← সব চ্যাপ্টার

রাসায়নিক স্টয়কিওমিতি

১২টি প্রশ্ন এসেছে ২৫ বছরে · টি টপিক

Empirical and molecular formula

স্থূল ও আণবিক সংকেত

স্থূল সংকেত বলে যৌগে মৌলগুলোর পরমাণু সংখ্যার সরলতম পূর্ণসংখ্যা অনুপাত, আর আণবিক সংকেত বলে একটি অণুতে আসলে কতগুলো পরমাণু আছে। আণবিক সংকেত সবসময় স্থূল সংকেতের একটি পূর্ণসংখ্যা গুণিতক, আর সেই গুণিতক বের করতে আণবিক ভরকে স্থূল সংকেতের ভর দিয়ে ভাগ করতে হয়। শতকরা সংযুতি থেকে স্থূল সংকেত বের করার ধাপগুলো নির্দিষ্ট — শতকরাকে গ্রাম ধরে নাও, পারমাণবিক ভর দিয়ে ভাগ করে মোল বের করো, সবচেয়ে ছোট মোল দিয়ে ভাগ করে অনুপাত সরল করো। একটি সূক্ষ্ম কথা: স্থূল সংকেতের ধারণা কেবল যৌগের জন্য প্রযোজ্য, মুক্ত মৌলের জন্য নয়। স্থূল সংকেত = পরমাণু সংখ্যার সরলতম পূর্ণসংখ্যা অনুপাত আণবিক সংকেত = (স্থূল সংকেত) × n, যেখানে n = আণবিক ভর ÷ স্থূল সংকেতের ভর গ্লুকোজ: স্থূল সংকেত CH₂O, আণবিক সংকেত C₆H₁₂O₆, n = 6 বেনজিন: স্থূল CH, আণবিক C₆H₆ ধাপ: শতকরা → গ্রাম → মোল → সরলতম অনুপাত কিছু যৌগে স্থূল ও আণবিক সংকেত একই — যেমন পানি H₂O

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

n সবসময় পূর্ণসংখ্যা — ভাগ করে ভগ্নাংশ পেলে কোথাও হিসাবের ভুল আছে।

এখানে ভুল হয় ()

  • স্থূল ও আণবিক সংকেতকে সবসময় আলাদা ধরা — পানিতে দুটি একই
  • শতকরাকে সরাসরি অনুপাত ধরা — আগে পারমাণবিক ভর দিয়ে ভাগ করতে হবে
  • মুক্ত মৌলের স্থূল সংকেত বের করতে যাওয়া — ধারণাটি যৌগের জন্য

Converting between mass, moles, particles and gas volume

ভর, মোল, কণা ও গ্যাস আয়তনের রূপান্তর

স্টয়কিওমিতির প্রায় সব হিসাব একটি কেন্দ্রীয় ধারণার চারপাশে ঘোরে — মোল। ভর থেকে মোলে যেতে মোলার ভর দিয়ে ভাগ, মোল থেকে কণার সংখ্যায় যেতে অ্যাভোগাড্রো সংখ্যা দিয়ে গুণ, আর মোল থেকে প্রমাণ অবস্থায় গ্যাসের আয়তনে যেতে ২২.৪ দিয়ে গুণ। প্রশ্ন যাই হোক, প্রথম কাজ সবসময় এক — যা দেওয়া আছে তাকে মোলে নামিয়ে আনা। মোলে পৌঁছে গেলে সুষম সমীকরণের সহগ ব্যবহার করে বিক্রিয়ার অন্য যেকোনো পদার্থের মোল বের করা যায়, তারপর সেখান থেকে যা চাওয়া হয়েছে সেদিকে ওঠা যায়। মোল = প্রদত্ত ভর ÷ মোলার ভর কণার সংখ্যা = মোল × 6.022 × 10²³ প্রমাণ অবস্থায় গ্যাসের আয়তন = মোল × 22.4 লিটার সুষম সমীকরণের সহগ মোলের অনুপাত দেয়, ভরের অনুপাত নয় CaCO₃ + 2HCl → CaCl₂ + H₂O + CO₂ — ১ মোল CaCO₃ থেকে ১ মোল CO₂ সীমাবদ্ধ বিক্রিয়ক (limiting reactant) যেটি আগে ফুরিয়ে যায়, উৎপাদের পরিমাণ সেটিই ঠিক করে

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

যেকোনো স্টয়কিওমিতির প্রশ্নে প্রথমে মোলে নামো — বাকি পথ তখন যান্ত্রিক।

এখানে ভুল হয় ()

  • সুষম সমীকরণের সহগকে ভরের অনুপাত ধরা — এরা মোলের অনুপাত
  • প্রমাণ অবস্থার বাইরেও ২২.৪ লিটার ব্যবহার করা
  • সীমাবদ্ধ বিক্রিয়ক না দেখে বেশি পরিমাণে থাকা বিক্রিয়ক দিয়ে হিসাব করা

Percentage composition of a compound

যৌগে মৌলের শতকরা হার নির্ণয়

একটি যৌগে কোনো মৌল ভরের হিসাবে কত শতাংশ আছে তা বের করতে তিনটি ধাপ লাগে। প্রথমে যৌগের আণবিক ভর বের করতে হয় প্রতিটি পরমাণুর ভর তার সংখ্যা দিয়ে গুণ করে যোগ করে। তারপর যে মৌলটির শতকরা চাওয়া হয়েছে, অণুতে তার মোট ভর বের করতে হয় — একের বেশি পরমাণু থাকলে সংখ্যা দিয়ে গুণ করতে ভুললে চলবে না। শেষে সেই ভরকে আণবিক ভর দিয়ে ভাগ করে একশো দিয়ে গুণ করলেই উত্তর। যৌগের ভিতরে অন্য একটি যৌগের শতকরা চাওয়া হলে, যেমন ক্যালসিয়াম ফসফেটে P₂O₅, তখন সেই অংশের আণবিক ভর ধরতে হয়। শতকরা হার = (মৌলের মোট ভর ÷ যৌগের আণবিক ভর) × ১০০ মৌলের মোট ভর = পারমাণবিক ভর × অণুতে সেই পরমাণুর সংখ্যা Na₂CO₃-এর আণবিক ভর = (23×2) + 12 + (16×3) = 106 Na₂CO₃-এ কার্বনের শতকরা হার = (12 ÷ 106) × 100 ≈ 11.3% সব মৌলের শতকরা হার যোগ করলে ১০০ হয় — উত্তর মিলিয়ে দেখার সহজ পরীক্ষা যৌগাংশের শতকরা (যেমন Ca₃(PO₄)₂-এ P₂O₅) বের করতে সেই অংশের আণবিক ভর ব্যবহার করতে হয়

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

সব মৌলের শতকরা যোগ করে দেখো ১০০ হচ্ছে কি না — না হলে কোথাও পরমাণুর সংখ্যা ভুলে গেছ।

এখানে ভুল হয় ()

  • একের বেশি পরমাণু থাকলে সংখ্যা দিয়ে গুণ করতে ভুলে যাওয়া — Na₂CO₃-এ সোডিয়াম ২৩ নয়, ৪৬
  • আণবিক ভরের বদলে কেবল একটি পরমাণুর ভর দিয়ে ভাগ করা
  • কেলাস পানিযুক্ত লবণে পানির ভর হিসাবে না ধরা