← সব চ্যাপ্টার

ইতিহাস, সভ্যতা ও ঐতিহ্য

৪৯টি প্রশ্ন এসেছে ২৫ বছরে · ৩টি টপিক

Former names of Dhaka's historic buildings and institutions

ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনার পূর্বনাম

ঢাকার অনেক পরিচিত ভবন স্বাধীনতার আগে অন্য নামে চলত, আর প্রশ্নে প্রায় সবসময় সেই পুরনো নামটাই জিজ্ঞাসা করা হয়। বাংলা একাডেমির মূল ভবনের পূর্বনাম বর্ধমান হাউস — ব্রিটিশ আমলে বর্ধমানের মহারাজার বাসভবন হিসেবে নির্মিত এই ভবন পরে পূর্ববঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ছিল, আর ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে ১৯৫৫ সালে এখানেই বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি মার্কিন স্থপতি লুই আই কান, আর ভবনটি শের-ই-বাংলা নগরে। স্বাধীনতা স্তম্ভ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, ঠিক সেই জায়গায় যেখানে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল। নাম আর জায়গা একসঙ্গে মনে রাখলে এই প্রশ্নগুলো নিশ্চিত নম্বর। বাংলা একাডেমির মূল ভবনের পূর্বনাম বর্ধমান হাউস জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই কান; অবস্থান শের-ই-বাংলা নগর স্বাধীনতা স্তম্ভ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে — ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১-এর আত্মসমর্পণস্থল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থপতি হামিদুর রহমান লোকশিল্প জাদুঘর সোনারগাঁওয়ে, নারায়ণগঞ্জ জাতীয় স্মৃতিসৌধ সাভারে; স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যের শিল্পী সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

বর্ধমান হাউস মানে বাংলা একাডেমি — এই একটি জোড়া সবচেয়ে বেশিবার এসেছে।

এখানে ভুল হয় (৩)

  • স্বাধীনতা স্তম্ভ ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ গুলিয়ে ফেলা — একটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, অন্যটি সাভারে
  • সংসদ ভবনের স্থপতি হিসেবে বাংলাদেশি স্থপতির নাম বেছে নেওয়া — স্থপতি লুই আই কান
  • শহীদ মিনার ও স্মৃতিসৌধের স্থপতি অদলবদল করা

Prehistoric ages and the sequence of early inventions

প্রাগৈতিহাসিক যুগ ও আবিষ্কারের ক্রম

মানব ইতিহাসের প্রাগৈতিহাসিক পর্বকে ভাগ করা হয় প্রধানত ব্যবহৃত হাতিয়ারের উপাদান দিয়ে — প্রস্তর যুগ, তাম্র যুগ, ব্রোঞ্জ যুগ, তারপর লৌহ যুগ। ক্রমটি মনে রাখা জরুরি, কারণ প্রশ্ন প্রায়ই আসে 'কোনটি সম্পর্কহীন' বা 'কোনটি আগে' ধাঁচে। একটি বহুল-জিজ্ঞাসিত জোড়া হলো চাকা — চাকার আবিষ্কার ব্রোঞ্জ যুগের সঙ্গে যুক্ত, রৌপ্য যুগের সঙ্গে নয়; আসলে 'রৌপ্য যুগ' প্রত্নতাত্ত্বিক যুগবিভাগের অংশই নয়, সেটি সাহিত্যিক রূপক। মনে রাখতে হবে ভাগটি উপাদানভিত্তিক, আর যে ধাতু যত সহজে গলানো যায় সে তত আগে ব্যবহৃত হয়েছে — তাই তামা লোহার আগে। যুগক্রম: প্রস্তর → তাম্র → ব্রোঞ্জ → লৌহ প্রস্তর যুগের তিন ভাগ: প্রাচীন, মধ্য ও নব্য প্রস্তর যুগ চাকার আবিষ্কার ব্রোঞ্জ যুগের সঙ্গে যুক্ত 'রৌপ্য যুগ' প্রত্নতাত্ত্বিক যুগবিভাগের অংশ নয় — এটি সাহিত্যিক রূপক কৃষি ও স্থায়ী বসতির সূচনা নব্য প্রস্তর যুগে লোহা সবচেয়ে পরে ব্যবহৃত হয়, কারণ তার গলনাঙ্ক সবচেয়ে বেশি লিখন পদ্ধতির উদ্ভবের আগের সময়কেই প্রাগৈতিহাসিক বলা হয়

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

'চাকার সাথে সম্পর্কহীন কোনটি' — উত্তর রৌপ্য যুগ, কারণ সেটি যুগবিভাগেই নেই।

এখানে ভুল হয় (৩)

  • রৌপ্য যুগকে একটি প্রকৃত প্রত্নতাত্ত্বিক যুগ ধরা
  • লৌহ যুগকে ব্রোঞ্জ যুগের আগে বসানো
  • কৃষির সূচনা প্রাচীন প্রস্তর যুগে ধরা — সেটি নব্য প্রস্তর যুগে

World Heritage sites and named geographical facts

বিশ্ব ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক তথ্য

বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা তৈরি ও ঘোষণা করে ইউনেস্কো — জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা, WHO বা UNDP নয়। অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের তিনটি স্থান এই তালিকায় আছে: সুন্দরবন, ষাট গম্বুজ মসজিদ ও পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বিহার। সুন্দরবন প্রাকৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত, বাকি দুটি সাংস্কৃতিক। ভৌগোলিক তথ্যের প্রশ্নে বারবার আসা একটি বিষয় হলো পৃথিবীর বরফের বণ্টন — মোট বরফের প্রায় নব্বই শতাংশ অ্যান্টার্কটিকায়, আর সেটিই পৃথিবীর মিঠা পানির সবচেয়ে বড় ভাণ্ডার। বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করে ইউনেস্কো (UNESCO) বাংলাদেশের বিশ্ব ঐতিহ্য: সুন্দরবন (প্রাকৃতিক), ষাট গম্বুজ মসজিদ ও পাহাড়পুর (সাংস্কৃতিক) — অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন পৃথিবীর মোট বরফের প্রায় ৯০% অ্যান্টার্কটিকায় মিঠা পানির বৃহত্তম উৎস মেরু অঞ্চলের বরফ র‍্যাডক্লিফ লাইন ভারত-পাকিস্তান সীমানা; ডুরান্ড লাইন পাকিস্তান-আফগানিস্তান; ম্যাকমোহন লাইন ভারত-চীন

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করে ইউনেস্কো — বিকল্পে WHO বা UNICEF থাকলে সেগুলো বাদ।

এখানে ভুল হয় (৩)

  • বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণাকারী সংস্থা হিসেবে WHO বা জাতিসংঘকে সরাসরি বলা — নির্দিষ্ট সংস্থা ইউনেস্কো
  • সুন্দরবনকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরা — এটি প্রাকৃতিক
  • সীমানা রেখার নাম ও দেশ-জোড়া অদলবদল করা