Blocks, and what counts as a representative element
ব্লক ও আদর্শ মৌলের শ্রেণিবিভাগ
শেষ ইলেকট্রনটি কোন উপকক্ষে ঢুকেছে তার ভিত্তিতে পর্যায় সারণিকে চারটি ব্লকে ভাগ করা হয়। s ও p ব্লকের মৌলগুলোকে একসঙ্গে বলা হয় আদর্শ বা প্রতিনিধিত্বমূলক মৌল, কারণ এদের ধর্ম নিয়মিত ও অনুমানযোগ্যভাবে বদলায়। d-ব্লকের মৌলগুলো অবস্থান্তর মৌল, আর f-ব্লকের মৌলগুলো অন্তঃঅবস্থান্তর। একটি সূক্ষ্ম জায়গা আছে — নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো p-ব্লকে থাকলেও তাদের বাইরের কক্ষ পূর্ণ বলে অনেক শ্রেণিবিভাগে এদের আদর্শ মৌলের বাইরে রাখা হয়, আর সেই সূক্ষ্মতাই প্রশ্নে ধরা হয়।
s-ব্লক: গ্রুপ ১ ও ২ (ক্ষার ধাতু ও মৃৎক্ষার ধাতু)
p-ব্লক: গ্রুপ ১৩ থেকে ১৮
d-ব্লক: অবস্থান্তর মৌল, গ্রুপ ৩ থেকে ১২
f-ব্লক: ল্যান্থানাইড ও অ্যাক্টিনাইড, অন্তঃঅবস্থান্তর মৌল
আদর্শ মৌল = s ও p ব্লকের মৌল (নিষ্ক্রিয় গ্যাস সাধারণত বাদ)
ধাতু, অধাতু ও ধাতুকল্প — এই ভাগ ব্লকের ভাগ থেকে আলাদা; ধাতুকল্প সারণির সিঁড়ি বরাবর অবস্থিত
হাইড্রোজেনকে গ্রুপ IA ও গ্রুপ VIIA দুই জায়গাতেই বসানোর যুক্তি আছে — এক ইলেকট্রন ছেড়ে H⁺ দেয় বলে ক্ষার ধাতুর মতো, আবার এক ইলেকট্রন নিয়ে ধাতব হাইড্রাইডে H⁻ দেয় বলে হ্যালোজেনের মতো
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
আদর্শ মৌল জিজ্ঞাসা করলে s ও p ব্লক ভাবো — কিন্তু নিষ্ক্রিয় গ্যাস বিকল্পে থাকলে সতর্ক হও।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·অবস্থান্তর মৌলকে আদর্শ মৌল ধরা — এরা d-ব্লকের, আলাদা শ্রেণি
- ·ধাতুকল্পকে আলাদা ব্লক ভাবা — এটি ধর্মভিত্তিক ভাগ, ব্লকভিত্তিক নয়
- ·f-ব্লককে d-ব্লকের অংশ ধরা
Catenation and allotropy across the elements
ক্যাটিনেশন ধর্ম ও রূপভেদ
ক্যাটিনেশন হলো একটি মৌলের নিজের পরমাণুর সঙ্গে দীর্ঘ শৃঙ্খল বা বলয় গড়ার ক্ষমতা। কার্বনে এই ক্ষমতা সবচেয়ে প্রবল, কারণ কার্বন-কার্বন বন্ধন অত্যন্ত দৃঢ় এবং কার্বন পরমাণু ছোট। এই একটি ধর্মের কারণেই জৈব যৌগের সংখ্যা লক্ষ ছাড়িয়ে যায়, অথচ অন্য মৌলে তা হয় না — সিলিকনেও ক্যাটিনেশন আছে, কিন্তু Si−Si বন্ধন দুর্বল বলে শৃঙ্খল ছোট থাকে। রূপভেদ আলাদা ধারণা: একই মৌল ভিন্ন গঠনে সাজলে ভিন্ন ভৌত ধর্মের রূপ তৈরি হয়। ফসফরাসের সাদা রূপ এত সক্রিয় যে বাতাসে নিজে থেকেই জ্বলে ওঠে, তাই তাকে পানির নিচে রাখা হয়।
ক্যাটিনেশন = নিজের পরমাণুর সঙ্গে শৃঙ্খল বা বলয় গঠনের ক্ষমতা
কার্বনে সর্বাধিক; ক্রম কার্বন > সিলিকন > জার্মেনিয়াম
কারণ: C−C বন্ধন দৃঢ় ও কার্বন পরমাণু ছোট
সালফারেও উল্লেখযোগ্য ক্যাটিনেশন আছে — S₈ বলয়
ফসফরাসের রূপভেদ: সাদা, লাল ও কালো
