর্ণ দূর করে না।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·LNG ও LPG-এর প্রধান উপাদান উল্টে দেওয়া — LNG মিথেন, LPG বিউটেন-প্রোপেন
- ·অ্যালকেনকে যোগ বিক্রিয়ায় সক্রিয় ভাবা
- ·বেনজিনকে অ্যালকিনের মতো ব্রোমিন পানির বর্ণ দূর করবে ভাবা
Named industrial organic processes and their products
শিল্পে জৈব যৌগ উৎপাদনের নামকরা প্রণালী
শিল্প রসায়নের প্রশ্নগুলো সাধারণত প্রণালীর নাম আর উৎপাদের জোড়া ধরে আসে, বিক্রিয়ার খুঁটিনাটি নিয়ে নয়। তাই প্রতিটি প্রণালীর নাম, কাঁচামাল আর প্রধান উৎপাদ — এই তিনটি একসঙ্গে মনে রাখলে যথেষ্ট। ডাউ প্রণালী ক্লোরোবেনজিন থেকে ফেনল বানায়; ইথিন থেকে ইথিলিন গ্লাইকল হয়ে পলিয়েস্টার তৈরি হয়। কোন প্রণালী কোন শ্রেণির যৌগ দেয়, সেই সংযোগটাই আসল।
ডাউ প্রণালী: ক্লোরোবেনজিন + NaOH, উচ্চ তাপচাপ → ফেনল
কিউমিন প্রণালী: বেনজিন ও প্রোপিনের পথে ফেনল ও অ্যাসিটোন একসঙ্গে
ইথিন → ইথিলিন গ্লাইকল → টেরিলিন (পলিয়েস্টার) উৎপাদনের কাঁচামাল
ইথানল থেকে অ্যাসিটালডিহাইড প্রস্তুতিতে উত্তপ্ত কপার প্রভাবক
ফরমালিন = ফরমালডিহাইডের ~৪০% জলীয় দ্রবণ
ক্লোরোফরমে সামান্য ইথানল মেশানো হয় বিষাক্ত ফসজিন গ্যাস তৈরি রুখতে
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
প্রণালীর নাম চেনা না থাকলে কাঁচামাল দেখে অনুমান করো — ক্লোরোবেনজিন মানে ফেনলের দিকে যাওয়া।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·ডাউ প্রণালীর উৎপাদ হিসেবে বেনজিন বা অ্যানিলিন বাছা — উৎপাদ ফেনল
- ·ফরমালিনকে বিশুদ্ধ ফরমালডিহাইড ভাবা — এটি জলীয় দ্রবণ
- ·ক্লোরোফরমে ইথানল যোগের কারণ হিসেবে দ্রাব্যতা বলা — কারণ ফসজিন গঠন প্রতিরোধ
Types of isomerism and the conditions for each
সমাণুতার প্রকার ও শর্ত
একই আণবিক সংকেতের অণুরা ভিন্ন হতে পারে দুইভাবে — পরমাণুর সংযোগক্রম আলাদা হলে গঠনগত সমাণুতা, আর সংযোগক্রম এক থেকে শুধু ত্রিমাত্রিক বিন্যাস আলাদা হলে ত্রিমাত্রিক সমাণুতা। জ্যামিতিক সমাণুতা পেতে দ্বিবন্ধন লাগে এবং দ্বিবন্ধনের দুই কার্বনের প্রত্যেকটিতে দুটি আলাদা গোষ্ঠী থাকতে হয় — একটি কার্বনে দুটি একই গোষ্ঠী থাকলেই সিস-ট্রান্স অসম্ভব। আলোকক্রিয়াশীলতার জন্য চাই অসমাণু কার্বন, অর্থাৎ চারটি ভিন্ন গোষ্ঠীযুক্ত একটি কার্বন।
গঠনগত সমাণুতা: শিকল, স্থান, কার্যকরী মূলক, মেটামারিজম, টটোমারিজম
জ্যামিতিক (সিস-ট্রান্স) সমাণুতার শর্ত: দ্বিবন্ধন + প্রতিটি দ্বিবন্ধন-কার্বনে দুটি ভিন্ন গোষ্ঠী
আলোকক্রিয়াশীলতার শর্ত: অন্তত একটি অসমাণু (chiral) কার্বন — চারটি ভিন্ন গোষ্ঠী
টটোমারিজম কিটো ও এনল রূপের মধ্যে গতিশীল সাম্য
মেটামারিজমে কার্যকরী মূলক এক, কিন্তু তার দুপাশে শিকলের বিভাজন আলাদা (ইথারে সাধারণ)
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
সিস-ট্রান্স সম্ভব কি না জানতে দ্বিবন্ধনের প্রতিটি কার্বনের দুই পাশ আলাদা কি না দেখো — একটাতেও দুটি একই গোষ্ঠী পেলে উত্তর 'না'।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·শুধু দ্বিবন্ধন দেখেই জ্যামিতিক সমাণুতা ধরে নেওয়া — গোষ্ঠীর শর্তটিও লাগে
- ·টটোমারিজমকে অনুন্মেষ (resonance) ভাবা — টটোমারে পরমাণু সরে যায়, অনুন্মেষে শুধু ইলেকট্রন
- ·সমাণু ও সমসারি গুলিয়ে ফেলা — সমাণুদের আণবিক সংকেত এক, সমসারির আলাদা
Addition versus condensation polymers and their monomers
পলিমারের প্রকার ও একলক চেনা
পলিমার তৈরির দুটি পথ আছে। যোগ পলিমারকরণে একলকগুলো দ্বিবন্ধন খুলে একে অন্যের সঙ্গে জুড়ে যায়, কিছুই বেরিয়ে যায় না — তাই পলিমারের সংকেত একলকের গুণিতক হয়। ঘনীভবন পলিমারকরণে দুই প্রান্তের কার্যকরী মূলক বিক্রিয়া করে এবং প্রতিটি জোড়ায় একটি ছোট অণু, সাধারণত পানি, বেরিয়ে যায়। প্রশ্নে সাধারণত পলিমারের নাম দিয়ে একলক জিজ্ঞাসা করা হয়, তাই জোড়াগুলো মুখস্থ থাকা দরকার।
যোগ পলিমার: পলিথিন (ইথিন), PVC (ভিনাইল ক্লোরাইড), পলিস্টাইরিন (স্টাইরিন), টেফলন (টেট্রাফ্লুরো ইথিন)
ঘনীভবন পলিমার: নাইলন-৬,৬ (হেক্সামিথিলিন ডাইঅ্যামিন + অ্যাডিপিক এসিড), টেরিলিন/পলিয়েস্টার (ইথিলিন গ্লাইকল + টেরেফথ্যালিক এসিড)
টেফলনের রাসায়নিক নাম পলিটেট্রাফ্লুরো ইথিলিন — নন-স্টিক আস্তরণে ব্যবহৃত
যোগ পলিমারকরণে উপজাত নেই; ঘনীভবনে পানি বা অনুরূপ ছোট অণু বেরোয়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
একলকে দ্বিবন্ধন থাকলে যোগ পলিমার; দুই ভিন্ন একলক থাকলে ঘনীভবন পলিমার।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·টেরিলিনের একলক হিসেবে শুধু একটি যৌগ বাছা — ঘনীভবন পলিমারে দুটি একলক লাগে
- ·টেফলনকে ঘনীভবন পলিমার ধরা — এটি টেট্রাফ্লুরো ইথিনের যোগ পলিমার
- ·নাইলনকে যোগ পলিমার ধরা