সাদা ফসফরাস বাতাসে স্বতঃপ্রজ্বলিত হয়, তাই পানির নিচে সংরক্ষণ করা হয়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
সাদা ফসফরাস পানির নিচে রাখা হয় কেন — বাতাসের অক্সিজেনে সে নিজে থেকে জ্বলে ওঠে।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·ক্যাটিনেশন ও রূপভেদকে একই ধারণা ভাবা
- ·সিলিকনের ক্যাটিনেশনকে কার্বনের সমান ধরা — Si−Si বন্ধন অনেক দুর্বল
- ·লাল ফসফরাসকেও স্বতঃপ্রজ্বলনশীল ধরা — কেবল সাদা রূপটি
Element-specific facts the exam repeatedly asks
নির্দিষ্ট মৌল সম্পর্কে পরীক্ষায় বারবার আসা তথ্য
কিছু প্রশ্ন কোনো প্রবণতা বা নিয়ম পরীক্ষা করে না, বরং একটি নির্দিষ্ট মৌল সম্পর্কে একটিমাত্র তথ্য জানতে চায়। এগুলোর জন্য বোঝার কিছু নেই, কিন্তু এড়ানোও যায় না, কারণ এই ধাঁচের প্রশ্ন নিয়মিত আসে। মনে রাখার সুবিধার জন্য এদের 'সবচেয়ে বেশি' ও 'একমাত্র' — এই দুই দলে ভাগ করে নেওয়া যায়। ভূত্বকে সবচেয়ে বেশি মৌল অক্সিজেন, সবচেয়ে বেশি ধাতু অ্যালুমিনিয়াম; কক্ষ তাপমাত্রায় একমাত্র তরল ধাতু পারদ, একমাত্র তরল অধাতু ব্রোমিন। এভাবে জোড়া বেঁধে রাখলে বিকল্পের মধ্যে ফাঁদ চেনা সহজ হয়।
ভূত্বকে সর্বাধিক প্রাচুর মৌল অক্সিজেন; সর্বাধিক প্রাচুর ধাতু অ্যালুমিনিয়াম
কক্ষ তাপমাত্রায় একমাত্র তরল ধাতু পারদ; একমাত্র তরল অধাতু ব্রোমিন
সবচেয়ে তড়িৎ ঋণাত্মক মৌল ফ্লোরিন
সবচেয়ে কম আয়নীকরণ শক্তি (স্থায়ী মৌলে) সিজিয়ামের
সবচেয়ে হালকা মৌল হাইড্রোজেন; সবচেয়ে হালকা ধাতু লিথিয়াম
সবচেয়ে কঠিন প্রাকৃতিক পদার্থ হীরা; সর্বোচ্চ গলনাঙ্কের ধাতু টাংস্টেন
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
'সবচেয়ে বেশি মৌল' আর 'সবচেয়ে বেশি ধাতু' আলাদা প্রশ্ন — শব্দটি না পড়লে অক্সিজেন আর অ্যালুমিনিয়াম গুলিয়ে যাবে।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·ভূত্বকের সর্বাধিক প্রাচুর মৌল হিসেবে অ্যালুমিনিয়াম বলা — সেটি ধাতুদের মধ্যে সর্বাধিক, মৌলদের মধ্যে নয়
- ·সবচেয়ে হালকা ধাতু হিসেবে হাইড্রোজেন বলা — হাইড্রোজেন ধাতু নয়
- ·একমাত্র তরল ধাতু ও একমাত্র তরল অধাতু গুলিয়ে ফেলা
The named groups and their characteristic behaviour
গ্রুপভিত্তিক মৌল পরিবার
কয়েকটি গ্রুপের নিজস্ব নাম আছে, কারণ তাদের সদস্যদের ধর্ম বিশেষভাবে সদৃশ। গ্রুপ এক-এর ক্ষার ধাতুরা বাইরের একটিমাত্র ইলেকট্রন সহজে ছেড়ে দেয়, তাই এরা অত্যন্ত সক্রিয় এবং পানির সঙ্গে তীব্র বিক্রিয়া করে। গ্রুপ দুই-এর মৃৎক্ষার ধাতু দুটি ইলেকট্রন ছাড়ে, তাই সক্রিয় হলেও ক্ষার ধাতুর চেয়ে কম। গ্রুপ সতেরো-র হ্যালোজেনদের একটি ইলেকট্রন কম থাকে, তাই এরা ইলেকট্রন নিতে ব্যাকুল এবং প্রবল জারক। গ্রুপ আঠারো-র নিষ্ক্রিয় গ্যাসের কক্ষ পূর্ণ, তাই এরা প্রায় কিছুই করে না।
গ্রুপ ১ ক্ষার ধাতু: বাইরের ১টি ইলেকট্রন, অত্যন্ত সক্রিয়, নিচে নামলে সক্রিয়তা বাড়ে
গ্রুপ ২ মৃৎক্ষার ধাতু: বাইরের ২টি ইলেকট্রন
গ্রুপ ১৭ হ্যালোজেন: বাইরের ৭টি ইলেকট্রন, প্রবল জারক, নিচে নামলে সক্রিয়তা কমে
গ্রুপ ১৮ নিষ্ক্রিয় গ্যাস: পূর্ণ বাইরের কক্ষ
ধাতুতে গ্রুপে নিচে নামলে সক্রিয়তা বাড়ে; অধাতুতে কমে — দুই প্রবণতা বিপরীত
ক্ষার ধাতু কেরোসিনে সংরক্ষণ করা হয়, কারণ এরা বাতাস ও পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করে
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
ধাতু আর অধাতুতে সক্রিয়তার প্রবণতা উল্টো — ক্ষার ধাতুতে নিচে নামলে বাড়ে, হ্যালোজেনে কমে।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·হ্যালোজেনেও নিচে নামলে সক্রিয়তা বাড়ে ধরা — ধাতুর নিয়ম অধাতুতে প্রয়োগ করা
- ·মৃৎক্ষার ধাতুকে ক্ষার ধাতুর চেয়ে বেশি সক্রিয় ধরা
- ·নিষ্ক্রিয় গ্যাসকে সম্পূর্ণ বিক্রিয়াহীন ধরা — ভারী নিষ্ক্রিয় গ্যাস যৌগ গঠন করে
Halogens — trends in state, reactivity and oxidising power
হ্যালোজেনের ধর্ম ও প্রবণতা
হ্যালোজেনরা গ্রুপ সতেরোতে বসে এবং প্রত্যেকের বাইরের কক্ষে সাতটি ইলেকট্রন, তাই একটি ইলেকট্রন পেলেই এদের কক্ষ পূর্ণ হয় — এই কারণেই এরা প্রবল জারক। গ্রুপে নিচে নামলে পরমাণু বড় হয়, নিউক্লিয়াস থেকে বাইরের কক্ষের দূরত্ব বাড়ে, তাই ইলেকট্রন টেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং জারণক্ষমতা কমে। তাই ফ্লোরিন সবচেয়ে প্রবল জারক আর আয়োডিন সবচেয়ে দুর্বল। ভৌত অবস্থাতেও একটি পরিষ্কার প্রবণতা আছে — ফ্লোরিন ও ক্লোরিন গ্যাস, ব্রোমিন তরল, আয়োডিন কঠিন, কারণ নিচে নামলে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বাড়ে।
বাইরের কক্ষে ৭টি ইলেকট্রন; সবাই দ্বিপরমাণুক অণু গঠন করে
কক্ষ তাপমাত্রায়: F₂ ও Cl₂ গ্যাস, Br₂ তরল, I₂ কঠিন
জারণক্ষমতার ক্রম: F₂ > Cl₂ > Br₂ > I₂
উপরের হ্যালোজেন নিচেরটিকে তার লবণ থেকে স্থানচ্যুত করতে পারে
ব্রোমিন একমাত্র অধাতু যা কক্ষ তাপমাত্রায় তরল
আয়োডিন উত্তপ্ত করলে গলে না, সরাসরি বেগুনি বাষ্পে ঊর্ধ্বপাতিত হয়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
ব্রোমিন কক্ষ তাপমাত্রায় তরল একমাত্র অধাতু, পারদ একমাত্র তরল ধাতু — এই জোড়াটি প্রায়ই একসঙ্গে জিজ্ঞাসা হয়।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·গ্রুপে নিচে নামলে হ্যালোজেনের সক্রিয়তা বাড়ে ধরা — ধাতুর নিয়ম উল্টো করে প্রয়োগ
- ·আয়োডিনকে উত্তাপে গলে যায় ভাবা — এটি ঊর্ধ্বপাতিত হয়
- ·ফ্লোরিনকে দুর্বলতম জারক ধরা — সে সবচেয়ে প্রবল
Heavy metals and element classification by property
ভারী ধাতু ও ধর্মভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ
ভারী ধাতু বলতে বোঝানো হয় তুলনামূলকভাবে বেশি ঘনত্বের ধাতু, সাধারণত পানির পাঁচ গুণের বেশি ঘনত্ব যাদের। শব্দটি রসায়নের কড়া সংজ্ঞা নয়, বরং ব্যবহারিক — আর প্রায় সবসময় বিষাক্ততার প্রসঙ্গে আসে, কারণ এই ধাতুগুলো দেহে জমে ও ভাঙে না। সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়াম এই দলের পরিচিত সদস্য; আর্সেনিক প্রযুক্তিগতভাবে ধাতুকল্প হলেও একই দলে গোনা হয়। উল্টোদিকে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো ক্ষার ধাতুর ঘনত্ব এত কম যে এরা পানিতে ভাসে — এদের বলা হয় হালকা ধাতু।
ভারী ধাতু: ঘনত্ব সাধারণত ৫ g/cm³-এর বেশি
উদাহরণ: সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, নিকেল; আর্সেনিক ধাতুকল্প হলেও সাধারণত এই দলে
হালকা ধাতু: লিথিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম — পানির চেয়ে হালকা, তাই ভাসে
ভারী ধাতু দেহে সঞ্চিত হয়, জৈব-অভঙ্গুর
পারদ একমাত্র ধাতু যা কক্ষ তাপমাত্রায় তরল
ধাতুকল্প (Si, Ge, As, Sb) ধাতু ও অধাতুর মাঝামাঝি ধর্ম দেখায়
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
ভারী ধাতুর প্রশ্নে ঘনত্ব ভাবো, পারমাণবিক ভর নয় — দুটি আলাদা মাপকাঠি।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·পারমাণবিক ভর বেশি হলেই ভারী ধাতু ধরা — মাপকাঠি ঘনত্ব
- ·সোডিয়ামকে ভারী ধাতু ধরা — এটি পানির চেয়েও হালকা
- ·ধাতুকল্পকে অধাতুর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা
Metal reactivity and abundance
ধাতুর সক্রিয়তা ক্রম ও প্রাচুর্য
ধাতুর সক্রিয়তা ক্রম সাজানো হয় ইলেকট্রন ছাড়ার প্রবণতা অনুযায়ী — যে ধাতু যত সহজে ইলেকট্রন ছাড়ে, সে তত উপরে। এই ক্রম থেকে অনেক কিছু পড়া যায়: উপরের ধাতু নিচের ধাতুকে তার লবণ থেকে স্থানচ্যুত করতে পারে, উপরের ধাতু এসিডের সঙ্গে হাইড্রোজেন ছাড়ে, আর নিচের ধাতুরা প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাচুর্যের প্রশ্নটি আলাদা এবং প্রায়ই ভুল হয় — ভূত্বকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকা ধাতু অ্যালুমিনিয়াম, লোহা নয়; লোহা দ্বিতীয়। আর ভূত্বকের সবচেয়ে প্রাচুর মৌল অক্সিজেন, যা ধাতুই নয়।
সক্রিয়তা ক্রম (উপর থেকে নিচে): K > Na > Ca > Mg > Al > Zn > Fe > Pb > H > Cu > Hg > Ag > Au
উপরের ধাতু নিচের ধাতুকে তার লবণের দ্রবণ থেকে স্থানচ্যুত করে
হাইড্রোজেনের উপরের ধাতু লঘু এসিড থেকে H₂ ছাড়ে; নিচেরগুলো ছাড়ে না
ভূত্বকে সর্বাধিক প্রাচুর ধাতু অ্যালুমিনিয়াম; দ্বিতীয় লোহা
ভূত্বকে সর্বাধিক প্রাচুর মৌল অক্সিজেন, তারপর সিলিকন
সোনা ও প্লাটিনাম সবচেয়ে কম সক্রিয় — তাই প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় মেলে
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
ভূত্বকে সবচেয়ে বেশি ধাতু অ্যালুমিনিয়াম — লোহা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত, কিন্তু প্রাচুর্যে দ্বিতীয়।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·ভূত্বকের সর্বাধিক প্রাচুর ধাতু হিসেবে লোহা বলা — ব্যবহারের কারণে এই ভুল স্বাভাবিক
- ·সর্বাধিক প্রাচুর মৌল হিসেবে ধাতু খোঁজা — উত্তর অক্সিজেন, একটি অধাতু
- ·তামাকে লঘু এসিড থেকে হাইড্রোজেন ছাড়তে সক্ষম ধরা — এটি হাইড্রোজেনের নিচে
Mineral and ore sources of common elements
মৌলের খনিজ ও আকরিক উৎস
প্রতিটি ধাতু প্রকৃতিতে একটি বা কয়েকটি নির্দিষ্ট খনিজ যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়, আর প্রশ্নে সেই জোড়াটিই জিজ্ঞাসা করা হয়। একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য মনে রাখা দরকার — সব খনিজ আকরিক নয়। আকরিক বলা হয় সেই খনিজকে যা থেকে লাভজনকভাবে ধাতু নিষ্কাশন করা যায়; বাকি খনিজে ধাতু থাকলেও পরিমাণ বা প্রক্রিয়ার খরচ তাকে অচল করে দেয়। ক্লোরিনের প্রধান উৎস সাধারণ লবণ, ফসফরাসের উৎস ফসফেট শিলা, আর অ্যালুমিনিয়ামের একমাত্র বাণিজ্যিক আকরিক বক্সাইট।
সব আকরিকই খনিজ, কিন্তু সব খনিজ আকরিক নয়
অ্যালুমিনিয়াম: বক্সাইট (Al₂O₃·2H₂O)
লোহা: হেমাটাইট (Fe₂O₃), ম্যাগনেটাইট (Fe₃O₄)
টাইটেনিয়াম: রুটাইল (TiO₂), ইলমেনাইট (FeTiO₃)
ক্লোরিনের প্রধান খনিজ উৎস সাধারণ লবণ (NaCl), সমুদ্রজল ও শিলালবণে
ফসফরাস: ফসফোরাইট ও অ্যাপাটাইট জাতীয় ফসফেট শিলা
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
খনিজ আর আকরিকের পার্থক্য জিজ্ঞাসা করলে 'লাভজনকভাবে নিষ্কাশনযোগ্য' শব্দটি উত্তরে থাকা চাই।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·খনিজ ও আকরিককে সমার্থক ধরা
- ·লোহার আকরিক হিসেবে বক্সাইট বলা — বক্সাইট অ্যালুমিনিয়ামের
- ·সব ধাতুকে অক্সাইড আকরিক হিসেবে পাওয়া যায় ধরা — সালফাইড ও কার্বনেট আকরিকও সাধারণ
Noble gases — why they are unreactive and how they behave
নিষ্ক্রিয় গ্যাসের ভৌত ধর্ম ও নিষ্ক্রিয়তা
নিষ্ক্রিয় গ্যাসের বাইরের কক্ষ পূর্ণ, তাই ইলেকট্রন দেওয়া বা নেওয়ার কোনো তাগিদ তাদের নেই — এটাই তাদের রাসায়নিক নিষ্ক্রিয়তার কারণ। এরা সবাই একপরমাণুক গ্যাস, অর্থাৎ অণু গঠন করে না, আর এই বৈশিষ্ট্যটি অন্য কোনো গ্রুপে নেই। অণু না থাকায় এদের মধ্যে আকর্ষণ কেবল দুর্বল ভ্যান ডার ওয়ালস বল, তাই স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত কম। গ্রুপে নিচে নামলে পরমাণু বড় হয়, ইলেকট্রন মেঘ সহজে বিকৃত হয় এবং সেই দুর্বল বল বাড়ে — তাই স্ফুটনাঙ্ক ক্রমশ বাড়ে। হিলিয়ামের স্ফুটনাঙ্ক সব পদার্থের মধ্যে সর্বনিম্ন।
বাইরের কক্ষ পূর্ণ — হিলিয়ামে ২টি, বাকিদের ৮টি ইলেকট্রন
সবাই একপরমাণুক গ্যাস; অণু গঠন করে না
আন্তঃপারমাণবিক আকর্ষণ কেবল দুর্বল ভ্যান ডার ওয়ালস বল
গ্রুপে নিচে নামলে স্ফুটনাঙ্ক বাড়ে; হিলিয়ামের স্ফুটনাঙ্ক সর্বনিম্ন
সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় নয় — জেনন ও ক্রিপ্টন ফ্লোরিন ও অক্সিজেনের সঙ্গে যৌগ গঠন করে
আয়নীকরণ শক্তি নিজ নিজ পর্যায়ে সর্বোচ্চ
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
'নিষ্ক্রিয় গ্যাস কোনো যৌগ গঠন করে না' — এটি সবসময় ভুল বিকল্প; জেননের যৌগ পরিচিত।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·নিষ্ক্রিয় গ্যাসকে সম্পূর্ণ যৌগ-অক্ষম ধরা
- ·এদের দ্বিপরমাণুক গ্যাস ধরা — অন্য গ্যাসীয় অধাতুর মতো ভেবে
- ·গ্রুপে নিচে নামলে স্ফুটনাঙ্ক কমে ভাবা
Industrial uses of the noble gases
নিষ্ক্রিয় গ্যাসের শিল্প ব্যবহার
নিষ্ক্রিয় গ্যাসের ব্যবহারগুলো প্রায় সবই তাদের নিষ্ক্রিয়তা থেকেই আসে — যেখানে অক্সিজেন এসে ক্ষতি করতে পারে, সেখানে এদের দিয়ে পরিবেশ ঘিরে দেওয়া হয়। ঝালাইয়ের সময় আর্গন ব্যবহার করা হয় যাতে গরম ধাতু বাতাসের অক্সিজেনে জারিত না হয়; বৈদ্যুতিক বাল্বেও একই কারণে আর্গন ভরা হয়, নয়তো টাংস্টেন তার পুড়ে যেত। হিলিয়াম ব্যবহৃত হয় বেলুনে, কারণ সে হালকা অথচ হাইড্রোজেনের মতো দাহ্য নয়। নিয়ন উজ্জ্বল লাল-কমলা আলো দেয় বলে বিজ্ঞাপনের সাইনে চলে, আর হিলিয়াম-অক্সিজেন মিশ্রণ ডুবুরিরা ব্যবহার করেন কারণ নাইট্রোজেনের মতো তা রক্তে দ্রবীভূত হয়ে বিপদ ঘটায় না।
আর্গন: ঝালাইয়ে নিষ্ক্রিয় পরিবেশ, বৈদ্যুতিক বাল্বে ভরাট গ্যাস
হিলিয়াম: আবহাওয়া বেলুন ও এয়ারশিপে — হালকা ও অদাহ্য
হিলিয়াম-অক্সিজেন মিশ্রণ ডুবুরিদের শ্বাসগ্যাস — নাইট্রোজেন নারকোসিস এড়াতে
নিয়ন: বিজ্ঞাপনের আলোকসজ্জা, লাল-কমলা আভা
ক্রিপ্টন ও জেনন: উচ্চ তীব্রতার বাতি ও ফ্ল্যাশ ল্যাম্পে
হিলিয়াম অতিপরিবাহী চুম্বক ঠান্ডা রাখতে তরল হিমায়ক হিসেবেও ব্যবহৃত
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
বেলুনে হিলিয়াম কেন — হালকা হওয়া যথেষ্ট নয়, অদাহ্য হওয়াটাই হাইড্রোজেনের বদলে তাকে বেছে নেওয়ার কারণ।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·বেলুনে হাইড্রোজেন বেছে নেওয়া — হালকা বটে, কিন্তু বিপজ্জনকভাবে দাহ্য
- ·বাল্বে অক্সিজেন ভরা হয় ভাবা — তাতে ফিলামেন্ট পুড়ে যেত
- ·নিয়ন ও আর্গনের ব্যবহার অদলবদল করা
Electron affinity, electronegativity and the periodic trends together
ইলেকট্রন আসক্তি, তড়িৎ ঋণাত্মকতা ও পর্যায়বৃত্ত ধর্ম
পর্যায়বৃত্ত ধর্মগুলো আলাদা আলাদা মনে রাখার দরকার নেই, কারণ প্রায় সবগুলোই একই দুটি কারণে চলে — কার্যকর নিউক্লিয় আধান আর কক্ষের সংখ্যা। পর্যায়ে ডানে গেলে নিউক্লিয়াসের টান বাড়ে অথচ কক্ষ বাড়ে না, তাই আকার কমে আর ইলেকট্রন ধরে রাখা বা টেনে নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ে; ফলে আয়নীকরণ শক্তি, ইলেকট্রন আসক্তি ও তড়িৎ ঋণাত্মকতা তিনটিই বাড়ে। গ্রুপে নিচে নামলে ঠিক উল্টো। ইলেকট্রন আসক্তি হলো গ্যাসীয় পরমাণুতে একটি ইলেকট্রন যোগ করলে যে শক্তি নির্গত হয়, আর তড়িৎ ঋণাত্মকতা হলো বন্ধনে থাকা অবস্থায় ইলেকট্রন জোড়া নিজের দিকে টানার ক্ষমতা — দুটি আলাদা ধারণা।
পর্যায়ে ডানে: আয়নীকরণ শক্তি, ইলেকট্রন আসক্তি ও তড়িৎ ঋণাত্মকতা বাড়ে; ব্যাসার্ধ কমে
গ্রুপে নিচে: তিনটিই কমে; ব্যাসার্ধ বাড়ে
ইলেকট্রন আসক্তি: গ্যাসীয় পরমাণুতে ইলেকট্রন যোগে নির্গত শক্তি
তড়িৎ ঋণাত্মকতা: বন্ধনে ইলেকট্রন জোড়া নিজের দিকে টানার ক্ষমতা; সবচেয়ে বেশি ফ্লোরিনের
ক্লোরিনের ইলেকট্রন আসক্তি ফ্লোরিনের চেয়ে বেশি — ফ্লোরিন পরমাণু ছোট বলে যোগ হওয়া ইলেকট্রনে বিকর্ষণ বেশি
ধাতব ধর্ম পর্যায়ে ডানে কমে, গ্রুপে নিচে বাড়ে
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
ইলেকট্রন আসক্তিতে ক্লোরিন ফ্লোরিনকে ছাড়িয়ে যায় — প্রবণতার এই ব্যতিক্রমটি প্রায়ই জিজ্ঞাসা হয়।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·ইলেকট্রন আসক্তি ও তড়িৎ ঋণাত্মকতাকে সমার্থক ধরা — একটি বিচ্ছিন্ন পরমাণুর, অন্যটি বন্ধনে থাকা পরমাণুর
- ·ফ্লোরিনের ইলেকট্রন আসক্তি সর্বোচ্চ ধরা — সর্বোচ্চ ক্লোরিনের
- ·সব প্রবণতাকে একই দিকে চলে ধরা — ব্যাসার্ধ বাকিদের বিপরীতে চলে
Finding an element's period and group from its configuration
ইলেকট্রন বিন্যাস থেকে মৌলের অবস্থান নির্ণয়
পর্যায় সারণিতে একটি মৌল কোথায় বসবে তা তার ইলেকট্রন বিন্যাসই বলে দেয়। সর্বোচ্চ প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা যত, মৌলটি তত নম্বর পর্যায়ে — অর্থাৎ কতগুলো কক্ষ ব্যবহৃত হয়েছে সেটাই পর্যায়। গ্রুপ বের করতে দেখতে হয় সর্বশেষ কক্ষে ও অসম্পূর্ণ উপকক্ষে মোট কতগুলো ইলেকট্রন আছে। s-ব্লকে গ্রুপ নম্বর সরাসরি বাইরের ইলেকট্রন সংখ্যার সমান; p-ব্লকে বাইরের ইলেকট্রন সংখ্যার সঙ্গে দশ যোগ করতে হয়; d-ব্লকে (n−1)d ও ns ইলেকট্রনের যোগফল গ্রুপ নম্বর দেয়।
পর্যায় সংখ্যা = সর্বোচ্চ প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা n
s-ব্লক: গ্রুপ = বাইরের কক্ষের ইলেকট্রন সংখ্যা (১ বা ২)
p-ব্লক: গ্রুপ = ১০ + বাইরের কক্ষের ইলেকট্রন সংখ্যা
d-ব্লক: গ্রুপ = (n−1)d + ns ইলেকট্রনের যোগফল
পারমাণবিক সংখ্যা ১৮-এর মৌল আর্গন: 1s²2s²2p⁶3s²3p⁶ — তৃতীয় পর্যায়, ১৮ নং গ্রুপ
একই গ্রুপের মৌলের বাইরের ইলেকট্রন বিন্যাস একই, তাই রাসায়নিক ধর্মও কাছাকাছি
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
পর্যায় পেতে সবচেয়ে বড় n খোঁজো, গ্রুপ পেতে বাইরের ইলেকট্রন গোনো — দুটি আলাদা কাজ।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·পারমাণবিক সংখ্যাকে সরাসরি গ্রুপ নম্বর ধরা
- ·p-ব্লকে ১০ যোগ করতে ভুলে যাওয়া — অক্সিজেনের গ্রুপ ৬ নয়, ১৬
- ·d-ব্লকে কেবল ns ইলেকট্রন গোনা
Transition and inner transition elements
অবস্থান্তর ও অন্তঃঅবস্থান্তর মৌল
অবস্থান্তর মৌলের সংজ্ঞায় একটি শর্ত আছে যা প্রশ্নে বারবার ধরা হয় — মৌলটির বা তার কোনো স্থিতিশীল আয়নের d উপকক্ষ আংশিকভাবে পূর্ণ থাকতে হবে। এই শর্তের কারণেই দস্তা কড়া অর্থে অবস্থান্তর মৌল নয়, কারণ তার d উপকক্ষ পরমাণু ও আয়ন দুই অবস্থাতেই পূর্ণ। আংশিক পূর্ণ d উপকক্ষ থেকেই অবস্থান্তর মৌলের চেনা বৈশিষ্ট্যগুলো আসে — একাধিক জারণ অবস্থা, রঙিন যৌগ, প্রভাবক ধর্ম এবং জটিল যৌগ গঠনের ক্ষমতা। অন্তঃঅবস্থান্তর মৌল হলো f-ব্লকের দুটি সারি, ল্যান্থানাইড ও অ্যাক্টিনাইড, প্রত্যেকটিতে চোদ্দটি করে মৌল।
শর্ত: মৌল বা তার স্থিতিশীল আয়নের d উপকক্ষ আংশিক পূর্ণ
দস্তা কড়া সংজ্ঞায় অবস্থান্তর মৌল নয় — Zn ও Zn²⁺ দুটোতেই 3d পূর্ণ
বৈশিষ্ট্য: পরিবর্তনশীল জারণ অবস্থা, রঙিন যৌগ, প্রভাবক ধর্ম, জটিল যৌগ গঠন
রঙের উৎস d-d ইলেকট্রনীয় সংক্রমণ
ল্যান্থানাইড ১৪টি, অ্যাক্টিনাইড ১৪টি — মোট ২৮টি অন্তঃঅবস্থান্তর মৌল
ল্যান্থানাইড সংকোচনের কারণে পরবর্তী পর্যায়ের মৌলের ব্যাসার্ধ প্রত্যাশার চেয়ে ছোট হয়
অবস্থান্তর ধাতুর লবণে অযুগ্ম d-ইলেকট্রন থাকায় এরা প্যারাচৌম্বক — যেমন লোহা ও নিকেলের লবণের দ্রবণ; অযুগ্ম ইলেকট্রন না থাকলে ডায়াচৌম্বক
পরীক্ষায় যেভাবে আসে
দস্তা d-ব্লকে আছে কিন্তু কড়া সংজ্ঞায় অবস্থান্তর মৌল নয় — এই ব্যতিক্রমটিই সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত।
এখানে ভুল হয় (৩)
- ·d-ব্লকের সব মৌলকে অবস্থান্তর মৌল ধরা — দস্তা, ক্যাডমিয়াম ও পারদ ব্যতিক্রম
- ·ল্যান্থানাইড ও অ্যাক্টিনাইডের সংখ্যা ভুল বলা — প্রত্যেকটিতে ১৪টি
- ·রঙিন যৌগের কারণ হিসেবে s-ইলেকট্রন বলা — কারণ d-d সংক্রমণ